সিডনী বৃহঃস্পতিবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ১লা আশ্বিন ১৪২৮


সালাতুল হাজত ও দরূদ পাঠের মাধমে দুশ্চিন্তা দূর করার আমল


প্রকাশিত:
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০১:২১

আপডেট:
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৬:৪২

ফাইল ছবি

জীবনের চলতিপথে যেকোনো ধরনের দুশ্চিন্তা আসলে প্রথমেই মহান আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা চাই। তারপর নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা। অতঃপর অন্যান্য করণীয় পালন করা। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

দুশ্চিন্তা দূরীকরণ ও প্রয়োজন পূরণের জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার জন্য বিশেষ আমল হলো সালাতুল হাজত পড়া। সালাতুল হাজত বিশেষ কোনো নামাজ নয়। স্বাভাবিক নামাজের মতোই উত্তমভাবে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া। নামাজ শেষে আল্লাহ তায়ালার হামদ-সানা ও দরুদ পাঠ করে নিজের মনের কথা ব্যক্ত করে আল্লাহর নিকট দোয়া করা।

হজরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) যখন দুঃশ্চিন্তায় পড়তেন তখন নামাজে মগ্ন হতেন এবং এই দোয়া করতেন- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারিম, সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আরশিল আজিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, আসআলুকা মুজিবাতি রাহমাতিক; ওয়া আজা-ইমা মাগফিরাতিক, ওয়াল গানিমাতা মিন কুল্লি বিররিউ ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইসমিন, লা তাদাঅলি জাম্বান ইল্লা গাফারতাহু ওয়ালা হাম্মান ইল্লা ফাররাজতাহু ওয়ালা হা-জাতান হিয়া লাকা রিজান- ইল্লা কাজাইতাহা ইয়া আর হামার রাহিমীন’।

অর্থাৎ, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি অতি দয়ালু, সকল দোষ-ক্রটি থেকে পবিত্র তিনি, মহান আরশের প্রভু। সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি সারা জাহানের রব। আপনার কাছেই আমরা প্রার্থনা করি, আপনার রহমত আকর্ষণকারী সকল পূণ্যকর্মের উসিলায়, আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত আকর্ষণকারী সকল কাজের বরকত, সকল নেক কাজ সাফল্য লাভের এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে নিরাপত্তা লাভের। আমার কোনো গুনাহ যেন মাফ ছাড়া না থাকে। কোনো সমস্যা যেন সমাধান ছাড়া না রয়, আর আমার এমন প্রয়োজন যাতে রয়েছে আপনার সন্তুষ্টি তা যেন অপূরণ না থাকে, হে রহমন রাহিম; হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (ইবনে মাজা : ১৩৮৪; তিরমিজি : ৪৭৯)

সালাতুল হাজতের পাশাপাশি নবীজি (সা.) এর ওপর দরূদ শরীফও পাঠ করা চাই। হজরত উবাই ইবন কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি আপনার ওপর অধিক হারে দরূদ পাঠ করে থাকি। আমার সময়ের কতটুকু আপনার প্রতি দরূদ পাঠে ব্যয় করব? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। আমি বললাম, এক চতুর্থাংশ সময়? তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছা। কিন্তু যদি আরো বাড়াও তবে ভালো। আমি বললাম, অর্ধেক সময়? তিনি বললেন, তোমার যা ইচ্ছা; তবে আরো বৃদ্ধি করলে তা-ও ভালো। আমি বললাম, দুই তৃতীয়াংশ সময়? তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছা; তবে আরো বাড়ালে তাও ভালো। আমি বললাম, আমার সবটুকু সময় আপনার ওপর দরূদ পাঠে লাগাব? তিনি বললেন, তাহলে তো তোমার সব দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যাবে আর তোমার গুনাহ মাফ করা হবে।’ (তিরমিজি : ২৪৫৭)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি কেউ কখনো দুঃশ্চিন্তা বা বেদনায় আক্রান্ত হয়ে এভাবে বলে- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আবদুকা ওয়া ইবনু আবদিকা ওয়া ইবনু আমাতিকা, নাসিয়াতি বিয়াদিকা, মাজিন ফিইয়া হুকমুকা, আদলুন ফিইয়া কাজাউকা, আসআলুকা বিকুল্লি ইসমিন হুয়া লাকা সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা, আউ আল্লামতাহু আহাদান মিন খালকিকা, আউ আনযালতাহু ফি কিতাবিকা আউ ইসতাসারতা বিহি ফি ইলমিল গাইবি ইনদাকা আন তাজআলাল কুরআনা রাবিআ কালবি ওয়া নুরা সাদরি ওয়া জিলাআ হুজনি ওয়া যাহাবা হাম্মি’।

অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা, আপনার বান্দা ও বান্দির সন্তান। আমার ভাগ্য আপনার হাতে। আমার ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকর, আমার প্রতি আপনার ফয়সালা ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি সেই সমস্ত নামের প্রত্যেকটির বদৌলতে আপনার নিকট কাতর প্রার্থনা জানাই, যে নামগুলো আপনি নিজেই নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন অথবা নিজ কিতাবে নাজিল করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টিজীবের মধ্যে কাউকে শিখিয়ে দিয়েছেন অথবা স্বীয় ইলমের ভাণ্ডারে নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন, কোরআনকে আমার হৃদয়ের প্রশান্তি বানিয়ে দিন, আমার বক্ষের জ্যোতি বানিয়ে দিন, আমার দুঃশ্চিন্তাগুলোর অপসারণকারী বানিয়ে দিন এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিদূরণকারী বানিয়ে দিন’, তাহলে আল্লাহ তার দুঃশ্চিন্তা দূর করে দিবেন, কষ্ট অপসারণ করে দিবেন। এর বদলে প্রশান্তি আনয়ন করে দিবেন। জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কি দোয়াটি শিখে নিবো না? তিনি বললেন, অবশ্যই। যে ব্যক্তি দোয়াটি শুনেছে তার উচিত এটি শিখে নেয়া।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩৫২৮)

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top