সিডনী শুক্রবার, ১৯শে জুলাই ২০২৪, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩১

মেঘ পাহাড় আর কমলালেবুর দেশ বঙ্কুলুং : ডঃ সুবীর মণ্ডল


প্রকাশিত:
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৩:২১

আপডেট:
১৯ জুলাই ২০২৪ ২১:২২


রূপসী বাংলার পর্যটন মানচিত্রে উত্তরবঙ্গ রূপে-রসে অনন্য। উত্ঙ্গের সমগ্র দার্জিলিঙের নির্মল প্রকৃতি যেন উজাড় করে দিয়েছে তার সমস্ত ঐশ্বর্য। উত্তরবঙ্গের বৈশিষ্ট্য এমনই আমরা যে অঞ্চলেই যাই না কেন, মুগ্ধ হয়ে দু'চোখ ভরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে হয়। প্রকৃতি নিজে যেন দু'হাত মেলে সাজিয়েছেন এই অঞ্চলকে। আর এই নৈসর্গিক শোভা সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করতে হলে বেড়ানো শুরু হয় করতে হবে শিলিগুড়ি দিয়ে। চারিদিকে সবুজের বন্যা। অসংখ্য পাহাড়ি নদী আর অজস্র ঝোরো নিয়ে অপরূপা সুন্দরী এই সবুজের উপত্যকা দার্জিলিঙ। নানা জনজাতির বৈচিত্র্যময় জীবন সংস্কৃতি দার্জিলিঙকে আকর্ষণীয় ও বর্ণময় করে রেখেছে। সবার কাছে এ-এক বড় প্রাপ্তি। ভৌগোলিক দিক থেকে দার্জিলিঙ আসলে ভূটান রাজ্যের প্রবেশদ্বার। এই প্রবেশদ্বারের পিছনে যে অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ গচ্ছিত রয়েছে আমাদের এই বঙ্গভূমির আঁচলের আড়ালে তা শুধু এই ভারতবর্ষেরই নয়, সমগ্র পৃথিবীর কাছে বিস্ময়। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধুই চোখ জুড়ানো শ্যামলিমা। এখানে দেড়শোটিরও বেশি অনিন্দ্যসুন্দর চা-বাগান। গহন গভীর অরণ্যভেদ করে একে-বেঁকে চলে গেছে জাতীয় সড়ক‌। এই সড়ক ধরে বা অন্যকোন রাস্তা ধরে দার্জিলিঙের অন্দরমহলে ছুটে চলা মানে এক, অন্য ভুবনে বিচরণ। দার্জিলিঙ মানেই সবুজ মখমলে ঢাকা মায়াবী প্রকৃতি, নীল জলের নদী, আকাশছোঁয়া শৈলশিখর, সবুজ চা-বাগান আর গা ছমছমে অরণ্য।

এই অরণ্যপথের পথিক হলাম আমরা পঞ্চপান্ডব। তিন দিনের সফর গত বছরের মার্চ মাসে বিরাটি থেকে আমরা রওনা হলাম রাতে। সামান্য দূরে শিয়ালদহ স্টেশন। টিকিট অনেক আগেই কাটা ছিল। রাতের খাবার পর্ব সারলাম নিজেদের বাড়িতে। দার্জিলিঙ এক্সপ্রেসে চাপলাম। গন্তব্যস্হল শিলিগুড়ি। একটু গল্পগুজব করে যে যার বার্থে শুয়ে পড়লাম।মন জুড়ে শুধু দার্জিলিঙের নির্মল সবুজের গ্রাম বঙ্কুলং নির্মল প্রকৃতি ও মায়াবী চা-বাগান আর কমলালেবুর বাগান মানস পর্দায় ভেসে উঠছে। সকালে স্টেশনে পৌঁছে একটি ভালো জিপ গাড়ি ভাড়া করলাম, সেই সঙ্গে ধূমায়িত চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শুভ যাত্রার শুভসূচনা করলাম। গাড়ি দুরন্ত চলতে শুরু করল। জানলা দিয়়ে বিভিন্ন জনপদগুলির সৌন্দর্য উপভোগ করলাম। স্বপ্নের মসৃণ সড়ক। কিছুক্ষন পরেই মিরিক পৌছলাম। দুপুরের খাবার পর্ব সারলাম একটি রাস্তার হোটেলে। তারপর মিরিকের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলো ঘুরলাম। মিরিক লেক আমাকে মুগ্ধ করল। একে একে সব আকর্ষণীয় স্হান দেখলাম।

• সুমেন্দু লেক – মিরিকের প্রধান আকর্ষণ সুমেন্দু লেক। এই লেকটির উপর একটি ৮০ ফুট দীর্ঘ সাঁকো রয়েছে। লেকের জলে নৌকাবিহার এবং টাট্টু ঘোড়ায় চেপে লেকের চারপাশ প্রদক্ষিণ করার ব্যবস্থা রয়েছে। বিকেল ৪ টার পর নৌকায় বেড়ানো বন্ধ।
• রামিতে দারা – শহরের কাছেই অবস্থিত একটি ভিউ পয়েন্ট যেখান থেকে চারপাশের পাহাড় ও বিস্তর্ণ সমভূমি অঞ্চল দেখতে পাওয়া যায়।
• বোকার গুম্ফা – এটি বৌদ্ধধর্ম চর্চার কেন্দ্র হিসাবে বিখ্যাত যেটি রামিতে দারা যাওয়ার পথে পরে।
• রাই ধাপ – মিরিকের পানীয় জলের প্রধান উৎস ও পিকনিক স্পট।
• দেবীস্থান – সুমেন্দু লেকের কাছেই টিলার উপর অবস্থিত হিন্দু দেবীর মন্দির।
• টিংলিং ভিউপয়েন্ট – এখান থেকে চা-বাগানগুলির ৩৬০ডিগ্রী প্যানারমিক ভিউ পাওয়া যায়।
• চা বাগান – মিরিকে এবং এর চারপাশে অনেকগুলি চা বাগান বিখ্যাত দার্জিলিং চা এর চাষ হয়।
• কমলালেবুর বাগান – মিরিকে খুব উচ্চমানের কমলালেবুর জন্য বিখ্যাত। মিরিক বস্তি, মুরমা ও সৌরেনি বস্তি অঞ্চলে কমলালেবুর ফলন হয়।
• অর্কিড – আন্তর্জাতিক ফুলের বাজারের অন্যতম দামি অর্কিড সিমবিডিয়াম চাষের জন্য মিরিকের জলবায়ু খুবই উপযোগী। মিরিকের রাতো মেট-এ এরকমই একটি সিমবিডিয়াম অর্কিডের বাগান রয়েছে যার নাম “দার্জিলিং গার্ডেন্স প্রাইভেট লিমিটেড”।
• পশুপতিনগর – এটি নেপাল সীমান্তবর্তী একটি জামাকাপড়, ইলেকট্রনিক্স এবং ঘরোয়া সামগ্রীর বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
• ডন বসকো চার্চ, মিরিক – ডন বসকো স্কুলের কাছেই অবস্থিত এটি দার্জিলিং জেলার অন্যতম সুন্দর এবং বড় ক্যাথলিক চার্চ।
• সুইস কটেজ (মোটেল নামেও পরিচিত) – শহরের ভিড় থেকে দূরে মিরিকের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত একটি খুবই সুন্দর লজ।

