সিডনী শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


অপরাজেয় অরণ্য : জাহ্নবী জাইমা


প্রকাশিত:
২১ নভেম্বর ২০২০ ১৫:৫২

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০৩:০৪

 

সকাল থেকেই গোমরা আকাশের নিচে মুখ ভার করে আছে সদা ব্যস্ত ঢাকা শহর, যেন চলতে হয় বলেই চলা এসব দিন কাজ কর্মের ইচ্ছেটাই যেন উড়ে যায়। অফিস বিল্ডিংয়ের বারোতলার জানালা খুলে আকাশ দেখছে অরণ্য। ঘষা কার্বনের মতো ধোঁয়াটে আস্তরণে ঢাকা আকাশ। দেখলেই মেজাজ খিঁচড়ে যায়। অথচ আকাশে মেঘ জমলে ওর মতো অনুভূতি প্রবণ মানুষের অন্যরকম প্রতিক্রিয়া হওয়ার কথা। জলজ মেঘের মতো শব্দরা মিছিল করে নেমে আসবে অরণ্যের কলমের ডগায়। জন্ম নেবে একটি কবিতা। প্রসব করবে হৃদয়ের জমা আবেগ, একটি শিশু। অরণ্য পাবে মাতৃত্বের স্বাদ। জীবন সংগ্রামী অফিস যাত্রীদের সঙ্গে বৃষ্টির যেন চিরকালের বৈরিতা। ছেলেবেলায় অরণ্য যখন স্কুলে যেত তখনও, এই রকম বৃষ্টির দিনে কাকভেজা হয়ে বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে বকুনি খেয়েছে কতো। সুখের দিনগুলো বড় তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। আজও অফিস ছুটির ঘণ্টাখানেক আগেই শুরু হলো ঝিরঝির বৃষ্টি। বৃষ্টি শেষে ভেজা রাস্তা ঘাট। চারপাশে অগোছালো ভিড়, পাঁচমিশেলি শব্দ, টুকরো টুকরো নজরকাড়া দৃশ্য এ সবের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে ভারী আরাম বোধ করে অরণ্য। ওর মনে হয় বৃষ্টিধোয়া রাস্তার নিচে ঘুমিয়ে আছে ঢাকার হৃদপিণ্ড, ইচ্ছে করলেই গুলশান, মহাখালি হয়ে উড়াল রাস্তা ধরে চলে যেত গন্তব্যে। বৃষ্টির পর কল্লোলিনী তিলোত্তমা দেখতেই ঢাকার মানুষ অভ্যস্ত। একুশ শতকেও বাস মিনিবাস টেম্পো অটো একহাঁটু নোংরা পানিতে নৌকার মতো ভাসছে। চলছে একে অপরকে দোষারোপের পালা। ঢাকার নিরীহ নাগরিকরা জানেন, সামনের বর্ষায় এই পালাগান চলবে। আজ অবশ্য অল্পের ওপর দিয়ে গেছে। অফিস থেকে বেরিয়ে ফুটপাত ধরে হাঁটছিল অরণ্য। সন্ধ্যে নামলেই ঢাকার চেহারা পুরোপুরি বদলে যায়। আর তখনই ওর ইচ্ছেরা হয়ে ওঠে বেয়ারা। চলমান মানুষের মিছিলে মুখ খোঁজার বিলাসিতা। বেদখল ফুটপাত, লেক আর বৃষ্টির শেষে পলিথিনের চাদরে ঢেকে যায় রাস্তাঘাট। চারপাশের কোলাহল দেখে মনে স্থির বিশ্বাস হলো, এ যেন বাংলার বুদ্ধিজীবীদের চেনা ঢাকা শহর নয় অগোচরে কল্লোলিনীর হাত বদল ঘটে গেছে। শহিদ মিনারের গায়ে আলোর মালা। সেটা ছাড়িয়ে চোখ গেল আকাশে। মালিন্যহীন বৃষ্টি ধোয়া আকাশে ঝকঝকে চাঁদ অবহেলিত। সময়ের ব্যবধান প্রায় এক দশকের কাছাকাছি। রাস্তার তীব্র নিয়ন আলোর উজ্জ্বলতায় ঠিক চিনতে পারল অপরাজিতাকে। বুকের উপর জড় করা একরাশ প্যাকেট। নিয়নের আলোয় ওর দামি শাড়ি আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটে। কোমর ছাপানো আলুথালু চুল বেণী করে সামনে ফেলা। সিরিয়ালের নায়িকাদের মতো দু’কানে ঝোলানো দুল। পাশ কাটানোর কোনো উপায় নেই অরণ্যের গাঢ় লিপস্টিক লাগানো ঠোঁটে অভিমান ফুটিয়ে অপরাজিতা বলে উঠলো, ‘কি অরণ্য আমাকে চিনতে পারছো না। নিজে পরিচয় না দিলে হয়তো পাশ কাটিয়ে চলে যেতে, তাই না?’ কণ্ঠে কৃত্রিম অভিমান। নাকি মান-অভিমানের কোনও বয়েস হয় না? অরণ্য যখন এই দুইয়ের টানাপোড়েনে নাজেহাল, তখনই শুনলো, তুমি সেই আগের মতোই সহজ সরল রয়ে গেছ অরণ্য। অরণ্যর মনে হলো এতো বছরের ব্যবধানে অপরাজিতা ব্যাপক বদলে গেছে। ওর পোষাক-আশাক, কথাবার্তা উগ্র প্রসাধন সেটাই জানিয়ে দিচ্ছে। এক সময় বর্ষার মেঘের মতো ডাগর কালো চোখ ও চুল, তীক্ষ্ণ চিবুক এখন সে সব প্রাচুর্যের রঙে রঙিন।

