সিডনী শনিবার, ৩১শে অক্টোবর ২০২০, ১৫ই কার্তিক ১৪২৭

মহিষাসুরের হাসি (রম্য গল্প) : তন্ময় চট্টোপাধ্যায়


প্রকাশিত:
১২ অক্টোবর ২০২০ ১৭:০৬

আপডেট:
৩১ অক্টোবর ২০২০ ০৩:৫৬

 

প্রসন্ন ঠাকুরের মগজের মধ্যে নির্ঘাত একটা ভুলভুলাইয়া আছে। রাতে দেখা স্বপ্নেরা সে ভুলভুলাইয়ায় এমনভাবে সেদিয়ে যায় যে সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে হাজার চেষ্টাতেও তাঁর স্বপ্নের টিকিটুকুও ছুঁতে পারেন না ঠাকুরমশাই। কিন্তু মজার বিষয় হল স্বপ্নেরা হারিয়েও যায় না। বেলা দুপুরে খাওয়া সেরে ঠাকুরমশাই যখন মৌজ করে তাঁর সিগারেটটা ধরান, ঠিক তখনি ঘটে আসল ম্যাজিকটা। মাথায় লুকিয়ে থাকা স্বপ্নের ফাইল ধোঁয়ার ছোঁয়ায় আপনা আপনি ডাউনলোড হয়ে যায় মগজে। আর তখন বেশ তারিয়ে তারিয়ে স্বপ্নটা উপভোগ করেন প্রসন্ন ঠাকুরমশাই।

ঘড়িতে এখন বেলা একটা। আজ চতুর্থী। দুর্গা পুজোর আর মোটে এক দিন বাকী। প্রসন্ন ঠাকুরমশাই খাওয়া দাওয়া সারছেন। অন্য দিনের তুলনায় একটু তাড়াতাড়িই সারছেন। কারন খাওয়ার পরেই গত রাতের স্বপ্নের নাগাল পাবেন তিনি।    রাতের স্বপ্নে মহিষাসুর এসেছিলেন তা তাঁর মনে আছে, তবে এই শুভ দিনে সে ভিলেন কেনই বা এলেন? তারপর মনে ভাসছে তাঁর সেই মুচকি হাসির রহস্য। সব মিলিয়ে প্রসন্ন ঠাকুরের মনে বেশ একটা খিদে। ঠাকুরমশাইয়ের খাওয়া দাওয়ার ফাঁকে স্বপ্নের প্রস্তাবনাটা বরং সেরে ফেলা যাক।

প্রতি বছরের মত এ বছরও নবোদয় সঙ্ঘের পুজোর দায়িত্বে আছেন প্রসন্ন ঠাকুরমশাই। মফস্বলের পুজো। অবস্থানে মাঝারির এক ধাপ ওপরে। গতকাল বৃষ্টিভেজা দুপুরে কুমোরঠুলি থেকে পলিথিন মোড়া মা সপরিবারে এসে উঠেছেন প্যান্ডেলে। সাজসজ্জায় এলোমেলো ভাব। মা এর কিছু অস্ত্র হস্তচ্যুত। হেলে রয়েছে গণেশের মুকুট। সিংহের এলোমেলো কেশর দেখে মনে হচ্ছে সদ্য ম্যারাথন শেষ করেছে। সরস্বতীর সাদা শাড়ীতে হাল্কা কাদার ছোপ। কার্তিকের সাধের এলভিস কাটিং চুল জল খেয়ে প্রায় ইঞ্চি তিনেক বসে গেছে।