উঁচু-নিচু পাহাড়ের ঢাল আর সেই পাহাড়ের ঢালে নামজাদা কোম্পানির চা বাগান। চোখে পড়ল কমলালেবুর গাছ। গাছগুলো থেকে যেন কমলা আভা ঠিকরে বেরোচ্ছে! ৫,৮০০ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ি শহরের বুক চিতিয়ে শুয়ে আছে সুমেন্দু হ্রদ। সুদীর্ঘ পাইনের বনানী আর তার ছায়া এসে পড়েছে লেকের টলটলে জলে। দেখে মনে হল যেন একটা মায়াঘেরা জায়গায় এসে পড়েছি। আর এই নিয়েই মিরিক মজে থাকে মিরিকে। হাতে সময়ের অভাব তাই পথ চলা শুরু। বিকেলে পাহাড়ের অপূর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতেই ঋষি রোড ধরেই পৌঁছলাম গন্তব্যস্হল বঙ্কুলং-এ। প্রকৃতির অযাচিত উষ্ণ অর্ভ্যথনায় মুগ্ধ হলাম। মিরিক থেকে বঙ্কুলং-এর দূরত্ব মাত্র তের কিলোমিটার । অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পথ। চা- বাগানের স্বর্গরাজ্য সয়য় লাগল মাত্র আধ ঘণ্টা।

 

দার্জিলিং জেলার অচেনা ছোট্ট গ্রাম বঙ্কুলং শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৪৮ কিলোমিটার দূরে এই শান্ত স্নিগ্ধ বঙ্কুলং। এখানকার আবহাওয়াও অসাধারণ। পাহাড়ের ওপর ধানের চাষের জমির উপর এই বঙ্কুলং বাংলো। অনলাইন বুকিং করেছিলাম। যেদিকেই চোখজায় , সবুজে ঘেরা পাহাড় আর ধানের খেত। এবং গ্ৰামের পাশ দিয়ে অনবরত বয়ে চলেছে একটি বালাসুন নদী।বাংলোতে জিনিস পত্র রেখে গ্রাম পরিক্রমায় বেরোলাম। চারিদিক জুড়েই সবুজের সমুদ্র, বসেই সারাদিন সময় কেটে যেতে পারে পরিজন কে নিয়ে।
উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৪৮ কিলোমিটার দূরে এই শান্ত গ্ৰাম। শিলিগুড়ি থেকে মিরিক সড়ক হয়ে বঙ্কুলুং পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘন্টা সময় লাগল। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে। গ্ৰামটি পাহাড় এবং নদী দ্বারা বেষ্টিত একটি আদর্শ হিমালয়ান গ্রাম। প্রকৃতি পুরো জায়গাটিকে সৌন্দর্যে ভরিয়ে দিয়েছে। পাহাড়ের ধারে ধারে সবুজ বাজরা এবং ধানক্ষেত দিয়ে আবৃত। মুরমা খোলা এবং বালাসুন নদীটি গ্রামটিকে ক্রস করে একেবেকে বয়ে চলেছে। কাছাকাছি চা বাগানে দীর্ঘ সময় ঘুরলাম ।
নদীর কাছে গেলাম উপভোগ করলাম পাহাড়ি নদীর বন্যরূপ ও সৌন্দর্য, শুধু মুগ্ধতার আবেশ । মেঘ ও রোদের লুকোচুরির খেলা দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে এল। ফিরে এলাম বাংলোতে। রাতের জ্যোস্নায় আলোকিত স্বপ্নের বঙ্কুলং।রাত গভীর হতে লাগল। রাতের খাবার পর্ব সারলাম। ম্যানেজারের সঙ্গে পরেরদিন কিভাবে ঘুরবো তা আলোচনা করে নিজেদের ঘরে ফিরে এলাম। পরের দিন খুব সকালেই বেরোলাম। পাহাড়ের বুক চিরে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ছে। মায়াবী স্বপ্নের জগতের বিচরণ করছি।
চারপাশের সবুজ সবুজ পাহাড়ের ভিউ উপভোগ করতে লাগলাম। গ্রামের অন্দরমহলে প্রবেশ করলাম স্থানীয়দের কৃষিকাজ দেখলাম, এখানকার মানুষ খুব পরিশ্রমী ও সৎ। বিভিন্ন জাতের ফল এবং সবজি উৎপাদন করে যা খুব উচ্চ মানের। স্থানীয়দের কাছ থেকেই জানলাম গ্রামটি গোর্খা সম্প্রদায়ের লিম্বু অধ্যুষিত এলাকা। বেশ জনবহুল। এই সুন্দর নাম, বঙ্কুলং লেপচা এবং লিম্বু ভাষার সংমিশ্রণ।
পথের দুধারে ফুটে রয়েছে রং বেরং এর ফুল আর সেই ফুলের ওপর খেলা করছে প্রজাপতি। পথ বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝি চড়াই উৎসাই খানা, খন্দ আর বায়ুদূষণের ধুলো মুক্ত এক স্বপ্নরাজ্য।
এ যেনো সেই বইয়ের পাতায় পড়া "ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় "। গ্রামের প্রত্যেকটি বাড়িতেই রয়েছে ফুলের,ফলের গাছ আরও বিভিন্ন রকমের গাছপালা। পায়ে হেঁটেই পুরো গ্রামটা ঘুরে দেখতে শুরু করি, পরিছন্ন রাস্তাঘাট আর সবুজ গাছের সমারোহ মনকে আকৃষ্ট করল। পায়ে হেঁটে গ্রাম পরিদর্শন। বেশ ভালোই লাগল।