মেঘলা বাতাসে ভর করে একটা চড়া পারফিউমের গন্ধ নাকে লাগছিল। ওর স্বচ্ছন্দ চলা ফেরা হাবভাব দেখে অরণ্যর স্থির প্রত্যয় হলো, এ সব জায়গায় অপরাজিতা প্রায়ই আসে। সব মিলিয়ে পুরোনো ঢাকার সেই চটুল মেয়েটা গুলশানের সান্ধ্য পরিবেশে দিব্যি মানানসই হয়ে উঠেছে। অস্বস্তি ঝেড়ে চটজলদি একটি সিগারেট ধরিয়ে ফেললো অরণ্য। এক মুখ ধোঁয়া ছাড়ার পর তার মনে হলো সন্ধেবেলা অভিজাত এলাকায় দাঁড়িয়ে কোনো সুন্দরী মহিলার সঙ্গে বাক্যালাপ করতে এখন আর কোনও অরুচি তার নেই। একটু দেরিতে রি-অ্যাক্ট করলো অরণ্য। উগ্র প্রসাধনেও চিবুকের কালো তিলটা ঢাকেনি। তিলটি লক্ষ্য করে বলে উঠলো, সব মেয়েই আমার চোখে সুন্দরী। অপরাজিতা তুমি ক্যামন আছ? অপরাজিতার মনে হলো তার স্বভাবটা পাল্টাতে পারেনি, চিরকাল পেটে খিদে, মুখে লাজ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, দেখেলেই বোঝা যায়। জীবনে কিছু হলো না তোমার। আমাকে কেমন দেখছো অরণ্য। অরণ্য বলল দারুণ, ভীষণ সুন্দর দেখাচ্ছে তোমাকে।

দেখছো না আশেপাশের লোকেরা কেমন আড়চোখে দেখছে তোমাকে। সুখেই আছ তাই না?

