সিডনী বুধবার, ১৫ই জুলাই ২০২০, ১লা শ্রাবণ ১৪২৭

অস্ট্রেলিয়াতে পড়াশোনার কথা ভাবছেন?


প্রকাশিত:
২৯ মার্চ ২০২০ ১৯:১৩

আপডেট:
১৫ জুলাই ২০২০ ১৬:৩৭

ফাইল ছবি

 আপনাদের সুবিধার্থে আমরা আপনাদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিলাম। পরবর্তীতে সংখ্যাতে আরো বিস্তারিত আলোচনা করব। অস্ট্রেলিয়া কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক অনুসারে, স্কুল পরবর্তী অস্ট্রেলিয়ান কোয়ালিফিকেশনকে মোট ১০ লেভেলে ভাগ করা হয়। লেভেল্গুলি হচ্ছে-

লেভেল ১- Certificate I

লেভেল ২- Certificate II

লেভেল ৩- Certificate III

লেভেল ৪- Certificate IV

লেভেল ৫- Diploma

লেভেল ৬- Advanced Diploma/ Associate degree

লেভেল ৭- Bachelor Degree

লেভেল ৮- Bachelor Honors Degree/ Gradate Diploma/ Graduate Certificate

লেভেল ৯- Masters Degree

লেভেল ১০- Doctoral Degree

সাধারনত লেভেল ১ থেকে লেভেল ৬ পর্যন্ত কোয়ালিফিকেশনকে ভকেশনাল এডুকেশন বলা হয় যা টেইফ সহ বিভিন্ন প্রাইভেট রেজিস্টার্ড ট্রেনিং অর্গানিজেশনে (আর টি ও) পড়ানো হয়। লেভেল ৭ থেকে লেভেল ১০ পর্যন্ত কোয়ালিফিকেশনগুলি ইউনিভার্সিটিতে পড়ানো হয়।

অস্ট্রেলিয়াতে ১২৫টি নিবন্ধিত উচ্চ শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ৪০টি,আন্তর্জাতিকবিশ্ববিদ্যালয় ২টি ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ১টি।  

অস্ট্রেলিয়ায় কেন পড়াশোনা করবেন?

  • আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সেরা কয়েকটি স্থানের মধ্যে একটি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
  •  এখানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ডিগ্রি প্রদানকারী অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
  •  তুলনামূলকভাবে স্বল্প টিউশন ফি দিয়ে  পড়াশোনা করতে পারবেন।
  • স্বল্প খরচে বাস করতে পারবেন।
  • শিক্ষা খাতে নিত্যনতুন বৈচিত্র্য দেখতে পাবেন।
  • পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ পাবেন।
  • অনেক ধরনের কোর্স থেকে নিজের পছন্দমতো কোর্স বাছাই করে পড়তে পারবেন।
  •  

পড়াশোনা করতে কোন ভিসাতে আবেদন করবেন?

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা প্রচলিত আছে। অস্ট্রেলিয়ায় মূলত তিন ধরনের স্টুডেন্ট ভিসা প্রচলিত। এইতিন ধরনের ভিসা থেকে আপনার প্রয়োজনমতো ভিসা বাছাই করে সেটির জন্য অ্যাপ্লাই করতে হবে।

স্টুডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) কি?

এই ধরণের ভিসায় একজন রেজিস্টার্ড শিক্ষার্থী যেকোনো ধরনের কোর্স করতে পারবেন। এই ধরণের ভিসা পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর বয়স কমপক্ষে ছয় বছর হতেহবে। এছাড়া যেকোনো অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেতে হবে এবং স্বাস্থ্য বীমা থাকতে হবে।

এ ধরনের ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি পার্ট টাইম চাকরিও করতে পারবেন। আপনারভিসার আবেদন ফর্মে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নাম উল্লেখ করে দিতে পারেন কিংবা চাইলে তাদের জন্য আলাদা করেও ভিসার আবেদন করাতে পারেন। 

স্টুডেন্ট গার্ডিয়ান ভিসা (সাবক্লাস ৫৯০) কি?

