সিডনী রবিবার, ৩রা মার্চ ২০২৪, ২০শে ফাল্গুন ১৪৩০

রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক আয় সাত মাসে


প্রকাশিত:
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৬:৪২

আপডেট:
৩ মার্চ ২০২৪ ১৪:০৩


নানা সংকটের মধ্যেও রপ্তানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৮.৩৬ বিলিয়ন ডলার। যদিও গত টানা তিন মাস পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ছিল, তবে সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে পোশাক রপ্তানির আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২.৪৫ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় ২৭.৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে ৩.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে হয়েছে ২৮.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৬.১৭ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.১৫ শতাংশ এবং ওভেন গার্মেন্টস থেকে আয় হয় ১২.১৮ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি কমে হয় ২.২০ শতাংশ। আর একক মাস হিসাবে চলতি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির তুলনায় ১২.৪৫ শতাংশ বেশি।


পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল এ বিষয়ে বলেন, ‘পণ্যে বৈচিত্র্য আনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ভালো করছে বাংলাদেশ। এখন আমরা নতুন নতুন বাজার খুঁজছি। আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও রপ্তানির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে পণ্য রপ্তানি করে ৫৭২ কোটি ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ।


একক মাস হিসেবে এটা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়।
ইপিবির তথ্য বলছে, জানুয়ারিতে ৫৭২ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১.৪৫ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৫১৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রপ্তানি হয়েছিল গত ডিসেম্বরে, তখন মোট রপ্তানি আয় হয়েছিল ৫৩৬ কোটি ৫২ লাখ ডলার।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাঁচ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল।


ওই সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬.৬৭ শতাংশ। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ছয় হাজার ২০০ কোটি ডলার।
ইপিবির তথ্য বলছে, রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে তিন হাজার ৩২৬ কোটি ডলার। এই আয় গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় ২.৫২ শতাংশ বেশি। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭.২৮ শতাংশ কম। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রপ্তানির লক্ষ্য ঠিক করা ছিল তিন হাজার ৫৮৭ কোটি ডলার।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে তৈরি পোশাক ছাড়া বেশির ভাগ পণ্যের রপ্তানি কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ইত্যাদি।

অবশ্য কৃষি পণ্যের রপ্তানি চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৪.৪৪ শতাংশ বেড়েছে এবং প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি ১৫.৪৮ শতাংশ বেড়েছে। পোশাক রপ্তানির ওপর ভর করে সার্বিক রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

 


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Developed with by
Top