সিডনী রবিবার, ৭ই আগস্ট ২০২২, ২৩শে শ্রাবণ ১৪২৯

মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো (পর্ব ৪) : কাজী জাকির হাসান


প্রকাশিত:
২০ জুলাই ২০২০ ১২:২৩

আপডেট:
৪ আগস্ট ২০২০ ১৬:০৪

 

১৮ জুলাই ১৯৭১

পায়ের ড্রেসিং পাল্টে বিছানায় এসে বসেছি কেবল। মেজর আর পি রাউত সঙ্গে আর এম ও এসে দাঁড়ালেন আমার সামনে। চোখের ইশারায় কি যেন বুঝাতে চাইলেন আর এম ও। সে কথা বুঝে উঠবার আগেই মেজর রাউত ঘনিষ্ঠ ভাবে দাঁড়ালেন এসে আমার পাশে, বললেন, ‘কিছু নেবার থাকলে গুছিয়ে নাও জলদি, এ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে রয়েছে বাইরে। ‘হতবিহবল ওয়ার্ডের সব রোগী তাকিয়ে রইলো মেজরের দিকে।

এমন আচমকা সিদ্ধান্তে আফতাব আলী দাদা অবাক হয়ে তাকালেন আমার দিকে। এস্ট্রেচার নিয়ে ওয়ার্ডে ঢুকলো মেডিক্যাল কোরের দু'জন সামরিক জোয়ান।

এ্যাম্বুলেন্সের দরোজাটা বন্ধ করে দিলেন আর এম ও নিজের হাতে। দাঁড়িয়ে রয়েছেন আফতাব আলী দাদা হাসপাতালের সিঁড়ির ওপর। বারান্দায়, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রোগীরা সবাই হাত নাড়ছেন আমার দিকে তাকিয়ে।

চলতে চলতে সবই ঝাপসা হয়ে এলো এক সময়ে।

ষোল দিন ছিলাম জে. এন হাসপাতালে। সময়ের হিসেবে কম হলেও অভিজ্ঞতা হয়েছে অনেক। ভাওয়াইয়ার ভাষায় আমরা কথা বললেও অন্য একটি কারণে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডের রোগীদের কাছে অত্যন্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলাম আমি। যে কোন কারণেই হোক, হাসপাতাল থেকে দেয়া খাবার খেতাম না আমি। বাইরে থেকে নিয়মিত খাবার আসতো আমার। এ দায়িত্বটা পালন করতেন স্থানীয় ফরোয়ার্ড ব্লক নেতা আলম ভাই। দু'বেলা খাবারের সঙ্গে আসতো প্রচুর পরিমাণে ফলমূল। সঙ্গে ছিলো কোচবিহারের সাধারণ মানুষের আথিথেয়তা। যারাই দেখতে আসতেন আমাকে কিছু না কিছু সঙ্গে আনতেন। এ সব খাবার সমান বণ্টন করে দিতাম ওয়ার্ডের রোগীদের মধ্যে।

কাগজিলেবু খেতে খুব পছন্দ করতাম। প্রায় প্রতিদিনই আমার এই পছন্দের জিনিসটি নিয়ে আসতেন বাসন্তী দেবী। ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক শচীন দেব বর্মনের ছোটবোন। মুখ রোচক এটা সেটা খাবার লুকিয়ে চুরিয়ে নিয়ে আসতেন কল্যাণী নাহা। কোচবিহার পাবলিক লাইব্রেরির লাইব্রেনিয়ান। স্থানীয় একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আশীষ কুমার নাহার মা। মাসিমা বলে ডাকতাম। আশীষ আমার ভাল বন্ধু ছিলো। প্রতিদিন দু'ঘণ্টা গল্প-গুজব করে কাটিয়ে যেত আমার সঙ্গে।

এই সময়ের একটি ঘটনা।

আমার পাশের বেডের আরেকজন রোগী। বছর পঞ্চাশেক হবে বয়স। কিন্তু মলিন চেহারার কারণে ভদ্র লোকের বয়সটা আরো বেশিই মনে হতো। চুপচাপ। খুব একটা কথা বলতেন না কারো সঙ্গে। দেখতাম প্রতিদিন মধ্যবয়স্ক একজন মহিলা আসতেন তার কাছে। সঙ্গে গামছায় বেঁধে নিয়ে আসতেন একটি এ্যালুমিনিয়ামের বাটি। কি আনতেন সে বাটিতে চোখে পড়েনি কখনো। একদিন মনে হলো, ভদ্রমহিলা যেন কিছু বলতে চান আমাকে। তাকাচ্ছেন বার বার ইতস্তত ভাব নিয়ে। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আমি নিজেই জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি কি কিছু বলতে চান আমাকে? অর্গল খুলে গেল। টুলটা কাছে টেনে নিয়ে বসলেন আমার পাশে আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে, বললেন, ‘কদিন ধরে ভাবছি একটা কথা বলবো, কিন্তু বলতে পারছিনা বাবা শরমে'।

