সিডনী বৃহঃস্পতিবার, ২০শে জুন ২০২৪, ৫ই আষাঢ় ১৪৩১


আর্মেনিয়া সীমান্তের চার গ্রাম নিয়ন্ত্রণে নিল আজারবাইজান


প্রকাশিত:
২৬ মে ২০২৪ ১৯:৩৫

আপডেট:
২০ জুন ২০২৪ ০১:০৮


আর্মেনিয়া সীমান্তের চারটি গ্রাম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আজারবাইজান। একটি সীমান্ত চুক্তির অধীনে গ্রামগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার সীমান্তবর্তী গাজাখ জেলার চারটি গ্রাম নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। আজারবাইজানের উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফায়েভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মুস্তাফায়েভ বলেছেন, সীমান্ত চুক্তির অধীনে আজারবাইজানকে ফেরত দেওয়া এই অঞ্চলের আয়তন ছিল ৬.৫ বর্গকিলোমিটার (২.৫ বর্গমাইল)। এপ্রিলে জনবসতিহীন গ্রামগুলোকে আজারবাইজানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল আর্মেনিয়া। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। এই চুক্তিটি দেশ দুটির মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি মাইলফলক ছিল।


এদিকে চারটি গ্রাম হস্তান্তর করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আর্মেনিয়ায় বিক্ষোভে নেমেছেন প্রতিবাদকারীরা। বিশ্বাসঘাতকতার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পাশিনিয়ান একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় আর্মেনীয়রা যে স্বদেশের স্বপ্ন দেখেছেন সে কথা তুলে ধরেন। এ সময় কীভাবে জাতীয় সীমানা নির্ধারণ করা সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ ছিল তা বর্ণনা করেন।

দুই প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে যে সংকট তা বহু পুরোনো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অনেক সংঘর্ষ, অনেক প্রাণহানি হয়েছে। বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত অনুযায়ী, এটি আজারবাইজানের অংশ, তবে সেখানে থাকে মূলত জাতিগত আর্মেনিয়ানরা। তবে এই বিভেদ কেবল রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, এর পাশাপাশি ধর্মীয় বিভেদও দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব্ব তৈরি করছে।

আর্মেনিয়া মূলত খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, অন্যদিকে আজারবাইজান মূলত মুসলিম। দুটি দেশই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে বড় আকারে যুদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালেও দুই দেশ ছয় সপ্তাহ ধরে এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল।

শুক্রবার আর্মেনিয়া সীমান্তের চার গ্রাম আজারবাইজান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এরই মধ্যে আর্মেনীয়রা বিক্ষোভ প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। তারা এজন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন। তারা বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না। তারা একে বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করেছেন।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Developed with by
Top