অহংকারের ঢেউ নেচে উঠলো তার শরীরে। আকাশে অবহেলিত চাঁদের দিকে তাকিয়ে অপরাজিতা জিজ্ঞেস করলো, এখনও কবিতা-টবিতা লিখ? নাকি চাকরি-বাকরি করে সংসারী হয়েছ? এত বছর আগের বিবাদটা নতুন করে গ্রাস করলো অরণ্যকে। অপরাজিতা চিরকালই ভোগ বিলাস অর্থ বিত্তের মধ্যেই সীমাবব্ধ। ওর ধারণা যারা কবিতা লেখে তাদের বোধ হয় চাকরি করে সংসারী হবার কোনো যোগ্যতাই নেই। কবি মানেই এক মুখ দাড়ি কাঁধে ঝোলা উড়নচণ্ডি, বাউন্ডুলে আর কিছু না। একে তো বৃষ্টি ভেজা সন্ধেবেলা তার উপর সুন্দরী সঙ্গীনি। রসিকতার লোভটা সামলাতে পারল না অরণ্য। নিজের মসৃণ গালে হাত বুলিয়ে বলল, আমাকে দেখে এখনও কি কবি বলে মনে হয় তোমার? কাঁধের ঝোলাটা অবশ্য রয়ে গেছে অন্য প্রয়োজনে? ক্লিষ্ট হাসলো অরণ্য, সংসার? আমার মতো বেকার বাউন্ডুলেকে কোন মেয়ে বিয়ে করবে? সাধ করে একদিন তুমিও তো আমাকে বিয়ে করতে পারনি। চড়া নিয়নের মধ্যেও বার কয়েক ব্যর্থ অতীত ছায়া ফেলে গেল অপরাজিতার মুখে। পরক্ষণেই সে কাটিয়ে উঠে বলল, আমার এক ননদ আছেন তোমার মতোই আঁতেল, একাডেমিতে কবিতা পড়ে, বলো তো চেষ্টা করে দেখি। ভালোই হবে তুমি লিখবে আর ও পড়বে। অরণ্যর বেশ মজা হচ্ছিলো, একটা সন্ধে না হয় অন্য রকম কাটুক। বলল, প্রস্তাবটা মন্দ নয়। তবে এসব ভারী কথাবার্তা কি রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলা যায়? তোমার যদি তাড়া না থাকে তবে চলো কোথাও গিয়ে বসি। অপরাজিতা প্যাকেটগুলো অরণ্যের হাতে তুলে দিয়ে বলল, চলো যাই একটু ক্ষিদেও পেয়েছে। মাস শেষ হতে চার দিন বাকি, অপরাজিতার সাথে কথা বলার ফাঁকে নিজের টাকার পরিমাণটা আন্দাজ করে নিলো মধ্যবিত্ত অরণ্য।

