সিডনী শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান সৌদি বাদশাহর


প্রকাশিত:
১২ নভেম্বর ২০২০ ১৬:৩৮

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০৩:১৫

 

প্রভাত ফেরী: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ। বৃহস্পতিবার দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তেহরানের পারমাণবিক উন্নয়ন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

 এর আগে সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে এক ভিডিও লিংকের মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন ৮৪ বছরের বাদশাহ সালমান। এরপর এই প্রথম তিনি জনসমক্ষে কোনও অনুষ্ঠানে ভাষণ দিলেন। আর এতেই তেহরানকে নিয়ে রিয়াদের দীর্ঘ উদ্বেগের কথা জানান তিনি।

এমন সময়ে সৌদি বাদশাহ এ উদ্বেগ জানালেন যার মাত্র কয়েক দিন আগেই হোয়াইট হাউসে মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়েছে রিয়াদ। ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের বিপরীতে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে রিয়াদের। এই অস্বস্তি এতোটাই প্রকট যে, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানাতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই রাজতান্ত্রিক দেশটি। সেই অভিনন্দন জানানোর পরই বৃহস্পতিবার ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানালেন সৌদি বাদশাহ।

ভাষণে ইরানের সম্প্রসারণবাদ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেহরানের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ, ‘সন্ত্রাসবাদের লালন’ ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ নিয়ে নিজ দেশের উদ্বেগের কথা জানান সৌদি বাদশাহ। এসব উদ্বেগ নিরসনে এগিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তেহরান যাতে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারে সে বিষয়েও বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সৌদি বাদশাহ।

সৌদি বাদশাহর এমন বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের কাছ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইতোপূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র সরবরাহের কথা অস্বীকার করেছে তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার পরই সৌদি-ইরানের পুরনো বিবাদ নতুন করে সামনে আসে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকেও মূলত সৌদি-ইরানের প্রক্সিযুদ্ধ বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়ে থাকে। ইরান সমর্থিত বিদ্রোহীরা দেশটির সৌদি সমর্থিত শাসককে উৎখাতের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দারিদ্রপীড়িত দেশটিতে হামলা শুরু করে সৌদি সামরিক জোট।

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বোমা হামলা থেকে বাদ পড়ছিল না স্কুল থেকে শুরু করে বিয়েবাড়ি এমনকি জানাজার নামাজও। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেন যুদ্ধে রিয়াদকে সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন ওবামা প্রশাসন। ওই প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলের পর সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র বাণিজ্যে উদ্যোগী হন ট্রাম্প।

অন্যদিকে এবারও নির্বাচনি প্রচারে রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাইডেন। আহ্বান জানিয়েছেন ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে মার্কিন সহায়তা বন্ধের। সাংবাদিক জামাল খাসোগির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি যুবরাজের জবাবদিহিতার দাবি তুলেছিলেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে দৃশ্যত মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় সৌদি আরবের জন্য একটি বড় ধাক্কা। আর আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে যেভাবে কাছে পেয়েছিল রিয়াদ বাইডেন আমলে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো সেভাবে পাশে পাবে না রিয়াদ। ফলে এ নিয়ে উদ্বেগ ঘিরে ধরেছে সৌদি শাসক গোষ্ঠীকে। বৃহস্পতিবার বাদশাহ সালমানের আহ্বানের মধ্য দিয়ে রিয়াদের এমন উদ্বেগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top