সিডনী সোমবার, ২১শে জুন ২০২১, ৬ই আষাঢ় ১৪২৮


ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশী দূতাবাস প্রবাসীদের পাশে


প্রকাশিত:
৩১ মে ২০২১ ১৫:০১

আপডেট:
৩১ মে ২০২১ ১৫:০৯

 

প্রভাত ফেরী: ২০১৪ সালে ভিয়েনায় নতুন দূতাবাস চালু করা হয় বাংলাদেশের সঙ্গে মধ্য ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থায়ী মিশন হিসেবে জোরদারকরণের লক্ষ্যে । অস্ট্রিয়ার পার্শ্ববর্তী তিন দেশ হাঙ্গেরি-স্লোভাকিয়া-স্লোভেনিয়ার সঙ্গেও কাজ করছে দূতাবাসটি।
জানা গেছে- অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা ৮ হাজারের কাছাকাছি। ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাস বর্তমানে এ অঞ্চলে বসবাস করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে আশা ও ভরসার জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দূতাবাসের পরিষেবার ওপর তারা সন্তুষ্ট এবং তারা মনে করেন যে কোনো প্রয়োজনে দূতাবাসকে যথার্থভাবে পাশে পেয়েছেন।
অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অভিযোগের কথা প্রায় আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখতে পাই। তবে ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাস এক্ষেত্রে একেবারে ব্যতিক্রম।’

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আবু জাফর ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়াতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ সংক্ষরণে তিনি বিশেষভাবে কাজ করেছেন। বর্তমানে মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও আমাদের বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক।
মাহবুবুর রহমান আরও যোগ করেন, দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন রাহাত বিন জামান এবং প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান তারাজুল ইসলামের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ না করলে নয়। যে কোনো সমস্যা নিয়ে যখন আমরা তাদের কাছে গিয়েছি তারা আমাদেরকে সম্ভাব্য সকল দিক থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন।

সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্ববোধ থেকে দূতাবাসগুলো প্রবাসীদের কাছে আস্থার অন্যতম এক প্রতিশব্দ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
হাঙ্গেরি প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তন্ময় ওবালডিন গোমেজ বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের তান্ডবের কারণে আমাদের সবার জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। বিশেষত মহামারির শুরুর দিকের সময়টা ছিল খুবই ক্রান্তিকালীন একটা মুহূর্ত কেননা আমরা এ ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।’

তিনি বলেন, মহামারির এ সময় দূতাবাস আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে। গত বছর আমরা যখন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন রাহাত বিন জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তিনি আমাদেরকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা দিয়ে সাহায্য করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি আমাদের খোঁজ-খবর রাখেন।
তন্ময় বলেন, কয়েক মাস আগে আমি পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য দূতাবাসের প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান তারাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করি। হয়তোবা সামনাসামনি তার সাথে দেখা করার সুযোগ আসেনি তবে তার আন্তরিকতা ছিল মুগ্ধ করার মতো। আমি সব সময় রাহাত বিন জামান এবং তারাজুল ইসলাম ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। সত্যি হাঙ্গেরিতে আমরা যারা প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে বসবাস করছি আমাদের কাছে ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাস হচ্ছে এক আস্থার নাম।

এদিকে হাঙ্গেরি প্রবাসী অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শামছুল ইসলাম সিপার বলেন, গত বছরের এপ্রিল মাসে আমি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হই, তখন ইউরোপ মহাদেশে কেবলমাত্র করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু। প্রথম দিকে আমি ভীষণভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি, বিশেষত পরিবার থেকে অনেক দূরে থাকায় আমার মাঝে ভয় ছিল অত্যন্ত বেশি।

তিনি বলেন, তখন খুব বেশি দিন হয়নি আমি হাঙ্গেরিতে এসেছি। তবে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন রাহাত বিন জামান ভাই এবং দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও দূতালয় প্রধান তারাজুল ইসলাম ভাইয়ের প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ কেননা আমার পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে তারা আমার অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিয়মিত আমার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে আমার শরীরের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।

শামছুল জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠাটা অনেকাংশে মানসিক দৃঢ়তার ওপর নির্ভরশীল। আমি মনে করি দূতাবাসের এ শীর্ষ স্থানীয় দুই কর্মকর্তা যদি আমার পাশে না থাকতেন তাহলে সত্যি আমি মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়তাম যা আমার স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করত।

স্লোভেনিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলী তৌসিফ রহমান বলেছেন, কয়েক মাস পূর্বে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে স্লোভেনিয়াতে এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। আহত অবস্থায় থাকায় তাকে তৎক্ষণাৎ রাজধানী লুবলিয়ানার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে এবং পরবর্তীতে দূতাবাসের অনুমতি নিয়ে আমি তার সাথে দেখা করতে যাই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মাঝে যে ধরনের দায়িত্ববোধ লক্ষ্য করেছি সেটা ছিল প্রশংসা করার মতো।
তৌসিফ রহমান আরও যোগ করেন, সার্বক্ষণিক দূতাবাসের কর্মকর্তারা আমার সাথে যোগাযোগ করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই বাংলাদেশির বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছিলেন। স্লোভেনিয়াতে বাংলাদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা দূতাবাসের সাথে কথা বলেছি। আশা করি তারা শিগগিরই এ সকল বিষয়ের প্রতি মনোনীবেশ করবেন। দূতাবাসের সেবার মান নিয়ে আমরা শতভাগ সন্তুষ্ট।
রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বলেন, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া ও স্লোভাকিয়াতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে থাকতে আমাদের দূতাবাস বদ্ধপরিকর। বিদেশের মাটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আমরা চাই প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে এবং দায়িত্বশীলতার সাথে আমাদের কর্তব্য পালন করতে।

 


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top