সিডনী শুক্রবার, ২২শে অক্টোবর ২০২১, ৬ই কার্তিক ১৪২৮


দুধরাজের চোখ (অনুগল্প) : সুচন্দ্রা বসু


প্রকাশিত:
২৬ জুন ২০২১ ১৪:২২

আপডেট:
৮ জুলাই ২০২১ ১৪:০৪

 

পিতৃদিবসে গ্রামের বাড়ি যেতেই দেওরঝি বাঁশবনে নিয়ে গেল। ছোট একটা লেজওয়ালা আর বড় একটা লেজওয়ালা পাখি দেখলাম।
ছোট লেজ ওয়ালাটাকে কি মনে হয় তোমার? 
মেয়ে পাখি। 
এদের পালক লালাচে বাদামি। এরা কখনো রঙ বদলাতে পারে না। আর ওর সঙ্গী লম্বা লেজওয়ালা পাখিটার লেজের রঙটা আগে লাল ছিল। খেয়াল করেছিস তো?
এই দুইদিন দেখছি লেজের লাল রঙ বদলে সাদা হয়েছে। লেজটা শরীরের তুলনায় বেশ বড়।
এটাতো ছেলে পাখি। ঠিক পুরুষমানুষের মতোই এদের শরীরে পরিবর্তন হয়।
তুমি কি করে জানলে?
বুঝলাম পুরুষরা প্রাপ্তবয়স্ক হলে দাড়ি গোঁফ গজায়। এরাও প্রাপ্ত বয়স্ক হলে লেজের রঙ সাদা হয়ে যায়। 
এখানে পুরুষপাখিকে দুধরাজ আর মেয়ে পাখিকে দুধরাণী বলে।
এদের ‘এশিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার’নামে জানি।
পাখিরা লেজ ঝুলিয়ে বসেছিল বাঁশগাছে। কেউ কেউ এদের লেজঝোলাও বলে।সবুজের 
ফাঁকে সাদা লেজ বেশ দেখাচ্ছিল।
পুরুষ পাখিরা বাসার চারপাশ কড়া পাহারায় রাখে। আশপাশে মানুষ, বেজি, কুকুর-বিড়াল, সাপ এলেই কর্কশ চিৎকার করে আক্রমণ করে শত্রুদের ভড়কে দেয়।
আমাদের পিতারাও তো এভাবেই তার সন্তানদের নজরে রাখে যেন তাদের সন্তানের উপর বিপদের আঁচ লাগতে না পারে।
বেশ কয়েকটি পাখির বাসা ছিল পাশের দেবদারুগাছে। 

কোন বাসার ভিতর থেকে উঁকি ঝুঁকি মারছে একটি ছানা। আবার তিনটি পাখিকে উড়তে শেখাচ্ছে বাবা পাখিটি। আর মুখে মুখে খাবার দিচ্ছে। বাসার বাইরে ডালে বসে ছানাসহ এক পাখি দম্পতিকে দেখলাম। শিকার এনে ছানার মুখে তুলে দিচ্ছে মা পাখিটি। আর যে বাসার, মা পাখি শিকার থেকে ফিরতে পারেনি সেই বাসার বাবা পাখি চিৎকার করে বাসা পাহারা দিচ্ছে। এই হল দুধরাজ, আমাদের বাবাদের মতো। বাবা দিবসের এটাই ভালো ছবি ভেবে তুলতে ইচ্ছা হল। দুধরাজ পাখির ছবিটা তুলতে যাব এমন সময় কানে ভেসে এলো তোরা কোথায়?  পিছনে তাকিয়ে দেখি হাত ছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের।'বেলা হয়ে গেল ঘরে আয় এবার'।

আসছি বাবা বলে দেওরঝি ছুটে গেল তার বাবার কাছে। গিয়ে বলল, এই না হলে আমার বাবা। তারও যে আছে একজোড়া দুধরাজের চোখ।সে চোখের নজর থেকে আমি হারাব আর কোথায়। দু'বাহুতে জড়িয়ে মেয়েকে বলল, 'সব সময় জানবি তোর সামনে যেমন দুটে চোখ আছে, আমার পিছনেও আছে অদৃশ্য দুই চোখ।' বলেই বাবা হাসলো।
মা যে খাবার নিয়ে বসে আছে। 
হ্যাঁ বাবা যাই চলো। 
বাবা আর মেয়েকে মুঠোয় বন্দী করে আনন্দে ঘরে  ফিরলাম!

 

সুচন্দ্রা বসু
পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top