সিডনী বুধবার, ১২ই আগস্ট ২০২০, ২৮শে শ্রাবণ ১৪২৭


সোনালী বিকেলগুলো যেন চিরতরেই হারিয়ে গেল মঈদুল-এর! : তন্ময় সিংহ রায়


প্রকাশিত:
২৮ জুলাই ২০২০ ১৮:২৬

আপডেট:
১২ আগস্ট ২০২০ ০৪:১৭

ছবিঃ নূর আহমদ ওরফে মঈদুল

 

"নিখিলেশ প্যারিসে, মঈদুল ঢাকাতে 
নেই তারা আজ কোনো খবরে....''

 

কিংবদন্তি গীতিকার গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার ও ভারতের সর্বাধিক প্রশংসিত সঙ্গীত পরিচালক এবং সুরকার নচিকেতা ঘোষ-পুত্র সুপর্ণকান্তি ঘোষ সুরারোপিত মান্নাদের কালজয়ী সেই গানটা আজও সমান সতেজ ও প্রাণবন্ত আছে দুই বাংলার বাঙালী হৃদয়ের মণিকোঠায়, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, নেই কোনো মতভেদও।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ খসে পড়ে গেল সেই গানেরই এক মুখ্য স্তম্ভ!

নূর আহমদ ওরফে মঈদুল চলতি সপ্তাহের ২২ তারিখ অর্থাৎ গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকা'র অ্যাপোলো হসপিটালে ৭৮ বছর বয়সে ত্যাগ করলেন শেষ নিঃশ্বাস! কফি হাউজের সোনালী সেই বিকেলগুলো যেন মুহুর্তেই কোথায় হারিয়ে গেল এই গুণী মানুষটার।  গত ৫ জুলাই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার পর তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

১৯৩৬ সালের ১৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন কফি হাউজের সেই মঈদুল। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ার সময়ে বন্ধুত্ব হয় সবার সঙ্গে। আর ১৫ বছর বয়সে পরিচয় হয়ে যায় মান্না দে'র সাথে। মান্না দে'র গানের আসরে নিয়মিত যোগদানও করতেন তিনি।

১৯৮৩ সালে এই গানটি যখন জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়, তার অনেক আগেই অর্থাৎ ১৯৬৪ সালে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় মঈদুল ঢাকায় চলে আসেন সপরিবারে। এখানে এসে কাগজের রিপোর্টার মঈদুল ১৯৬৬ সাল থেকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে সাংবাদিকতা করে গেছেন দৈনিক আজাদ, ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, ইনকিলাব, সংবাদ, বাংলার বাণী আর দৈনিক পূর্বদেশে।

খেলাধুলা নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে গেছেন তিনি এ সমস্ত পেপারে। ফাঁকে, বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক পত্র-পত্রিকাতেও লেখালেখি করে গেছেন তিনি। ২০১১ সালে তিনি অর্জন করেন বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির আজীবন সম্মাননা! 

মানুষের দেহের মরণ হলেও, সৃষ্টি বেঁচে থাকে আদি-অনন্তকাল যাবৎ।

 

তন্ময় সিংহ রায়
কোলকাতা

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top