: লজ্জা কিসের? বলুন না কি বলবেন।

গামছায় বাঁধা পুঁটলিটা কোলের ওপর রেখে গিট খুললেন। চার-পাঁচটা কাগজিলেবু বের করে রাখলেন আমার টি টেবিলের ওপর।

: এগুলো?

জিজ্ঞেস করলাম আমি।

: আপনি খেতে ভালবাসেন, তাই এনেছি। আমার গাছের লেবু বাবা।

ভাল করে কখনো তাকাইনি ভদ্রমহিলার দিকে। আজ তাকালাম। কপালে গোল লাল টিপ একটা সিঁদুর চওড়া করে টানা সিথিঁতে। মলিন পোষাকের মধ্যেও উজ্জ্বল ভাসা ভাসা দু'টো চোখ। টলটল করছে পানিতে।

: ইনি আমার স্বামী।

শাড়ির আড়ালে হাত দু'টো আমার ধরে ফেললেন খপ্ করে, বললেন, ‘যে খাবার দেয়া হয় এই হাসপাতাল থেকে তাতে ওর পেট ভরে না বাবা। আপনার ফেরৎ দেয়া খাবারগুলো যদি ....

: কেন বলেন নি এতদিন এ কথা।

হা হা করে উঠলো বুকের ভেতরটা।

পানি ধরে রাখতে পরলাম না চোখে। ঝরে পড়লো টপটপ করে।

: সাহস হয়নি বাবা।

ভাঙ্গা ভাঙ্গা কণ্ঠস্বর। ময়লা ধূতির খুঁটি দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললেন ভদ্রলোক, ‘ঢাকার ভাওয়ালে ছিলো আমার বাড়ি। পার্টিশনের সময় চলে এসেছি। ঘর তুলে আছি একটা বস্তিতে। কি জানেন বাবা, শরণার্থী হয়েই রয়েছি এখনো, এত বছরেও ভারতীয় হতে পারিনি'।

মৃদু ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো এ্যাম্বুলেন্স। দাঁড়ালো এসে বাগডোগরা ক্যান্টনমেন্টে। সঙ্গে যারা এসেছিলো তারাই এষ্ট্রেচারে করে নামিয়ে নিয়ে এলো আমাকে বাংলো প্যার্টানের একটি ঘরে। বিভিন্ন গাছের লতাগুল্ম ঝুলে পড়েছে ঘরটির ছাদ থেকে। ধবধবে সাদা চাদরের বিছানায় বসলাম। সেক্রেটারিয়েট টেবিলের সামনে বসে ফাইল ওয়ার্ক করছিলেন একজন কর্ণেল। স্যালুটের শব্দে মুখ তুলে তাকালেন। ইশারায় চিকিৎসা ফাইলটা রাখতে বললেন টেবিলের ওপর।

ব্যস্ততা নেই কোন। মিনিট দু'য়েক পর ফাইলটা উল্টে পাল্টে দেখে উঠে এলেন আমার কাছে। চেয়ার টেনে বসলেন সামনে, জিজ্ঞেস করলেন, ‘নাম কি তোমার?'

: বয়স?

: বাড়ি কোথায়?

: বাবার নাম?

: কি করেন?

: কি করতে তুমি মুক্তিযুদ্ধে আসার আগে?

: যুদ্ধ করতে ভয় লাগেনি পাকিস্তানী আর্মির সঙ্গে?

: ক'টা অপারেশনে অংশ নিয়েছ?

প্রশ্ন এবং উত্তরের মধ্যে খুলে ফেললেন আমার পার ব্যান্ডেজ। দেখছেন অবস্থা পায়ের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে, আঙ্গুল টিপেটিপে। ব্যান্ডেজ পাল্টে দিতে বলে উঠে গেলেন বেসিনে হাত ধুতে। ওখান থেকেই কাকে যেন বললেন, ‘চট করে খাইয়ে দাও। এক্ষুণি হেলিকপ্টার এসে পড়বে।'

 

হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে

বাগডোগরা থেকে শিলিগুড়ি সি.এম.এইচ এ এলাম বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে চড়ে। পাহাড় বেষ্টিত হাসপাতালের সৌন্দর্য্য দেখে অভিভ‚ত হয়ে পড়লাম। মনে হাতে লাগলো কেবলই দেড় মাস পর ফের ট্রেনিং সেন্টারেই ফিরে এলাম বুঝি।

দু'দিন এক রাত কাটানোর পর জানতে পারলাম শিলিগুড়ি নয় ব্যারাকপুর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়ার জন্যই আমাকে নিয়ে আসা হয়েছে এখানে। ট্রেন রিজার্ভেশন ও আনুসঙ্গিক কারণেই নেয়া এ সময়টুকু।

কলকাতা আমার স্বপ্নের নগরী।

কলকাতার গল্প আব্বা, বড় আব্বার মুখে শুনে শুনে এই ধারণাই বদ্ধমূল হয়েছে মনে মনে।

ছুটে চলেছে ট্রেন হুস হুস শব্দ করে। আর্মি রিজার্ভেশন কম্পার্টমেন্টে আমি ছাড়াও রয়েছে চারজন গাইড। সবাই অবাঙালি। প্রয়োজনে হিন্দি-বাংলা মিশিয়ে কথা বললেও পুরোটা সময় থাকতাম জানালা দিয়ে তাকিয়ে বাইরে। এতে করে সঙ্গী পাশে থেকেও নিঃসঙ্গ সময় কাটানোর যে যন্ত্রণা সেটা বুঝতেই পারিনি আমি।

এক সময় অনুভব করলাম শীতল বাতাসের যে পরশ দু'চোখে ঘুম এনে দিয়েছিলো এতক্ষণ, তা যেন হঠাৎ করেই রুক্ষ ও ঝাঁঝাঁলো বাতাসে জ্বালা ধরিয়ে দিলো চোখে মুখে।

ট্রেন দাঁড়ালো একটা জংশন স্টেশনে এসে। দরোজার কাছে দাঁড়িয়ে তিনজন জোয়ান ভক্তিভরে প্রণাম করছে কড়জোরে অদৃশ্য সুদূরে। অন্য একজন নির্বিকার। এমন বৈপরীত্য দেখে অবাক হলাম। প্রণাম শেষে ওরা তিনজন যখন এসে বসলো সিটে, একান্ত কৌত‚হল বসেই জিজ্ঞেস করলাম, ‘ব্যাপার কি?' ওদের মধ্য থেকে একজন বললো, ‘দেবতা রামচন্দ্রের রাজধানী ছিলো এই কাটিহার'।

নির্লিপ্ত ভাবে বসে থাকা জোয়ান গর্জে উঠলো এবার, চিৎকার করে বললো, ‘এটা রাজধানী নকশালদের'। তারপর যা বললো, শুনে তো আমার আক্কেলগুরুম। তখনো যাদের নাম শুনিনি সেই চারু মজুমদার, কানু স্যান্নাল, জঙ্গল সাঁওতাল, সৌমেন বসুদেব নাম ধরে ধরে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতে লাগলো। হঠাৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে একজন সামরিক ব্যক্তির এভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠার কারণ অবশেষে বুঝতে পারলাম তার কথা শুনে। অন্ধ্রপ্রদেশের ‘অগ্নিস্রাবী' জেলার অধিবাসী এই জোয়ানের একমাত্র বড় ভাই মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র চারু মজুমদারের নকশাল আন্দোলনের গেরিলা স্কোয়ার্ড অংশগ্রহণ করে নিহত হয় এই কাটিহারে।

