সিডনী মঙ্গলবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০২১, ২২শে অগ্রহায়ণ ১৪২৮


হারাম উপায়ে উপার্জনের পরিণতি : মোঃ শামছুল আলম


প্রকাশিত:
২৭ অক্টোবর ২০২১ ১৪:১৭

আপডেট:
৭ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:৫০

ছবিঃ মোঃ শামছুল আলম


রিজিক অন্বেষণ মহান আল্লাহ তায়ালার ঐশী নির্দেশ। স্বাভাবিকভাবেই তা করতে গিয়ে যেকোন বান্দা সবসময় দু’টি উপায়ের সম্মুখীন হয়ে থাকে। যার একটি হালাল ও অন্যটি হারাম। প্রথমটি উপার্জনীয় আর দ্বিতীয়টি বর্জনীয়। হালাল উপার্জন তালাশের নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ তায়ালা। তিনি ইরশাদ করেন-
“হে মানবজাতি! তোমরা পৃথিবী থেকে হালাল ও পবিত্র খাবার গ্রহণ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না” (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৬৮)।
সংগ্রামের এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য রিজিক তালাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই একে ফরজ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করে অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা-
“নামাজ শেষ করা মাত্র তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং
আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করবে” (সুরা: জুমা, আয়াত: ১০)।
তিনি আরো বলেন-
“আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য যেসব রিজিক হালাল করেছেন তা থেকে খাদ্য গ্রহণ কর” (সুরা: মায়েদা, আয়াত: ৮৮)।
রিজিক তালাশের উৎসাহ দিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-“নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ কখনো খায় না। আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম নিজ হাতেই উপার্জন করে খেতেন” (সহীহ বুখারী)।
ইসলাম পরিপূর্ণ এক জীবন ব্যবস্থার নাম। এতে মানব জীবনের ব্যক্তিগত পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের যাবতীয় বিষয়ের সমাধানে হিকমতপূর্ণ বিধানের বর্ণনা রয়েছে। এটি মানুষের জন্য যা কল্যাণকর ও হিতকর সে বিষয় বৈধ করত: সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং যাবতীয় অকল্যাণ ও ক্ষতিকর বিষয় হতে মানবজাতিকে সর্তক করেছে। অতএব, ইসলাম মানবজাতির জন্য কল্যাণের আঁধার হিসেবে শান্তির বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। মানবদেহের জীবনীশক্তি হিসেবে রক্তের যে গুরুত্ব রয়েছে, মানবজীবনে অর্থের গুরুত্ব ও
প্রয়োজনীয়তাও তেমনি তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে অর্থ মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এর জন্য প্রয়োজন মেধা, শ্রম ও সময়ের যথোপযুক্ত ব্যবহার। জীবন নির্বাহের এ মাধ্যমটিই পেশা হিসেবে পরিগণিত। মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নির্ধারিত ফরজ ইবাদত (যেমন নামায) সম্পন্ন করার পর জীবিকা অন্বেষনে জমীনে ছড়িয়ে পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব নিজেই জীবিকা অর্জনে ব্রতী হয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পরিশ্রম লব্দ উপার্জনকে সর্বোত্তম উপার্জন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে নিশ্চয় উপার্জনের পন্থা শরীয়াত নির্ধারিত পন্থায় হতে হবে।
এমন উপার্জনকে ইসলাম অবৈধ ঘোষনা করেছে, যাতে প্রতারনা, মিথ্যা, ধোঁকাবাজি, জনসাধারণের অকল্যাণ সর্বোপরি জুলুম রয়েছে। দুনিয়ার জীবনে অবৈধ পন্থায় উপার্জন করে সুখ-সাচ্ছন্দ লাভ করলেও পরকালীন জীবনে রয়েছে এর জন্য জবাবদিহিতা ও সুবিচার। সে লক্ষে ইসলাম হালাল উপার্জনের অপরিসীম গুরুত্ব প্রদান করেছে।
