সিডনী শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


ডিম নিয়ে কিছু কথা : হোসাইন মকবুল


প্রকাশিত:
১৪ নভেম্বর ২০২০ ১৬:০৫

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০০:০৪

 

ডিম আগে না মুরগী আগে - এ নিয়ে যতো বিতর্কই হোক না কেন, ডিম এবং মুরগী বাঙালীর খাদ্য তালিকায় কমন। বলা হয়, মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ ক্রমশ নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশে পোলট্রি খামারের বিকাশ প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিমকে অনেকটা সহজলভ্য করে দিয়েছে। এখন মাছে-ভাতে না হলেও ডিমে ঝোলে বাঙালি।

খামার দেখতে বেরিয়ে রাস্তার পাশে দুপুরে হোটেলে চারজন খেতে বসেছি। এমন সময় একজনের ফোন এলো। এপাশ থেকে জবাব, হোটেলে ভাত খাচ্ছি। ওপাশ থেকে ভেসে এলো, কি তরকারি? রসিক স্বামী ঠোঁটে রসালো হাসি ঝুলিয়ে বললেন, প্রায় মুরগী। কথাটির মধ্যে কৌতুক আছ, কিন্তু ঝেড়ে ফেলার নয়। মুরগী আর ডিম দুটোর রক্তের সম্পর্ক। ডিম তো মুরগীর পেট থেকে বেরোয়। কাজেই ডিম খেয়ে প্রায় মুরগী বলার মাঝে কৌতুক মিশ্রিত আনন্দ আছে।

আবার, তুই পাবি ঘোড়ার ডিম, তোর ভাগ্যে আছে অশ্বডিম্ব, তুই একটা ভিতুর ডিম-- ডিম নিয়ে এরকম ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ যেমন হর-হামেসা কপালে জোটে, তেমনি বক্তৃতা মন্চে পচা ডিম ধেয়ে আসা এবং রিমান্ডে পুলিসের ডিম থেরাপি নিয়ে রসালো গল্পেরও অভাব নেই।

ডিম নিয়ে যত কথাই থাক, ডিম আর মুরগী আমাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় আছে নানাভাবে। মুরগী যেমন ঝোলে আছে, ভুনায় আছে, তেমনি বিশেষ বিশেষ আনুষ্ঠানিক খাবারে মুরগীর রোস্ট কমন। আবার চাইনিজে চিকেন ফ্রাই না হলে আলোআঁধারে প্রেমালাপ তো জমেই না। অন্যদিকে ডিমের কদর আরো বেশী। মাছ, মাংস নাই তাতে কি, ডিমের ঝোল । ওতেই খুশি। সকালে নাস্তার টেবিলে একটা সিদ্ধ ডিম হলে বেশ জমে। স্কুলে বাচ্চাদের টিফিন বক্সে সিদ্ধ ডিম আদরে জায়গা পায়। সকালে ভাজা ভাতের সংগে একটা ডিম পোচ, দুপুরে, রাতে ভাতের সাথে ডিম আলুঘাটি অনেকের প্রিয় খাবার। ডিম ভাজিও কম প্রিয় না। ভাল তরকারি নেই তাতে কি, পিয়াজ, কাঁচামরিচ দিয়ে ফুলাফুলা একটা ডিম ভাজি হলেই ফাটাফাটি বাঙালী খাবার। বাড়িতে হঠাৎ খাবারের সময় কুটুম এসে হাজির। খাবারে তেমন কিছু নেই। গরম গরম একটা ডিম ভাজি অতিথির পাতে দিতে পারলেই গিন্নির চোখে খুশির ঝলক। কারো হাতের অনুরাগের ছোঁয়ায় ভাজা ডিম যদি পাতে পড়ে তার স্বাদ জিহ্বায় লেগে থাকে অনেকদিন। শীতকালে শহরে হাফ বয়েল, ফুল বয়েল ডিমের খুব চাহিদা। মোট কথা ডিম আমাদের অতি প্রয়োজনীয় এবং প্রিয় খাবার।

ডিম নিয়ে এত কথা আরও একটি কারনে। আর তা হলো, ডিম কখনও কখনও খাবারের পাত থেকে উঠে আসে খবরের কাগজে। ডিমের দাম বাড়লে কাগজে হৈচৈ, আবার দাম পড়ে গেলে খামারিদের আহাজারি। ইদানিং মাঝে মাঝেই বাজারে প্লাস্টিকের ডিম এবং এসব ডিম খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে- এমন খবর হুটহাট খবরের কাগজে আসে যা ভোক্তা এবং খামারি উভয়ের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে অভিঙ্গ খামারি এবং পোলট্রি মেডিসিন প্রতিনিধি কথা প্রসঙ্গে জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে,  বিশেষকরে ব্রোংকাইটিস এবং ক্যালসিয়াম ডিফিসিয়েন্সির কারনে মুরগী কিছুটি বিকৃত ডিম দিতে পারে, যেমন একটু বাঁকা, খোসা ভঙ্গুর ডিম। আবার কোন কারনে ডিমের কুসুমও অপুষ্ট হতে পারে।

পরিশেষে ডিম নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। ডিম আমাদের অতি পরিচিত। আমাদের বাড়ীর পাশেই মুদি দোকানে ডিমের সমারোহ। আসুন, ডিম খাই, সুস্থ থাকি।

 

হোসাইন মকবুল
রাজশাহী

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top