এ ধরনের ভিসা পেতে হলে আপনার পরিবারবর্গের কোনো সদস্যকে পূর্বেই অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসী হতে হবে। এছাড়া পড়ালেখার খরচ ও বাসস্থান খরচ ওঠানোর মতোযথেষ্ট পরিমাণ অর্থ থাকতে হবে ও কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী হতে হবে। স্পন্সর ছাড়াও এ ধরনের ভিসার আবেদন করা যায়।

এ ধরনের ভিসা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি হয়ে থাকে। 

আবেদন করতে কি লাগবে

পাসপোর্টঃ এর মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকলেই চলবে। পরে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে নবায়ন করিয়ে নিলেই চলবে। কাগজের পাসপোর্টও গ্রহণযোগ্য হবে যদি সেটিরমেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকে।

স্টেটমেন্ট অফ পারপাসঃ এটা তিন চার পৃষ্ঠার মধ্যে লিখতে হবে। ভাষা যেন সহজ কিন্তু যথাযথ গুরুত্ববহ হয়। আপনি কেন অস্ট্রেলিয়াতে পড়তে যাবেন, এত ফী দিয়ে কেন পড়বেন, এই কোর্স আপনার ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন, এত খরচ করে তার রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট কি ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত লিখতে হবে।

আইইএলটিএস ফলাফলঃ এর মেয়াদ থাকতে হবে দু’ বছরের নিচে।

অফার লেটারঃ এটা ভিসা আবেদনের অন্তত দু’মাস আগে এ্যাপ্লাই করলে ঠিক সময়ে পাওয়া যায়। এখন অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে আবেদনেরসুযোগ দেয়, তবে অল্প কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকিদেরকে আপনাকে আবেদন ফি পরিশোধ করতে হতে পারে তাদের নির্দেশিত পন্থায়। 

সি ই ওঃ সি ই ও হচ্ছে কনফার্মেশন অব এনরোলমেন্ট লেটার। অফার লেটার পাওয়ার পর, আপনাকে অফার লেটারের সব শর্ত (যদি শর্ত থাকে) পূরণ করে, আপনাকে সাধারনত এক বছরের টিউশন ফী এর ৫০% সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিতে হবে। আপনার ফী পাওয়ার পরই আপনার ইনস্টিউট সি ই ও ইস্যূ করে আপনার কাছে পাঠাবে। ভিসা আবেদনের সময় সি ই ও জমা দিতে হবে।

আপনার ভিসা আবেদন প্রত্যাখান বা রিফিউজ হলে আপনি সংশ্লিষ্ট ইনস্টিউটের রিফান্ড ফর্ম পূরণ করে পাঠালে, সামা্ন্য পরিমান অর্থ কেটে আপনার বাকী ফী পাঠিয়ে দেওয়া হবে আপনার মনোনীত ব্যাংক একাউন্টে। কি পরিমান অর্থ কাটা হতে পারে, তা বিস্তারিত অফার লেটারে বর্ননা করা থাকে।

আবেদনের নিয়মাবলী:

শিক্ষাগত যোগ্যতা: শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে স্টুডেন্টদের নূন্যতম এস এস সি পাশ হতে হবে। স্টুডেন্টরা লেভেল ১ থেকে শুরু করে লেভেল ১০ পর্যন্ত কোয়ালিফিকশনে ভর্তি হতে পারে। এই জন্য প্রতিটা লেভেলের এন্ট্রি ক্রাইটেরিয়া আপনাকে পূরন করতে হবে।

Undergraduate এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম IELTS স্কোর ৫.৫ এবং Post graduate এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ILTS স্কোর 6.0 প্রয়োজন।

অস্ট্রেলিয়াতে IELTS ছাড়া Students এর উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা নেই। 

স্পন্সর

বিষয়ভেদে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা Sponsor দেখাতে হয়। Under graduate এর ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা Sponsor দেখাতে হয় এবং Degree Program এরজন্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা ৬ মাস এর জন্য Sponsor দেখাতে হয়।

 

অর্থের সম্পদ মূল্য দেখানো যাবেনা, শুধুমাত্র নগদ টাকা দেখাতে হবে। তবে ডলার এর মূল্য তারতম্য হলে এর জন্য Sponsor Money হিসেব করেমোট টাকা দেখাতে হয়।