হালাল বলতে আমরা সাধারণত: যাবতীয় বৈধ পন্থাকেই বুঝি। যা কল্যানকর ও হিতকর এবং যাবতীয় অবৈধ ও অকল্যাণকর হতে মুক্ত। মহান আল্লাহ মানব জাতিকে উপার্জনের জন্যে উৎসাহ দিয়েই ক্ষান্ত হননি; বরং যাবতীয় বৈধ ও অবৈধ পন্থাও বাতলে দিয়েছেন। অতএব হালাল উপার্জন বলতে বুঝায় উপার্জনের ক্ষেত্রে বৈধ ও শরী‘আত সম্মত পন্থা অবলম্বন।
বৃদ্ধের ইবাদত সাধনা ও কান্না দেখে মূসা (আ.) এর খুব মায়া হল। তুর পাহাড়ে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওই বৃদ্ধের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে আল্লাহ জবাবে বললেন- ওই বৃদ্ধের কোন দোয়া ও ইবাদত কবুল হচ্ছে না, কারণ তার দেহে হারাম খাদ্যে সৃষ্ট গোশত বিদ্যমান ও তার পরনে হারাম উপার্জনের পোষাক। পরের সম্পদ অবৈধ ভক্ষণের মতো ফুফু, বোন, কন্যা বা অন্যান্য দুর্বল ওয়ারিশদের সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার পরিণাম সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেন-
‘যে ব্যক্তি কোনো ওয়ারিশকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে জান্নাতের উত্তরাধিকারী থেকে বঞ্চিত করবেন’ (ইবনে মাজাহ)।
হালাল রুজির বিষয়ে অতীতের মনীষীরা অনেক সতর্ক ছিলেন যা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। কথিত আছে আব্দুল কাদের জিলানী (র.)- এর পিতা ক্ষুধার জ্বালায় নদীতে ভাসমান একটি আপেল খেয়ে ফেলেন। পরে মালিকের খোঁজ করে দায়মুক্তি চাইলে মালিক ১২ বছর তার চাকর হিসেবে নিযুক্তির শর্ত দিলে তিনি তা মেনে নেন। কেননা দুনিয়ার ১২ বছর আখেরাতের তুলনায় খুব অল্প সময়।
ইমাম আবু হানিফা (র.) কাপড়ের ব্যবসা করতেন। একবার একটি বান্ডিলের কাপড়ের এক জায়গায় একটু ত্রুটি থাকায় তিনি কর্মচারীকে বললেন, ত্রুটি দেখিয়ে এর মূল্য কম নিও।
পাইকাররা এলে কর্মচারী তা ভুলে গিয়ে সব বান্ডিল একই দামে বিক্রি করে দিল। ইমাম আবু হানিফা বিষয়টি জেনে কর্মচারীকে বললেন, অন্যান্য বান্ডিলের টাকা এ বান্ডিলের
টাকাসহ একত্র করে ফেলেছ সুতরাং পুরো টাকাটি গ্রহণ করা ঠিক হবে না। এই বলে তিনি ওই সময়ের বিক্রির সব টাকা দান করে দিলেন।
আবু বকর (রা.) সারাদিন রোযা রেখে ইফতারের জন্য বসেছেন, এমন সময় তার চাকর একটু খাদ্য এনে ওনার
সামনে রাখলো, তিনি এক লোকমা খেয়ে চাকরকে জিজ্ঞাসা করলেন- এ খাদ্য কোথা থেকে এনেছ? সে বলল-
জাহেলিযুগে আমি গণকের কাজ করতাম, কিন্তু আমি গণনার নামে মানুষকে ফাঁকি দিতাম। ওই সময়ে একজন আমার নিকট বাকীতে ভাগ্য গণনা করেছিল। আজকে সে টাকা পরিশোধ করলে আমি তা দিয়ে খাদ্য কিনে আনলাম।
আবু বকর (রা.) তৎক্ষনাৎ উঠে গিয়ে গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু তার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, বমি হচ্ছিলনা। তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন- আপনার পেট খালি, আপনি পানি পান করুন তারপর বমির চেষ্টা করুন। আবু বকর (রা.) তা করে বমি করে ঐ খাদ্য ফেলে দিলেন। অতঃপর বললেন নবী (সা.) বলেছেন- হারাম খাদ্যে সৃষ্ট গোশত জান্নাতে যাবে না জাহান্নামই তার উত্তম ঠিকানা। আমি মরে গেলেও এ অবৈধ খাদ্য বমি করে বের করতাম।
