সিডনী বুধবার, ১৮ই মে ২০২২, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯


আসুন "আবর্জনা" ও "সাম্প্রদায়িকতা" দুটোই রাবিশ বিনে ফেলি : মোঃ ইয়াকুব আলী


প্রকাশিত:
২৮ এপ্রিল ২০২২ ১৫:৫৬

আপডেট:
১৮ মে ২০২২ ১৫:৩৬

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িকতার ছোবল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রাবিশ বিন স্থাপন করা হয়েছে। দুইটি ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে এসোসিয়েশন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এক- যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে পরিবেশ রক্ষার্থে নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনাসমুহ ফেলতে ছাত্রছাত্রীদের উদ্ভুদ্ধ করা এবং দুই- মনের সাম্প্রদায়িক আবর্জনাকেও কাল্পনিক রাবিশ বিনে বিসর্জন দেওয়া। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম যৌথভাবে ১৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে রাবিশ বিন প্রোজেক্টের উদ্বোধন করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার সাধারন সম্পাদক তারিক জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ আমাদেরকে অনেক দিয়েছে, এখন আমাদের উচিত বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের ঋণ কিছুটা হলেও ফেরৎ দেওয়া। আমরা যারা অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের উন্নত দেশে থাকি, তারা জানি কীভাবে এখানকার সাধারন মানুষ পরিবেশ রক্ষায় সরকারের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে চলেছে। এখানকার প্রত্যেকটা বাড়িতে বা অফিসে নিজস্ব অর্থে কেনা মুখবন্ধ রাবিশ বিন থাকে। এটা পূর্ণ হয়ে গেলে বাড়ির গ্যারেজে বা বাইরের এক কোণায় থাকা সিটি কাউন্সিলের বিনে স্থানান্তর করা হয়, যেটা সপ্তাহান্তে সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি এসে নিয়ে যায়। এখানকার লাল, সবুজ ও হলুদ বিনে জমানো উচ্ছিষ্ট পূনরুৎপাদনযোগ্য ও পচনশীল পণ্য প্রতি সপ্তাহে নিয়ে যায়। বাংলাদেশে এখনই এত সুন্দর ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব না হলেও কোথাও না কোথাও শুরু তো করতে হবে! তাই এই উদ্যোগ নেওয়া।
সংগঠনটির সভাপতি জুলফিকার আহমেদ বলেন, সম্প্রতি আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটেছে, যা কোন অবস্থাতেই কাম্য না। ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠিত। সমগ্র বিশ্ব যেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমরা যাচ্ছি পশ্চাদমূখী, যা মেনে নেওয়া কষ্টকর। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে দেশের আপামর জনগনের ধর্মভীরুতার সুযোগ নিয়ে একটা গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতার বিষপাপ ছড়াচ্ছে। আমরা এলামনাইরা চাই, আমাদের বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা ধার্মিকতা ও সাম্প্রদায়িকতার পার্থক্যের ব্যাপারে সবসময় সচেতন এবং সাম্প্রয়িকতার বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকবে। তাই আমাদের উদাত্ত আহ্বান, আসুন আমরা ধর্ম, বর্ণ, জাতি এবং রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে সবাই মিলে আমাদের ভবিষ্যৎ পৃথিবী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করি; সবাই সমস্বরে বলি “আসুন আমরা আবর্জনা এবং সাম্প্রদায়িকতা দুটোই রাবিশ বিন-এ ফেলি’।
রাবিশ বিন প্রোজেক্টের ডাস্টবিনের উদ্বোধন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। উদ্বোধনের পর উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামানাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনই অ্যাসোসিয়েশেন অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া আটটি ডাস্টবিনের উদ্বোধনের পরে তিনি এসব কথা বলেন।
‘আবর্জনা যেমন ক্যাম্পাসকে ময়লা করে, তেমনই সাম্প্রদায়িকতা মানুষকে ও সমাজকে দূষিত করে’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম। এই রাবিশ বিন স্থাপনের মাধ্যমে এখানে একটা বার্তা দেওয়া হয়ছে। বার্তাটি হলো- ‘আসুন আমরা আবর্জনা এবং সাম্প্রদায়িকতা দুটোই এখানে ফেলি’। আবর্জনা যেমন আমাদের ক্যাম্পাসকে ময়লা করছে, তেমনই সাম্প্রদায়িকতা মানুষকে এবং সমাজকে দূষিত করছে। তাই এদুটোকে যদি এখানে ফেলতে পারি তাহলে মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো। বঙ্গবন্ধু যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিল সেটা গড়ে উঠবে। তাহলে বাংলাদেশ সকল মানুষের হবে, মানবিক হবে এবং জনতার হবে।’
এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক প্রমুখ।
এখানে উল্লেখ্যঃ ‘রাজশাহী ইউনিভার্সিটি এলুমনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া’ অস্ট্রেলিয়া কেন্দ্রিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হয়।

 

মো: ইয়াকুব আলী

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top