সিডনী রবিবার, ৩রা মার্চ ২০২৪, ২০শে ফাল্গুন ১৪৩০


বাংলাদেশী বংশদ্ভূত নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ফরিদ আহমেদ পেলেন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড : মু: মাহবুবুর রহমান


প্রকাশিত:
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৩:১২

আপডেট:
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৪:০৭

ছবিঃ ফরিদ আহমেদ

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত দা সেক্রেটারি অফ স্টেট’স ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড (The Secretary of State’s International Religious Freedom Awards) ২০২৩ পেয়েছেন বাংলাদেশী বংশদ্ভূত নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ফরিদ আহমেদ। ১৮ই জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে. ব্লিঙ্কেনের উপস্থিতিতে ওয়াশিংটন ডি.সি তে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
৬২ বছর বয়স্ক ফরিদ আহমেদ সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, ২০১৯এর ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় স্ত্রীকে হারিয়েও ফরিদ আহমেদ ক্ষমা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ড ও বিশ্বজুড়ে। ফরিদ আহমেদ বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং তিনি লিখেছেন 'হুসনা'স স্টোরি - মাই ওয়াইফ, দা ক্রাইস্টচার্চ ম্যাসাকার এন্ড মাই জার্নি টু ফরগিভনেস' (Husna’s Story: My Wife, the Christchurch Massacre, and My Journey to Forgiveness) নামক একটি বই।

বইটিতে ফরিদ আহমেদ তার স্ত্রী হুসনা আহমেদের সেদিনের সাহসিকতা এবং কমিউনিটির প্রতি তার অবদান তুলে ধরেছেন। সেদিন হুসনা আহমেদের প্রচেষ্টা ছিল অত্যন্ত সাহসী এবং নিঃস্বার্থ। তিনি সেখানে থাকা অন্যান্য নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। এরপর তিনি হুইলচেয়ারে থাকা তার স্বামী ফরিদ আহমেদকে খুঁজতে যান, আর তখনি তিনি ঘাতকের গুলিতে নিহত হন।
সেদিনের হামলায় স্ত্রী মারা যাবার পরও হামলাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ফরিদ আহমেদ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিবৃতিতে আরো জানায়, ফরিদ আহমেদের কথা এবং ক্ষমার দর্শন বিশেষত সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া অন্যান্যদের সাথে অনুরণিত হয়েছে এবং তিনি শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ডেই নয়, বিদেশেও মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন।
ফরিদ আহমেদ ছাড়াও এবছর নাইজেরিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী কোলা আলাপিন্নি (Kola Alapinni), ইরাকের মানবাধিকার কর্মী মির্জা দিন্নাইয়ি (Mirza Dinnayi), পাকিস্তানের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কর্মী পিটার জ্যাকব (Peter Jacob), নিকারাগুয়ার আইনজীবী মার্থা প্যাট্রিসিয়া মলিনা মন্টিনেগ্রো (Martha Patricia Molina Montenegro), দক্ষিন আফ্রিকার জোহানেসবার্গ হলোকাস্ট অ্যান্ড জেনোসাইড সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা টালি নেটস (Tali Nates) এবং তিব্বতের মানবাধিকার কর্মী লাডন তেথঙ (Lhadon Tethong) এই পুরস্কার লাভ করেন।


মু: মাহবুবুর রহমান
নিউজিল্যান্ডের মেসি ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Developed with by
Top