ভারত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রেট নিকোবর দ্বীপের সংবেদনশীল নৃগোষ্ঠীর জন্য হুমকি


প্রকাশিত:
১ জানুয়ারী ২০২৫ ১২:৫৪

আপডেট:
৪ এপ্রিল ২০২৫ ২২:০০

ফাইল ছবি

ভারতের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গ্রেট নিকোবর। মূল ভূখণ্ডের সীমান্ত এলাকা থেকে ৮০০ মাইল দূরে ভারত সাগরে অবস্থিত দ্বীপটি মূলত বনভূমি অধ্যুষিত। বিপুল জীববৈচিত্র্যের আধার ৯০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপটিতে মোটামুটি ৮ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপে দুটি আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাস। এর একটি শোমপেন ও অপরটিকে নিকোবারি বলে চেনা হয়।

ভৌগোলিক ও সভ্যতাগত বিচ্ছিন্নতার কারণে দ্বীপের আদিবাসী নৃগোষ্ঠীগুলো বেশ সংবেদনশীল। তারা সাধারণত অপরাপর সভ্যতার সংস্পর্শের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়, এবং কখনো কখনো সহনশীলও নয়। পরিবেশবাদী এবং নৃবিজ্ঞানীরা বলেছেন, অপরাপর সভ্যতার সংস্পর্শে দ্বীপের জনগোষ্ঠীকে নতুন রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এমনকি এর ফলে তাদের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তা সত্ত্বেও ভারত সরকার সম্প্রতি দ্বীপটিতে ৯ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে। নৃবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রকল্প স্থানীয় শিকারী নৃগোষ্ঠী শোমপেনের জন্য গণহত্যার নামান্তর।

গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপে ‘হংকং ইন ইন্ডিয়া’ নামে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দ্বীপটিকে পর্যটনের উপযোগী করার পাশাপাশি এতে জাহাজ বন্দর, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি এমনকি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। জাহাজবন্দরের নির্মাণ চলতি বছরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের জন্য দ্বীপের সাড়ে আট লাখ গাছ কাটার অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। বছরে দেড় কোটির বেশি কনটেইনার পরিহনে সক্ষম বন্দরটি ২০২৮ সালের মধ্যে তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা।

পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শোমপেন নৃগোষ্ঠী অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এমনকি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি মারাত্মক অপরাধের শামিল। এছাড়া এই প্রকল্প দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। গত বুধবার ১৩টি দেশের ৩৯ জন গবেষক এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মুকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন।

গ্রেট নিকোবার আইল্যান্ডে বসবাসরত শোমপেন নৃগোষ্ঠীর জনসংখ্যা মোটামুটি ৪০০ জন। বাকিরা নিকোবারি নৃগোষ্ঠীর। শোমপেনরা অপেক্ষাকৃত সংবেদনশীল। তারা বনভূমির ওপর নির্ভরশীল এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ প্রায় নেই। এমনকি বাইরের মানুষের সংস্পর্শে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিতে তাদের বিলুপ্তির আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নিকোবারিদের বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও তাদের নিজস্ব জীবনযাপনের ওপর বিশাল এই উন্নয়ন প্রকল্পের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মানবাধিকার গোষ্ঠী সার্ভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল বলছে, আদিবাসীদের জন্য এই প্রকল্প বিপর্যয় ডেকে আনবে। বনাঞ্চল ধ্বংস হলে তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

গত বছর প্রকল্পটির বিরোধিতা করে দেশটির অন্তত ৭০ জন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, এটি দ্বীপের বাস্তুসংস্থান এবং সংবেদনশীল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল প্রায় ধ্বংস করবে। এমনকি এই প্রকল্প আদিবাসীদের জন্য চূড়ান্ত বিপদের ইঙ্গিত বহন করছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় আদিবাসীদের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top