সিডনী সোমবার, ২১শে জুন ২০২১, ৬ই আষাঢ় ১৪২৮


মাদার্স ডে : অমিতাভ ভট্টাচার্য্য


প্রকাশিত:
১০ মে ২০২১ ১৬:৪৮

আপডেট:
২১ জুন ২০২১ ০৪:০৭

 

বার লাইব্রেরীর থেকে বেরিয়ে সোজা কোর্টের বাইরে এসে দাঁড়ায় সৌম্য।বইয়ের ব্যাগটা ফুটপাথের এক ধারে কাঁধ থেকে নামিয়ে রাখে। আজ বইয়ের ব্যাগটা বেশ  ভারী।দুটো মাত্র বই বিক্রি হয়েছে। পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে একটা সিগারেট ধরায়। প্যাকেটটা পকেটে ঢোকানোর সময় ননীকে দেখতে পায় সে। সাদা থান পরে, গায়ে উত্তরীয়। ওর এক হাতে কুশাসন আর আরেক হাতে ব্রীফকেস। ননী ওকে বলে, “সমু একটা সিগারেট খাওয়া তো”। সমু সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ননীর দিকে এগিয়ে দেয়। দেশলাই জ্বালিয়ে সিগারেটটা ধরিয়ে দিতে দিতে বলে, “তোর এই গুরুদশায় কোর্টে না আসলে চলছিল না?” ননী সিগারেটে টান দিতে দিতে বলে, “মক্কেলরা হাতছাড়া হয়ে গেলে খাবার জুটবে না। তাছাড়া মা’র শ্রাদ্ধটা তো করতে হবে ভালো করে।?” তারপর সৌম্যর ব্যাগের দিকে তাকিয়ে বলল, “কেমন সেল করলি আজ?” সৌম্য সিগারেটে শেষ টান দিতে দিতে বলে,“সারাদিনের বেচাকেনা, গুনে দেখি এক আনা”। ননী একটু হেসে সিগারেট টানতে টানতে বলল, “তোর কিন্তু আমাকে একটা ট্রীট দেওয়া উচিত ছিল; তোকে এতো খদ্দের জোগাড় করে দিলাম”। তারপর, “চলি রে,চেম্বারে যেতে হবে” বলে চলে গেল।    

ননীর ভাল নাম ইন্দ্রনীল; সৌম্যর ছোটবেলার বন্ধু। পেশায় উকিল। ওরা দুজনে পাশাপাশি বাড়িতে একসাথেই ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছে। একই স্কুলে এবং একই ক্লাসে পড়াশুনো  করেছে। ওরা আলাদা হয়ে গেছে কলেজে জীবন থেকে। ইন্দ্রনীল বি কম পাশ করে ল’তে ভর্তি হয়। সৌম্য ফিজিক্সে অনার্স নিয়ে বিএসসি পাশ করে, এমএসসিতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বি এড পড়তে যায়। স্কুল মাস্টারি করবে। তার সাথে চাকরির পরীক্ষাগুলো দিয়ে যাচ্ছিলো। বি এড পাশ করেও স্কুলে পড়ানোর সুযোগ পেল না। সরকারী চাকরীর পরীক্ষা দিতে দিতে এক সময় বয়স পেরিয়ে গেল। তখন সৌম্যর এক মাত্র ভরসা ছাত্র পড়ানো। পাড়াতে ভালো ছেলে বলে সুনাম থাকায় বেশ কয়েকজন ছাত্র পেয়ে গেল বাড়ী গিয়ে পড়ানোর জন্য। অঙ্ক আর বিজ্ঞানের বিষয়গুলো পড়ায়। পড়াতে ভালো লাগে সৌম্যর। ততদিনে ইন্দ্রনীল হাইকোর্টের দুঁদে উকিল বলে পরিচিত হয়ে গেছে ওদের এলাকায়।