কুলি-কামিন, যাত্রী-ফেরিওয়ালাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙ্গে গেল আমার। তাকিয়ে দেখি স্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে রয়েছে ট্রেন। হিন্দিতে লেখা সাইনবোর্ড দেখে বুঝতে পারলাম না স্টেশনের নাম। তবে গেরুয়া বসনে সাধু-সন্তদের চলাফেরা দেখে অনুমান করলাম হবে হয়তো কোন তীর্থস্থান হিন্দুদের। স্টেশন বেষ্টনীর বাইরে সারি সারি কাফেলা উটের চলেছে পাগড়ী মাথায় আরোহী নিয়ে। তাকিয়ে দেখছিলাম সে দিকেই। হঠাৎ চাপ অনুভব করলাম হাতে। ফিরে তাকিয়ে দেখি একজন জটাধারী সন্ন্যাসী। খালি গায়ে জড়ানো গেরুয়া রংয়ের হরে কৃষ্ণ হরে রাম নামাবলি। শ্মশ্রুমণ্ডিত মুখ। কপালে টানা শ্বেত তিলক। ঝুলে আছে গলায় হড্ডার মালা। বাঁ হাতে ত্রিশূল ধরা। তামার বালা পরা ডান হাতে ছোট্ট পিতলের বদনা একটা। রক্ত রংয়ের চোখ দু'টো ভীষণ দেখতে। আমাকে বললে, ‘লিবেন বাবু শান্তির জল?' কি মনে হলো হাত বাড়িয়ে দিলাম। ক্ষুদ্রকায় গোল চামচের দুই চামচ পানি ডান হাতের তালুতে দিয়ে এক চুমুকে খেয়ে তালুটা হাতের কপাল দিয়ে সোজা মাথা পর্যন্ত ঘসে নিতে বললেন। করলাম তাই কথা মত। ইতোমধ্যে ঘণ্টি বেজে উঠলো ট্রেন ছাড়ার। সঙ্গে গার্ডের বাঁশি। তীব্র হুইচেল দিয়ে ট্রেন চলতে শুরু করলো। সন্ন্যাসী কিন্তু হাত ছাড়ছে না আমার। ট্রেনের সঙ্গে সঙ্গে সেও চলতে লাগলো আমার হাত ধরে আর বলতে লাগলো, ‘বাবু পাঁচ রূপাইয়া'।

: পাঁচ টাকাতো আমার কাছে নেই।

কথা শুনে গর্জন করে উঠলো সন্ন্যাসী, বললো, ‘রূপাইয়া না দিলে ছাড়বো না তোমার এ হাত'। এমন ভাবে মোচড় দিলো যে, চিৎকার করে উঠলাম ব্যাথায়। ছুটে এলো গাইড পাশের সিট থেকে। সামরিক পোষাক দেখে হাত ছেড়ে দিয়ে দৌড় দিলো সন্ন্যাসী। ছিলো সামনেই ঘোল ভরা মটকী। উস্টা খেয়ে পরে গেল তার ওপর, ঘোলে ল্যাপ্টালেপ্টি গোটা শরীর। ঘিরে ধরলো কৌতুহলী দর্শক তাকে।

কি হয়েছে এরপর... জানা হয়নি শান্তির জল বিতরণকারী অশান্ত সন্ন্যাসীর। ততক্ষণে পেরিয়ে এসেছে ট্রেন গয়া স্টেশন থেকে অনেক দূরে।

আলো ঝলমলে শহর দেখে ভেবেছিলাম বুঝি কলকাতা। না, বারুনী জংশন স্টেশন এটা। কলকাতা যেতে বদলী ট্রেন ধরতে হবে এই জংশন থেকে। বেডিং-পত্তরের সঙ্গে আমাকেও পাঁজাকোলা করে নামিয়ে নিয়ে আসা হলো প্লাটফর্মে। গাইড চারজনই বেরিয়ে গেল স্টেশনের বাইরে বেডিং' এর ওপর বসিয়ে রেখে আমাকে।

একা বসে তাকিয়ে দেখছিলাম খুঁজে খুঁটে। চোখ ধাঁধানো আলো জ্বলছিলো যে জায়গায় আসলে সেটা পেট্রোলের ডিপো। শত শত কন্টেনারে ভিড় জমে আছে সেখানে।

যাত্রিরা চলাফেরা করছে এদিক ওদিক। মনে হলো এক সময় বিস্ময়ের দৃষ্টিতে সবাই যেন তাকিয়ে চলে যাচ্ছে। অচেনা-অজানা সবাই তারপরও লুঙ্গি-গেঞ্জি পরনে আমার দিকে এভাবে তাকাতে দেখে লজ্জায় আরষ্ট হয়ে গেলাম।

হাওড়া। এতবড় রেলওয়ে জংশন স্টেশন এর আগে দেখিনি কখনো। একসঙ্গে কত ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে প্লাটফর্মে। যাচ্ছে কত প্লাটফর্ম ছেড়ে। লেগে আছে ভীড় ব্যস্ত মানুষের। রেলপথ শেষ গন্তব্য এখানেই। বাইরে এ্যাম্বুলেন্স অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য। স্টেশন থেকে বেরিয়ে তাকালাম ট্যাক্সি, বাস, দোকান-পাট, অফিস বিল্ডিংয়ের দিকে। বাংলার চিহ্ন নেই কোথাও। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কলকাতা পশ্চিম বঙ্গের রাজধানী নয়, হিন্দি বলয়ের কোন শহর।

