ওয়েষ্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশময় সন্ধ্যা


প্রকাশিত:
১৮ আগস্ট ২০২১ ১৮:৪৩

আপডেট:
১৮ আগস্ট ২০২১ ১৯:২০

 

রিপোর্ট: মোশারফ হোসেন নির্জন
প্রবাসে ভিনসভ্যতার ভিড়ে বাংলা সংস্কৃতির জৌলুস তুলে ধরতে অনবদ্য প্রয়াস রেখেচলেছেন পশ্বিম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বাংলাদেশী সংগঠন বাওয়া (বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া এসোসিয়েশন অফ ওয়েষ্টার্ন অস্ট্রেলিয়া)। শনিবার সন্ধ্যা গড়াতেই পার্থের রিক্সন থিয়েটারের পর্দা উন্মোচন করেন আয়োজকরা। বাংলাদেশীদের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনকে ঘিরে বরাবরই বাড়তি আগ্রহ এখানাকার বাংলাদেশীদের। তাই স্বপরিবারের হাজির হয়েছেন অনেকেই।



গতবছর করোনায় এই অনুষ্ঠানটি বিধিনিষেদের কারনে মঞ্চে গড়ায়নি।তাই এবার যেন প্রত্যাশা আরো বেশি। ১৪ ই আগষ্ট শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গেয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান পর্ব। প্রবাসে সংকৃতি শেখার আনন্দ ও সেই সাথে মঞ্চে পরিবেশন করার এই মোক্ষম সুযোগকে কাজে লাগান অনেক বাবা-মায়েরা।

একক সংগীত, স্বল্প দৈর্ঘের নাটক, ম্যাজিক-শো, দেশীয় ঘরানার ও আধুনিক নাচসহ দলীয় সুরের মূর্চ্ছনায় ফুটিয়ে তুলা হয় দুই পর্বের এক বর্ণিল সন্ধ্যা।
একেবারে বাংলার সভ্যতা ইতিহাস ও সংস্কৃতির উপর জোর দিয়ে পরিবেশিত হয়ে বেশিরভাগ পরিবেশনা্।শুভ কামনা করা হয় দেশীয় সম্ভাবনাময় সকল খাতকে, স্মরণ করা হয় ভাষশহীদসহ ও মহান মুক্তিযোদ্ধাদের। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে নজর কাড়ে বসন্ত উৎসব, বিজয় বাংলাদেশ ও আমরা করবো জয়ের মতো পর্বগুলো।

দেখা যায় চিরায়িত সবুজ বাংলাকে অপরুপ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে সকল পরিবেশনাকারীদের অংশগ্রহনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে আমরা করবো জয় উপস্থাপন করা হয়। দলীয় এই আয়োজনটি ছিলো মনোমুগ্ধকর। তাছাড়া পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে প্রিয় পরিবার নামের পরিবশনাটিও দর্শক বাহবায় পরিনত হয়।

আয়োজনটি নিয়ে বাওয়ার সভাপতি ডাক্তার ডাক্তার শাহেদীন শহীদ রাজু জনান আমরা যারা প্রবাসে আছি আমাদের দেশের জন্য টান আছে, তাছড়া আমাদের পরের প্রজন্মের জন্য এই সংস্কৃতি রেখে যেতে চাই, তাই এই আয়োজন। সাধারণ সম্পাদক তাসনীমুল গালিব অমিত জানান বাচ্চারা যাতে বাংলঅ সাংষ্কৃতির আবহের মধ্যে বড় হয়,তাই আমরা এ আয়্জেনের জন্য দিনরাত শ্রম দিয়ে থাকি।

দীর্ঘ তিনমাস ধরে অনুশীলনের পর্বসহ অনুষ্ঠানের নেপথ্যে কাজ করেন বাওয়ার এক্সিকিউটিভ কমিটি। মূল ভূমিকায় ছিলেন বাওয়া সভাপতি ডাক্তার শাহেদীন শহীদ রাজু ও তাসনীমুল গালিব অমিত। তাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন ড. তন্ময় দেবনাথ ও আবু সাঈদ আনোয়ার।

বাংলাদেশময় সন্ধ্যার আয়োজনে সাড়া দেন অস্ট্রেলিয় অতিথিরাও। উপস্থিত ছিলেন জিওফ বেকার (এমএলএ), ড. টনি বুটি (এমএলএ), টেরি হিএলি (এমএলএ), জাগদিশ কৃশান (এমএলএ) ও অধ্যাপক অমিত চাকমা (ভাইস চ্যান্সেলর, ইউডব্লিএ)।

বাংলাদেশময় এ অনুষ্ঠানে আন্তজার্তিক কয়েকটি পরিবেশনাও রাখা হয়। প্রায় ‍১৮০ জন শিল্পী পরিবেশনায় অংশনেন ও দর্শকসাড়িতে আসন গ্রহণ করেন প্রায় ৬৫০ জন অতিথি। অনুষ্ঠানের অর্থ যোগানে সহয়তা দেন অষ্ট্রেলিয়ার বিখ্যাাত বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান লটারীওয়েষ্ট। সব মিলিয়ে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ দেখলেন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশীর।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top