রাতে পড়িয়ে বাড়ী ফিরে মা’র কাছে জানতে পারে ননীর দিদি, মানে মিতালী দি এসেছিল। ছোট ভাইয়ের এই গুরুদশায় হবিষ্যি দিতে।অনেকদিন বাদে মিতালী তার বাপের বাড়িতে এলো। বাড়ী ফেরার পথে সৌম্যর মায়ের সাথে দেখা করে গেল। বাবা মারা যাবার বছর খানেক  বাদে ননী বিয়ে করে। ননী বিয়ে করার আগেই ওর দাদা আলাদা হয়ে যায়।মাকে সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু মা ননীকে একা ফেলে রেখে বড় ছেলের কাছে যেতে চান নি। ননীর ওকালতিতে তখনও তেমন পসার হয়নি। বড় ছেলে প্রতিষ্ঠিত সরকারী চাকুরে। ননী বিয়ে করার কয়েক মাস পর থেকে ওর খুব নাম ডাক হল উকিল হিসেবে। ছেলের নাম ডাক হয়েছে শুনে মা খুব খুশী। ননীর বাবাও ওকালতি করতেন। কিন্তু তেমন নামডাক হয়নি। তবে ভাত-কাপড়েরও অভাব হয় নি। সংসার চালিয়ে মফঃস্বলে বাড়ী করেছেন, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন আর  মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বাড়ীতে মক্কেলদের তেমন আনাগোনা ছিল না, যা ননীর আমলে হয়েছে। ভাল লাগে প্রতিমার। এতদিন একজন সাধারণ উকিলের স্ত্রী হিসেবে ছিলেন।আজ একজন  উঠতি সফল উকিলের মা হয়ে বেশ ভাল লাগছে। বৌমা বেশ লক্ষ্মীমন্ত, তা না হলে কেন বিয়ের পর পরই ছেলের পসার বাড়তে শুরু করবে! প্রতিমা ছেলে আর ছেলের বৌ নিয়ে খুব  খুশী। বৌমার বান্ধবীরা মাঝে মাঝে বৌমার সাথে দেখা করতে আসে। প্রতিমা সবার জন্য চা বানিয়ে দিয়ে আসেন বৌমার হাতে।বৌমার বান্ধবীদের সাজগোজ আর কথাবার্তার ধরন প্রতিমার ভাল লাগে না। একদিন শুনতেও পান একটি মেয়ে বলছে,“কে রে বুড়িটা?” রাগ হয় বৌমার ওপরে,এই ধরনের মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য।সস্নেহ-বকা দেন বৌমাকে। তারপর থেকে ননীর মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করেন প্রতিমা। ছেলেকে রোজকার মত নিজের হাতে খাবার  বেড়ে দিতে গিয়ে দেখেন বৌমা খাবার নিয়ে টেবিলে বসে আছে। ননী বলল, “মা, তুমি ঘরে যাও, আমি খেয়ে নেবো”। প্রতিমা বাইরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। কিন্তু ননী প্রণাম না করে বেরিয়ে গেল।প্রতিমা মনে বড় কষ্ট পেলেন। ননী কোর্টে যাওয়া শুরু করার পর থেকে, বেরোনোর আগে মাকে প্রণাম করে বেরোত। কোনদিন বাদ যায়নি। একটু দেরী হলে রাস্তা থেকে চিৎকার করে   বলতো, “মা, তাড়াতাড়ি এসো, দেরী হয়ে যাচ্ছে”। এই প্রথম ননী মাকে প্রণাম না করে কাজে বেরোল। এই ঘটনার দু-এক দিন পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রতিমা। ননী বাড়ী ফিরে জানতে পারে তার মা অসুস্থ।দাদা আর দিদি কে ফোন করে খবর দেয়, “মা অসুস্থ।তোমাদেরও তো  একটা দায়িত্ব আছে মার প্রতি”। পরদিন সকালে দাদা এসে মাকে তার বাড়ীতে নিয়ে যায়।মিতালীও এসেছিল তখন মাকে দেখতে। তারপর এই এলো,ছোটভাইকে মায়ের জন্য গুরুদশায় হবিষ্যি দিতে।                           

