প্রথম বিদেশ সফরে দিল্লিতে দিশানায়েক


প্রকাশিত:
১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১২:৫১

আপডেট:
৬ এপ্রিল ২০২৫ ০৪:১৬

ছবি: সংগৃহীত

সংসদীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয় লাভের পর প্রথম বিদেশ সফরে নয়াদিল্লি গিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। এই সফরে ভারত-শ্রীলঙ্কার পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে উভয় দেশ। এ খবর দিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা। এতে বলা হয়, সোমবার দুই নেতার বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করেছেন যে দেশটির উন্নয়নে ভারত বিশ্বস্ত অংশীদার হবে। তিনি বেশ কয়েকটি খাতের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলিতে তারা সমন্বয় মজবুত করার পরিকল্পনা করছেন; এই খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন তৈরি ও উভয়ের বিদ্যুৎ গ্রিডগুলিকে যুক্ত করা।

এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি বলেছেন, দিশানায়েকে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরের জন্য ভারতকে নির্বাচন করার জন্য আমরা সম্মানিত। যা আমাদের সম্পর্কে নতুন গতি ও শক্তি জোগাবে। আনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের দলের শিকড় মার্ক্সবাদী মতাদর্শের গভীরে প্রোথিত হওয়ায় নয়াদিল্লিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে তিনি চীনের দিকে ঝুঁকবেন। তবে, নয়াদিল্লিকে তার বিদেশ সফরের তালিকায় প্রথম স্থানে রাখায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কলম্বোর সেন্টার ফর পলিসি অলটারনেটিভসের কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা পাইকিয়াসথি সর্ভনামুত্তু বলেছেন, সফরে দিল্লিকে প্রথম স্থানে রাখাই এই সফরের প্রতীকী দিক।

ভারত মহাসাগরে জাহাজ চলাচলের কৌশলগত রুটে থাকা এই দ্বীপরাষ্ট্রে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছে ভারত ও চীন। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ভেঙে পড়ার আগে সে দেশের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার ঢেলেছে বেইজিং। এর মধ্যে একটি বন্দরও রয়েছে। ভারত আশঙ্কা করেছিল, এই বন্দর তাদের নিরাপত্তাকে ব্যাহত করতে পারে। তবে, নয়াদিল্লি ও কলম্বো তাদের সম্পর্ক মেরামত করেছে কেননা অর্থনৈতিক বেহাল দশা থেকে শ্রীলঙ্কাকে মুক্ত করতে ভারত ৪ হাজার কোটি ডলার দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া দেশটি খাবার, জ্বালানি ও ওষুধ কিনতেই হিমশিম খেয়েছে। আনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে বলেছেন, দুই বছর আগে আমরা নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছিলাম এবং সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ভারত আমাদের ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে। নিরাপত্তা বিষয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকারক এমন কোনো রকম কাজের জন্য আমরা আমাদের ভূখণ্ডকে ব্যবহৃত হতে দেবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন দিশানায়েকে।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top