সিডনী সোমবার, ২১শে জুন ২০২১, ৬ই আষাঢ় ১৪২৮


সিডনিতে বাকশালী-ফ্যাসিষ্ট নির্মূল কমিটি (বাফেনিক) গঠিত


প্রকাশিত:
২ জুন ২০২১ ১৪:০৩

আপডেট:
২১ জুন ২০২১ ০৩:৫৯

 

২৬ মে ২০২১ বুধবার সন্ধ্যায় সিডনিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে বাকশালী-ফ্যাসিস্ট নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম নেতা দেলোয়ার হোসেনকে সংগঠনটির সভাপতি এবং বিশিষ্ট জননেতা ডিএইচএম ইসমাইলকে সেক্রেটারি করে অস্ট্রেলিয়া শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে নবনির্বাচিত সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ আজ অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসকের নির্যাতন ও দখলদারিত্বের শিকার এক জনপদ। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম ব্যবহার করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ভূলুন্ঠিত করেছে। তারা বারবার সাজানো নির্বাচনকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। বাংলাদেশের সংসদ বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছামতো ও সুবিধামতো আইনপ্রনয়নের এক কৌতুকমঞ্চ।

বিচারবিভাগ বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের ভৃত্য। প্রশাসন তাদের দলীয় লোকজনে পরিপূর্ণ। গণমাধ্যম তাদের চাটুকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ। পুলিশ ও সেনাবাহিনী এই সরকারের অত্যাচারের যন্ত্র ব্যবহৃত হতে হতে জনতার শত্রুতে পরিণত হয়েছে। নিবর্তনমূলক আইন, যথেচ্ছা গ্রেফতার ও রিমান্ড, ক্রসফায়ার ও গুম এই সরকারের নিত্যব্যবহৃত কৌশল। সুতরাং সকল গণতন্ত্রমনা ও মানবাধিকার সচেতন মানুষকে আজ এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে। এ উদ্দেশ্য নিয়েই নতুন এই সংগঠনটি যাত্রা শুরু করেছে।

 

শুভেচ্ছা বক্তব্যে সংগঠনটির সেক্রেটারী ডিএইচএম ইসমাইল বলেন, বাকশালের প্রেতাত্মা ফ্যাসিষ্ট আদর্শের অনুগত বিকৃত মানসিকতার লোকজনকে বাংলাদেশে ও বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর সকল দেশে প্রতিহত ও প্রতিরোধ করার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ পূনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বাকশালী-ফ্যাসিবাদী নির্মূল কমিটি (বাফেনিক) কাজ করে যাবে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ইন্ডাস্ট্রির নামে চর্চা করা নব্য এই ফ্যাসিবাদী আদর্শের লোকজনকে প্রতিহত করার জন্য ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে, জার্মানী ও ইটালি সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উগ্রপন্থী ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদেরকে প্রতিহত করার কৌশল ও অভিজ্ঞতার আলোকে বাফেনিকের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশী উগ্রপন্থী বাকশালী আদর্শের ফ্যাসিবাদী লোকজনকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, তাদের এই সংগঠনের মূল কর্মসূচি হলো তিনটি; গবেষণা ও প্রচার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠন।  তারা জানান, সংগঠনটির এই প্রস্তাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং তিন দফা কর্মসূচির সাথে একাত্মতা পোষণকারী যে কোন মানুষ এই সংগঠনে যোগ দিতে পারবেন।  তারা উপস্থিত প্রবাসীদেরকে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে যে কোন সম্ভবপর উপায়ে এই সংঠনটির পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনের জন্য আহবান জানান।

বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিকামী দেশ প্রেমিক নেতৃবৃন্দ বাফেনিকের সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে সাতজন,সুইডেন থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ জিন্টু, জাপান থেকে শহিদুল ইসলাম নান্নু, আমেরিকা থেকে মামুন দেওয়ান, ইউনাইটেড কিংডম থেকে এমদাদুর রহমান, ইউনাইটেড কিংডম থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো চারজন, কানাডা থেকে মুজাম্মেল হোসেন ও কামাল আহমেদ, সৌদি আরব থেকে আবু সাঈদ প্রমুখ উপদেষ্টা হিসেবে কমিটিকে অলংকৃত করেছেন।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top