সিডনী সোমবার, ২৭শে জুন ২০২২, ১২ই আষাঢ় ১৪২৯

১৯৭১ এর হুবহু কপি ২০২১: ক্যালেণ্ডারে বাংলাদেশ ফিরে পাচ্ছে জন্মবর্ষ  : মু: মাহবুবুর রহমান 


প্রকাশিত:
৩০ ডিসেম্বর ২০২০ ১০:৫২

আপডেট:
২৭ জুন ২০২২ ০১:৪৪

 

মহামারী করোনার মধ্য দিয়েই শেষ হতে চললো ২০২০, কিছুদিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে ইংরেজি নতুন বছর ২০২১। তবে অন্যান্য সব বছরের চেয়ে নতুন বছরটি নিয়ে বাংলাদেশিদের আশা আকাঙ্ক্ষা যেন কিছুটা অন্যরকম। কেননা স্বাধীনতার  সুবর্ণ জয়ন্তী যে উৎযাপিত হবে ২০২১এ । তবে স্বাধীনতার ৫০তম ২০২১ সালের প্রতিটি দিন মিলে গেছে বাংলাদেশের জন্মবর্ষ ১৯৭১ সালের প্রতিটি দিন ও বারের সঙ্গে। 

মুক্তিযুদ্ধের বছর, বাংলাদেশের জন্মের বছর ১৯৭১ সালের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে জন্মের ৫০তম বছর ২০২১ সালের ক্যালেন্ডারের হুবহু মিল, যা নিয়ে ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির এমন হাজারো উদহারণ আছে। তেমনি এক বিরল পুনরাবৃত্তি ঘটেছে ২০২১ সালের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে। স্বাধীনতার ৫০তম বছরে এমন দুই সাল মিলে যাওয়ায় নতুন করে মানুষের মনে আবেগ সঞ্চার করেছে। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বছর ১৯৭১ সাল ঠিক যে দিনটিতে শুরু ও শেষ হয়েছিল ২০২১ সালও ঠিক সে দিনটিতেই শুরু ও শেষ হচ্ছে। ২০২১ সালের বর্ষপঞ্জি ১৯৭১ সালের সাথে শুধু শুরু ও শেষের দিনটিই নয়, বছরের সব কটি দিনই ১৯৭১ সালের সাথে হুবহু মিল রয়েছে।  

১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি ছিল শুক্রবার। ২০২১ সালের প্রথম দিনও শুক্রবার। এমনকি দুটি বছরের শেষ দিনও পড়েছে শুক্রবারের ঘরে। অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা দিবস) যে বার ছিল, ঘুরেফিরে ২০২১ সালের ২৬ মার্চেও সেই একই বার দেখবে বাংলাদেশিরা। আর ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উৎযাপন করেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।   

এমন মিলের কারণ কী? গাণিতিক ভাষায় পৃথক বছরের দিন বা বারের মধ্যে হুবহু মিল থাকলে তাকে বলা হয় আইডেন্টিটিক্যাল ক্যালেন্ডার ইয়ারস বা যমজ দিনপঞ্জির বছর। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো বছরই নয়, যে কোনো বছরের জন্য এমন অনেকগুলো যমজ বছর সম্ভব। কেবল গাণিতিক নিয়মেই এমন ঘটে। 

১৯৭১ থেকে ২০২১-এই ৫০ বছরের দিনপঞ্জি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর মধ্যে যমজ বছরের ঘটনা আরও চারবার ঘটেছে। ১৯৮২, ১৯৯৩, ১৯৯৯ ও ২০১০ সাল। এমনকি আগামী ৫০ বছরে, ২০২১ থেকে ২০৭১ পর্যন্ত, এমনটা ঘটবে আরও পাঁচবার। ২০২৭, ২০৩৮, ২০৪৯, ২০৫৫ ও ২০৬৬ সালের বছরগুলোতে। তাহলে ১৯৭১ থেকে ২০৭১-এই ১০০ বছরে হুবহু মিলের বছর পাওয়া যাবে মোট ১১টি। গাণিতিক হিসাবে দেখা গেছে, দুটো যমজ বছর পেতে সর্বনিম্ন ৬ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। 

কারণ সে যাই হোক, ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা ১৯৭১ এর প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাচ্ছি, সেটাই বা কম কিসে? বিশেষ করে আমরা যারা স্বাধীনতার পরবর্তী প্রজন্ম তাদের কাছে ১৯৭১ সাল আবার ফিরে আসছে ২০২১ এ। স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তীতে ১৯৭১ সালের বিশেষ দিনগুলোকে একই দিনে/বারে উদযাপন করতে পারবো আমরা। যেমন, উত্তাল মার্চের দিনগুলি (১ মার্চ, ৭ মার্চ, ২৫ মার্চ, ২৬ মার্চ), বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের দিন (১০ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল), তিন বাহিনীর সম্মিলিতভাবে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমনের দিন (২১ নভেম্বর), বিজয়ের মাস ডিসেম্বর (১ ডিসেম্বর, ১৪ ডিসেম্বর ও ১৬ ডিসেম্বর) সহ অন্য সব দিবস।   

বাংলাদেশের সবার জন্য স্বাধীনতার ৫০ বছরটি আনন্দের, মহত্ত্বের ও গৌরবের। ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জির বদৌলতে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ যেন ফিরে যাচ্ছে তার জন্মবর্ষে। স্বাধীনতা ৫০তম বছরের মতো একটি উপলক্ষে এ ধরনের মিল স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি বাংলাদেশির মনে গভীর আবেগ, উচ্ছ্বাস ও দেশপ্রেমের সঞ্চার করছে। 

 

মু: মাহবুবুর রহমান  
নিউজিল্যান্ডের মেসি ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top