দার্জিলিঙের এই অপরিচিত গ্রাম পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। মূল গ্রামটির থেকে একটু দূরেই রয়েছে প্রকৃতির এক অদ্ভুত সুন্দর সৃষ্টি মায়াবী পাহাড়ি নদী বালাসুন বহু বছরের পুরোনো একটি ভাঙাব্রিজ। প্রকৃতি যে কতো কিছু সৃষ্টি করতে পারে হতবাক হয়ে এই কথাটিই যেনো মনে আসে এই ব্রিজটির কাছে এসে। গাছের শেকড়ের কতো রকমের যে রূপ এখানে চোখে পড়ে,যা সত্যিই অবর্ণনীয়। সবই প্রকৃতির মহার্ঘ্যদান। গ্রামের মানুষেরআর্থিক অবস্থা বেশ ভাল মনে হল। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখলাম। ফিরে এলাম বাংলোতে।দুপুরের খাবার পর্ব সারলাম। তারপর কাছেপিঠের নানান জায়গাতেই ঘুরতে বেরোলাম। বেশ কয়েকটি চা-বাগান আর কমলালেবুর বাগান পরিদর্শন করলাম। মাঝে ধূমায়িত চায়ের জন্য
একটি দোকানে ঢুকলাম।
চোখের সামনে পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের আলোয় আলোকিত। ভীষণ ভালো লাগার বর্ণময় বিকেল। বহুদিন মনে থাকবে, ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। শুধু অনুভবের যোগ্য। চোখের সামনে ভালোবাসার নদী বালাসুন। মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছি। নুড়ি পাথর আর বালির শরীরে তিরতির করে বয়ে চলেছে বালাসুন। তাঁর দু'কূল ছাপিয়ে পড়া জঙলী সবুজের প্রেম। সিল্যুয়েটের মতো দাঁড়িয়ে আছে অতীতের যোগসূত্র ভাঙা ব্রিজটা। তাঁর দু'কূল ছোঁয়ার কোনও ইচ্ছেই আর নেই।দিন-মাস-বছর শুধুই অলসতার দিনযাপন! নদীর বুকে হাঁটতে হাঁটতে একটু এগোতেই, মনে হলো এক স্বপ্নের জগতে আমরা। চারিদিকে থমথমে নিঃশব্দতা, রোমাঞ্চকর, জনমানবহীন। লক্ষ্য করলাম বালাসুনের উত্তাল স্রোত নৃত্যের তালে তালে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে ছোট ছোট নুড়ি পাথরকে। বালাসুনের শরীর জুড়েও নানান আকৃতির নুড়ি-পাথরের নান্দনিক সৌন্দর্যের আলপনা। এই নুড়ি পাথরের প্রাণ ছুঁয়ে ছুঁয়ে বয়ে চলেছে জয়ন্তী। তাঁর একপাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে প্রহরীর মতো পাইন আর পাহাড়ের সারি। এরপর আমাদের গন্তব্যস্হল বিভিন্ন জনপদ ও চা-বাগান।
চা-বাগানের আঁকাবাঁকা মায়াবী পথ পাড়ি দিয়ে মাত্র ৭ কিমি দূরে আর এক আশ্চর্য সুন্দর জায়গা ম। নাগরিক সভ্যতা এখানে এসেই থমকে গেছে, এখানকার রবিবারের হাট বেশ জমজমাট।

