সিডনী রবিবার, ৩১শে মে ২০২০, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেকড় : ইসহাক খান


প্রকাশিত:
২০ মে ২০২০ ১৬:১৩

আপডেট:
২১ মে ২০২০ ১৫:০৪

ইসহাক খান

 

আয়েশ করে পান চিবুতে চিবুতে রিভলবিং চেয়ারে গা এলিয়ে দিলেন কুতুবুদ্দিন। কিছুদিন আগেও পান মুখে দিলে সঙ্গে-সঙ্গে সিগারেটের আসক্তি হতো। পানের সঙ্গে সিগারেটের একটা সম্পর্ক আছে। যারা এই নেশায় অভ্যস্ত তারা এর মর্ম বুঝবেন। এখন নানা কারণে কুতুবুদ্দিনের জীবন থেকে সে পাট চুকে গেছে। অফিসে নতুন নিয়ম হয়েছে। ধূমপান নিষেধ। কুতুবুদ্দিন নিজেও সিগারেট ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। একমাত্র মেয়ে সীমা সিগারেটের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। বমির উদ্রেক হয়। সীমা তার অতি আদরের মেয়ে। মেয়েটা তার অস্তর জুড়ে আলোকিত করে রেখেছে। সবদিকে সে চৌকষ। যেমন মেধাবী তেমনি গুণ। দেখতেও সুন্দর। এককথায় সোনায় সোহাগা। সেই মেয়ে গো ধরেছে। বাবা সিগারেট না ছাড়লে সে বাবার সাথে কথা বলবে না। কুতুবুদ্দিনের স্ত্রী জাহেদা বেগম সুযোগ পেয়ে কুট-কুট করে হাসে। বলে, ‘এতদিন আমি বলেছি। কথা কানে তোলনি। এখন মেয়ে পিছু লেগেছে। অমনি সব ছেড়ে-ছুঁড়ে ভাল মানুষ সেজে বসেছ। দেখি, ওই ছাইপাস কিভাবে না ছাড়ো?’
কুতুবুদ্দিনের সিগারেট না ছেড়ে উপায় ছিল না। একমাত্র মেয়ে বলে কথা। সেই আদরের ধন যদি তার সাথে কথা না বলে কুতুবুদ্দিনের গোটা পৃথিবী ধুম করে অন্ধকার হয়ে যাবে। তা’হলে তার বেঁচে থাকাটা হবে অর্থহীন। অগত্যা কুতুবুদ্দিনের দীর্ঘদিনের নেশা ত্যাগ করতে হলো।
এখনও পান চিবুতে গেলে নেশাটা আবার উঁকিঝুঁকি দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু কুতুবুদ্দিন পাত্তা না দিয়ে কাজে মন দেয়ার চেষ্টা করে। সেখানেও আগের মতো মন বসতে চায় না। তার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। আর মাত্র দু’মাস চাকরি আছে। তারপর অবসর। ভাবলেই কুতুবুদ্দিনের মনটা মোচড় দিয়ে ওঠে। গা ঘেমে যায়। চাকরি ছেড়ে থাকবেন কিভাবে? টাকা-পয়সা ব্যাপার না। সময় কাটানো নিয়ে তার বেশি ভাবনা। টাকা পয়সা যা কামিয়েছেন তাতে একজীবন হেসে খেলে চলে যাবে। ঢাকা শহরে দু দু’টো পাঁচতলা বাড়ি। ব্যাংকে যা আছে তার ইন্টারেস্টে দিয়ে একজীবন পার করতে পারবেন। তার উপর বাড়ি ভাড়াতো আছেই। ঢাকা শহরে বাড়ি মানে দুধালু গাভী। বছর গেলেই ভাড়া বাড়ে। এ সবই হয়েছে অফিস গুণে। অফিস তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। বলা যায় দু’হাত ভরে দিয়েছে। কুতুবুুদ্দিন নিয়েছেও কোচর ভরে। এসব নিয়ে তার কোন বাচ-বিচার ছিল না। টাকা হলো লক্ষ্মি। সেই লক্ষ্মি কেউ দিতে চাইলে সেটা বৈধ কিংবা অবৈধ তা নিয়ে তিনি ভাবতেন না।
কুতুবুদ্দিন চেয়ারে হেলান দিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতেই পিয়ন এসে বললো, ‘একজন যুবক আপনার সাথে দেখা করতে আইছে।’
