সিডনী মঙ্গলবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৪, ১০ই বৈশাখ ১৪৩১


কনকনে হিম কাঁপনে ৪৮ জেলা


প্রকাশিত:
২৯ জানুয়ারী ২০২৪ ১২:১০

আপডেট:
২৩ এপ্রিল ২০২৪ ২০:০৩

 

মাঘের প্রথম পক্ষের শেষভাগে এসে হাড় কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে প্রায় সারা দেশেই। কুয়াশার আবরণ ভেদ করে সূর্য উঁকি দিলেও ৪৮ জেলায় কামড় বসিয়েছে শীতের তীব্রতা। এসব এলাকার ওপর দিয়ে বই ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। রোদ বেশিক্ষণ স্থায়ী না হওয়ায় বিকেল গড়াতেই হিমেল হাওয়ার সঙ্গে দুঃসহ হচ্ছে শীতার্ত অনুভূতি। এই শীতে অচল হয়ে পড়েছে বহু এলাকার জনজীবন। উত্তরের জেলাগুলোতে রীতিমতো বরফ শীতল বাতাসের সঙ্গে শীতের প্রকোপ অভাবনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে।


গতকাল তৃতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সর্ব-উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। সেখানে বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনাজপুরেও গতকাল ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা একদিনেই হ্রাস পায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। রাতের কুয়াশা ঝরছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো।


আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলমান এই শৈত্যপ্রবাহ আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবারও বেশির ভাগ জেলায় অব্যাহত থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আবারও বাংলাদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে আগামী পরশু বুধবার থেকে ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এর পর আবারও শৈত্যপ্রবাহ হানা দিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, দেশের ৪৮ জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে গেছে।

আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান জানান, কুমিল্লা, সীতাকুণ্ড ও মৌলভীবাজার জেলাসহ রংপুর বিভাগের আট জেলা, রাজশাহীর আট জেলা, ঢাকার ১৩ জেলা, খুলনার ১০ জেলা ও বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। তবে তা কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মোট জেলার সংখ্যা ১৬। এই ১৬ জেলায় একদিনের ব্যবধানে বেশি নেমেছে তাপমাত্রা। শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল এক দিনের ব্যবধানে সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি নেমে যায়।


অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানান, পরপর দুই দিন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে সে সময় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়। আজ দেশের সর্বত্রই দিনের বেলা তাপমাত্রা বাড়লেও রাতে কমবে। রাজধানীসহ বেশির ভাগ অঞ্চলে কুয়াশা তেমন নেই। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ-বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন চলাচল ব্যাহত হতে পারে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ গতকাল জানান, আজ সোমবার সকালেও দেশের বেশির ভাগ জেলার ওপরে শৈত্যপ্রবাহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। চলমান এই শৈত্যপ্রবাহ আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকার শঙ্কা রয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আবারও বাংলাদেশের মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Developed with by
Top