সিডনী শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ই ফাল্গুন ১৪৩০


কোন বড় দেশ সমর্থন করছে কিনা, তা আমরা পরোয়া করি না: প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশিত:
২৪ নভেম্বর ২০২৩ ১২:৫৪

আপডেট:
২৪ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:০৬

সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক

 

বিএনপির প্রতি নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। জনগণ কাকে ক্ষমতায় দেখতে চায় তা যাচাইয়ের আহ্বানও দলটির উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আমেরিকার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, কোন বড় দেশ অগ্নিসংযোগ সহিংসতাকারীদের সমর্থন করছে কিনা তা আমরা পরোয়া করি না। তিনি আরো বলেছেন, কিছু বড় দেশ আছে যারা তাদের সেবা করে তাদের পক্ষ নেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকের আগে দেওয়া সূচনা বক্তব্যে এমন আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু বড় দেশ আছে যারা তাদের সেবা করে তাদের পক্ষ নেয়। তিনি বলেন, তাদের পছন্দের কোনো দেশ যদি অন্য কোনো দেশে আক্রমণ করে, তবে তারা এটিকে আক্রমণ বলে না। এমনকি তারা যে দেশগুলোর পক্ষপাতী তাদের দ্বারা পরিচালিত কোনো অমানবিক কাজও তারা দেখতে পান না। প্রধানমন্ত্রী হরতাল, অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখনই আপনারা দেখবেন কোনো অগ্নিসংযোগের সহিংসতা ঘটছে, তখনই অপরাধীদের ধরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করুন। আমরা এ কথা বলছি না যে, আপনি আইন নিজের হাতে তুলে নিন। তিনি বলেন, জনগণ অগ্নিসংযোগ সহিংসতা প্রতিরোধ করতে শুরু করলে অবশ্যই এর অবসান হবে।

বিএনপির উদ্দেশ্যে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, কে কতদূর দৌঁড়াতে পারেন এবং জনগণ কাকে ক্ষমতায় দেখতে চায় তা জানতে আসুন, নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করি। নির্বাচন বানচালের যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবেন না। যদি তা করেন, তাহলে এর পরিণতি কারো জন্য ভালো হবে না।

প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন আমি আপনাদের সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ, আগামী সাধারণ নির্বাচন যে অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নির্বাচনে অংশ নিতে যে সব দল ঘোষণা দিয়েছে, সে সব দলগুলোকে স্বাগতও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য বারবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমরা নির্বাচন করব। এক্ষেত্রে আমরা কোন হস্তক্ষেপ করব না। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করুক। তিনি আরও বলেন, তাদের ভোট চুরির দরকার নেই, কারণ আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপেও একই চিত্র তুলে ধরেছে। তিনি আরো বলেন, তাই আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেব। তিনি দেশবাসীকে আত্মবিশ্বাসের সাথে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনি আপনার ইচ্ছে মত ভোট দিতে পারেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশবাসীকে জাতির সেবায় আরেকবার পরিবর্তন আনতে আমার দলের নির্বাচনী প্রতীক নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পায় কারণ, তাদের দুই শীর্ষ নেতা দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বে কেউ নেই। তিনি আরো বলেন, তারেকের বিরুদ্ধে এফবিআই সাক্ষ্য দিয়েছে এবং কানাডিয়ান পুলিশ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দূর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সাক্ষ্য দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একটি মজার মন্তব্যও করেছেন, বিএনপি অতীতের মতো মনোনয়ন বাণিজ্য করতে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’ দেশের স্বাধীনতা এনেছে, বাংলাদেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে, প্রতিটি ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে বাড়ি দিয়েছে, প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছে এবং বাংলাদেশকে ডিজিটাল করেছে। তিনি বলেন, আওয়মী লীগ সরকার দেশবাসীকে একটি আধুনিক ও উন্নত জীবন দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার তার প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে এবং দেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, নৌকা ক্ষমতায় থাকলে জনগণ তাদের জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি পায়। এটাই বাস্তবতা। তাই আমাদের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার জন্য তাদের সুযোগ করে দিন।

বিএনপির সমালোচনা করে এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান প্রহসনমূলক হ্যাঁ-না ভোট দিয়ে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছিল এবং তার স্ত্রী তার স্বামীর পথ অনুসরণ করে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সহ প্রহসনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান করেছে। তিনি আরো বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনমূলক নির্বাচনের দেড় মাসের মধ্যে দেশের জনগণ বিএনপি সরকারকে উৎখাত করেছিল।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদচিহ্ন অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সংগ্রামের পর ভোট ও গণতন্ত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে ।

 


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Developed with by
Top