সিডনী রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ই আশ্বিন ১৪২৭


মন থেকে বিষণ্নতা দূরের ৭টি কার্যকরি উপায়


প্রকাশিত:
৬ আগস্ট ২০২০ ১৭:৪৩

আপডেট:
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:২৩

 

প্রভাত ফেরী: অনেকেই ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতাকে ফ্রাস্ট্রেশন বা হতাশার সমার্থক বলে মনে করেন। তাই আসুন, প্রথমেই দেখে নেই, ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা জিনিসটা কি। ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা হচ্ছে এমন একটা মানসিক অবস্থা যে অবস্থায় একজন মানুষের কোনো কিছুর প্রতি কোনো আগ্রহ থাকে না এবং নিজেকে অসহায় মনে হয়। বিষণ্নতাগ্রস্ত মানুষের কোনো কাজ করতে ভালো লাগে না। খেতে ভালো লাগে না। বেড়াতে ভালো লাগে না । এমনকি গল্প করতেও ভালো লাগে না। বস্তুত তাঁরা জীবনের কোনো অর্থই খুঁজে পায় না।

অন্যদিকে, হতাশা? মানুষ কিছু পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে গিয়ে যখন পায় না বা পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে করতে পারে না, তখন মানুষের যে মানসিক অবস্থা তৈরি হয় তা-ই হলো হতাশা । হতাশাগ্রস্ত মানুষের রাগ, ঈর্ষা, লোভ থাকতেও পারে। কিন্তু বিষণ্নতাগ্রস্ত মানুষের এসব কিছুই নেই। হতাশাগ্রস্ত মানুষ কোনো কিছু হারালে দুঃখ পান। কিন্তু বিষণ্নতাগ্রস্ত মানুষের যেন কিছুই যায় আসে না। সুতরাং হতাশা ও বিষণ্নতা দুটি সম্পূর্ণই পৃথক জিনিস। একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষ ক্রমান্বয়ে বিষণ্নতাগ্রস্ত হতে পারেন।

আপনার মনের আকাশে বিষন্নতা একবার দেখা দিলে জীবনে ছেয়ে যাবে কালো মেঘের আঁধার। এ থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে জানতে হবে বিষণ্নতা দূর করার উপায়। শুধু জানলেই যে শেষ হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়, উপায়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে আপনাকেই। মনে রাখবেন, যদি ব্যর্থ হন তাহলে আপনাকে পুরোপুরি গ্রাস করবে বিষণ্নতা। প্রথমে আপনার মনকে নিয়ন্ত্রণে নিন। এরপর ধীরে ধীরে ইতিবাচক চিন্তার দিকে প্রবাহিত করুন। মাথায় জগতের সৌন্দর্যময় চিত্রগুলো নিয়ে আসুন। এরপর একাগ্রতার সাথে বিষণ্নতার উপাদানগুলোকে ঝেড়ে ফেলুন। জেনে নিন, আপনার মনের আকাশ থেকে বিষণ্নতার মেঘগুলোকে কিভাবে সরিয়ে দেবেন?

১. জোরে জোরে হাসুন: মানুষের জীবনে হাসি হলো বিষণ্নতা তাড়ানোর এক মহৌষধ। ধরুন আপনি বড় ধরনের কোন বিষাদে ভুগছেন। তার মানে এই নয় যে আপনি হাসবেন না, আড্ডা দেবেন না বন্ধুদের সঙ্গে। আড্ডা দিন, আনন্দ করুন। আড্ডার মাঝেও হাসি খুঁজে আনার চেষ্টা করুন। চলে যান অনলাইনে খুঁজে বের করুন আপনার আনন্দের খোরাকগুলো। ইউটিউব থেকে খুঁজে বের করে দেখতে পারেন আপনার প্রিয় ভিডিওগুলি। অথবা দেখতে শুরু করুন শৈশবের মজার মজার কমেডিয়ান পুরনো কার্টুন সিরিজগুলো। আপনার মুল্যবান সময় বিফলে যাবে না বরঞ্চ অজান্তেই কেটে যাবে মনে জমিয়ে রাখা যতো বিষন্নতা, ভালো হয়ে যাবে আপনার মন।

২. নিত্য নতুন অভিজ্ঞতা: আপনার জীবনে এমন অনেক কিছুই আছে যা আপনি বেশ উপভোগ করেন ৷ হতে পারে সেটি স্কাই ডাইভিং অথবা আপনার প্রিয় কোন খেলা, ভালো একটি সিনেমা। এতে করে আপনার মন পাবে ইচ্ছার অগ্রাধিকার। আর আপনি যে বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিন না কেন তা নিয়ে আপনি থাকতে পারেন উৎফুল্ল। বিশ্বাস করুন একদিন না একদিন আপনার স্বপ্নগুলো হবে সত্যি। আপনার বিশ্বাস থেকেই দেখবেন আপনার দেখা দিবাস্বপ্নগুলো, হবে সত্যিকারের অভিজ্ঞতার মতই সুখকর।