সামনেই পিৎজ্জাহাট ওরা রেঁস্তোরায় ঢুকতেই অনেকেই চোখ তুলে তাকালো। অপরাজিতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা, সাধারণ বাঙালি মেয়ের চেয়ে একটু বেশি সহজেই মানুষের চোখে পড়ে। ওর চুল বেশ ঘন কোমর ছাড়িয়ে নিচে পড়েছে। ফর্সা শরীরে নীল রঙের শাড়িটা ওকে দারুণ আভিজাত্যের প্রকাশ করছে। মুখে উগ্র সাজে একটা মাদকতা চোখের মায়াবী চাহনির মদিরতায় সত্যিই একদিন হারিয়েছিল। আগে পাতলা ছিপছিপে গড়নের বেশ পরিবর্তন, এখন কিছুটা ভরাট গোলগাল, পেটে কিছুটা মেদ জমেছে। আগে কোমর ২৪/২৫ ছিল। কোণের দিকে একটা টেবিলে প্যাকেটগুলো রেখে পার্স থেকে টিস্যু টানলো অপরাজিতা, উফঃ বৃষ্টির পর গরমটা যেন বড্ড বেশি লাগছে। আজকাল গরম একদম সহ্য করতে পারি না। অপরাজিতার পৃথুলা ফিগার দেখে ইচ্ছে হলো জিজ্ঞেস করি, তুমি জিমে যাও না? এত সুন্দর ফিগার নষ্ট করছো কেন? তার বদলে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি এসিতেই অভ্যস্ত এখন? আর বোলো না, আজকাল কী যে বিচ্ছিরি অভ্যেস হয়েছে না। অপরাজিতা অনায়াসে বলে উঠে বাড়িঘর সব সেন্ট্রালি এয়ারকন্ডিশন হলে যা হয় আর কী? ভারী গহনার আভায় তাকে অন্য অপরাজিতা মনে হচ্ছে। আগে ওকে নিয়ে কতবার এসেছিলাম এই রেস্তোরায়। এবার অন্য প্রসঙ্গে এসে জিজ্ঞেস কললো কী খাবে বলো। বলে মেনু কার্ডটা ঠেলে দিল অপরাজিতার হাতে। ওসব হবে না আজ আমি হোস্ট। অপরাজিতা উদার হয়ে ফের কার্ডটা ঠেলে দিল অরণ্যর দিকে। তুমি কি নেবে বলো অরণ্য? আমি কিন্তু একটা বিয়ার খাবো, সাথে আইস লাইম জুস। সামান্য থমকালো অরণ্য। অরণ্য বলল আমি ওসব খাই না। চা কিংবা কফি সাথে পিৎজ্জা অর্ডার দিল সে। সে কি তুমি বিয়ার খাবে না? এই সব মিডল ক্লাস মেন্টালিটির জন্য জীবনে তোমার কিছু হলো না, কবিতা লিখবে অথচ হার্ড ড্রিংস করবে না। অ্যাট লিস্ট একটা বিয়ার নাও, আমার জন্য? হেসে ঘাড় নেড়ে না বলল অরণ্য, তুমি তো চাকুরি কর না। বরের পয়সায় প্রাক্তন প্রেমিককে বিয়ার খাওয়াবে? ব্যাপারটা ঠিক হজম হচ্ছে না। অরণ্য পর্দার ফাঁক দিয়ে বেয়ারাকে খুঁজছিল। দেয়ালের গায়ে টাঙানো মাইক্রো ফোনে চড়া বিদেশি সঙ্গীতের সুর ওর মনে হলো নিঃস্ব হতশ্রী হাত বদলের ঢাকা ইদানিং একটা উম্মাদের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিৎজ্জার টুকরো মুখে পুরে অল্প অল্প করে বিয়ার সিপ করছিল অপরাজিতা। হঠাৎ বেরসিকের মতো অরণ্য জিজ্ঞেস করে বসলো, তুমি আজকাল পুরোনো ঢাকায় যাও না। আন্টি আংকেল কেমন আছেন? অন্তু এখন কিসে পড়ছে? অরণ্যের মধ্যবিত্ত প্রশ্নে অপরাজিতার নিটোল কপালে ভাঁজ পড়লো। অরণ্য চিরদিন এমনই সেকেলে থেকে গেলে। এখন এসব প্রশ্ন করায় সময়? নিজের জিনিসও চাইতে জানতে হয় সেটাও শেখনি। সে বলল বাবা-মা ও অন্তু এখন আমার কাছেই থাকে, অন্তু আমার বরের ফার্মে কাজ করে।

অরণ্য ও আচ্ছা উনি মানে তোমার স্বামী, কী করেন? ওর ডেভোলপিং এর ব্যবসা। আমরা গুলশান-১ এ থাকি, টেলিফোন এক্সচেঞ্জের কাছাকাছি। একদিন ফোন করে চলে এসো? অরণ্য চমকে মুখ তুলে তাকালো। দশ বছরে এতো ঐশ্বর্যের মধ্যে থেকেও অপরাজিতা একটুও বদলায়নি। এবার অরণ্য বলল একটা সিগারেট খেতে পারি। অপরাজিতা বলল পাবলিক প্লেসে সিগারেট খাওয়া মানা জানো না? তাছাড়া তোমার সিগারেটের গন্ধটা উগ্র বিচ্ছিরি ভীষণ কড়া। ওর সিগারেটের গন্ধটা কিন্তু দারুণ খু-উব মিষ্টি। ক্লিষ্ট হাসি হাসলো অরণ্য। বেকার কবির সাধ্য আছে কি এতো দামী সিগারেট খাওয়া। টাকার অভাবে মাঝে মাঝে বিড়িও খাই। মাগো বিড়ি তো ওর কর্মচারীরাও খায় না। তা হলেই বোঝ। অরণ্য যেন সার্টিফিকেট দিচ্ছে অপরাজিতাকে, সেদিন যদি বয়সের ঝোঁকে ভুলটা করে বসতা তাহলে আজ আর আফসোস রাখার জাযগা থাকতো না। একজন মধ্যবিত্ত বেকার কবির কি সাধ্য ছিল তোমার আজকের এই সুখ, এই ঐশ্বর্যের। সত্যি তাই অল্প বয়সের সেই দিনের কথা ভাবলে এখন কি হাসি পায়। অপরাজিতা অকপট স্বীকার করলো। এবার বলল বেকার কবির দুর্বল হাতে নতুন বিদেশি ঘড়ি একটুও মানাচ্ছে না। কী করবো বলো, কেউ দিলে তো আর না বলতে পারি না। এক বন্ধু দিয়েছিল। যেন বানরের গলায় মুক্তোর মালা হয়ে আছে, তাই না? বিজয়িনীর ভাবটা আবার ফিরিয়ে এনে বলল, তুমি নাকি আমার বিয়ের সময় কোথায় পালিয়ে গিয়েছিলে, কেন হতাশায় না বিরহে?