‘পাঠিয়ে দাও’। বলে ভাবনায় পড়লেন কুতুবুদ্দিন। কে এই যুবক? কি চায়? মক্কেল হলে ভাল। না হলে......ভাবনার মাঝখানে যুবক ঢুকে সালাম দিয়ে কাচমাচু ভঙ্গিতে দাঁড়ায়। যুবকের দিকে তাকিয়ে কুতুবুদ্দিন চমকে ওঠেন। অবিকল তার মতো চেহারা। তারমতো তিরতিরে খাড়া নাক। জোড়া ভ্রু। থুতনিতে তিলটাও তার মতো। কুতুবুদ্দিন ভেতরে-ভেতরে ধাতস্থ হতে চেষ্টা করেন। টেবিলে ঢেকে রাখা পানির গ্লাস নিয়ে পানি খান। ইশারায় যুবককে বসতে বলেন।
বলেন, ‘আমার কাছে কি কাজ?’ কুতুবুদ্দিন খুসখুসে কেশে প্রশ্নটি করেন।
যুবক ধীরস্থির ভাবে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে। বলে, ‘এমনি এসেছি। বলতে পারেন আপনাকে দেখতে।’ যুবকের রহস্যমাখা কথায় কুতুবুদ্দিন আরো অস্বস্তিতে পড়েন। তার ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়। তুই কেরে ব্যাটা, আমাকে দেখার এত শখ? দুদকের লোক নাকি? নাকি কোন সাংবাদিক? সঙ্গে গোপন ক্যামেরা নেইতো? ভেতরে ভেতরে কুতুবুদ্দিন ঘামতে থাকেন। ব্যাংকের হিসাব চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারবেন না। তার সমস্ত আয় অবৈধ পথে। কুতুবুদ্দিন চিন্তিত মুখে যুবকের দিকে তাকিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কে? কোথ্বেকে এসেছেন? আমার কাছে আপনার কি কাজ?’ একনাগাড়ে কয়েকটি প্রশ্ন করে কুতুবুদ্দিন যুবকের প্রতিক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করেন।
যুবক বলে, ‘আমাকে আপনি চিনবেন না।’
‘পরিচয় দেও। পরিচয় না দিলে চিনবো কিভাবে?’ কুতুবুদ্দিন ধৈর্য হারিয়ে ফেললেন। ঝুপ করে আপনি থেকে তুমিতে নেমে গেলেন। পরক্ষণে নিজকে শুধরে নিয়ে সরি বললেন, ‘তুমি করে বলে ফেলেছি। কিছু মনে.......’
যুবক হেসে বললো, ‘ইটস অল রাইট। সরি বলার কিছু নেই। আমিতো আপনার ছেলের মতো।’
কুতুবুদ্দিন দীর্ঘশ্বাস গোপন করে সহজ হয়ে বসে। যুবকের দিকে পলকহীন তাকিয়ে থাকে। ‘আমিতো আপনার ছেলের মতো’। যুবকের কথাটা তাকে বিধ্বস্ত করে ফেললো। একটা পুত্র সন্তানের জন্য বড়ই উতলা ছিলেন তিনি। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা তার চাওয়া পূরণ করেননি। সীমার জন্মের সময়ই স্ত্রী জাহেদার অসুখটা ধরা পড়ে। তার জরায়ু কেটে ফেলতে হয়। জাহেদা আর মা হতে পারবে না। নিজেকে তিনি কি সান্ত¡না দেবেন। স্ত্রীকে সান্ত¡না দিতেই তার জেরবার অবস্থা। একটা ছেলে থাকলে তার বংশ রক্ষা হতো। তার এত-এত সম্পদ কে ভোগ করবে?
‘চুপ করে আছ কেন? পরিচয় বলো? আমার কাছে তোমার কি কাজ?’ তাড়া দিয়ে উঠলেন কুতুনুদ্দিন।
যুবক বলে, ‘আমি একটা তথ্য জানতে এসেছি।’
‘কি তথ্য?’ কুতুবুদ্দিনের মনে আবার অস্থিরতা শুরু হয়। ছেলেটা রহস্য ছাড়ছে না। আসলে ও কে? কি চায়? আজকাল কতরকম প্রতারক ঘুরছে। ওর মনে কি আছে। কে জানে।
যুবক বলে, ‘আপনি সোনাতলি গ্রাম চেনেন?’ কুতুবুদ্দিন উচ্ছ্বসিত ভঙ্গিতে বলেন, ‘চিনি না মানে। খুব ভাল চিনি। সোনাতলি আমার মামার বাড়ি। ছোটবেলায় কত গেছি। নদীতে সাঁতার কেটেছি। মাছ ধরেছি। নদীর কি অবস্থা এখন? আগের মতো আছে? নাকি শুকিয়ে গেছে?’
‘শুকিয়ে গেছে। হেঁটে পার হওয়া যায়।’ যুবক বলে।
‘বলো কি!’ কুতুবুদ্দিন নিরবে শ্বাস ফেললেন। বলেন, ‘কত স্মৃতি ওই ‘হুরা সাগর’ নদী নিয়ে। সে সব স্মৃতি মনে হলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। সে যাক। কেন এসেছ, তাই বলো?’
