সিডনী শনিবার, ৬ই মার্চ ২০২১, ২২শে ফাল্গুন ১৪২৭


যথাযথ মর্যাদায় বাংলাদেশ

কনস্যুলেট জেনারেল সিডনীতে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত


প্রকাশিত:
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১২:৩৪

আপডেট:
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৫:০২

 

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, সিডনী আজ বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনায় এবং যথাযথ মর্যাদায় দিনব্যাপী কর্মসূচীর মাধ্যমে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রত্যুষে সিডনীস্থ বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের বাসভবন বাংলাদেশ হাউজ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার এবং মহান ভাষা আন্দোলনে শাহাদাৎবরণকারী সকল শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১ উপলক্ষে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

বিকেলে, মহান শহিদ দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলক্ষে নিউ সাউথ ওয়েলস এ বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানটি শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম তাঁর স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের শহিদ সদস্য এবং সকল ভাষা শহিদদের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।  তিনি বলেন ভাষা আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দুই দশক সংগ্রাম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে একাত্তরে চুড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। তিনি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে আমাদের জাতীয় জীবনে সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষা ভিত্তিক শিক্ষার প্রবর্তনসহ মাতৃভাষার সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নেয়া উদ্যোগের উপর আলোকপাত করেন।

এরপর, প্রবাসী বাংলাদেশী শিশুদেরকে বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে কনস্যুলেট জেনারেল কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগ “বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি পরিচয়” শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ সূচনা ঘোষণা করেন যা আগামী ৭ই মার্চ থেকে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এ শুরু হবে। এসময় তিনি উক্ত কার্যক্রমের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পরিসর সম্পর্কে উপস্থিত সুধীবৃন্দকে অবহিত করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নির্মিত একটি তথ্য চিত্র  প্রদর্শন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে ছিলো দেশত্ববোধক গান, সমবেত সংগীত, একুশকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি, শিশুদের অংশগ্রহণে ভাষাভিত্তিক গান ও ছড়া। এছাড়াও প্রখ্যাত একুশের গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গনো একুশে ফেব্রুয়ারি ..” গানটির প্রথম সুরকার ও “ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ গানটির গীতিকার ও সুরকার মরহুম আবদুল লতিফের পুত্রের কন্ঠে তাঁর বাবার গাওয়া গান অনুষ্ঠানে অন্যরকম মাত্রা যুক্ত করে। অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণকৃত শিশু-কিশোরদের মাঝে বাংলা বই বিতরণ করা হয়।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top