সিডনী শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


সাদাকালো ইন্দ্রধনু : কানুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়


প্রকাশিত:
২১ নভেম্বর ২০২০ ১৭:১১

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০২:৫২

 

জেসমিন চিনির কৌটো নামাতে নামাতে আপনমনে বিড়বিড় করল, ‘ হায় রে! চিনিও শেষ’।

কৌটোটাকে যথাস্থানে রেখে রুদ্রর ঘরের দরজায় কাছে দাঁড়াল, “দাদাবাবু, তোমাকে যে কাল চিনি আনতে বলেছিলাম। আন নি তো? এখন আমি পায়েস রাঁধি কি দিয়ে?”  

রুদ্র বেশ তরিবত করে হুইস্কির বোতল নিয়ে বসেছিল। একটা নকশা করা কাঁচের গ্লাসে গাঢ় হলুদ রঙের পানীয়, বরফ আর ঠান্ডা সোডা। প্লাস্টিকের প্লেটে  কয়েকটুকরো শশা-পেঁয়াজ কাটা আর কাজু বাদাম, একপাশে একটু জলজিরা ছেটানো। সামান্য নেশাটা ধরেছে, চোখ ঈশৎ লাল। সে জড়ানো গলায় বলল,  “পায়েসের কি দরকার? এমনিই যা পারো করে দিয়ে যাও”। জেসমিন সামান্য হাসল, “ আবার ভুলে গেলে? আজ যে তোমার জন্মদিন। একটু পায়েস না করলে হয়!”   

সে বাটি হাতে পাশের ফ্লাটে চলল চিনি আনার জন্য। এটা প্রতিদিনের ব্যাপার। জেসমিন পারলে নিজেই মাঝে মাঝে বাজার করে নিয়ে আসে, না হলে আশে পাশের বাড়িতে ধার করতে হয়। রুদ্র নিজের মনে বলল, “আমার আবার জন্মদিন! জন্মটা কেন হয়েছে সেটাই এখনো বুঝে উঠতে পারলাম না”।

জেসমিন বাড়ি যাবার আগে রুদ্রকে একবার মনে করিয়ে দিল, “দাদাবাবু, খাবার ঢাকা দিয়ে গেলাম। মনে করে যেন  পায়েসটা অবশ্যই খাবে”, তারপর একটু থমকে দাঁড়িয়ে বলল, “বৌদিমনি কি একবারও  তোমাকে ফোন করে নি?” রুদ্র বিরক্ত হয়ে বলল, “ওই কথা থাক জেসমিন”। জেসমিন আর কোন কথা না বলে চলে গেল।     

রুদ্র খাবারের ঢাকনা খুলে একটু পায়েস মুখে দিল। বছর পাঁচেক আগে রুদ্রর পঁচিশ বছরের জন্মদিন বিদিশা বেশ বড়ো করে পালন করেছিল। যাদবপুরের একটা ভালো হেটেলে কাছের মানুষদের পার্টি দিয়েছিল সে। জমানো টাকার পুরোটাই খরচা করে তাকে মোবাইল উপহার দিয়েছিল বিদিশা। তখন সদ্য বিয়ে হয়েছে। রুদ্রর পুরোনো কথা মনে হতে চোখে জল এল। পায়েসের বাটিটাকে রান্নাঘরে বেসিনে নিয়ে গিয়ে ঢেলে দিয়ে কল চালিয়ে দিল। তারপর বিছানায় এসে চোখে হাত দিয়ে শুয়ে পড়ল। 

 

প্রায় দুটো বছর হতে চলল বিদিশা ফ্লাট ছেড়ে বেড়িয়ে গেছে। সরকারি ভাবে ছাড়াছাড়ি হিয়েছে মাস ছয়েক।  কলকাতার যাদবপুরের এই ফ্লাটটা বিদিশাই পছন্দ করে ভাড়া নিয়েছিল।  গৃহপ্রবেশে ঘর সাজিয়েছিল কাঠচাঁপা ফুলের মালা দিয়ে। রুদ্রর আবার চাঁপার গন্ধ একদম পছন্দ হয় না। সে প্রশ্ন করেছিল, “চাঁপা ফুল কেন?”