ননী যখন প্রথম হাইকোর্টে যাতায়াত করছে, সেই রকম সময়ে একদিন পড়িয়ে বাড়ীতে ঢুকে সৌম্য মা-র কাছে জানতে পারল, ননী সন্ধ্যে বেলা একজন লোককে দিয়ে বলে পাঠিয়েছে, যত রাত্রিই হোক না কেন সৌম্য একবার যেন তার সাথে দেখা করে। লোক পাঠিয়েছিল শুনে সৌম্যর রাগ হয় ননীর ওপরে। ওর মধ্যে হাইকোর্টের উকিল বলে অহংকার এসে গেছে। দেখা  করবে না ঠিক করল; অন্তত: আজ তো যাবেই না দেখা করতে। সৌম্য ননীর সাথে দেখা করতে যায়নি দেখে, ওর মা ওকে বেশী রাত না করে তাড়াতাড়ি দেখা করে আসতে বললেন। সৌম্য   তার মাকে বলল, “মা, ননী নিজে আসতে পারল না? এত অহংকার? যাব না দেখা করতে। আমার  তো কোন দরকার নেই। ওর দরকার পড়লে ও নিজে আসবে”। ওর মা বললেন, “ওর অহংকার করা তোর ভাল লাগছে না। অথচ তুই নিজেও অহংকার করছিস। এরফলে দুজনের মুখ দেখা দেখি বন্ধ হবে।আর দেরী করিস না; রাত হয়ে যাচ্ছে। যা, তাড়াতাড়ি দেখা করে আয়”। অনিচ্ছা স্বত্বেও মার কথা রাখতে সৌম্য উঠে গেল ননীর সাথে দেখা করতে ননীদের বাড়ী। দরজা খুলল ননী নিজেই। “আয়, ভেতরে আয়” বলে দরজা বন্ধ করতে করতে ওকে বলল, “এই মাত্র মক্কেলরা সব গেল। ওকে নিয়ে নিজের অফিস ঘরে বসল। চেয়ারে বসে সৌম্য ননীর অফিস ঘরটা ভাল করে দেখল।অনেকদিন পর ওদের বাড়ীতে এসেছে। এই ঘরে প্রথম ঢুকল। সিলিং পর্যন্ত বইয়ের র‍্যাক। ঘরে জানলা আর দরজা বাদ দিলে বাকী দেওয়াল জুড়ে র‍্যাক। ননী নীরবতা ভেঙ্গে বলল, “ও সব  পরে দেখিস।এখন কাজের কথা শোন। তিন বছরের এলএলবি কোর্স টা বন্ধ হয়ে যাবে। আমার মনে হয় তুই এখনই ভর্তি হয়ে যা। তারপর আমিতো আছি।সকালে কলেজ। টিউশনির সময়টাকে অ্যাডজাস্ট করে নিস”। সৌম্য ল’তে ভর্তি হয়। এক বছর ক্লাস করে। তারপর পরীক্ষার দিন এলো। প্রথম দিন পরীক্ষার হলে খাতা আর প্রশ্নপত্র পাবার পর যে যার মত হই হই করে বই খাতা  দেখে উত্তর লিখতে শুরু করল। পরীক্ষার হলে এত হইচই দেখে সৌম্যর মাথা ঘুরতে থাকে। সে পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে আসে। আর পরীক্ষা দেয়নি। ননীকে জানায়ও নি।ওর এক ছাত্রের বাবা ওর এই পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে আসাটাকে খুব বাহবা দিলেন। দেশের আইনের ভবিষ্যৎ বাহক  যদি বই দেখে উত্তর লেখে, তাহলে আগামী দিনে আইনশৃঙ্খলার গতি-প্রকৃতি কেমন হবে তাই নিয়ে পনের মিনিটের একটা বক্তৃতাও দিলেন। সৌম্যকে মন দিয়ে ওনার কথা শুনতে দেখে উনি বললেন, “হাইকোর্টে কালো কোট পরে না ঢুকলেও, হাইকোর্টে যাওয়া আসার একটা বন্দোবস্ত আমি তোমাকে করে দিতে পারি। অবশ্য তুমি যদি সেই কাজ করতে রাজী থাক”। একজন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট হাইকোর্টে কি ধরনের কাজের বন্দোবস্ত করবেন, সৌম্য তা বুঝতে পারল না। তবুও সে রাজী হয়ে গেল। খুব একটা কঠিন কাজ নয়।আইনের বইপত্র দোকান থেকে নিয়ে হাইকোর্টের ল’ইয়ারদের কাছে বিক্রি করতে হবে। দোকানের নাম ঠিকানা লিখে সাথে একটা চিঠিও দিয়ে দিলেন। দোকান থেকে বই নিতে গেলে একটা টাকা জমা রাখতে হয়। ওর ছাত্রের বাবা চিঠি দিয়ে  সেই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন।

