সিডনী রবিবার, ৭ই আগস্ট ২০২২, ২৩শে শ্রাবণ ১৪২৯


হাদীস অনুযায়ি মসজিদে শিশুদের নিয়ে আসার বর্ণনা


প্রকাশিত:
১৮ জানুয়ারী ২০২০ ০০:৫৬

আপডেট:
১৮ জানুয়ারী ২০২০ ০১:০০

প্রভাত ফেরী ডেস্ক: শিশুরা শৈশবে যে পরিবেশে চোখ মেলবে, বড় হয়ে সাধারণত সে অভ্যাসেই গড়ে উঠবে। তাই শৈশব থেকেই শিশুদের আল্লাহর ঘরের সঙ্গে পরিচয় করানো ও নামাজের জন্য অভ্যস্ত করা চাই। নবীজি (সা.) বলেছেন ‘তোমরা তোমাদের বাচ্চাদের সাত বছর বয়স থেকেই নামাজের নির্দেশ দাও। আর যখন ১০ বছর বয়সে উপনীত হবে, তখন তাদের নামাজে অবহেলায় শাস্তি প্রদান কর।’ (আবু দাউদ : ৪৯৫)

নবীজি (সা.) নিজেও মাঝেমধ্যে নামাজের সময় শিশুদের সঙ্গে রাখতেন। নবীজি একবার হজরত বেলাল (রা.)-কে নামাজের জন্য ডাকলেন। সে সময় নবীজির কাঁধে ছিল তার নাতনি উমামা (রা.)। হজরত বেলাল (রা.) বলেন, নবীজি ইমামতির জন্য নামাজের স্থানে দাঁড়ালেন আর আমরা তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। অথচ সে মুহূর্তেও নবীজির কাঁধে উমামা (রা.) ছিল। নবীজি (সা.) নামাজের তাকবির দিলেন, আমরাও তাকবির দিলাম। নবীজি রুকু করার সময় তাকে পাশে নামিয়ে রেখে রুকু ও সেজদা করলেন। সেজদা শেষে আবার দাঁড়ানোর সময় তাকে আগের স্থানে উঠিয়ে নিলেন। এভাবে নামাজের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাকাতেই তিনি এমনটি করে গেলেন। (আবু দাউদ : ৯২০)

বড়দের অনুকরনে শিক্ষা নেয় শিশুরা

তবে অনেক সময় শিশুরা না বুঝে মসজিদের আদববহিভর্‚ত কিছু কাজ করে ফেলে। উঁচু আওয়াজে কথাবার্তা, হইহুল্লোড়, দুষ্টুমি ও দৌড়াদৌড়ি করে, নামাজরত মুসল্লিদের বিঘ্ন সৃষ্টি করে. যা মসজিদের আদবপরিপন্থি কাজ। এমনকি অনেক সময় মসজিদে প্রস্রাব-পায়খানাও করে ফেলে। এতে শিশুদের গুনাহ না হলেও শিশুদের এসব কাজের দায়ভার বড়দেরই বহন করতে হবে।

হজরত ওয়াসেলা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মসজিদকে অবুঝ শিশু ও পাগলদের থেকে দূরে রাখো।’ (ইবনে মাজা : ৭৫০)। অর্থাৎ মোটামুটি বুঝতে শেখার বয়সে উপনীত হওয়ার পরই শিশুদের মসজিদে নিয়ে আসা। এর আগে বয়সের অপরিপক্বতা এবং আচার-ব্যবহারে মসজিদের ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট হয় এমন বয়সের শিশুদের মসজিদে না আনা।

শিশুরা বড়দের দেখে দেখে শিক্ষাগ্রহণ করে ও অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। মসজিদে বড়দের কাতারবদ্ধ হয়ে একই নিয়মে নামাজ আদায় করতে দেখলে তার ভেতরেও নামাজের অনুকরণের ইচ্ছা জাগবে। তাই শিশুদেরও কাতারবদ্ধ হওয়ার বিধানও রয়েছে ইসলামে।

বুঝজ্ঞান হয়েছে এমন নাবালেগ শিশুদের ব্যাপারে বিধান হচ্ছে যদি শিশু একজন হয়, তাহলে তাকে বড়দের কাতারেই সমানভাবে দাঁড় করানো। বড়দের মাঝে নাবালেগ শিশু নামাজে দাঁড়ালে বড়দের নামাজের কোনো অসুবিধা হবে না। তবে একাধিক শিশু হলে সাবালকদের পেছনে পৃথক কাতারে দাঁড় করানো সুন্নত। তবে হারিয়ে যাওয়া বা দুষ্টুমি করার আশঙ্কা হলে, বড়দের কাতারেও দাঁড়াতে পারবে। (আলবাহরুর রায়েক : ১/৬১৮; আদ্দুররুল মুখতার : ১/৫৭১)।

অনেকের এ ধারণা রয়েছে, নাবালেগ শিশুদের বড়দের কাতারের মধ্যে দাঁড় করালে পেছনের মুসল্লিদের নামাজ হয় না বা নামাজ ত্রুটিযুক্ত হয়, আসলে ব্যাপারটি এমন নয়। বরং যদিও জামাতের কাতারের সাধারণ নিয়ম ও সুন্নত হলো, প্রাপ্তবয়স্করা সামনে দাঁড়াবে ও অপ্রাপ্তবয়স্করা পেছনে বা কাতারের এক পাশে দাঁড়াবে। (আলবাহরুর রায়েক : ৫/২৫০)


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top