সিডনী সোমবার, ২৭শে জুন ২০২২, ১২ই আষাঢ় ১৪২৯


ধর্ম, ধর্ম পুনরায় ধর্ম : রীতম দত্ত


প্রকাশিত:
১৪ এপ্রিল ২০২১ ১২:২১

আপডেট:
২৭ জুন ২০২২ ০৩:১৪

 

 আমি ধর্মান্ধ নই, আবার নাস্তিক ও না। অর্থাৎ?
অর্থ হলো এই কিছু আছে যারা ধর্মের দিক থেকে গোঁড়া, কুসংস্কারাচ্ছন্ন,অন্ধবিশ্বাসে বিশ্বাসী আমি সেই কাতারের নই। আমি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করি না।

ধর্ম মানুষকে ধারণ করে নাকি মানুষ ধর্মকে ধারণ করে সেই বিষয়ে প্রশ্ন করার আগে এইটা জানার দরকার, ধর্ম কি?

তুমি কোন ধর্মের? আমি ইসলাম ধর্মাবলম্বী।
তুমি কোন ধর্মের অনুসারী? আমি সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী।
তুমি কোন ধর্মকে সমর্থন করো? আমি যীশুর আদর্শে চলি।
তোমার মতে কোন ধর্ম সেরা? গৌতম বুদ্ধের অহিংস বৌদ্ধ ধর্ম।

এর অর্থ কি দাঁড়ালো? সকল ধর্ম কোনো না কোনো সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধিত্ব করে। অনেকেই এইবার বলবে সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধিত্ব আবার কি। যিনি সৃষ্টি করেছেন ধর্মের আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করি এখানে প্রতিনিধিত্ব করার কি হলো।

তবে আমি বলি সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই একজন আছেন। এইটা অবিশ্বাস করার কোনো অবকাশ নেই। আর না হলে বিজ্ঞান এখনও পর্যন্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য উদঘাটন করতে পারে নি। বিগব্যাঙ তত্ত্ব মতে বিস্ফোরণের ফলে মহাবিশ্বের উৎপত্তি কিন্তু এইটাই কি যথেষ্ট? কোথা থেকে এলো এই পৃথিবী। আর পৃথিবীর জীব জন্তু গুলো ও কি বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হয়েছে। এখন বিজ্ঞানীরা বলবেন শুক্রাণু- ডিম্বাণুর মিলন ফল হলো এই প্রাণীরা। কিন্তু শুক্রাণু ডিম্বাণুর আবিষ্কার বিজ্ঞান করেছে কিন্তু এর সৃষ্টি কে করেছে?

আবিষ্কার আর সৃষ্টিকে এখানে এক ধারায় ফেলা যাবে না। আমার কথার অর্থ হলো বিজ্ঞান শুধু এইটুকুই বলতে পেরেছে কিসের ফলে কি হয় কিন্তু এইটা বলতে পারে নি কেমন করে এই জিনিসের উদ্ভব হলো বা সৃষ্টি হলো।

তার অর্থ দাঁড়ায় সৃষ্টিকর্তা আছেন।

এইবার আসি সেই প্রতিনিধিত্বের টপিকে। প্রতিটি ধর্মই বলে তাদের সৃষ্টিকর্তাই সেরা। আর বলাটাও স্বাভাবিক। কেন বলবেন না তারা? তাদের সবার বলার অধিকার আছে। কিন্তু ওই যে প্রথমেই বলেছি বাড়াবাড়ি শব্দটা।

সকল ধর্মগ্রন্থে সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা রয়েছে। কিন্তু আমরা মানুষরা সেইটাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি তা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না।

একটা কথা বলো, সবাই নিশ্চয়ই এই কথাগুলো শুনেছো নিজের প্রশংসা কখনো নিজের করতে হয় না, কাউকে সাহায্য করলে সব সময় নিঃশব্দে করতে হয় কিংবা নিঃস্বার্থ ভাবে করতে হয়, নিজের ঢাক নিজের পেটানো উচিত নয় আবার অন্যকেও পেটাতে দেওয়া উচিত নয় এতে ঢোল ফেটে যায়। এই কথাগুলো মানুষের ক্ষেত্রে যেমন সত্য তেমনি সৃষ্টিকর্তার ক্ষেত্রেও।

আমরা নিজেদের ধর্ম নিয়ে এতটাই রক্ষণশীল হয়ে উঠেছি যে ধর্মের উদ্দেশ্যকেই ভুলে চলতে বসেছি। সৃষ্টিকর্তা সমগ্র সংসার সৃষ্টি করেছেন । সেই অর্থে সমগ্র সৃষ্টির উপরে একমাত্র স্রষ্টার অধিকার। তুমি, আমি এসেছি দুই দিনের জন্য আবার চলেও যাবো।

কিন্তু যাওয়ার সময়  এমন কিছু কি জন্য করবো যাতে এই সৃষ্টিরই ক্ষতি হয়।

দাঙ্গা!  শব্দটা সব থেকে বেশি কার্যকর হয় ধর্মীয় দিক থেকে। এক ধর্মের অনুসারীদের সাথে অন্য ধর্মের অনুসারীদের। মারামারি হয়,  খুনোখুনি পর্যন্ত হয়ে যায় । অথচ এরাই সব থেকে নির্বোধ। আর এই দাঙ্গা গুলো হওয়ার মূল কারণ হলো ধর্মীয় কটুক্তিমূলক কথা ।

দেখা গেলো এক ধর্মের অনুসারী অন্য ধর্মকে নিয়ে কিছু কথা বলে ফেলল যা সেই ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলো। সঙ্গে সঙ্গে মারামারি শুরু হয়ে গেলো। আরে ভাই মারামারি করার আগে ভেবেছো কখনো কার সাথে লড়াই করছো। যদি কোনো ব্যক্তি বাস্তবিক অর্থেই ধর্মীয় জ্ঞানী হন তবে তিনি এইটা ঠিকই বুঝবেন তিনি যার সাথে মারামারি করছেন তিনিও তারই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। তবে ঝগড়া ঝাটি কেন? একদিকে তিনি নিজের সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনা করছেন অন্যদিকে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকেই আঘাত করছেন।

এখন অনেকেই বলবে নিজের ধর্ম নিয়ে কটুক্তি সহ্য কেন করবো?

তাদের জন্য আমার প্রথম কথা হলো তারা কি নিজের ধর্মকে এতটাই ঠুনকো বা পাতলা মনে করেন যে কে একজন সামান্য ব্যক্তি তাদের ধর্ম নিয়ে কি একটু বললো তাতেই তাদের ধর্ম ধ্বংস হয়ে গেলো। যারা এইটা মনে করেন ধর্ম নিয়ে কিছু বললেই ধর্ম অপবিত্র বা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সাথে সাথেই প্রতিক্রিয়াস্বরূপ মারামারি বাঁধিয়ে দেন তারা হলো প্রকৃত অর্থেই বোকা।

আর এইটাও সত্য কোনো ধর্মের ব্যক্তিরই অন্য ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করা উচিত নয় এতে যেমন নিজের নীচু মনের পরিচয় পাওয়া যায় এবং হিংস্রতা বাড়ে।

নিজের ধর্ম নিজে করবো, অন্য ধর্মকেও অবমাননা করবো না। আবার সকলে মিলেমিশে থাকবো। এইটাই হলো প্রকৃত মানবতা। সৃষ্টিকর্তা কখনোই বলেন নি অন্য ধর্মকে ধ্বংস করো। স্রষ্টা প্রেম দিয়েই আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাই আমরা এত সুন্দর। এত সুন্দর পৃথিবী আমাদের দিয়েছেন সেখানে আমরা কেন হিংস্রতা আনবো। আমাদের তো সম্প্রীতি ছড়ানো উচিত,  প্রেম বিলানো উচিত। আর এই প্রেমই হলো সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়ার মূল উপায় ।  এইটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top