যুবক মনে মনে বলে। আমি একটা ডায়েরী পড়েছি। সেই ডায়েরীতে আপনার নাম আছে। ডায়েরী বলতে আমরা যা বুঝি। সেটা ঠিক তা নয়। একটি বাঁধানো খাতায় কিছু কথা লেখা। মোমেনা নামের একটি মেয়ে কথাগুলো লিখেছে। যুবক সে কথায় না গিয়ে বলে, ‘সোনাতলির মানুষের মুখে আপনার অনেক নাম শুনেছি।’
‘তাতো বুঝলাম। কিন্তু কি শুনেছ? সেটা বলবা না?’
‘সবাই বলে, আপনি খুব ভাল মানুষ।’
‘আর কি বলে?’ কুতুবুদ্দিনের ভেতরে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
‘তারা বলে, মোমেনা মেয়েটা খামখা তার নামে মিথ্যে অভিযোগ করেছে। সব মিথ্যা।’
‘মোমেনা’ নামটা শুনে ভেতরে ভেতরে চমকে উঠলেন কুতুবুদ্দিন। কিন্তু নিজের অস্থিরতা যুবককে বুঝতে দিলেন না। মোমেনা নামটি তাকে ভীষণ স্মৃতিকাতর করে তুললো। প্রায় ত্রিশ বছর আগের কথা। অথচ মনে হয় সেদিনের কথা। সবই স্পষ্ট মনে আছে। নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে সিনেমার ফ্লাশব্যাকের মতো একে একে সব ছবি মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। কুতুবুদ্দিনের মামারা অবস্থাপন্ন। সেই বাড়ির পাশে গরীব এক কৃষকের মেয়ে মোমেনা। খুবই সাধারণ একটি মেয়ে। লেখাপড়া তেমন জানে না। ফাইভ ক্লাস পর্যন্ত পড়েছে। সাধারণ মেয়েটির অসাধারণ চেহারা। তার পটলচেরা চোখজোড়ায় ভালবাসার অথৈ জলরাশি। কুতুবুদ্দিন নিজেকে সামাল দিতে পারেননি। ঘুর-ঘুর করতে থাকেন মোমেনার পেছনে। একা পেলেই তাকে ভালবাসার কথা বলেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। গ্রামের সহজ সরল মেয়ে মোমেনা। সে এমন লোভনীয় প্রলোভনে নিজেকে জড়সড় রাখতে পারে না। মেলে ধরে নিজেকে। ভালবাসায় ডুবে যায় দু’জন। অবাধ মেলামেশায় মোমেনা গর্ভবতি হয়। মূল খেলাটা শুরু হয় তখনই। কুতুবুদ্দিন নিজেকে ধোয়াতুলশি বলে পালিয়ে শহরে চলে আসে। কালবৈশাখী ঝড় নেমে আসে মোমেনার জীবনে। গ্রাম্য সালিশে মোমেনাদের পরিবারকে একঘরে করা হয়। একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেয় মোমেনা। কিন্তু সে সন্তানকে কেউ ছোঁয় না। কোলে নেয় না। আদর করে না। জারজ বলে নাক সিঁটকাতে থাকে। মোমেনা লজ্জায়-অভিমানে বিষপানে আত্মহত্যা করে। সন্তানটি অনাদরে অবহেলায় বড় হতে থাকে। লোকমুখে এসব কথা শুনেছিলেন কুতুবুদ্দিন। কিন্তু তখন তার এসব নিয়ে ভাবার সময় ছিল না।
কুতুবুদ্দিন ভেবে দম নিয়ে বলেন, ‘কি অভিযোগ করেছে মোমেনা? আমিতো এই নামে কাউকে ঠিক মনে করতে পারছি না। দেখলে হয়তো চিনতে পারতাম।’
যুবক বলে, ‘তাকে দেখার কোন সুযোগ নেই।’
‘কেন?’
‘সে এই পৃথিবীতে নেই। না ফেরার দেশে চলে গেছে।’
‘কিভাবে মারা গেল?’ শীতল কন্ঠে প্রশ্ন করেন কুতুবুদ্দিন।
যুবক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, ‘আত্মহত্যা করেছে।’
‘কেন?’