চারপাশে অরণ্যঘেরা পাহাড়ের কোলে দিনরাত খেলে বেড়ায় মেঘ। বঙ্কুলং বাংলোর খুব কাছে আর একটি সুন্দর ট্যুরিস্ট সমৃদ্ধ জায়গা আছে।

সবুজে মোড়া চা-বাগান, ইতিউতি কমলালেবুর বাগান, পাহাড়ের কোলে চা-বাগানের, নকশা। নদী আর ঝর্ণা কলধ্বনিয়ে আমাদের মাঝে আত্মমগ্ন হয়ে আছে আশ্চর্য দার্জিলিঙের অপরিচিত স্বপ্নের গ্রাম বঙ্কুলং-, শিলিগুড়ি থেকে ৪৮কিমি, দূরে প্রকৃতির এই খেয়ালি সৃষ্টি পাইনের জঙ্গলের গভীরতায় হারিয়ে গেছে সভ্যতার মলিনতাকে পিছনে ফেলে।পায়ে হেঁটে বেড়িয়ে সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল। ইতিউতি, চা-বাগান, কমলালেবুর বাগান ও বনবস্তি। দিনের বেলাতেও এখানকার নির্জনতা সারা মনজুড়ে রহস্যময়তার কুয়াশা জাল বিছিয়ে দিল মনে। এখানকার অসীম অনন্ত নির্জনতা মনকে আপ্লুত করলো ভীষণ ভাবে। পড়ন্ত বিকেলে দু দিনের ভ্রমণ শেষ করে স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে শিলিগুড়ির স্টেশনের দিকে এগিয়ে চললাম। পিছনে মায়াবী স্বপ্নের মিরিক আর স্বপ্নরাজ্য বঙ্কুলং- আর হৃদয় জুড়ে ছুঁয়ে যাওয়া জনপদভূমি। মনে মনে চির বিদায় জানিয়ে পৌঁছলাম স্টেশনে। সন্ধ্যা নামছে। শিলিগুড়ি শহরে একটুখানি ঘুরে ঘুরে দেখলাম ও কেনাকাটা করলাম।
গত দু' দিনের পাহাড়ের স্মৃতি সবার চোখে -মুখে লেগে। সত্যিই তো বাকি রয়ে গেল অনেক কিছুই। আবার আসিব ফিরে, ছবির মত নির্মল সবুজ পাহাড়ি গ্রামে,কোন এক সময়ে, অন্য ভাবে।এবার ছুঁয়ে যাবো সেই জায়গা গুলো, যেখানে মানুষের পা বড় একটা পড়েনা। যেখানে পৃথিবী আরো আদিম। রাতের খাবার পর্ব সারলাম একটি হোটেলে। রাত নয়টার ট্রেনে উঠে ফিরব কলকাতায়।

কিভাবে যাবেন: কোলকাতা থেকে ট্রেনে শিলিগুড়ি। তারপর গাড়িতে মিরিক হয়ে বঙ্কুলং।
থাকবেন কোথায়: বঙ্কুলং- বন বাংলো। বেশ কয়েকটি নতুন হোমস্টে আছে। এছাড়াও মিরিক এ থাকতে পারেন।

 

ডঃ সুবীর মণ্ডল
পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Developed with by
Top