দেখেশুনে চিন্তায় পড়লেন ভুতোবাবু মানে ক্লাব সেক্রেটারি ভূতনাথ মিত্তির। পরের দিন সকালে প্রতিমা উদ্বোধন। অনেক সাধ্যসাধনায় মাঝারি গোছের এক নেতাকে মিনিট দশেকের জন্য পাওয়া গেছে। তিনি আসবেন ডট আটটায়।  ভুতোবাবু থিম বিশেষজ্ঞ। মায়ের সাজসজ্জা নিয়ে তার তেমন ফান্ডা নেই। তার ওপর বাসি কাপড়ে প্রতিমায় হাত লাগাতে সাহসেও কুলোচ্ছে না তার। প্যান্ডেলের কাজ আর চিন্তার ঠ্যালায় দিন তিনেক স্নান পর্যন্ত হয়নি তাঁর। অগত্যা তিনি মোবাইলে ধরলেন  প্রসন্ন ঠাকুরকে। বললেন, "প্রতিমা এসে গেছে ঠাকুর মশাই। প্যান্ডেলে সেটিং চলছে। আপনি চট করে এসে এদিকটা একটু দেখেশুনে নিন। আপনাকে অ্যাসিস্ট করবে রঘু আর পিন্টু।"

 

প্রসন্ন ঠাকুর ভাত খাওয়া কাপড়ে গঙ্গা জলের ছিটে মেরে হন্তদন্ত হয়ে চলে এলেন প্যান্ডেলে। তাঁর নির্দেশে মা এর ডানে বাঁয়ে ছেলেপুলেদের ঠিকঠাক জায়গা দেওয়া হল। মা এর মাথার ওপর সেটিং করা হল শিবঠাকুরকে। শাড়ী, কেশর, চুলের মেরামতি হল। সবশেষে ঠাকুরমশাইয়ের চোখ পড়ল মা এর হাতের ত্রিশূলটার ওপর। প্রসন্ন ঠাকুর দেখলেন, ত্রিশূলের ফলা মহিষাসুরের বুক ছেড়ে পা এর কাছে নেমে এসেছে। আলতো করে ত্রিশূলের ফলাটা ধরে তিনি তুলে দিলেন মহিষাসুরের বুকের লালরঙা ক্ষতচিহ্নের ওপর। ত্রিশূল ছেড়ে তাকিয়ে আছেন প্রতিমার দিকে, আর ঠিক তখনি ঘটল ঘটনাটা।

প্রসন্ন ঠাকুর দেখলেন যে মহিষাসুর হাসছেন। প্রথম বারে ঠিকঠাক বিশ্বাস হল না ঠাকুরমশাইয়ের। দুহাতে চোখ কচলে তাই আবার দেখলেন প্রসন্ন ঠাকুর। হ্যাঁ মহিষাসুর হাসছেন, মুচকি মুচকি হাসছেন। মুখের সেই যন্ত্রনার অভিব্যক্তি বিলকুল ভ্যানিশ। হাফ মিনিটের জন্য কেমন যেন ভ্যাবলা হয়ে সেদিকে তাকিয়ে হাসি দেখতে থাকলেন প্রসন্ন ঠাকুর। মোটে হাফ মিনিট।  তারমধ্যে অবশ্য সব ঠিকঠাক হয়ে গেল। প্রসন্ন ঠাকুর দেখলেন, আবার দাঁতমুখ খিঁচিয়ে পা মুড়ে দাঁড়িয়ে পড়েছেন অসুরমশাই।

প্রশ্নটা কিন্তু ঝুলে রইল প্রসন্ন ঠাকুরের মনে। মহিষাসুর হঠাৎ হাসলেন কেন? কাল সারাদিন প্রশ্নটা ঘুরপাক খেয়েছে তাঁর মনে। আবার রাতের বেলা স্বপ্নেও দেখা দিল সেই মহিষাসুর। তাই স্বপ্ন নিয়ে প্রসন্ন ঠাকুরের কৌতূহল একটা আছে বৈকি!

প্রসন্ন ঠাকুরের দুপুরের খাওয়া শেষ। চিলেকোঠার ঘরের নিরিবিলিতে দ'য়ের ভঙ্গিতে শুয়ে তিনি এখন সিগারেট টানছেন। এই সময়টায় তার শরীর মনে বেশ একটা ঝিম ধরে আসে। আর এই ঝিমুনি পর্বে তাঁর রাতে দেখা স্বপ্ন ডাউনলোড হয় মাথার ভিতরে। আজ ঝিমোতে ঝিমোতে তিনি শুনতে পাচ্ছেন মহিষাসুরের গলার আওয়াজ। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে আওয়াজটা।