একজন ব্যর্থ প্রেমিকের স্বরে বলল, ঢাকা তখন অসহ্য হয়ে উঠেছিল আমার কাছে। তাই পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছি। পালিয়ে কি সত্যিই বেঁচেছো অরণ্য? একে কী বাঁচা বলে? অপরাজিতা তুমি আমাকে ছেড়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে কবিতাও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। চেষ্টা করলেও কলমের ডগায় কবিতা আর আসে না। আমি শেষ হয়ে গেছি। দশ বছরের ব্যবধানের তুলনায় দুই ঘণ্টার অবসর কিছুই না। এবার ভিজিটিং কার্ড বাড়িয়ে বলল, এটা আমার বরের কার্ড। আসছো তো তাহলে? কেন তোমার বরের ফার্মে প্রাক্তন প্রেমিককে চাকরি দেবে নাকি? বাইরের বৃষ্টি ধোয়া স্বচ্ছ আকাশের মতোই উদার হয়ে উঠলো অপরাজিতা। প্যাকেট গুছাতে গুছাতে বলল, তুমি যদি রাজি থাক তাহলে ওকে বলতে পারি। আমি বললে সে না করতে পারবে না। কার্ড বুক পকেটে রাখতে রাখতে গভীর দৃষ্টিতে একবার অপরাজিতাকে দেখে নিয়ে অরণ্য বলল, আমি জানি। বের হওয়ার পথে অরণ্য বলল, তোমার গাড়ি নেই! অপরাজিতা সামান্য অবাক হলো। ওর গাড়িটা নিয়ে ও বেরিয়েছে, আমারটা গ্যারেজে। তুমি আমাকে একটি ট্যাক্সি করে দাও। অনেকদিন বাদে আজকের সন্ধ্যেটা একটু অন্য রকম কাটলো। ধন্যবাদ জানিয়ে চলে গেল অপরাজিতা।

ট্যাক্সিতে উঠবার আগে অপরাজিতা ফিরে এসে বলল তোমার জন্য খুব খারাপ লাগে অরণ্য। জীবনটা এভাবে নষ্ট করলে। না পারলে কবি হতে, না হয়ে উঠলে কারও নির্ভরযোগ্য মনের মানুষ। পারলে বাসায় বেড়াতে এসো। এতোক্ষণ একজন নিঃস্ব হতাশ ব্যর্থ প্রেমিক কবির অবিকল প্রতিমূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল অরণ্য। আশে পাশে থেকে এক ঝাঁক তরুণ তরুণী দৌঁড়ে এসে বলল, আপনি কাব্য অরণ্য অটোগ্রাফ প্লিজ, এবার অপরাজিতার জন্য দুঃখ হলো অরণ্যর। মেয়েটি চিরদিন মিথ্যা অহংকারে সীমাবদ্ধ থেকে গেল। আভিজাত্য টাকা কি পেরেছে তাকে সুখি করতে? অসৎ টাকা পয়সা স্বচ্ছলতা দিতে পারে কিন্তু শান্তি দিতে পারে না। গুলশানের এই অট্টালিকায় সম্ভবত বাঙালি কবিদের প্রবেশ নিষেধ। তা নাহলে বর্তমান বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিবান, সার্থক কবি কাব্য অরণ্যকে তার না চেনার কথা নয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top