ব্যারাকপুর বেস হাসপাতলে পৌঁছে উঠে এলাম সোজা তিনতলা সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে। প্রশস্ত পরিসরে বিছানা মাত্র ছয়টি। চারজন রোগী শুয়ে আছে। পরিচ্ছন্ন, নিরিবিলি পরিবেশ। বিছানায় বসে না সারতেই সিষ্টার এগিয়ে এলো আমার কাছে ঔষধের ট্রলি নিয়ে। লেপ্টে থাকা ব্যান্ডেজ ডেটলের পানি দিয়ে ভিজিয়ে নরম করে নিয়ে তুলতে লাগলো এমনভাবে যেন ব্যাথা না পাই। পরিষ্কার করে ক্ষতস্থানে লাগালো নতুন ব্যান্ডেজ। দীর্ঘ জার্নির পরও অনুমতি পেলাম না গোসল করার। শরীর স্পঞ্চ করে দিলো সিস্টার ঠান্ডা পানি দিয়ে। সাদা-নীল ডোরাকাটা ড্রেস হাসাতালের পরতে দিলো আমাকে।

বিদায়ের পালা এবার। শিলিগুড়ি থেকে যে চারজন গাইড সঙ্গে এসেছিলো আমার একে একে নেমে গেলো তারা করমর্দন করে। নতুনদের মাঝে মনে হলো স্বজন ছিলো ওরাই আমার।

একটু ফাঁকা হতেই ওয়ার্ডে শুয়ে থাকা রোগী চারজন উঠে এলো আমার কাছে। কব্জির নিচ থেকে বাঁ হাত কাটা একজনের। আরেকজনের ঘুটনা উড়ে গেছে পায়ের রাইফেলের গুলিতে। মাথায় ব্যান্ডেজ তৃতীয়জনের। আচরণ স্বাভাবিক মনে হলো না। চতুর্থ ব্যক্তি বয়স্ক সবার মধ্যে। গর্ত করে বুক এফোঁড় ওফোঁড় বেরিয়ে গেছে গুলি বাইরে। গর্তের মুখ থেকে ব্যান্ডেজ সরালে দেখা যায় সুরঙ্গের মত এপার-ওপার। এদের অবস্থা দেখে ভুলে গেলাম নিজের অবস্থার কথা।

: তুমি কোত্থেকে এলে ভাই?

অবাক হলাম কথা শুনে, বললাম ‘আপনারা বাঙ্গালী?

: মুক্তিযোদ্ধা আমরা।

: কত নম্বর সেক্টর?

: চারজনই আমরা নয় নম্বর সেক্টরের। পাশের ওয়ার্ডে আছেন আরও একজন।

তুমি....

গল্প জমে উঠেছে কেবল ঠিক তখনই এলার্ম বেজে উঠলো।

: ডাক্তার আসছেন।

দ্রুত যে যার বিছানায় গিয়ে বসলো। জুতোর মচমচ শব্দ করে ঢুকলেন কর্ণেল যোশী। সঙ্গে চার-পাঁচজন ডাক্তার বিভিন্ন পদ মর্যাদার।

: শিলিগুড়ি থেকে এসেছ কি তুমি?

ফাইলটা তুলে নিলেন বিছানা থেকে। দেখতে লাগলেন পাতা উল্টে-পাল্টে। এক্সরেগুলো আলোতে ধরে দেখলেন একটা একটা করে। বললেন নার্সকে, ‘ব্যান্ডেজ খোল'।

ব্যান্ডেজ খোলার পর কর্ণেল যোশী পা'টা তুলে নিলেন বাঁ হাতের তালুতে। দেখলেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে।

জিজ্ঞেস করলেন, ‘ব্যাথা লাগে?'

বললাম, ‘টনটন করে'।

ডান হাত পা'র ওপর রেখে চাপ দিলেন সজোরে দু'হাতের তালু দিয়ে। মরণ চিৎকার দিয়ে লুটিয়ে পড়লাম বিছানায়। চোখ যখন মেললাম দেখি কর্ণেল যোশী নেই ওয়ার্ডে। মাথায় হাত রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মেজর রায়। বাঙালি ভদ্রলোক। কলকাতায় বাড়ি। স­েহে বললেন, ‘কেমন লাগছে এখন?'