৩. প্রকৃতিকে ভালোবাসা: আপনি যখনই চান তখনই বাইরের জগতটাতে পা রাখতে পারেন এবং অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। প্রকৃতি আমাদেরই নিজস্ব সম্পদ। আমরা যখন চাই তখনই তা উপভোগ করতে পারি ৷ ঠিক মানবজাতির মতই, প্রকৃতি যতটা উপভোগ্য ততটাই ধংসাত্মক। আমাদের সবারই প্রকৃতির সাথে এমন একটি সংযোগ আছে যা আমাদের মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। এমন যদি হয় যে,আপনি আপনার আশেপাশে মানুষগুলোর প্রতি হতাশ তবে তাদেরকে কয়েকদিনের জন্য দূরে সরিয়ে প্রকৃতিকে কাছে টেনে নিতেই পারেন। যখন আপনার মন খারাপ থাকে তখন চেষ্টা করুন ইতিবাচক ব্যপার চিন্তা করতে। নেতিবাচক ব্যপার নিয়ে আটকে পড়ে থাকা আসলে ভয়াবহ।

৪. গান শুনুন: একটা ঘটনার কারণে যেমন আপনি বিষাদগ্রস্ত হতে পারেন তেমনি একটি মাত্র গানও আপনার বিষাদকে তাড়িয়ে দিতে পারে জীবন থেকে অনেক দূরে। বিষন্ন মুহুর্তগুলোতে শুনুন প্রিয় গায়কের গান। ঘুম থেকে উঠেই হাল্কা আওয়াজে ছেড়ে দিন প্রিয় গানটির সিডি। এক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে গানের সুর যেন হয় মাধুর্যময় এবং সময়োপযোগী। গানের কথা যেন ছুঁয়ে যায় আপনার মনের ভাঁজগুলোকে। গান শুনতে শুনতে খেয়াল করুন, মনে হবে এক অপার্থিব জগতে চলে গেছেন। গানের মধ্যে এতটাই ডুবে যাবেন যে মনে হবে ‘কে বলেছে এই পৃথিবীতে আমি একা?’ গানের সাথে সাথে মনের মেঘ কেটে যেতে থাকবে, ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসবে আপনার মন।

৫. মন ফ্রেশ রাখুন: আপনি বিষণ্নতায় ভুগছেন কিন্তু ভবিষ্যতে এমন ডজন ডজন ঘটনা ঘটতে পারে যেটা সম্পর্কে আপনার কোন অভিজ্ঞতাই নেই আর তাই বিষণ্নতা থেকে বের হয়ে মনকে রাখতে হবে উৎফুল্ল। নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হোন, তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করুন, সময় ব্যয় করুন। এমন হাতে পারে এদের সাথে মিশে এতটাই আনন্দিত হবেন যে আপনি কল্পনাও করতে পারেন নি। অতীতে যাদের দ্বারা আপনি দুঃখ পেয়েছেন দেখবেন এই নতুন বন্ধুরাই সেসব দুঃখ ভুলিয়ে দেবে। আপনার দিনগুলোকে করবে অনেক আনন্দময়। এমনও হতে পারে এই সময়ের চেয়ে সেই সময় হবে হাজার গুণ ভালো। অতএব আনন্দময় মুহুর্তগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ হোন।

৬. টিভি শো দেখুন: আপনার খারাপ সময়গুলোতে টিভি শো দেখুন। আপনার বাজে সময়গুলো যখন কাটতে চাইবে না তখন কিছু না কিছু করতে ইচ্ছে করেবে। এ সময়টাতে টিভি শো দেখাই শ্রেয়। কোন কোন শো সপ্তাহ একদিন হয়। আপনার মনের বেদনাগুলো কাটাতে টিভি শোগুলো দেখতে হবে অনেক আগ্রহ নিয়ে। এই আগ্রহ থেকেই আপনি যে শো টা সর্বশেষ দেখেছেন তার পরবর্তী এপিসোড দেখার জন্য আপনার মনে কাজ করবে উত্‍সাহ। মন করবে আকুপাকু। আপনি যথারীতি সপ্তাহের সেই দিনটার জন্য অপেক্ষা করতে থাকবেন। দিন ঘন্টা গুনতে থাকবেন। এতে আপনার বিষন্ন ব্যাপারগুলো মন থেকে স্হানাচ্যুত হয়ে যাবে।

৭. ভালোবাসার ছোঁয়া: আপনি যখন ভালোবাসতে শুরু করবেন সেই সময়টাতে আপনি ভুগতে পারেন চরম একাকীত্বে। এর থেকে দেখা দিতে পারে বিষণ্নতা, জমতে পারে মনের আকাশে মেঘ। এক্ষেত্রে আপনি সেইসব মুহুর্তের কথা ভাবুন যখন আপনি প্রকৃত ভালোবাসার ছোঁয়া পেয়েছিলেন। ভাবুন, যখন আপনার মা বা ভালবাসার কোন মানুষ পরম আনন্দে আপনাকে জড়িয়ে ধরেছিল কিংবা যখন প্রিয়তমার উষ্ণ চুম্বন আপনাকে করেছিল সিক্ত। এই চিন্তাগুলো আপনাকে এক অজানা সুখে আচ্ছন্ন করবে। এমনকি আপনার পোষা প্রাণী থাকলে তাকে কোলে নিয়ে আদরের পরশ বুলিয়ে দিন। এটা আপনার অজান্তেই ফোঁটাবে আপনার মুখে হাসি। ভাবুন আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনাগুলোকে নিয়ে, আঁকুন নতুন নতুন স্বপ্ন। দেখবেন আপনার বিষন্নতা কখন একা ফেলে চলে গেছে। মনে ছুঁয়ে দিয়েছে অন্যরকম এক অনুভূতি।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top