সিডনী সোমবার, ২১শে জুন ২০২১, ৬ই আষাঢ় ১৪২৮

সহজ হলো বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া : মু: মাহবুবুর রহমান 


প্রকাশিত:
২ জুন ২০২১ ১৩:৫৮

আপডেট:
২১ জুন ২০২১ ০৩:১১

 

বিদেশে যেকোনো সেবার অর্থ পরিশোধ করার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে আন্তর্জাতিক কার্ড (ডেবিট কিংবা ক্রেডিট) নেই এমন ব্যক্তিও এখন ব্যাংকের সহায়তায় সহজে বিদেশ থেকে নেয়া কোনো সেবার অর্থ দেশে বসেই পরিশোধ করতে পারবেন। সোমবার (৩১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। 

বিদ্যমান ব্যবস্থায় অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক (এ ডি ব্রাঞ্চ/শাখা) সুইফট ম্যাসেজের মাধ্যমে বৈদেশিক লেনদেন করে থাকে। অপরদিকে এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে প্রবাসী আয় দেশে আসে। নতুন সার্কুলার জারি হওয়ায় এখন থেকে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক (এ ডি ব্রাঞ্চ/শাখা) নিজের নামে আন্তর্জাতিক 'রেমিট্যান্স কার্ড' ইস্যু করতে পারবে। আর এ কার্ড দিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রাহকদের বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয়ের অর্থ সহজে বিদেশে পাঠাতে পারবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। 

রেমিট্যান্স কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনকে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘অলটারনেটিভ পেমেন্ট চ্যানেল’ হিসেবে সার্কুলারে উল্লেখ করেছে। সার্কুলারে বিদেশে পড়াশোনার ফি, চিকিৎসা ব্যয়, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যয়, কোনো সদস্য ফি, ভর্তি, পরীক্ষা, আবেদন ও রেজিস্ট্রেশেন ফি,  টিকেটের টাকা, ভিসা ও ল্যান্ডিং ফি, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনারসহ ১১ খাতের ফি পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বর্তমানে যাদের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড আছে তারাও বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন ঐ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে করতে পারেন না। কারণ বাংলাদেশের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে একবারে ৩০০ ডলারের বেশি অর্থ বিদেশে পাঠানো যায় না। আর যাদের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড নেই তারা তো বিদেশে লেনদেনই করতে পারেন না। এই সমস্যার সমাধান করতেই নতুন সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকরা ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংকের কাছে টাকা জমা দিয়ে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে ব্যাংকের রেমিট্যান্স কার্ডের মাধ্যমে টাকা বিদেশে পাঠাতে পারবেন। ফলে বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা, টিউশন ফি প্রদান, বিদেশের গবেষণা প্রতিবেদন পড়ার জন্য এবং এরকম আরো কয়েকটি প্রয়োজনে টাকা রেমিটেন্স কার্ডের মাধ্যমে দেয়া যাবে, যা আগে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অথবা ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া যেত না। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নতুন সার্কুলারের আওতায় চাহিদা অনুযায়ী অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক (এ ডি ব্রাঞ্চ /শাখা) তাদের গ্রাহকের পক্ষে আন্তর্জাতিক কার্ডের ('রেমিট্যান্স কার্ড') মাধ্যমে বিদেশের লেনদেনগুলো নিষ্পত্তি করতে পারবে। বাংলাদেশি কেউ বিদেশে কোনও সেবা নিতে গেলে তাকে যে ফি প্রদান করতে হয় সেই ফি-ও কার্ডের মাধ্যমে দেয়া যাবে। অর্থাৎ সুবিধাভোগীর কাছে আন্তর্জাতিক কার্ড না থাকলে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকের পক্ষ হয়ে তাদের নিজস্ব নামে রেমিট্যান্স কার্ড ইস্যু করে ওই অর্থ পরিশোধ করতে পারবে। 

নতুন এ পদ্ধতিতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী যারা দেশে বসেই বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা পাঠাতে চান  তারা উপকৃত হবেন। এছাড়া টিকেটের টাকা, ভিসা ও ল্যান্ডিং ফি, চিকিৎসা ব্যয়, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনারসহ মোট ১১ খাতের ফি পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন সার্কুলারে। নতুন এ পদ্ধতির প্রশংসা করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ সুবিধার ফলে এখন থেকে ‘নস্ট্রো হিসাবের’ (বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব) সহায়তা ছাড়াই এ কার্ডের মাধ্যমে সহজে এবং স্বল্প ব্যয়ে বিদেশে অর্থ পাঠানো যাবে। 

 

মু: মাহবুবুর রহমান  
নিউজিল্যান্ডের মেসি ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top