সিডনী রবিবার, ৯ই মে ২০২১, ২৫শে বৈশাখ ১৪২৮


ভেস্তে গেছে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ দখল; মমতার হ্যাটট্রিক জয়


প্রকাশিত:
৩ মে ২০২১ ১২:৪৪

আপডেট:
৯ মে ২০২১ ০৪:২৯

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

 

প্রভাত ফেরী: ২০১১, ২০১৬ সালের পর ২০২১-এর নির্বাচনেও বিজয়ের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর ফলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ দখলের সব চেষ্টা ব্যর্থ এবারের মতো।
আট দফার ভোট শেষে রোববার সকাল থেকেই গণনা শুরু হয়। দুপুরের পর তৃণমূলের নিশ্চিত বিজয়ের খবর আসতে থাকে। এ ধরনের খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে দলের অফিস ও আশপাশের সড়কে শুরু হয় আনন্দ উৎসব। এ সময় সীমিত আকারে রংও মাখানো হয়।
কোভিডের কারণে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা ও তার মন্ত্রিসভা ছোট আকারে শপথ নেবে। নন্দীগ্রামে হেরে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী হতে বাধা নেই মমতা ব্যানার্জির। দেশটির সংবিধানেই তা স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার ১৮০ দিনের মধ্যে তাকে কোনো একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে। এক্ষেত্রে বাকি দুটি আসনের একটি থেকে তিনি ভোট করতে পারবেন।
এর আগে রাজ্যজুড়ে ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ভোট হয়। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় এবার ভোট হয়েছে ২৯২টিতে। বাকি আছে দুটি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। সেখানে তৃণমূল ২১৩ আসনে জয় পেয়েছে, এগিয়ে আছে আরও ৪টিতে।
প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে আসন দুটিতে ভোট স্থগিত রয়েছে। বিজয় সমাবেশ হবে ব্রিগেডে, তবে এখনই নয় কোভিড কমলে।
এদিকে তৃণমূলের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামসহ অনেকেই মমতা ব্যানার্জিকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজ্য থেকে নানা দল ও জোট নেতারা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির আসন নন্দীগ্রামের ভোটগণনা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। এখানে একবার বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী এগিয়ে যান, এরপর আবার বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে যান মমতা। বেশ কয়েক বার এভাবেই চলতে থাকে।
একপর্যায়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপর খবর আসে, না জয় লাভ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে শেষ পর্যন্ত এ আসনে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
এছাড়া রোববার পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি কেরল, পদুচেরী, অসম এবং তামিলনাড়ুতে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে কেরলে বাম, অসমে বিজেপি এবং তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবং পদুচেরীতে এনডিএ বিজয়ী হয়েছে।
এবারের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছিল বিজেপি। বিজেপির লক্ষ্য ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় নিশ্চিত করা।
বিজেপির হয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ১৮টি এবং অমিত শাহ ২৯টি জনসভা করে গিয়েছেন। চার্টার্ড বিমানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অমিত শাহ, রাজনাথ, যোগী আদিত্যনাথরা দিল্লি-কলকাতা ডেলি প্যাসেঞ্জারি করছিলেন।
প্রচারে নেমে বাংলাদেশকেও নানা ইস্যুতে টার্গেট করেছিল বিজেপি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা। গুজরাটের মতো সুশাসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু ভোটে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মোদি-শাহর স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছেন।
তারা ফের তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতাকে হ্যাটট্রিক করিয়ে দিয়েছেন। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় এবার ভোটে মমতা একাই ২১৩ আসন পেলেন। রাত ৯টা পর্যন্ত ২১৩টি আসনে তৃণমূলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, ৪টিতে এগিয়ে রয়েছে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top