যুবক বলে, ‘সেটা জানতেই আমি আপনার কাছে এসেছি।’
কুতুবুদ্দিন অবাক হওয়ার ভান করে বলেন, ‘আমার কাছে কেন? তার আত্মহত্যার সাথে আমার কি সম্পর্ক? সে কথা আমি কি করে বলবো? আমিতো তাকে মনেই করতে পারছি না।’
যুবক বলে, ‘তা’হলে কি আর করা। আমি তা’হলে উঠি। যুবক উঠে দাঁড়ালে কুতুবুদ্দিন শূন্যতা অনুভব করতে থাকেন। এমন কেন হচ্ছে। যুবকের উপস্থিতি এখন আর তাকে বিরক্ত করছে না। কোন দর্শনার্থীকে এতটা সময় তিনি দেন না। কিন্তু কুতুবুদ্দিনের ভেতরটা অতীতের জালে আটকে গেছে।
‘উঠবে? তুমি না বলেছিলে তুমি কি যেন জানতে এসেছ?’
যুবক বলে, ‘এইতো। এটাই। যেহেতু আপনি তাকে চিনতেই পারছেন না। তা’হলে আমি হয়তো ভুল জায়গায় এসেছি। তবে মোমেনা বলেছে, আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম। সে আকাশ-বাতাস সাক্ষি রেখে আমাকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু ভালবাসার নামে......’
‘ভালবাসার নামে কি? তারপর বলো?’ কুতুবুদ্দিন অস্থির হয়ে ওঠেন।
যুবক বলে, ‘আপনার এতটা অস্থির হওয়ার কিছু নেই। আপনিতো তাকে চিনতেই পারছেন না।’
‘তুমি এত কথা জানলে কি করে?’
যুবক বলে, ‘আপনাকে বললাম না। লোকমুখে শুনেছি।’
‘এ সব কথাতো লোক জানাজানি হওয়ার কথা নয়। গোপন কথা। শুধু আমরাই জানি।’
কুতুবুদ্দিনের মুখে ‘শুধু আমরাই জানি’ কথাটি শুনে যুবক নিরবে হাসে। বলে, ‘আরও একজন জানে।’
‘কে?’
যুবক বলে, ‘মোমেনার অবৈধ ছেলে।’
‘সে কিভাবে জানে?’ অবাক কন্ঠে প্রশ্ন করেন কুতুবুদ্দিন।
যুবক বলে, ‘সে নাকি মোমেনার ডায়েরী পড়েছে।’ কুতুবুদ্দিন হতভম্ব মুখে তাকান। মোমেনা ডায়েরী লিখেছে! ডায়েরীতে আর কি-কি লিখেছে? কুতুবুদ্দিন মনে মনে বলে। হঠাৎ যুবকের দিকে তাকিয়ে ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে বললেন, ‘এবার তোমার আসল পরিচয় বলো? কে তুমি?’
‘আমি আসলে কেউ না। আমি সোনাতলি গ্রামের একজন সাধারণ যুবক। মোমেনার ছেলের বন্ধু। আমি আসি।’ যুবক চলে যেতে উদ্যত হয়। কুতুবুদ্দিন তাকে থামিয়ে বলেন, ‘না। তুমি যাবে না। তোমার আসল পরিচয় না জেনে আমি তোমাকে ছাড়ছি না।’
‘বললামতো দেবার মতো আমার কোন পরিচয় নেই। আমি মোমেনার ছেলের বন্ধু।’
‘তোমার নাম নেই? ঠিকানা। পিতৃ পরিচয়?’
যুবক নিঃশব্দে মাথা নাড়ে। বলে, ‘না। এতদিন পর্যন্ত পিতৃপরিচয় ছিল না। এইমাত্র জানলাম, পিতৃ পরিচয় আছে।’
কুতুবুদ্দিন রাগতঃ জিজ্ঞেস করেন, ‘কি ভাবে জানলে?’
যুবক গম্ভীর মুখে বলে, এইতো আপনি বললেন, আপনাদের গোপন কথা আর কারো জানার কথা না। সমাজ-সংসার আমাকে স্বীকৃতি না দিলেও আমার আত্মদহনের কিছু নেই। কারণ আমার জন্ম বৈধ। বৈধ পিতা আছে আমার।’ অতঃপর যুবকটি ব্যাগ থেকে একটি বাঁধানো খাতা বের করে টেবিলে রাখে। কুতুবুদ্দিন বিস্ময়ে জানতে চান, ‘কি এটা?’ যুবক বলে। আমার অস্তিত্ব। আমার শেকড়। এতদিন এই শেকড়ের অস্তিত্ব ছিল না। আজ আমি সেই শেকড়ের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি। এখন এই ভাসমান শেকড় আর আমার বয়ে বেড়ানোর দরকার নেই। এবার আপনার পালা। যুবক তারপর বেরিয়ে যায়। কুতুবুদ্দিন হতভম্ব মুখে যুবকের শেষ কথাটির মানে খুঁজতে থাকেন।*

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top