বাগানের মালিক বাগানের কর্মচারীকে বাগান থেকে মিষ্টি দেখে কমলা আনতে বললে, সে কমলা নিয়ে এল। কিন্তু কমলাগুলো টক। মালিক জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, আমাকে বাগানের কাজে নিয়োগ করেছেন, খাওয়ার অনুমতি দেননি, তাই আমি কখনো খেয়ে দেখিনি, কি করে বুঝবো কোন গাছের কমলা মিষ্টি। নবী (স.) বলেছেন- বৈধ উপার্জনের সঙ্গে অবৈধ অল্প উপার্জনও যদি একত্র হয়, তখন পুরো উপার্জন অবৈধ বলে গণ্য হবে। যিনি যে বিভাগে কর্মরত তিনি যদি কর্মে ফাঁকি দেন, তবে তার বেতন বৈধ হবে না।
অনেকে মনে করেন আমার অল্প বেতন কাজ বেশি তাই অবৈধ আয়ের সুযোগ খোঁজেন। তিনি চাকুরি নেয়ার আগে কাজ ও বেতনের বিষয়টি জেনেই যোগদান করেছেন। তাই অবৈধ আয়ের কোন সুযোগ নেই। এমনকি সরকারি চাকুরিজীবিদের সম্মানী, উপহার ইত্যাদি গ্রহণ বৈধ নয়।
সুদ, ঘুষ, পরের সম্পদ আত্মসাৎ, খাদ্যে ভেজাল, চুরি-চিনতাই, কাজে ফাঁকি দেয়া, দায়িত্বে অবহেলা, মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি মানুষের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ এর পরিণতি যে মারাত্মক ভয়াবহ সম্পদের নেশায় সে কথাটি আমরা ভুলে যাচ্ছি। ক্ষনস্থায়ী দুনিয়া ছেড়ে আমাদেরকে অবশ্যই প্রস্থান করতে হবে। তখন সম্পদ আমার কোন কাজে আসবে না। ওয়ারিশরা সম্পদ ভাগ করে ভোগ করবে। অবৈধ সম্পদ গড়ে গেলে তার জন্য শাস্তি আমাকেই ভোগ করতে হবে, তাই আমরা সাবধান হই।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেই। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হলে তা ফেরত দেই। ব্যক্তিকে পাওয়া না গেলে তার নামে দান করে দেই। অফিস, আদালতে যার যার দায়িত্ব কোন ধরণের উৎকোচ গ্রহণ ব্যতিত সম্পন্ন করি। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কর্মস্থলে অবস্থান করি। আল্লাহর কাছে খাঁটিভাবে তওবা করি। তারপরেই আমাদের দোয়া ও ইবাদত কবুল হবে।
অবৈধ উপার্জনের ক্ষতিসমূহ:
অবৈধ উপার্জনের কারণে অনেক ক্ষতিরই সম্মুখীন হতে হয়। তার মধ্যে বড় কয়েকটি ক্ষতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
দোয়া কবুল হয় না:
যারা হারাম পন্থায় উপার্জন করে, মহান আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করেন না। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, দীর্ঘ সফরের ক্লান্তিতে যার মাথার চুল বিক্ষিপ্ত, অবিন্যস্ত ও সারা শরীর ধূলিমলিন। সে আকাশের দিকে
হাত তুলে বলে, হে আমার প্রভু! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য ও পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, তার জীবন-জীবিকাও হারাম। এমতাবস্থায় তার দোয়া
কিভাবে কবুল হতে পারে? (তিরমিজি, হাদিস: ২৯৮৯)
বরকত কমে যায়:
মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন আর দান-সদকা বাড়িয়ে দেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৬)। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদরা বলেন, ‘যে সম্পদের সঙ্গে সুদ মিশ্রিত হয়ে যায়, বেশির ভাগ সময় সেগুলো ধ্বংস হয়, অধিকন্তু আগে যা ছিল, তাও সঙ্গে নিয়ে যায়। সুদ ও জুয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়, অজস্র পুঁজির মালিক কোটিপতি দেখতে দেখতে দেউলিয়া ও ফকিরে পরিণত হয়। এভাবে হারাম উপার্জন মানুষের রিজিক কমিয়ে দেয়।
অনিবার্য ধ্বংস:
হারাম উপার্জন মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। মহান আল্লাহ হারাম উপার্জনকারীদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও—যদি তোমরা মুমিন হও। অতঃপর যদি তোমরা না করো, তাহলে আল্লাহ ও তার রাসূলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও...।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত ২৭৮-২৭৯)।