বিদিশা গলায় একরাশ উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে উত্তর দিয়েছিল,  “আমি যে বিশ্বভারতীর ছাত্রী, রবীন্দ্রনাথের প্রেমিকা। আমার কি আর গাঁদাফুল পোষায় !” রুদ্র আর কথা বাড়ায়নি। বিদিশার পছন্দই তার পছন্দ।

প্রথমে পাঁচ বছরের সহপাঠী, তারপর কলকাতারই এক বেসরকারি কলেজের সহকর্মী। তাদের দু জনের সর্ম্পকটা  যতটা না স্বামী স্ত্রীর, তার থেকে বেশী বন্ধুর মতো হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা হয় নি।

বিয়ের অল্পদিনের মধ্যে দুজনেই বুঝল, প্রেম করা যতটা সহজ, সংসার করা নয়। বিদিশা লেখিকা, তার জীবন সমুদ্রের পুরো বিচরনটাই আবেগের ভেলায় ভেসে। কলেজ শেষে যাদবপুরের রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে হেঁটে বেড়ায়,  তারপর আকন্ঠ মদ্যপান করে ঘরে ফেরে। রুদ্র আবেগপ্রবন প্রকৃতির হলেও অত্যন্ত উচ্চাকাঙখী পুরুষ। কলেজের পর সোজা বাড়ি, কোনরকমে ভাতে ভাত রান্না করে রিসার্চ পেপার নিয়ে বসা, এইরকমই চলছিল রুটিন।

একদিন বিদিশাই প্রস্তাব দেয়, “আমাদের একটা রান্নার মেয়ে রাখলে ভালো হয়”। রুদ্ররও প্রস্তাবটা বেশ পছন্দ হয়। অন্ততঃ প্রতিদিন সেদ্ধ খাবারের হাত থেকে বাঁচবে সে। রান্নার মেয়ে বেশী খুঁজতেও হল না। পাশের কলেজেরই একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীর স্ত্রীকে পাওয়া গেল। এক সন্ধ্যায় মহিলাটি ফ্লাটে এল। রুদ্র প্রতিদিনের মতই ঘরে একা।  রুদ্র দেখল, মহিলাটির বয়স রুদ্রর মতই, ত্রিশ একত্রিশ হবে। গায়ের রঙ দো আঁশলা, একটু কালোর দিকেই। নিঃসন্দেহে সুশ্রী বলা যায়, আর সব থেকে আকর্ষনীয় হল চোখ দুটো ।

“কিছু যদি মনে না করেন আপনার নামটা জানতে পারি ?”, রুদ্র প্রশ্ন করেছিল।

“জেসমিন”, গলার স্বরটাও খুব মিষ্টি। রুদ্রর অন্য কোন জিজ্ঞাসা ছিল না। তবুও হয়ত কথা বলার জন্যই প্রশ্ন করল, “এর আগে আর কোথাও রান্না করেছেন?”

“একটা হোটেলে দু বছর ছিলাম”।

রুদ্র আর কিছু জানতে চায়নি। সেদিন রাতে ভাত, ডাল, ডিমের ডালনা আর আমের চাটনি খেয়ে রুদ্রর মনে হয়েছিল অমৃত খাচ্ছে। অনেক দিন এত সুন্দর খাবার খায় নি সে।

জেসমিন স্থায়ীভাবে ঘরে বহাল হয়ে গেল, কিন্তু রুদ্র আর বিদিশার মধ্যে ফাটলটা আরো বড় হতে লাগল। ক্রমশঃ, দুজনেই বুঝতে পারল, এই প্রানহীন সংসারটাকে টেনে নিয়ে গিয়ে লাভ নেই। বিদিশা শিলিগুড়ির দিকে একটা চাকরি নিয়ে চলে গেল।