কোন ছাত্রের স্পন্সর দেখানোর জন্য blood Relation হলে ভাল। 

সাধারণত ম্নলিখিত ব্যক্তি কে ফান্ড এর স্পন্সর হিসেবে দেখানো যাবে–

-আবেদনকারী নিজে

-আবেদনকারীর স্ত্রী/স্বামী

-আবেদনকারীর মা-বাবা (একক বা যৌথ ভাবে)

-আবেদনকারীর খালা/ফুফু/চাচা/মামা (একক বা যৌথভাবে, তবে এক্ষেত্রে এরূপ স্পন্সরকে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া’র স্থায়ী অধিবাসী/নাগরিক বা নিউজিল্যান্ডে’র নাগরিকহতে হবে)

স্পন্সর প্রমাণপত্রঃ স্পন্সর এর বৈধতা’র প্রমাণস্বরূপ যেসব কাগজপত্র লাগবে তা নিম্নরূপ-

স্পন্সর চাকুরীজীবি হলেঃ

-স্পন্সরের ডিক্লারেশন ফর্মঃ এটা সাধারণত আবশ্যক নয়, তবে দিলে ভাল। সাথে নিম্নোক্ত প্রমানাদি দিবেনঃ

- ৩ মাসের পে স্লিপ

-এ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার

-ভিজিটিং কার্ড

-চাকুরী’র সার্টিফিকেট

-এক বছরের বেতনের স্টেটমেন্ট (কোন খাতে কত প্রাপ্ত, বেতনের চেক নং ও তারিখ ইত্যাদি)

-এক বছরের পার্সোনাল এ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট (যেখানে মূলত বেতনের টাকাটা জমা হয়। উল্লেখ্য যে এই এ্যাকাউন্টে এমন পরিমাণ টাকা যেন জমা না থাকে যেটারউৎস সঙ্ক্রান্ত কাগজপত্র দেখানো সম্ভবপর নয় বা যেটা স্পন্সরের আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বা যেটা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে লেনদেন হয় নি। যেমন-সরাসরি ক্যাশডিপোজিট, ব্যবসায়ের লাভ (এমন ব্যবসা যেটা চাকুরীজীবি স্পন্সরের আয়ের মূল উৎস নয়), কারো কাছে থেকে ক্যাশে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত পাওনা ইত্যাদি।)

-এক বছরের সর্বশেষ আয়কর সার্টিফিকেট (TIN সহ)

স্কলারশিপ:

 সাধারণত উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে Scholarship (full) পাওয়ার জন্য তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Graduation complete করে আবেদন করতে হবে।

সাধারণত স্কলারশিপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৫% শিক্ষার্থী যেতে পারে। এই বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আগামী সংখ্যায় লিখব।

 

কিভাবে আবেদন করবেনঃ

 

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ‘অন লাইনে’ করতে হবে। প্রথমে আপনাকে আপনার নামে ‘ইমি একাউন্ট’ খুলতে হবে। এরপর লগ ইন আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার একাউন্টে যাবেন এবং যে ভিসার জন্য আবেদন করবেন তাতে ক্লীক করবেন। এরপর আপনি ইনস্ট্র্যাকশন ফলো করবেন।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি নিম্নোক্ত ওয়েব সাইটের সাহায্য নিতে পারেনঃ

https://immi.homeaffairs.gov.au/visas/getting-a-visa/visa-listing/student-500

মনে রাখতে হবে, অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশন প্রতি নিয়ত তাদের নিয়ম কানুন পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে থাকে। কোন দেশ থেকে আবেদন করবেন এবং কোন ইন্সটিউটে ভর্তি হবেন তার উপর নির্ভর করে, আবেদনের নিয়ম কানুন এবং কাগজ পত্রের ভিন্নতা হতে পারে। আপডেট তথ্যের জন্য অবশ্যই উপরোক্ত ওয়েবসাইটের সাহায্য নিবেন। আমদের দেওয়া তথ্যের উপর সম্পূর্ন নির্ভর করবেন না।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top