সিডনী রবিবার, ৩১শে মে ২০২০, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭


কোরআন ও হাদীসের আলোকে ইতেকাফ অবস্থায় নবীজির আমল


প্রকাশিত:
২২ মে ২০২০ ০৮:৫০

আপডেট:
৩১ মে ২০২০ ২২:৩৭

ফাইল ছবি

 

প্রভাত ফেরী: ইতেকাফ একটি মহান ইবাদত, মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছরই ইতেকাফ পালন করেছেন। দাওয়াত, তরবিয়ত, শিক্ষা ও জিহাদে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও রমজানে তিনি ইতেকাফ ছাড়েননি। ইতেকাফ ঈমানি তরবিয়তের একটি পাঠশালা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়েতি আলোর একটি প্রতীক। ইতেকাফরত অবস্থায় বান্দা নিজেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দুনিয়ার অন্য সকল বিষয় থেকে আলাদা করে নেন। ঐকান্তিকভাবে মশগুল হয়ে পড়েন আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিরন্তর সাধনায়। ইতেকাফ ঈমান বৃদ্ধির একটি মুখ্য সুযোগ। সকলের উচিত এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের ঈমানি চেতনাকে প্রাণিত করে তোলা ও উন্নততর পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা।

আল-কোরআনুল কারিমে বিভিন্নভাবে ইতেকাফ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে, ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও ইসমাইল আলাইহিস সালামের কথা উল্লেখ করে এরশাদ হয়েছেÑ ‘এবং আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।’ (সূরা বাকারা : ১২৫)

ইতেকাফ অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে কী আচরণ হবে তা বলতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা মসজিদে ইতেকাফকালে স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করো না।’ (সূরা বাকারা : ১৮৭)।

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর পিতা এবং জাতিকে লক্ষ করে মূর্তির ভর্ৎসনা করতে গিয়ে যা বলেছিলেন, আল্লাহ তাআলা তা উল্লেখ করে বলেন, ‘যখন তিনি তাঁর পিতা ও তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, এই মূর্তিগুলো কী, যাদের পূজারি (ইতেকাফকারী হয়ে) তোমরা বসে আছ?’ (সূরা আম্বিয়া : ৫২)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষের দশকে ইতেকাফ করেছেন, ইন্তেকাল পর্যন্ত। এরপর তাঁর স্ত্রীগণ ইতেকাফ করেছেন।’ (বুখারি : ২০২৪; মুসলিম : ১১৭২) হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রমজানে ইতেকাফ করতেন।’ (বুখারি : ২০৪১)

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণিত হাদিসে উভয়টির উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করতেন। তবে যে বছর পরলোকগত হন তিনি বিশ দিন ইতেকাফ করেছেন।’ (বুখারি : ৩০৯)

হজরত আয়শা (রা.) বলেনÑ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর জনৈকা স্ত্রীও ইতেকাফ করলেন। তখন তিনি ছিলেন ইস্তেহাজা অবস্থায়, রক্ত দেখছেন। রক্তের কারণে হয়তো তাঁর নিচে গামলা রাখা হচ্ছে।’ (বুখারি : ৩০৯)

অন্য এক হাদিসে এসেছে- ‘আমি (প্রথমে) এ রাতের (কদর) সন্ধানে প্রথম দশে ইতেকাফ পালন করি। অতঃপর ইতেকাফ পালন করি মাঝের দশে। পরবর্তীতে ওহির মাধ্যমে আমাকে জানানো হয় যে, এ রাত শেষ দশে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মাঝে যে (এ দশে) ইতেকাফ পালনে আগ্রহী, সে যেন তা পালন করে। লোকেরা তার সাথে ইতেকাফ পালন করল।

রাসুল বলেন, আমাকে তা এক বেজোড় রাতে দেখানো হয়েছে এবং দেখানো হয়েছে যে, আমি সে ভোরে কাদা ও মাটিতে সেজদা দিচ্ছি। অতঃপর রাসুল একুশের রাতের ভোর যাপন করলেন, ফজর পর্যন্ত তিনি কিয়ামুল্লাইল করেছিলেন। তিনি ফজর আদায়ের জন্য দণ্ডায়মান হয়েছিলেন। তখন আকাশ ছেপে বৃষ্টি নেমে এলো, এবং মসজিদে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পানি পড়ল। আমি কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। ফজর সালাত শেষে যখন তিনি বের হলেন, তখন তাঁর কপাল ও নাকের পাশে ছিল পানি ও কাদা। সেটি ছিল একুশের রাত।’ (মুসলিম : ১১৬৭)

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানে দশ দিন ইতেকাফ করতেন, তবে যে বছর তিনি পরলোকগত হন, সে বছর তিনি বিশ দিন ইতেকাফে কাটান।’ (বুখারি : ২০৪৪)


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top