সিডনী শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


করোনার সময়ে জুয়ার প্রতি আসক্তি বাড়ছে অস্ট্রেলিয়ায়


প্রকাশিত:
২৭ অক্টোবর ২০২০ ১৬:৪৬

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০২:২৮

 

প্রভাত ফেরী: করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারণে জুয়ার আসরগুলোতে সশরীরে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। তবে, লকডাউনের ফলে অস্ট্রেলিয়ায় জুয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যগুলোর ব্যবহার কমে যায় নি। অনলাইন গ্যাম্বলিং বৃদ্ধি পেয়েছে, গ্যাম্বলিং অ্যাপ ডাউনলোডও বেড়েছে। কমবয়সী অস্ট্রেলিয়ানদের জুয়ায় আসক্তি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। NRL এবং AFL প্রতিযোগিতাগুলো ২০২০ সালে পুনরায় শুরু করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান গ্যাম্বলিং রিসার্চ সেন্টার (AGRC) ২০০০ এরও বেশি লোকের উপরে জরিপ চালিয়েছে, যারা গত জুন এবং জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়া জুড়ে জুয়া খেলায় অংশ নিয়েছে।

এই সমীক্ষায় শীর্ষস্থানীয় গবেষক ড. রেবেকা জেনকিনসন বলেন, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতি তিন জনে এক জন নতুন বেটিং অ্যাকাউন্ট খুলেছে। আর, সপ্তাহে চার বারেরও বেশি যারা জুয়ায় অংশ নিয়েছে সে রকম লোকের সংখ্যা ২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ শতাংশ হয়েছে। তরুণদের মাঝে জুয়ায় আসক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে বলে মনে করেন জেনকিনসন। ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির সাইকোলজির সিনিয়র লেকচারার এবং এশিয়ান জার্নাল অফ গ্যাম্বলিং ইস্যুস অ্যান্ড পাবলিক হেলথ-এর প্রতিষ্ঠাতা এডিটর-ইন-চিফ ড. কিসওসুকা বলেন, CALD বা ভাষা ও সংস্কৃতির দিক দিয়ে বৈচিত্রপূর্ণ সমাজের তরুণ-তরুণীরা অনলাইন গ্যাম্বলিংয়ে আসক্ত।

CALD কমিউনিটিগুলোর সদস্যদের জুয়ায় আসক্ত হওয়ার বিষয়ে পরিচালিত কয়েকটি সমীক্ষায় সাধারণভাবে দেখা গেছে, অভিবাসীদের মাঝে জুয়ার কারণে অতিরিক্ত সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাদের সেটেলমেন্ট অভিজ্ঞতা এবং এ দেশের সংস্কৃতি বুঝতে না পারা এবং বিকল্প কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারার কারণে এ সমস্যাগুলো হয়।

মাল্টি-কালচারাল সেন্টার ফর উইম্যান’স হেলথ-এর হেলথ প্রমোশন ম্যানেজার ড. জয়েস জিয়াং বলেন, সমাজ থেকে জুয়া-সংশ্লিষ্ট সত্যিকার প্রভাব প্রতিরোধ করার জন্য অভিবাসীদের নিজেদের ভাষায় গ্যাম্বলিং অ্যাওয়ারনেস প্রজেক্ট পরিচালনা করে তারা। ড. কিসওসুকা মনে করেন, CALD কমিউনিটিগুলোর প্রবণতা রয়েছে যে, তারা কখনও কখনও অবাস্তব প্রত্যাশা করে থাকে এবং জুয়ার মাধ্যমে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতি অনুযায়ী তারা ভাগ্য এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পোষণ করে থাকে।

অস্ট্রেলিয়ায় জুয়াখেলা অনেক বেশি দেখা যায়। সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান, 35th edition of Australian Gambling Statistics-এ দেখা যায়, এখন পর্যন্ত বিশ্বে জুয়ার রাজধানী হিসেবে অস্ট্রেলিয়া পরিচিত। এ দেশে প্রতিবছর জুয়া খেলে ২৪ বিলিয়ন ডলার হারে মানুষ। 888 Holding হলো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন গেমিং এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড সলুশন প্রভাইডার। তাদের রিপোর্টে দেখা যায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে দৈনিক গড়ে ১৮ শতাংশ রেভিনিউ বৃদ্ধি পেয়েছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায়।

মাল্টিকালচারাল প্রবলেম গ্যাম্বলিং সার্ভিস ফর এনএসডব্লিউ এর বাইলিঙ্গুয়াল ক্লিনিকাল কনসালটেন্ট নিপুণিকা গুণাবর্ধন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সমাজের সঙ্গে খাপ-খাইয়ে নেওয়ার জন্যও কোনো কোনো অভিবাসী জুয়া খেলে থাকেন। ২০ বছর আগে সাউথ ইন্ডিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন রায়। (এটা তার সত্যিকারের নাম নয়। আর, তার আওয়াজও পরিবর্তন করা হয়েছে)। তখন থেকেই তিনি জুয়া খেলেন। তার পরিবার অবশ্য এটা জানে না। নিপুণিকা গুণাবর্ধন বলেন, যখনই কেউ এতে আসক্ত হয়, তখন তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করতে দেখা যায়। কারণ, তারা তাদের তৃপ্তিলাভের মাত্রা বাড়াতে চায়। রায় মনে করেন, মদ ও জুয়া পরস্পর হাত ধরাধরি করে একসঙ্গে চলে।

 

জুয়াতে তখনই সমস্যা সৃষ্টি হয়, যখন মানুষ হেরে গিয়ে জিতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তখন আর এটা বিনোদন থাকে না।ইউনিভার্সিটি অফ সিডনির গ্যাম্বলিং সাইকোলজির গবেষক, ড. স্যালি গেইনবারি মনে করেন, জুয়ার ক্ষেত্রে সময়ও অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। জুয়া-সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সঙ্গে উদ্বেগ ও হতাশার যোগসূত্র দেখতে পেয়েছেন গবেষকরা।

 


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top