২০০৩ বিশ্বকাপ বাংলাদেশের ‘লজ্জা’


প্রকাশিত:
২৪ মে ২০১৯ ১৮:২৮

আপডেট:
১৩ মার্চ ২০২৫ ১৪:৩৫

২০০৩ বিশ্বকাপ বাংলাদেশের ‘লজ্জা’

১৯৯৯ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েই হারানো গেছে পাকিস্তানকে। বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে স্কটল্যান্ডও। বিশ্বকাপের এই পারফরম্যান্সই দ্রুত টেস্ট মর্যাদা পেতে সাহায্য করে। সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট কূটনীতি তো ছিলই। তবে সবকিছু ছাপিয়ে গেছে এদেশের মানুষের ক্রিকেটাবেগ।



টেস্ট মর্যাদার তিন বছর পর ২০০৩ সালে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ খেলতে উড়াল দিল দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে। স্বাভাবিকভাবেই এই বিশ্বকাপকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি।



কারণ বাংলাদেশের গ্রুপে ছিল অপেক্ষাকৃত দুই দূর্বল দল কানাডা এবং কেনিয়া। আশাবাদীরা অংক কষে বের করলেন দুই দলকে হারানো গেলে, এরপর যদি বড় কোন শিকার বাগে আনা যায়, তাহলে খালেদ মাসুদের দলের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ তৈরী হবে!



২০০৩ বিশ্বকাপের আগে কারও এমন ভাবনাকে বাড়াবাড়ি মনে হয়নি। ঠিকই তো কানাডা-কেনিয়াকে হারাতে পারবে না টেস্ট মর্যাদাপ্রাপ্ত একটা দল! কিন্তু ডারবানে যা ঘটলো তা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা ভুলবে না কোনদিন। তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে ডারবান।



কানাডাকে ১৮০ রানে অলআউট করে দিয়ে খালেদ মাসুদের দল অলআউট মাত্র ১২০ রানে! হায়! হায়! উঠে গেল বাংলাদেশে। সম্ভবত গোটা ক্রিকেট বিশ্বই বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে হতভম্ব।



জানা যায়নি, বাংলাদেশের রিয়েল হিরো আকরাম খানের মনে তখন কী হচ্ছিল? কারণ তাকে নিয়ে তো আর কম জল ঘোলা হয়নি! আকরামকে ছাড়াই বিশ্বকাপ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায় রওনা হয় বাংলাদেশ। কানাডার মতো দলের কাছে হারের পর তার অভাব অনুভূত হতে থাকে তখন।



সেই অভাব আরও বেশি অনুভুত হয় শ্রীলংকার বিপক্ষে বিশ্রী হারের পর। বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ১২৪ রানেই অলআউট। একজন বোলারের হ্যাট্টিক করাই যেখানে দুঃসাধ্য তখন বাংলাদেশের ইনিংস শুরুর প্রথম তিন বলেই আউট হান্নান সরকার, আল-শাহরিয়ার এবং মোহাম্মদ আশরাফুল। চতুর্থ বল ডট। পঞ্চম বলে সানোয়ার হোসেন ফিরে গিয়ে বিভিষীকাময় অবস্থা তৈরি করলেন।



রেকর্ড বইয়ে উঠে গেল চামিন্দা ভাসের নাম। হ্যাট্টিকসহ এক ওভারে ৪ উইকেট। বিরল এক রেকর্ডই গড়লেন। যেটা বিশ্বকাপ তো বটেই, ওয়ানডে ইতিহাসেই এর আগে কখনো ঘটেনি।



১২৪রান টপকাতে গিয়ে দু’ওপেনার মারাভান আতাপাত্তু (৬৯) এবং সনাথ জয়াসুরিয়া (৫৫) হেসেখেলে শ্রীলংকাকে জেতালেন ১০ উইকেটে। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গেল বাংলাদেশের।



পরের ম্যাচ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিংয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিজে নামতেই শুরু হয় বৃৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বৃষ্টিই ভাসিয়ে নিয়ে যায়।



দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ঘটলো শ্রীলংকা ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। ৩৫.১ ওভারে ১০৫ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। আর এ রান টপকাতে প্রোটিয়াদের কোন উইকেটই হারাতে হয়নি।



একের পর এক জঘণ্য পারফরম্যান্স, চারদিকে সমালোচনা ওঠে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা নিয়েও! মাসুদের দলের আতœবিশ্বাস যে একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সেটা বোঝা যাচ্ছিল ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষায়। এরই মাঝে তরুণ পেসার তালহা যুবায়েরের চোটের কারণে দেশ থেকে উড়িয়ে নেওয়া হলো আকরাম খানকে।



নিউজিল্যান্ড ম্যাচে এসে কিছুটা উন্নতির রেখা চোখে পড়লো। বাংলাদেশ প্রথমবার পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারলো এই ম্যাচে। রান উঠলো ৭ উইকেটে ১৯৮। ৮২ বলে ৫৬ রান করেন আশরাফুল। ফল যা হবার তাই হলো। নিউজিল্যান্ড ৩৩.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই জিতে গেল।



শেষ ভালো যার সব ভালো তার। বাংলাদেশও দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তাই করতে চেয়েছিল শেষ ম্যাচে কেনিয়াকে হারিয়ে। কিন্তু বিধি বাম! কেনিয়ার ২১৭ রান অতিক্রম করতে গিয়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল মাত্র ১৮৫ রানে। বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে ৩২ রানে হেরে রিক্ত হাতেই দেশে ফিরলো খালেদ মাসুদের দল।



এদেশের মানুষের লজ্জা আরও বাড়লো যখন দেখা গেল কেনিয়া বিশ্বকাপে সেমি ফাইনাল খেলছে, আর বাংলাদেশ সেখানে একটি ম্যাচও জিততে পারলো না। টুর্নামেন্টজুড়ে বাংলাদেশের সঙ্গী হয়ে থেকেছে লজ্জা! তাই ২০০৩ বিশ্বকাপকে বাংলাদেশের অভিশাপ বললেও বোধহয় ভুল হবে  


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top