: ভাল।

: ওঁর কাজের ধারাই এরকম। খুব বড় ডাক্তার। বুঝলে পুঁজটা বের করে না দিলে ঘা'টা খারাপ দিকে টার্ণ নিতো। লংজার্নি করে এসেছ তো।

রাতের খাবার সন্ধ্যা সাতটার মধ্যেই শেষ। শুয়ে আছি মাথার নিচে দু'হাত রেখে। ভিড় করে আসছে কত স্মৃতি চোখের সামনে। এর মধ্যেই ঠুকঠুক শব্দের আওয়াজ এলো কানে। চোখ মেলে তাকালাম। লাঠি হাতে বাঁ পায়ের ওপর ভর দিয়ে ডান পা'টা মেঝে থেকে একটুখানি ওপরে তুলে হেঁটে আসছেন একজন ভদ্রলোক। দুধে আলতায় মেশানো গায়ের রং। দেখা হচ্ছে যার সঙ্গেই কথা বলছেন অনর্গল হিন্দি-ইংরেজিতে। ভাবলাম হবেন হয়তো কোন ভারতীয় সেনা অফিসার। শুয়ে যেমন ছিলাম তেমনি থাকলাম। ভদ্রলোক এসে বসলেন আমারই বিছানার এক পার্শ্বে। হাতটা আমার ওঁর হাতের মুঠোয় নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেমন আছ ভাইডি?

‘চমকে ওঠলাম। খুলনার আঞ্চলিক টান কথায়। উঠে বসতে ধরলাম। বাঁধা দিয়ে বললেন, ‘উঠতে হবে না। এভাবেই কথা বলা যাবে'। আমার বেডে ঝুলানো ডেট চার্ট নিয়ে দেখলেন। রিপোর্ট তো লেখা নেই কিছু...

নামটা দেখলেন মনে হলো।

: এই নামে ভারতের একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন জান তো?

: ঠিক পুরোটা নয়।

: হ্যাঁ, মাথাটা কেটে আর লেজটা একটু সংশোধন করে দিলেই হলো আর কি?

বলেই হাসতে লাগালেন। হাসিটা মুখের আদলের মতই সুন্দর। মনকাড়া। হাসি থামিয়ে বললেন, ‘আমি গাজী মোহাম্মদ মুসা। সাব-ইন্সপেক্টর ছিলাম। আহত হওয়ার পর কৃষ্ণনগর থেকে কল্যাণী। কল্যাণী থেকে কলকাতা। কলকাতা থেকে ব্যারাকপুর। তাওতো দিন পনের হলো এসেছি। এক্সরে রিপোর্ট দেখে ডাক্তাররা সাহস পাচ্ছেন না আমার অপারেশন করতে। গুলিটা জ্বালাচ্ছে খুব। ভেতরে মুভমেন্ট করছে রক্তের সাথে সাথে। তাইতো দিন কাটছে আমার ওঁদের অবজারভেশনে।'

পরদিন ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখি আমার পাশের বিছানায় কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন কে যেন একজন। কম্বলের ফাঁক দিয়ে বার করে চোখ দু'টো তাকিয়ে রয়েছেন আমার দিকে। চোখাচোখি হতেই হেসে ফেললেন ফিক করে, বললেন, ‘তোমাদের ছেড়ে থাকতে পারলাম না ভাইডি।'

এত আন্তরিক আর অমায়িক ব্যবহারের মুসা ভাই একেকদিন উম্মাদের মত আচরণ করতেন শারীরিক যন্ত্রণায়। চার হাত পা বেঁধেও আটকে রাখা যেত না তাকে। চিৎকারে অস্থির করে তুলতেন গোটা হাসপাতাল। তখন প্যাথোডিন ইনজেকশনের সাহায্যে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হতো তাকে।

হাসপাতালের সম্মুখে, রাস্তার ওপারে তাকিয়ে থাকতাম তিনতলার বারান্দায় বসে একটি স্মৃতিসৌধের দিকে। স্মৃতিসৌধটি ভারত স্বাধীনতার মহাবিপ্লবী সৈনিক শহীদ মঙ্গলপান্ডের। ক্লাইভদের বাংলার স্বাধীনতা হরণের এক'শ বছর পর এই ব্যারাকপুরে ১৮৫৭ সালে ইংরেজ কর্ণেলকে হত্যা করে সিপাহী বিদ্রোহের যে সূচনা করেছিলেন মঙ্গলপান্ডে তারও এক'শ চৌদ্দ বছর পর বাংলাকে মুক্ত করার সংকল্প নিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধা আমরা সমবেত হয়েছি সেই স্মৃতিসৌধেরই কাছে।

কষ্টের সময় কাটতে চায়না কিছুতেই। ক্রাচে চলা-ফেরায় অভ্যস্ত না হওয়ার কারণে প্রথম কয়েকদিন নামতে পারি নি তিনতলা থেকে। সময় কাটাতো তখন হুইল চেয়ারে বসে বারান্দার এদিক-ওদিক ঘুরে। ক্রাচে চলার অভ্যেসটা একটু আয়ত্বে আসতেই নিচে লনে, ফুলের বাগানে বন্ধুরা মিলে হাঁটাহাঁটি করতে লাগলাম।