হঠাৎ করে রুদ্রর জীবনটা নিঃসঙ্গ হয়ে গেল। যদিও বিদিশা নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত ছিল আর রুদ্র নিজের। কিন্তু  জীবনে একজনার অস্তিত্ত্ব অন্ততঃ ছিল। এখন নিজের ছায়া ছাড়া আর কারো অস্তিত্ত্ব থাকল না। কিছু দিন রুদ্র ঘরের ছাদ আর নিষ্প্রাণ এ সি র দিকে থাকিয়ে বসে থাকল। তারপর অধ্যাপনা আর রিসার্চে ডুবে বিদিশাকে ভুলতে চাইল। তাতেও কাজ না হওয়ায় মদ্যপান শুরু করল।

কত্রীহীন সংসারে অপরিহার্য্য হয়ে উঠল জেসমিন। এতদিন তার গন্ডী শুধু রান্নাঘরে আটকে ছিল। এরপর ঘর গোছানোর কাজেও সে হাত লাগাল। রুদ্রর অগোছালো ঘরটা যেন প্রান ফিরে পেল। বইগুলো খাট আর মেঝে থেকে বুক সেলফে স্থান পেল, ঘরের কোনে মাকড়সার ঝুলগুলো বিদায় নিল আর জামা কাপড়গুলো ধোপদুরস্ত হল।

রুদ্র মদ্যপান শুরুর আগে জেসমিনের কাছে অনুমতি নিয়েছিল, “আমি মদ খেলে তোমার কাজ করতে কোন আপত্তি নেই তো?”

জেসমিন উত্তর দিয়েছিল, “না, দাদাবাবু। আমি আপনাকে ভরসা করি। কোন খারাপ কাজ আপনি করবেন না”।

একদিন রুদ্রর মাইগ্রেনের ব্যাথাটা খুব বাড়ল। দুটো ন্যাপ্রক্সিন খেয়েও মাথা ব্যাথা গেল না। সে সাহস করে বলেই বসল, “মাথাটা একটু টিপে দেবে জেসমিন?”

জেসমিন হাল্কা করে মাথা ম্যাসাজ করতে লাগল। তার হাতের মধ্যে জাদু আছে। রুদ্র আস্তে আস্তে ঘুমের জগতে চলে যেতে লাগল আর বুঝল প্রকৃত সাথী কাকে বলে। বিদিশা আর যাই হোক, সঙ্গিনী ছিল না। সেদিন থেকে জেসমিনের প্রতি তার অন্য এক ধরনের আকর্ষন জন্ম নিল। তার মনে হতে লাগল, জেসমিনের শরীরটা লাবন্যে ভরা, একটা আলাদা মাধুর্য আছে। এতদিন এইসব চিন্তা একবারেও জন্য তার মাথায় আসে নি। শুধু যে পার্থিব শরীরের টানেই মানুষ প্রেমে পড়ে তাই না, হৃদয় আর আত্মার দূর্বলতাও  অন্যজনের শরীরের প্রতি আকর্ষন তৈরি করে। রুদ্র জেসমিনের শরীরটাকে প্রবলভাবে পেতে চাইল।

সেদিনটা বাইশে শ্রাবণ। সকাল থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ে চলেছে। চারিদিকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সমারোহ। রবীন্দ্রনাথের প্রতি রুদ্রর একটা বৈরিতা আছে, হয়ত বিদিশাই এর কারন। সন্ধ্যায় মদ্যপানটা আজ বেশীই করে ফেলল রুদ্র। নিত্যদিনের মত হাতের কাজ শেষ করে জেসমিন বাড়ি যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বেশ মেঘ জমেছে, ভালো বৃষ্টি নামবে।  জেসমিন দরজার কাছে পা বাড়াতেই রুদ্র ডাক দিল, “মাথাটা একটু টিপে দেবে জেসমিন?”

