পশ্চিমবঙ্গকে নরক বানিয়েছে অবৈধ বাংলাদেশীরা : অমিত শাহ
প্রকাশিত:
২ আগস্ট ২০১৮ ০০:৩৪
আপডেট:
৫ এপ্রিল ২০২৫ ২১:৪৮

কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকতে ইউপিএ সরকার বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেয়ার সাহস দেখাতে পারেননি। এখন বিরোধীরা এসব অবৈধ অভিবাসীদেরকে তাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে দেখছে। সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ।
ওই সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলগুলোতে বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপি প্রধান। তিনি বলেন, অবৈধ বাংলাদেশীদের বের করে দেয়া হবে,পশ্চিমবঙ্গকে নরক বানিয়েছেন তারা।
এ সময় তিনি আরও বলেন, তার দল জাতীয় নিরাপত্তা ও ভারতীয়দের অধিকারের পক্ষে। তাই আসামে এনআরসি বাস্তবায়ন করা হবে শেষ ‘ফুল স্টপ’ পর্যন্ত। এ নিয়ে তিনি কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দলগুলোর সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেন।
অমিত শাহ বলেন, এনআরসির ম্যান্ডেট হলো অবৈধ অভিবাসীদের সনাক্ত করা। এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। তখন ক্ষমতায় ছিল ইউপিএ সরকার। কিন্তু অবৈধ বাংলাদেশীদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার সাহসে ঘাটতি ছিল ওই সরকারের। কিন্তু এখন এনআরসি বাস্তবায়ন হবে শেষ ‘ফুল স্টপ ও কমা’ পর্যন্ত বা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে।
তিনি বলেন, আসামের মানুষের কি কোনো মানবাধিকার নেই? ভারতীয় নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষার জন্যই এনআরসি করা হয়েছে। এ নিয়ে ভারতীয় নাগকিরদের কারো উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অথবা অন্য রাজ্যের যেসব নাগরিক আসামে বসবাস করছেন তাদেরও অবিচারের মুখে পড়ার কোনো ভয় নেই। এনআরসি বাস্তবায়ন হবে দৃঢ়তার সঙ্গে ও সুষ্ঠুভাবে। বিজেপি এ ইস্যুর পক্ষে এবং ভারতীয় নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে তার অবস্থান। বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন সেই পক্ষের বিরুদ্ধে এ দলের অবস্থান।
অমিত শাহ আরো বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি। এটাই আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার। অন্য দলগুলোরও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা উচিত।
তিনি বলেন, আপনারা অবৈধ বাংলাদেশীদের বের করে দেয়ার সাহস দেখাতে পারেন নি। কারণ, তারা আপনাদের কাছে ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকদের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। জাতীয় স্বার্থের ওপরে গিয়ে ভোটব্যাংক রাজনীতি করা উচিত নয় কংগ্রেসের। এটা দুঃখজনক যে বিজেপি ও বিজেডি ছাড়া আর কোনো দল বিষয়টিকে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য দেশে জায়গা নেই এই কথাটি বলতে পারলো না। এ নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে না। কংগ্রেসের অবস্থান পরিবর্তনের স্বভাব আছে।
এ সময় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে অমিত শাহ বলেন, তাকে স্মরণ করতে বলবো তার দাদি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বক্তব্য। তিনি বলেছিলেন, ভারতে অবৈধ অভিবাসীদের কোনো জায়গা নেই। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এনআরসিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হতে পারে গৃহযুদ্ধ ও রক্তপাত। এর নিন্দা জানান অমিত শাহ। তিনি বলেন, গৃহযুদ্ধের নামে একবার দেশ বিভক্তি ছিল। তাকে স্পষ্ট করে বলতে হবে তিনি কোন রকম গৃহযুদ্ধের বিষয়ে কথা বলছেন।
এদিকে, আসামে ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ ইস্যুতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সেই উত্তেজনাকে আরো একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলিপ ঘোষ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য ভারত কোনো ধর্মশালা নয়। ভারতে জনসংখ্যা বাড়িয়ে দিতে চাইছেন বাংলাদেশী মুসলিমরা। তারা ভারতকে কলোনি বানিয়ে ফেলেছেন। এটা বন্ধ করতে হবে।
সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, দেশভাগের পর, বাংলাদেশে হিন্দুরা এখন এলোমেলো অবস্থায়। একই ঘটনা মুসলিমদের ক্ষেত্রে ঘটছে না। কারণ তারা তাদের নিজেদের দেশ বাংলাদেশ নিয়ে নিয়েছে। তাহলে কেন বাংলাদেশী মুসলিমরা এখন ভারতে অভিবাসী হচ্ছেন? এর অর্থ হলো তাদের কিছু গোপন এজেন্ডা আছে। তারা ভারতে সমাজবিরোধী কর্মকান্ড করছেন।
আপনি মুম্বfই বা দিল্লির মতো বড় শহরগুলো পরীক্ষা করেন। সেখানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী মুসলিম পাবেন। তারা ভারতজুড়ে কলোনি বানিয়ে ফেলেছেন। রোহিঙ্গা মুসলিমরা জম্মুতে সেটেলড হয়েছেন। এটা আমাদের নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি। যদি আপনি পশ্চিমবঙ্গের বাইরের কেউ হন তাহলে আপনি এ রাজ্যের নাগরিক ও বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবেন না।
বাংলাদেশে হিন্দুদের তাদের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষিত নয়। তাদের উপাসনালয় ভাঙচুর করা হচ্ছে। হিন্দু মেয়েদের অপহরণ করা হচ্ছে বাংলাদেশে। তাই তারা বাধ্য হচ্ছেন ভারতে আসতে। যেকেউ বিষয়টি বুঝতে পারেন। তারা ১৯৪৭ সালে একটি আলাদা রাষ্ট্র চেয়েছিলেন এবং তারা পূর্ব পাকিস্তানকে পেয়ে গেছেন। এখন কেন তারা ভারতে আসতে চান?
বিষয়:
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: