সিডনী শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


চলে গেলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়


প্রকাশিত:
১৫ নভেম্বর ২০২০ ১৭:১৩

আপডেট:
১৫ নভেম্বর ২০২০ ১৭:১৩

 

প্রভাত ফেরী: মারা গেছেন উপমহাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ৮৬ বছরে শেষ হলো সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কর্মময় পথচলা। হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রবিবার ১২টা ১৫ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রবীণ এই মহাতারকা, অভিনেতা-নাট্যকার-বাচিকশিল্পী-কবি ও চিত্রকর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম।

গত শুক্রবার থেকে সৌমিত্রর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটতে থাকে। হৃদযন্ত্র আর কিডনির জটিলতা অনেকটা বেড়ে যায়। বেড়ে যায় ‘হার্ট রেট’। বাড়তে থাকে স্নায়বিক সমস্যাও। প্রবলভাবে ওঠানামা করতে থাকে অক্সিজেনের মাত্রা। শনিবার বিকেলে  চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, অলৌকিক কিছু না ঘটলে সৌমিত্রের সুস্থ হয়ে ওঠা অসম্ভব।

এর আগে বেল্ভিউ হাসপাতলের এক চিকিৎসক জানান, প্রবীণ অভিনেতার স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলেছে কভিড এনসেফেলোপ্যাথি। তার জেরে ‘সব চেষ্টা' ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। গত ৪০ দিন ধরে নিউরোলজি, নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, ক্রিটিকাল কেয়ার মেডিসিন, আইডি বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের একটি দল তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন। ওই চিকিৎসকের কথায়, ‘স্টেরয়েড, ইমিউনোগ্লোবুলিন (অ্যান্টিবডি), কার্ডিয়োলজি, অ্যান্টি-ভাইরাল থেরাপি, অনাক্রম্যতা - সব রকমের চেষ্টা করেছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দুঃখিত যে উনি সাড়া দিচ্ছেন না। আমরা শেষ চেষ্টা করছি। ওঁনার পরিবারও সেটা মেনে নিয়েছে। উনি প্রায় এমন জায়গায় আছেন, যেখান থেকে ফেরা কার্যত অসম্ভব।'

ভারতের বাংলা অভিনয় জগতের কিংবদন্তী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার শেখ হাসিনা এক শোকবার্তায় বলেন, প্রতিভাবান এই শিল্পীর মৃত্যুতে অভিনয় জগতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো। তিনি আরও বলেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

গত ৬ অক্টোবর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি হন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এরপর ১৪ অক্টোবর অভিনেতার কভিড-১৯ রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু কভিড এনসেফেলোপ্যাথির কারণে তাঁর স্নায়ুতে প্রভাব পড়ে। এর পর থেকেই প্রায় অচেতন তিনি। মাঝে কয়েক দিন চোখ মেলে সাড়া দিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ আবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top