সিডনী রবিবার, ৭ই মার্চ ২০২১, ২৩শে ফাল্গুন ১৪২৭


সৌন্দর্যচর্চায়  শঙ্খচূর্ণ


প্রকাশিত:
৮ মার্চ ২০২০ ১৫:৩৭

আপডেট:
৭ মার্চ ২০২১ ২১:২১

ফাইল ছবি

প্রভাত ফেরী: প্ররাচীনকাল থেকেই  আয়ুর্বেদে শঙ্খ  ব্যবহার সৌন্দর্যচর্চায় অপরিহার্য । যারা রূপচর্চায় মনোযোগী তারা কমবেশি শঙ্খের গুঁড়ার সাথে পরিচিত। শঙ্খকে সোজা বাংলায় বলে ‘শাঁখ। সনাতন ধর্ম এবং জীবন প্রণালীতে এর উপস্থিতি উল্লেখ্য।

চেহারাটা যেমনই হোক, সামান্য যত্নে সেটি হয়ে ওঠে সতেজ, পরিপাটি, আকর্ষণীয়। কত মাধ্যমেই না রূপের চর্চা করা যায়! বড় শামুক বা শঙ্খ কেটে মেয়েদের হাতে পরার শাঁখা বানানো হয়। শাঁখা বানানোর সময় শাঁখারিদের হাত গলে ছড়িয়ে পড়ে শঙ্খের গুঁড়া। সেই সাদা ধবধবে চক পাউডারের মতো দেখতে গুঁড়াই হতে পারে রূপচর্চার অন্যতম অনুষঙ্গ। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় রূপচর্চার জন্য শঙ্খ প্রায় সব ত্বকেই দারুণভাবে মানিয়ে যায়। শঙ্খতে রয়েছে জিংক অক্সাইড, যেটি রোদ থেকে বাঁচায়। কালচে ছোপের হাত থেকে বাঁচাতেও এটি দারুণ কার্যকর।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ইরফান উল্লাহ জানিয়েছেন, রূপচর্চার সামগ্রী হলেও যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের কিছুটা সাবধান থাকা ভালো শঙ্খগুঁড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে। পাউডার–জাতীয় হলেও যেহেতু এই গুঁড়া শক্ত শামুকের খোল থেকে তৈরি, ত্বকে ব্যবহারের সময় জোরে ঘষাঘষি না করাই ভালো। সামান্য অসাবধানতায় ত্বক কেটে যেতে পারে। চিকন ছিদ্রের চালুনি দিয়ে চেলে নিলে কিছুটা নিরাপদ হতে পারে। নাজুক ত্বকের ক্ষেত্রে কখনো কখনো জ্বালাপোড়া, র‌্যাশ, ফুসকুড়ি হতে পারে। কারও কারও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা ও প্রদাহ দেখা দিতে পারে, কিছু ক্ষেত্রে ত্বক ফুলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। এমন হলে শঙ্খচূর্ণ ব্যবহার বন্ধ করে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিন কেয়ার ক্লিনিকের আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ আফরিন মৌসুমী শঙ্খচূর্ণ দিয়ে কীভাবে রূপচর্চা করা যায় জানালেন তারই সাতসতেরো। পাউডারের মতো তুলির সাহায্যে শঙ্খচূণ ব্যবহার করা যায়। আবার কখনো অন্য উপাদানের সঙ্গে যুক্ত করে প্যাক বানিয়ে লাগিয়ে রাখলেও ত্বকের জন্য উপকারী। ত্বকের ধরন অনুযায়ী বিভিন্নভাবে শঙ্খগুঁড়া ব্যবহার করা যায়। বাতাস ঢুকবে না, এমন কৌটায় সংরক্ষণ করে ফ্রিজে রেখে দুই থেকে িতন দিন অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। গুণগত মানও থাকবে অটুট। পুরো শরীরে লাগানোর প্যাক তৈরি করে ডিপ ফ্রিজে রাখলে পরে আবার ব্যবহারের উপযোগী হবে। ত্বকের ধরন বুঝে নানাভাবে শঙ্খচূর্ণ ব্যবহার করা যায়, তারই কিছু পদ্ধতি রইল পাঠকদের জন্য।

শুষ্ক ত্বকের জন্য

শুষ্ক ত্বকে কালচে ছোপ পড়ে যায়। যাঁদের ত্বকে কালচে ছোপ হয়েই গেছে, এই প্যাক তাঁদের জন্য। মাত্র ২ সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহারে কালচে ছোপ হালকা করে ফেলতে প্যাকটির জুড়ি মেলা ভার। ১ টেবিল চামচ শঙ্খচূর্ণ, ২ চা-চামচ আপেল সিডার ভিনেগার, ৪-৫ ফোঁটা কাঠবাদামের তেল, ভিটামিন সি ট্যাবলেট বা ১টি সিভিট গুঁড়া ও সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য

যাদের ব্রণ ও ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা ২ টেবিল চামচ তুলসী পাতার রস, ১ টেবিল চামচ শঙ্খের গুঁড়া মিশিয়ে নিন ভালোভাবে। এবার সামান্য বাদামি চিনি দিয়ে গুলে সারা মুখে লাগাতে হবে। ৫ মিনিট পর একটু ঘষে তুলে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকে সপ্তাহে ১ দিন ও ছোট দানা বা ব্রণযুক্ত ত্বকে সপ্তাহে প্রতিদিন প্যাকটি লাগালে উপকার পাওয়া যাবে।

সব ধরনের ত্বকের জন্য

১ টেবিল চামচ শঙ্খগুঁড়া, লেবুর খোসাবাটা আধা চা-চামচ, ৩-৪ ফোঁটা গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগান। ৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতিদিন ১ বার করে প্যাকটি লাগালে রোদের প্রভাবে কালচে ভাব দূর হয়ে যায়।

সারা শরীরে লাগানোর জন্য

১ কাপ শঙ্খগুঁড়ার সঙ্গে ১ কাপ মসুরের ডালের বেসন, ১টি ডিম ও লেবুর রস মিশিয়ে সারা শরীরে লাগিয়ে রাখতে হবে মিনিট দশেক। তারপর ছোট রুমাল বা টাওয়েল ভিজিয়ে ঘষে ঘষে তুলে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ১ দিন প্যাকটি লাগালেই যথেষ্ট। এই প্যাক লাগালে সাবান দেওয়ার দরকার হবে না। গলা, ঘাড়সহ শরীরের যেসব স্থানে কালচে ভাব হয়েছে সেটি তুলে ফেলবে নিয়মিত ব্যবহারে।

রোদ থেকে বাঁচতে

সমান পরিমাণ শঙ্খের গুঁড়া, কেওলিন পাউডার ও মুলতানি মাটির গুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। বাইরে যাওয়ার সময় নিয়মিত ব্যবহারে রোদে পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচা যায়।

 


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top