মেয়েদের মনের মধ্যে একটা বিপদঘন্টি থাকে, সেটা সময়মত বেজে ওঠে। জেসমিনের মনের মধ্যে বোধ হয় সেই বিপদঘন্টিটা বেজে উঠল। সে বলল, “ আজ থাক দাদাবাবু। বৃষ্টি শুরু হবে”। রুদ্র পীড়াপীড়ি শুরু করল। কিছুটা অনিচ্ছাসত্ত্বেই জেসমিন মাথা টিপতে লাগল। একটু নিস্তব্ধতা, রুদ্র হঠাৎ করে জেসমিনের হাত দুটো চেপে ধরল। জেসমিন ঠান্ডা গলায় বলল, “দাদাবাবু, হাত দুটো ছাড়ুন। আপনার মনে কোন খারাপ অভিসন্ধি থাকলে আমি চলে যাচ্ছি”। রুদ্র হাতটা ছেড়ে দিল, কিন্তু তারপরেই সাহসে ভর করে জেসমিনকে দুই হাতে আঁকড়ে ধরে সারা মুখে চুমু খেতে খেতে বিছানায় শুইয়ে দিল।

তখন রাত একটা। রুদ্রর নেশা সম্পূর্ণভাবে কেটে গেছে। রুদ্রর মনে হচ্ছে, যেটা হল, একেবারেই ঠিক হয়নি। জেসমিন যে ভাবে কাপড়টাকে গায়ে তাড়াহুড়ো করে জড়িয়ে মুখে কিছু না বলে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেছে, তাতে  মনে হয় তার সম্মতি ছিল না। কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্পর্ক তৈরি করা বলাৎকারের মধ্যে পড়ে। তাহলে রুদ্র আজ সেই গর্হিত অপরাধটা করল! বাকি রাতটা সে ঘরে পায়চারি করেই কাটিয়ে দিল। এখন সামনে দুটো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জেসমিন তার বিরুদ্ধে থানায় যেতে পারে। এতদিন বাইরে যে সন্মান সে অর্জন করেছে সব নষ্ট হয়ে যাবে। আবার এমনও হতে পারে, জেসমিন থানায় গেল না, কিন্তু কাজে আসা বন্ধ করে দিল। সেটাও রুদ্রর কাছে কম শাস্তির নয়। জেসমিন এই সংসারের গৃহকত্রী হয়ে উঠেছে, তার মনেও অনেকটা যায়গা দখল করে আছে। তার অবর্তমানে রুদ্রর জীবনটা আবার একা হয়ে যাবে।

সকালের দিকে রুদ্রর চোখটা একটু লেগে এসেছিল। এমন সময় কলিং বেলের আওয়াজ। আই হোল দিয়ে রুদ্র দেখল জেসমিন।বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল। সঙ্গে পুলিশ বা তার বাড়ির লোকজন নেই তো! একটু ইতস্ততঃ করে দরজাটা খুলল। নাঃ, শুধু জেসমিনই, সোজা হেঁটে রান্নাঘরে চলে গেল। খুব সহজভাবে চা করে এনে রুদ্রকে ধরিয়ে দিয়ে বলল, “ ব্রাশ করেছেন? চা টা খান”। রুদ্র কিছু বলার আগেই বলল, “ফ্রিজে মাছ আর মাংস দুটোই আছে। কোনটা খাবেন?” রুদ্র অনেক স্বাভাবিক হয়ে গেল। তার মানে, জেসমিনের সম্মতির বাইরে সে কিছু করেনি। তার মনটা হাল্কা হল। সেই দিন তাদের সম্পর্কটা আর চারটে স্বামী স্ত্রীর মতই হয়ে দাঁড়াল।

 

রুদ্র চোখ খুলল। ফোনটা প্রচন্ড শব্দ করে বেজে চলেছে। সকাল ছটা বাজে। এত সকালে কার ফোন! ভালো করে চোখ মেলে দেখল, মা। ফোনটা ধরতেই মা প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ল, “ কাল সারাদিন ফোন বন্ধ। বাড়িতে সবাই চিন্তায়। কোন দায়িত্ববোধ নেই”। রুদ্র ইচ্ছা করেই ফোনটা বন্ধ রেখেছিল,যাতে সারাদিন ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ না শুনতে হয়। রুদ্রকে একটু মিথ্যাই বলতে হল, “মোবাইল খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কাল রাত এগারোটায় পেয়েছি। অত রাতে আর তোমাদের ডিস্টার্ব করি নি”। ওপাশ থেকে বাবা ফোন ধরল। বাবা যে কথাগুলো বলল, তার মূল নির্যাস হল, তার বয়স হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটো স্ট্রোক হয়ে গেছে। আর একটা হলেই সব শেষ। বংশের একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসাবে তিনি রুদ্রকে সংসারী করে যেতে চান। পাশের গ্রামে মেয়ে দেখাও হয়ে গেছে।