নিচতলার ওয়ার্ডে থাকতো আমজাদ হোসেন (বর্তমানে অর্থোপেডিক সার্জন)। সাত নম্বর সেক্টরের আহত মুক্তিযোদ্ধা। আঘাতপ্রাপ্ত পা' ঝুলানো ট্রাকশন দিয়ে। দুঃসহ জীবনের ঘেরাটোপে ওর জীবনটা ছিলো আরও দুঃখময়। বিছানাই ছিলো একমাত্র সাথী। মাঝে মাঝে গল্প-উপন্যাসের বই পড়তে দিয়ে যেতেন সলিল কুমার বিশ্বাস এবং অশোক কুমার সমাজদার। সলিলের বাড়ি ব্যারাকপুরের মুরগি মহল। গ্রাজুয়েট। কিন্তু চাকুরি হয়নি তখনও। নদীয়ার অশোক সমাজদার হাসপাতালের কাছেই সরকারি কোয়ার্টারের বাসিন্দা। জুনিয়র অফিসার স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার। সদালাপী, বিনয়ী ও হৃদয়বান ব্যক্তি দু'জনই। প্রায় দিনই আসতেন আমাদের দেখতে। একবার আমাকে নিমন্ত্রণ করে খাইয়েছেন অশোক সমাজদার তার কোয়ার্টারে নিয়ে গিয়ে। এদের ঘনিষ্ঠতা ছিলো অবশ্য মুসা ভাইয়ের সঙ্গেই বেশি।

আমরা যখন নামতাম নিচে বেশি সময় কাটাতাম আমজাদের সঙ্গে গল্প গুজব-করে। দেখতে যেতাম কখনো কখনো হাসপাতাল ভবন সংলগ্ন টিন সেডের একটি ঘরে। থাকতো সেখানে আহত বন্দী পাকিস্তানী সৈন্য। কারো কারো তো গোঁপের রেখাই গজায়নি তখনও। তরুণ পাঠান এই সৈন্যরা কাঁদতো আমাদের দেখলেই। বলতো আক্ষেপ করে, ‘পূর্ব পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে আমাদের কাফের মারতে, এসে তো দেখলাম মুসলমান সবাই।'

দিনে দিনে বাড়তে লাগলো আহত মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সৈন্যের সংখ্যা। ছয় সিটের ওয়ার্ডে বারো সিট পেতেও সম্ভব হচ্ছেনা স্থান সংকুলন করা। অগত্যা, মোটামোটি সুস্থ্য যারা তাদেরকে বিভিন্ন প্রদেশের সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি।

পায়ের ঘা প্রায় শুকিয়ে এলেও একটু একটু ব্যাথা অনুভব করছিলাম তখনও। ক্ষতস্থানে হাত দিলেই মনে হতো স্প্রিংয়ের মত একটা কি যেন বেঁধে খচখচ করে। কথাটা কর্ণেল যোশীর কানে তুলেও লাভ হলো না। আমিও আর গুরুত্ব দিলাম না তেমন। মাঝে মধ্যে ব্যাথা উঠলে পেইন কিলার খেয়ে থামিয়ে রাখতাম।

কথায় কথায় একদিন জানতে পারলাম আহত পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধার দলে আমাকেও পাঠানো হচ্ছে লক্ষেèৗই সিভিল হাসপাতালে। কিন্তু আমি যতদূর জানি আর্টিফিশিয়াল পা লাগানোর জন্য এখান থেকেই সরাসরি পুনে কিংবা কিরকী সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হবে আমাকে। নতুন এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমার অসন্তোষের কথা জানালাম কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু অনঢ় কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করলো না আমার সে কথায়।

এমনিই টানাপোড়েন যখন চলছে ঠিক সেই সময়ে আকস্মিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের দেখতে এলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানী। তার সঙ্গে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন-চীফ লেঃ জেনারেল জগজিং অরোরা, নয় নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর এমএ জলিল এবং লেঃ কমান্ডার রহমতউল­াহ। জেনারেল ওসমানী ঘুরে ঘুরে খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন সবার। কাছে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করতেই তুলে ধরলাম এখানকার বিস্তারিত বিবরণ তাঁর সামনে। সব কথা শুনে বিরক্তি প্রকাশ করলেন তিনি জেনারেল অরোরার কাছে। জেনারেল অরোরা তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যতশীঘ্র সম্ভব পুনা পাঠাতে আমাকে। গটগট করে পা বাড়ানোর জেনারেল ওসমানী অন্য ওয়ার্ডের দিকে। যেতে যেতে হঠাৎ ফিরে এলেন জেনারেল অরোরা। আমার চিবুক স্পর্শ করে বললেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি তোমার সাহসের জন্য।'