সৌম্য সেইদিন থেকে কাজে লেগে গেল। চার-পাঁচটা বই ব্যাগে করে নিয়ে হাইকোর্টের বার লাইব্রেরীতে ঢোকে। সামনে ওরই বয়সী কালো কোট পরা একটা  ছেলেকে কিছু কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতে দেখে, তার কাছে গিয়ে বলল, “স্যার, আপনি কি খুব ব্যস্ত এখন?” অল্প বয়সী উকিলবাবু কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতেই উত্তর দিলেন, “বলুন,  আপনার কি দরকার?” সৌম্য তার ব্যাগ থেকে সবকটা বই উকিলবাবুর সামনে মেলে ধরে  বলল, “বইপত্র তো আপনার লাগে।তাই বলছিলাম যদি আমার থেকে নেন”। উকিলবাবু পাঁচটার মধ্যে চারটে রেখে বললেন, “খাতা বের করুন”। সৌম্য খাতার ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে উকিলবাবুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। উকিলবাবু ওকে বলেন, “আমাদের অনেকেই বই দেয়। আমরাও নিই। কিন্তু দাম দিই মাসে মাসে। আপনার কোন ডাইরি বা খাতাতে আপনার বইয়ের দাম কত, আমি কত পেমেন্ট করলাম, আর কত বাকী থাকলো আমার হাতের লেখা ও আমার সই করা থাকবে”। সৌম্য মেনে নিয়ে বলল, “এখন কিছু দেবেন না?” উকিল বাবু ওনার ব্যাগ থেকে একটা পুরনো ডাইরি বের করে প্রথম দিকের দু-তিনটে পাতা ছিঁড়ে, তারপর একটা নতুন পাতায় এই বইয়ের হিসেব লিখতে লিখতে বললেন, “একেবারেই নতুন মনে হচ্ছে”। সৌম্য জানায় সে আজই প্রথম শুরু করেছে। কোনও পূঁজি নেই। ছাত্রের বাবার কথায় দোকানদার টাকা জমা না রেখেই বই দিয়েছে বিক্রি করার জন্য। বইয়ের হিসেব দোকানে দিতে এসে কিছুটা অস্বস্তি লাগছিল। দোকানের মালিক আশ্বস্ত করে, “এখানে পয়সা মার যাবে না। কিন্তু প্রথম দিনে এতগুলো বই কেউ বিক্রি করতে পারেনি”। বাড়ীতে ফিরে মা-কে বলে, “এখনো পর্যন্ত তোমার আশীর্বাদে সবকিছু ঠিক ঠাক  চলছে। কাল থেকে আমি কাজে বেরনোর সময় তুমি বাড়ীর গেটে এসে দাঁড়াবে; আমি ননীর মত তোমাকে প্রণাম করে বেরবো। আমার আরও উন্নতির দরকার। দেখছো না ননী কত উন্নতি করেছে?” সৌম্যর মা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, “সৎ ভাবে কাজ করো।মাতৃভক্তি কি দেখানোর জিনিষ?”