রুদ্র বলতে গেল, আমাকে একটু ভাবার সময় দাও। বাবা বললেন, “তোমার ভাবনার ফল তো দেখলাম। এখন তো শুনছি, দিনরাত ছাইপাঁশগুলোও খাচ্ছ”। রুদ্র ফোনটা কেটে দিল। মনটা খারাপ হয়ে গেল। জেসমিনের সাথে অন্য বাঁধনে সে জড়িয়েছে। সে জানে না, এর ভবিষ্যত কি! জেসমিনের ছেলে, স্বামী নিয়ে ভরা সংসার।

 আগের রাতে একটা মেল ঢুকেছে, ভুবনেশ্বরের একটা বেসরকারি কলেজের। মেলটা পড়ে রুদ্র সোজা হয়ে বসল। সে বেশ কয়েকটা কলেজে ইন্টারভ্যু দিয়েছিল। এই কলেজটা তাকে সিলেক্ট করেছে। মাইনেটাও যাদবপুরের কলেজের থেকে অনেক ভালো। সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে থাকল। জেসমিন, বাবার সিদ্ধান্ত আর ভুবনেশ্বর- কোন রাস্তায় সে পা বাড়াবে।

সন্ধ্যেবেলায় কলেজ থেকে ফিরে রুদ্র দেখল জেসমিন আগেই চলে এসে রান্নাঘরে ঢুকে গেছে। জেসমিনের কাছে ঘরের একটা ডুপ্লিকেট চাবি থাকে। রুদ্র জেসমিনের কাছে দাঁড়াল, কোন ভূমিকা না করে বলল, “জেসমিন তুমি আমার সাথে পালিয়ে যেতে পারবে?”

জেসমিন পিছন ফিরে সব্জি কাটছিল। চমকে উঠে তাকাল, “একথা কেন বলছ দাদাবাবু?”

“আমি ভুবনেশ্বরে চাকরি পেয়েছি। তুমি আমার সাথে যেতে পারবে?”

জেসমিন বলল, “ছিঃ ছিঃ দাদাবাবু। আমার যে আর একটা সংসার আছে। ছেলে আছে।“

“কেন জেসমিন ? তুমি আমাকে ভালোবাস না?”

 ভালোবাসি বলেই তো বলছি, দাদাবাবু। ভালোবাসা মানে তো শুধু নিজের সব সুখ আনন্দটুকু  নয়।  ভালোবাসা মানে প্রিয় মানুষটাকে স্বার্থপরের মত আঁকড়ে ধরে থাকাও নয়। বরং তাকে সমস্ত ঝড় ঝঞ্ছা থেকে বাঁচিয়ে রাখা। আমরা সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলে আমরা কি খুব আনন্দে থাকব দাদাবাবু? কারন, তোমার পরিবার, আমার পরিবার, এতগুলো মানুষের আনন্দ আমরা কেড়ে নেব। শেষপর্যন্ত দেখবে, ওই ভালোবাসাটায় কোথায় হারিয়ে গেছে।“ একটু থেমে জেসমিন আবার বলল, “আর ভালোবাসায় এই শরীরটাতো একটা আনুষ্ঠানিকতা, আসল তো মনটা। এই মন থেকে তোমায় কে সরাবে দাদাবাবু?”

রুদ্র সামান্য চুপ করে থেকে বলল, “ তুমি আমাকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করলে জেসমিন। অনেক ধন্যবাদ”।

 

আর একটা বাইশে শ্রাবণ। সকাল থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির পড়ে চলেছে। চারিদিকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সমারোহ। যাদবপুরের ব্যস্ত আর মুখর রাস্তায় দুটো মানুষ দুই প্রান্তে ভিড়ের মধ্যে মিশে গেল। আর কোনদিনই কি তাদের দেখা হবে না ?

 

কানুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়
বর্দ্ধমান,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত 

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top