সিডনী বৃহঃস্পতিবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ১লা আশ্বিন ১৪২৮


স্বদেশ বার্তা’র প্রতিষ্ঠাতা নূরুল আজাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত


প্রকাশিত:
১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০৮

আপডেট:
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:৪২

গত ১০ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’র প্রতিষ্ঠাতা নূরুল আজাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। কীর্তিমান নূরুল আজাদ ২০১৬ সালের এই দিনে পরলোক গমন করেন। তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঙালি কমিউনিটির প্রিয় মুখ ও প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজের অন্যতম অভিভাবক। তিনি ব্যক্তি জীবনে সৎ, নির্লোভ বহুমাত্রিক কৃতিত্বের অধিকারী একজন আলোকিত মানুষ ছিলেন। যিনি সারা জীবন অসহায় মানুষ ও সমাজের জন্য নিরবে-নিভৃতে কাজ করে গেছেন। সমাজকে আলোকিত করার এক মহাকর্মযজ্ঞে তিনি ব্যস্ত থেকেছেন সারাটি জীবন। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী আলোকিত মানুষটির ছিল সব শ্রেণির মানুষকে আপন করে নেয়ার অসাধারণ গুণ । খোলা মনে তিনি সকলের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। এই মহান মানুষের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে মরহুমের জন্মস্থানের মানুষের আয়োজনে স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মরহুমেরই প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘নূরুল আজাদ কলেজ’, মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও ১৩৭ নং বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। মরহুম ‘নূরুল আজাদ ছিলেন চাঁদপুরের ক্ষণজন্মা পুরুষ, যার মধ্যে দেশপ্রেম ও শিক্ষাপ্রীতি ছিলো অসামান্য। তিনি তাঁর জীবনকে ব্যয় করেছেন মানবতার সেবায়, তাকে 'স্বদেশ বার্তা' পরিবার গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে। নূরুল আজাদের জ্যেষ্ঠপুত্র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ বাবার স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে বলেন, ‘আমার বাবা সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আজীবন বুকের মাঝে ধারণ করেছেন এবং মাতৃভূমির জন্য সারাজীবন সাধ্যমত কাজ করে গেছেন। তিনি আরও বলেন, বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বাংলাদেশে ও অস্ট্রেলিয়ায় স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া তিনি তাঁর পিতার জন্য সবার নিকট দোয়া চেয়ে অনুরোধ করেছেন। নূরুল আজাদের জীবন ও কর্ম: চাঁদপুরের কচুয়ায় জন্ম নেয়া মরহুম নূরুল আজাদ অস্ট্রেলিয়াতে পাড়ি জমিয়ে শুরু করেছিলেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। যাত্রা শুরু করার পর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে গেছেন শীর্ষ পর্যায়ে। সোনার হরিণের খোঁজে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমানো স্বদেশীদের কর্মসংস্থানেও সবার প্রিয় এ ‘নূরুল আজাদ ভাই’ ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের পরে তিনি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া’-কে সুসংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ মেলা যাত্রা শুরু করে। প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীদের নিয়ে তিনি এ মেলা উদযাপন করতেন। খেলাধুলার প্রতি ছিল তার অন্য রকম ভালোবাসা। নিজে অংশগ্রহণ করে পরবর্তীতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে প্রতি বছর কৃতি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন, যা বর্তমানে ‘নূরুল আজাদ গোল্ডকাপ’ নামে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলা ভাষার প্রথম পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’ প্রকাশ করেন তিনি। ১৯৯৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আমন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া সফর কালে তাঁর হাতেও ‘স্বদেশ বার্তা’ পত্রিকা তুলে দেন । ‘কচুয়া ফাউন্ডেশন ঢাকা’ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান পৃষ্টপোষকও তিনি। নিজ উপজেলায় প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তাঁর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি একাধারে গরীব-দুঃখী মানুষের আপনজন ও সমাজসেবক হিসেবে সবার কাছে খুবই প্রিয়জন ও পরিচিত ছিলেন। নূরুল আজাদ ছিলেন কচুয়া উপজেলার একটি নাম, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সংগঠন, একজন সমাজ সেবক সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র হিসেবে নিজেকে শীর্ষে পৌছে নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালি তথা নিজ জন্মভূমির মানুষের মধ্যে যে শূণ্যতা তৈরি করে গেছেন তা আজও অপূরণীয়। রিপোর্টঃ আবু আব্দুল্লাহ

বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top