এরপর থেকে প্রত্যেকটা কাজের দিনে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে হাইকোর্টে যাওয়া শুরু করে দেয় সৌম্য। সকালে পড়িয়ে বাড়ী ফিরে তারপর স্নান খাওয়া করে বই নিয়ে বেরিয়ে যায় হাইকোর্টে। একদিন ননীর সাথে দেখা হয় বার লাইব্রেরীতে; ওদের থেকে সিনিয়র একজন উকিলের কাছে সৌম্য বই দেখাচ্ছিল তখন। ননীর হয়তো কোন কাজ ছিল সেখানে। ননী উকিলবাবুকে একটা সিগারেট দিয়ে কাজের কথা আলোচনা করে চলে যাবার সময় ওকে দেখা করে যেতে বলে  গেল। ননী সৌম্যকে ‘তুই’ করে বলল শুনে সিনিয়র উকিলবাবু সৌম্যর কাছে জানতে চাইলেন, “আপনি ওকে কি ভাবে চেনেন?” সৌম্য জানায়, “পাশাপাশি বাড়ী,ছোটবেলা থেকে একই সাথে বড় হয়েছি”। “তাহলে তো আপনি আরও ভালো চিনবেন ওকে”-বলে ডাইরিতে সই করে  ওর হাতে ডাইরিটা দিয়ে দিলেন। সৌম্য নিজের ব্যাগ গুছিয়ে চলে গেল।

প্রতিমার শ্রাদ্ধ আগামীকাল। বড় ছেলের কাছে এসে বছর তিনেক বেঁচে ছিলেন। বড়ছেলে তার মায়ের চিকিৎসার কোন ত্রুটি রাখেনি। কিন্তু সম্পূর্ণ সেরে ওঠা যাকে বলে, তা আর হয়নি। সকাল-সন্ধ্যে ননীর চিন্তায় মগ্ন থাকতেন প্রতিমা। বড়ছেলে অনেকবার বলেছে, “মা,  ননীকে খবর দিই, তোমার সাথে দেখা করে যাক?” প্রতিমা পাশ ফিরে শুতে শুতে বলতেন, “তুই  আলাদা হবার পর তোকে তো কোনদিন ডেকে পাঠাতে হয় নি। ওর যেদিন মনে হবে আসবে। ডাকতে হবে না”। জ্যেষ্ঠ পুত্র বলে ননীর দাদার একমাত্র অধিকার মাতৃশ্রাদ্ধ সম্পন্ন করার। কিন্তু ননী বলল, “তা হয় নাকি? আমারও তো মা”। একই বাড়ীতে দুইভাই আলাদা ভাবে  মায়ের শ্রাদ্ধ করবে, তা হয় না। আত্মীয় পরিজনরা এই রকম পরিস্থিতিতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। অস্বস্তিকর এই পরিস্থিতির সামাল দেন ননীর শ্বশুর মশাই। হাইকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট। তিনি ননীকে বলেন, “তুমি এই দিনটাকে ‘মাদার্স ডে’ হিসেবে পালন করো। বিদেশে মাকে,মা তৃত্বকে আর মায়ের সাথে সম্পর্কের নৈকট্যকে সম্মান জানাতে তারা ‘মাদার্স ডে’ পালন করে থাকে”। ননী পাশে বসে থাকা স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে জনান্তিকে “তাই হবে” বলে আসতে আসতে ঘরের বাইরে চলে যায়।     

       

অমিতাভ ভট্টাচার্য্য
কোলকাতা, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top