নারীরা হল প্রকৃতির সৌন্দর্য : নারী দিবসের ভাবনায়
প্রকাশিত:
৮ মার্চ ২০২৬ ২০:২০
আপডেট:
৯ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৫
জয়দেব বেরা: নারী শক্তি হল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং মহান শক্তি। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বলা যায়,এই জগৎ সংসার তথা সৃষ্টিকুল যত বারই বিপদের সম্মুখীন হয়েছে ঠিক ততবারই নারী শক্তির আবির্ভাব হয়েছে এই বিপদ থেকে সৃষ্টিকুলকে রক্ষা করার জন্য। নারী শক্তি ব্যতিত এই সৃষ্টিকুল অচল এবং অসম্পূর্ণ। নারীরা হল প্রকৃতির রূপ, নারীরা হল প্রকৃতির সৌন্দর্য। নারীর চোখেই যেন রয়েছে নীল আকাশের সৌন্দর্য, হাসিতে রয়েছে চন্দ্রের উজ্জ্বলতা, চুলে রয়েছে বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্য এবং পায়ের নূপুরের শব্দে রয়েছে সাগরের ঢেউয়ের শব্দের সৌন্দর্য। তাই তো নারীরা থাকতে চায় পুরুষের হৃদয়ের সাম্রাজ্যে,প্রেমের গৃহে। নারীরা সর্বদাই যত্নের পাগল, নারীরা ভালোবাসার পাগল।
তবে এই প্রকৃতির সৌন্দর্যের উপর যেমন নির্বিচারে অত্যাচার হয়,ঠিক তেমনি সমাজের কিছু মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরা নারীদেরকেও অত্যাচার করে এবং সৃষ্টি করে লিঙ্গ বৈষম্য।আজও নারীবাদের সেই 'ব্যক্তি পরিসর' এবং 'গণ পরিসরের' বির্তক লক্ষণীয়। নারীরা আজও গণ পরিসর তো দূর ব্যক্তি পরিসরেও নিরাপদ নয়। তবে বর্তমান সময়ে দীর্ঘদিনের নারী আন্দোলনের ফলে নারীরা আজ সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন।ভারতীয় সংবিধান নারীদের সুরক্ষার ও মর্যাদার জন্য বিভিন্ন আইনও সূচনা করেছে। তা সত্ত্বেও কিন্তু নারীরা আজও এই পুরুষ শাসিত সমাজে অবহেলিত, লাঞ্ছিত এবং শোষিত। আজও লিঙ্গ বৈষম্য ক্রমে ক্রমে সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হচ্ছে। আজও সমাজে ধর্ষণ, গার্হস্থ্য হিংসা, নারী নিপীড়ন, পণপ্রথা, বাল্য বিবাহ, কর্মক্ষেত্রে হেনস্থা প্রভৃতি সহ অন্যান্য নারী সমস্যাগুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আমরা জানি, প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয় নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অর্জনগুলোকে উদযাপন করতে এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তা দিতে। কিন্তু কেবল নারী দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করলেই হবে না, পাশাপাশি আমাদের সবার চিন্তাভাবনার পরিবর্তন করতে হবে। সমাজ থেকে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে হবে। নারীরা যেহেতু প্রকতির রূপ তাই নারীদেরকে প্রকৃতি প্রেমিক কবির মতোই ভালোবাসতে হবে।কেবল জন্মগত নারী নয়, রূপান্তরকামী নারীদেরকেও সমানভাবে সম্মান এবং শ্রদ্ধা করতে হবে। তাই সামাজিক নাগরিক হিসাবে সাংবিধানিকভাবে সমাজে পুরুষদের মতোই সমস্ত জাতি এবং ধর্মের নারীদেরকে সমানভাবে মর্যাদা, সমানভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা, সমান সুযোগ সুবিধা প্রভৃতি প্রদান করতে হবে।তবেই নারী দিবসের পালন সার্থক হবে। পরিশেষে একটাই কথা বলতে চাই, প্রকৃতি সুন্দর থাকলে যেমন সমস্ত প্রাণীকুল সুস্থ থাকে ঠিক তেমনি প্রকৃতির রূপ সম নারীরাও সুস্থ ও যত্নে থাকলে এই সমাজ সুস্থ ও সুন্দর থাকবে।
লেখক : ভারতবর্ষের অতিথি অধ্যাপক, কবি,বই লেখক এবং সমাজ-মনোবিশ্লেষক।
বিষয়:

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: