সিডনী সোমবার, ২৭শে জুন ২০২২, ১২ই আষাঢ় ১৪২৯

নাকছাবি : কৃষ্ণা গুহ রায়


প্রকাশিত:
১৪ জুন ২০২২ ০৯:০৮

আপডেট:
২৭ জুন ২০২২ ০১:৪৮

 ছবিঃ কৃষ্ণা গুহ রায়

 

সকাল থেকেই মিকু আর ওর বর সমুর মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হল। সামান্য একটা বিষয়। ওদের একমাত্র মেয়ে রিয়াকে নিয়ে রোজ সকালে স্কুলে যেতে হয় সমুর। রিয়া এখন কেজিতে পড়ে। প্রথম প্রথম মিকুও সমুর স্কুটির পেছনে চেপে স্কুলে যেত। আস্তে আস্তে বাচ্চাদের বাবা মায়েদের সঙ্গে ওদের আলাপ জমে উঠল। ওদের মধ্যেই একজন হল রাজেশ এবং তার স্ত্রী নিপা। ওদের একমাত্র ছেলে দেবরূপ। নিপার চেহারাখানা দেখার মতন। একদম ছিপছিপে সুন্দরী। নিপা খুবই টিপটপ।সেজেগুজে সকালবেলা ছেলেকে নিয়ে বরকে নিয়ে স্কুলে আসে। মায়েদের মধ্যে একটু গুঞ্জন হয় যে এত সকালে এত সুন্দর সেজেগুজে পরিপাটি করে আসে কি করে।কৌতুহলী মায়েরা ক্রমশ জেনে গেল নিপা হল একটা নামকরা প্রসাধনী সংস্থার সিইও। আর ওর বরের বিজ্ঞাপনের এজেন্সি আছে।
এরপর আস্তে আস্তে স্কুলে আসা মায়েদের ভিড় কমতে থাকল।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাবারা সকালে এসে বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে যায়। কিন্তু নিপা আর তার সঙ্গে আরও গুটিকতক মায়েরা তাদের বাচ্চাদেরকে নিত্যদিন দিয়ে আসা নিয়ে আসার কাজটি করে। সুন্দরীদের সবাই ভালবাসে। সুন্দর এমনই একটা জিনিস সবাই তাকিয়ে থাকতে ভালোবাসে। এখন আর মিকু স্কুলে আসে না। সকালবেলা মেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিস্তর কাজ। তাই রিয়াকে দিয়ে আসা নিয়ে আসার কাজটা সমুই করে। আর মাসখানেক পরেই মিকুর বিবাহ বার্ষিকী। মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করার পর রাত্রিবেলা সমু মিকুকে আর সেভাবে পায় না। কারণ পরদিন ভোর বেলা ওঠার তাড়া থাকে। ঠিকে ঝি কদিন ছুটি নিয়েছে। মিকুও দেখতে খারাপ না,বেশ স্লিম ফর্সা। সমু ফ্ল্যাটে ঢুকে দেখল মিকু বিছানা পরিষ্কার করছে। স্লিভলেস নাইটিতে মিকুকে বেশ লাগছে। ফ্ল্যাট ফাঁকা। সমু বিছানায় মিকুকে টেনে নিয়ে আদরে আদরে ভরিয়ে দিতে লাগল। তারপর বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে বলল,আর কদিন বাদেই তো আমাদের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি। আমার খুব ইচ্ছে নিপার নাকে যে তিন পাথর দেওয়া হীরের নাকছাবি আছে,ওরকম দেখতে তোমাকে একটা নাকছাবি গড়িয়ে দেব। মিকুর তো চক্ষু চড়কগাছ। এক ঝটকায় সে সমুকে খাট থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল। তারপরেই তুমুল ঝগড়া শুরু হল।
- কি তুমি স্কুলে যাও আর নিপার নাকের দিকে তাকিয়ে থাকো।
সমু বলল, তাকিয়ে থাকব কেন, ওর নাকছাবিটা দেখেছিলাম বেশ সুন্দর, আমি ভেবেছিলাম তোমাকে এরকম একটা গড়িয়ে দেব।
মিকু তো রেগে আগুন।
- আজকে থেকে তোমার মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ। তুমি ঘরের কাজ করবে আমি যাব।
সমু কি বলবে ভেবে পায় না চুপ করে থাকল।
সেদিন ছুটির সময় স্কুলে মেয়েকে আনতে গেল মিকু। গিয়ে দেখল তখনও স্কুলের গেট খোলেনি। গেটের সামনের রাস্তায় মায়েরা দাঁড়িয়ে আছে। তার মধ্যে নিপাও দাঁড়িয়ে আছে।
নিপা মিকুকে দেখে হেসে এগিয়ে এল।
- আজকে তুমি,দাদা আসেন নি।
মিকু কটমট চোখে তাকিয়ে নিপাকে বলল, কেন দাদা আসলে কি তোমার খুব সুবিধা হয়? আমি এসেছি বলে ভালো লাগছে না।
নিপা কিছুই বুঝতে পারল না। সে হা করে তাকিয়ে থাকল মিকুর দিকে। ততক্ষনে স্কুলের বড় গেট খুলে গিয়েছে। বাচ্চাদের নাম ধরে ডেকে আই কার্ড দেখে তাদের গার্জিয়ানদের হাতে বাচ্চাদের তুলে দেওয়া হচ্ছে।
মিকুর মাথা এতটাই গরম ছিল যে সে মেয়ের আই কার্ডটা আনতে ভুলে গিয়েছিল। ক্লাস টিচার কিছুতেই তো রিয়াকে মিকুকে দেবে না। এদিকে রিয়া মা মা বলে চিৎকার জুড়ল।
তখন নিপা এগিয়ে এল।
- ম্যাডাম আমি গ্যারান্টার, ওই হচ্ছে রিয়ার মা। ওর হাজব‍্যান্ড রোজ আসেন রিয়াকে নিতে।
নিপা যেহেতু রোজ আসে ক্লাসটিচার নিপাকে খুব ভালো করেই চেনে। তাই নিপার কথায় ক্লাসটিচার রিয়াকে ছেড়ে দিল।
রিয়ার হাত ধরে মিকু গটগট করে রিক্সায় উঠল। ওঠার আগে নিপাকে বলল, ভেব না আমার উপকার করেছো বলে কালকে থেকে সমুকে আবার স্কুলে পাঠাব।

 

কৃষ্ণা গুহ রায়
সাহিত্যকর্মী
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত 

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top