আল্লাহর অসন্তুষ্টি:
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য খরিদ করে, আখিরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। আর আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না কেয়ামতের দিন। আর তাদের পরিশুদ্ধও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৭৭)
রাসূল (সা.)-এর অভিশাপ:
যারা সুদভিত্তিক লেনদেনে লিপ্ত, রাসুল (সা.) তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। জাবের (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও তার সাক্ষীদ্বয়ের ওপর অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন এরা সবাই সমান অপরাধী। (মুসলিম, হাদিস: ৩৯৮৫) অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ঘুষদাতা ও গ্রহীতার ওপর আল্লাহর অভিশাপ। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩১৩)।
কবরের শাস্তি:
হারাম উপার্জন মানুষকে যেভাবে দুনিয়াতে শাস্তি দেয়, তেমনি কবরেও তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, আজ রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি, দুই ব্যক্তি আমার কাছে আগমন করে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌঁছলাম। নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যক্তি নদীর তীরে, তার সামনে
পাথর পড়ে রয়েছে। নদীর মাঝখানের লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায় তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথরখণ্ড নিক্ষেপ করে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যতবার
সে বেরিয়ে আসতে চায় ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে স্বস্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ ব্যক্তি কে? সে বলল, যাকে আপনি (রক্তের) নদীতে দেখেছেন, সে হলো সুদখোর। (বুখারি, হাদিস: ২০৮৫)।
আখিরাতের শাস্তি:
আখিরাতেও অবৈধ উপার্জনকারী কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। খাওলা আনসারিয়া (রা.) বলেন, ‘আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিছু লোক আল্লাহর দেওয়া সম্পদ
অন্যায়ভাবে ব্যয় করে, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত।’ (বুখারি, হাদিস : ৩১১৮)
দান-সদকা কবুল হয় না:
অনেকে মনে করে, হারাম পথে উপার্জন করে সেখান থেকে কিছু সদকা করে দিলে হয়তো শাস্তি কিছুটা হালকা হবে। অথবা আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু ব্যাপারটা এরকম নয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা পবিত্রতা ছাড়া কোনো সালাত কবুল করেন না এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সদকা গ্রহণ করেন না।’ (নাসায়ি, হাদিস: ১৩৯)
হালাল উপায়ে জীবিকা উপার্জনের ফলে সমাজ ব্যবস্থায় ধনী দরিদ্রের মাঝে সুষম ভারসাম্য ফিরে আসে; কৃষক দিন মজুর, ক্রেতা-বিক্রেতা, শ্রমিক-মালিক এবং অধস্তনদের সাথে উর্ধ্বতনদের সুদৃঢ় ও সংগতিপূণ সর্ম্পক তৈরী হয়। ফলে সকল শ্রেণীর নাগরিকই তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পায় এবং সমাজ সংসারে নেমে আসে শান্তির সুবাতাস।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বৈধ পথে উপার্জন করার তাওফিক দান করুন এবং হালাল উপার্জিত অর্থ তাঁর পথে ব্যয় করার তাওফিক দান করুন। জীবিকার উৎস হোক হালাল উপার্জন- এ প্রত্যাশা হোক সবার। আমিন।

 

মোঃ শামছুল আলম
লেখক ও গবেষক

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top