সিডনী শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭

২০২৩ সালের মধ্যে দেশের ই-কমার্স খাত ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে


প্রকাশিত:
৪ নভেম্বর ২০২০ ১৭:০১

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০

 

প্রভাত ফেরী: ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি শামস মাহমুদ বলেছেন, 'বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতের আকার প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার এবং তা বার্ষিক ৫০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।' এদিকে ২০২০ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্স বাজারের আকার ১৬৬ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ই-কমার্স খাতের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন বেসিস সভাপতি আলমাস কবির। মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার আয়োজিত 'কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ই-কমার্স এবং ভোক্তা অধিকার: প্রতিবন্ধকতা ও সুপারিশ' শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

ওয়েবিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন প্রধান অতিথি এবং কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি গোলাম রহমান বিশেষ অতিথি ছিলেন। ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, 'কোভিড-১৯ সংক্রমণ হ্রাসে সামাজিক দূরত্ব মানার কারণে প্রথাগত ব্যবসায়িক খাতসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিকাশ লাভ করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যভিত্তিক ই-কমার্স ব্যবসা, কিন্তু ই-কমার্স খাতকে টেকসই করার পাশাপাশি খাতটিকে আরও সংগঠিত করা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ।'

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতারণার উদাহরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে, যার ব্যাপারে সকলকে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সম্প্রতি টিসিবি অনলাইনে পেঁয়াজ ক্রয়-বিক্রয় করছে, যার ফলে ভোক্তাদের ভোগান্তি লাঘব করা সম্ভব হয়েছে। ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ই-কমার্স খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার যথাযথ সমাধান না করা হলে কিছু অসৎ লোক তার অপব্যবহার করতে পারে, যার ফলে এ খাতের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশে ফেসবুকভিত্তিক ই-কমার্সের বিস্তৃতি অত্যন্ত বেশি এবং এই খাতের উদ্যোক্তাদের স্বল্পমূল্যে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিকালীন ই-কমার্স প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং ঔষধি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে এই খাতের মোট উদ্যোক্তাদের মধ্যে মাত্র ৭-৮% তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সাফল্য পেয়েছেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৬ মিলিয়ন এবং ফেসবুকভিত্তিক বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৩১২ কোটি টাকা। আলমাস কবির বলেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্স বাজারের আকার ১৬৬% বেড়েছে এবং ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ই-কমার্স খাতের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় পাঠাও’র সভাপতি এবং চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ফাহিম আহমেদ, দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা জাবিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (পেম্যান্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট) মো. হুমায়ুন কবির এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা অংশগ্রহণ করেন।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top