কুড়ি তারিখ সেপ্টেম্বরের।

পুনার উদ্দেশ্যে হাওড়া স্টেশনে এসে পৌঁছলাম। অন্য পাচজন মুক্তিযোদ্ধাও যাচ্ছে এলাহাবাদ। সঙ্গে গাইড চারজন। বারো সিটের বার্থে যাত্রী দশজন আমরা। ছেড়ে দিলো বোম্বে মেইল যথাসময়ে হাওড়া ষ্টেশন থেকে। এবারের জার্নিটা একটু অন্যরকম। শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা আসার পথে যতটা নিঃসঙ্গ মনে হয়েছিলো নিজেকে এবার হলো ঠিক তার উল্টোটাই।

বৈদ্যুতিক ট্রেনের গতির সঙ্গে উদাস হয়ে গেল মনটা। ব্যারাকপুরের দু'মাসের স্মৃতি ক্রমশঃ ভিড় করতে লাগলো। মনে পড়তে লাগলো বেশি করে মুসা ভাইয়ের কথা। বিদায় মুহ‚র্তে কেঁদে ফেলেছেন আমাকে জড়িয়ে ধরে, বলেছেন দৃঢ় কণ্ঠে, ‘দেখা হবে ভাইডি স্বাধীন বাংলাদেশে আবার।'

দেখা হয়েছে।

মুসা ভাইয়ের আগ্রহের কারণেই সম্পর্কটা আমাদের টিকে ছিলো শেষদিন পর্যন্ত। স্বাধীনতার পর আমি যোগদান করি বাংলাদেশ বেতার, ঢাকা কেন্দ্রে। মুসা ভাই তখন ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদপুরের। কাজে বা বেড়াতে যখনই ঢাকা আসতেন ছোট ভাই গাজী মোহাম্মদ ঈসাকে দিয়ে ডেকে নিতেন আমাকে। ঈসা চাকরি করতো তখন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মতিঝিল অফিসে।

শাহবাগের মৌলি রেস্টুরেন্টে বসে আলাপ করতেন মুসা ভাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে। কত কথা তাঁর। ব্যারাকপুরের কথা। সলিল বিশ্বাস, অশোক সমাজদারের কথা। রাজনীতির কথা। মুক্তিযোদ্ধদের ভাল-মন্দের কথা। বলতেন সব শেষে নিজের শরীরের কথা। শেষ পর্যন্ত গুলি বের করা সম্ভব হয়নি তার শরীর থেকে। ডাক্তার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আয়ু আছে যতদিন, গুলি নিয়েই বাঁচতে হবে শরীরে।' বাঁ পা'টা টেনে হাঁটতেন একটু। যন্ত্রণা হয় আগের মতই মাঝে মাঝে। বিয়ে করেছেন পাবনায়। আমারই এক বন্ধু রাজবাড়ির ম্যাজিস্ট্রেট শরীফের ছোট বোনকে। কিছুদিন ক্যাজুয়েল আর্টিস্ট হিসেবে শরীফ চাকরি করেছেন বাংলাদেশ বেতার ঢাকায়।

মুক্তিযুদ্ধ থেকে ব্যক্তিগত জীবন। দেখা হয়েছে যত বারই কোন কিছুই লুকোননি মুসা ভাই আমার কাছে। বন্ধুবৎসল, প্রাণবন্ত সেই মুসা ভাই আত্মহত্যা করেছেন নিজের বন্দুক দিয়ে। সংবাদটা জানতে পারি আমি অনেক দেরিতে সাতক্ষীরা সুন্দরবন টেক্সাটাইল মিলে বেড়াতে গিয়ে তাঁর বড় ভাই লেঃ কমান্ডার রহমতউল্লাহর মুখ থেকে। পায়ের যন্ত্রণাই তাঁকে ঠেলে দেয় শেষ পর্যন্ত আত্মহননের পথে।

 

(চলবে)


মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো : পর্ব - ১
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো : পর্ব - ২
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো : পর্ব - ৩
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো : পর্ব - ৪
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো : পর্ব - ৫
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো : শেষ পর্ব

 

কাজী জাকির হাসান
কথা সাহিত্যিক, নাট্য ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top