- হ্যাঁরে প্রসন্ন, কি ব্যাপার বলত? সারাদিন আমাকে এত স্মরণ করছিস কেন বল দেখি, তোকে তো দুর্গার ভক্ত বলেই জানি"

প্রসন্ন ঠাকুর বললেন, "না মানে, সকালে আপনার ঐ মুচকি হাসিটা দেখার পর থেকেই মাথার ভেতর সব কেমন যেন গোলমাল হয়ে গেছে। বারে বারেই ভাবছি, ঠিকঠাক দেখলাম তো, নাকি চোখের ভুল।"

- ভুলটা আবার কোথায়, ঠিকঠাকই দেখেছিস। মুচকি হাসছিলাম বৈকি! জনসমক্ষে হাসাটা যদিও উচিত না, একেবারেই প্রোটোকলের বাইরে। কিন্তু তুই যখন ঐ ত্রিশুলের ফলাটা বুকে ঠেকিয়ে রাখলি, তখন আমি আর সামলাতে পারলাম না নিজেকে।

প্রসন্ন ঠাকুর চিন্তায় পড়ে আমতা আমতা করে বললেন - কেন? কোনও ভুলচুক করেছিলাম নাকি?

- আরে না না, তোর আর ভুল কোথায়? ভুল তো সেই শুরুতেই। ত্রিশূলের ফলা দিয়ে দুর্গা তো আমায় মোটে একটু জখম করল। কিন্তু ও যে আদৌ মরণ নয়, সেটা তো আর লোকে বুঝল না।

- মরেননি তাহলে?

-  মরলে কেউ পুজো পায়, বল? বছরের পর বছর ধরে তো আসছি, সেই এক আধমরা রূপ। মরা রূপে দেখেছিস একবারও?

- না তা দেখিনি। কিন্তু যেভাবে ঘায়েল হয়েছেন, তাতে তো নড়াচড়া বা ওঠা হাঁটাও বেশ কষ্টের বলে মনে হয়।

- আরে না না, ওসব মিস্ত্রীর কেরামতি। কালে কালে যে যতটা পারল দাঁত ফাঁক করিয়ে দিল, চাইল মরণ-যন্ত্রণা দেখাতে। কোনও মানে হয়? এতবড় একটা বীরের প্রতি এটা কোনও সুবিচার ?

- সিংহও তো কামড়েছিল? টিটেনাস হয়নি?

- ওসব একেলে আতুপুতুদের হয়। আমরা কাঁচা মাংস খাওয়া অসুর। ও কামড়ে কিস্যু হয়নি। সিংহটাই বরং দাঁতের ব্যাথায় উহু উহু করছিল।  

- তাহলে মরণের খবরটা রটানো বলছেন?

- আলবৎ রটানো। চোখ মেলে তাকিয়ে একবার দেখ না - চারপাশে আমি আর আমার চেলা চামুন্ডারা।

- একটু খুলেই বলুন না ব্যাপারটা।

- তাহলে তোর কথা দিয়েই বলি, সাতসকালে বাজারে দাঁড়িয়ে আজ তো বেশ গজ গজ করছিলি দেখলাম। কারনটা কি নিজেই একটু খুলে বল।

- সবজির দামের ঘটা দেখে গজরাচ্ছিলাম। পটল, ঢ্যাঁড়স, উচ্ছে-ঝিঙ্গে - সব সবজিই তো হয় সত্তর নয় আশি। পেঁয়াজ ষাট, আলু চল্লিশ। আগুনে দাম সব, হাতে যেন ছ্যাঁকা লাগে। মাছ তো ছেড়েই দিন - ছোঁয়া যায় না।

- ওসব কার কারসাজি বল দেখি? ভেবে দেখেছিস একবারও? সব আমার রে, সব আমার খেলা। ও কাজে লেগে আছে আমার চেলা কালো অসুর।

- বলেন কি? আপনার লোক?

- আমার লোক ছাড়া আবার কে? নালিকুলের ২০ টাকা কিলো ঢ্যাঁড়স গঙ্গা পার হলেই আশি। কোনো কথা হবে না ব্রাদার। আমার কথাই শেষ কথা।

- এতো পুরো কালোবাজারি!

- শুধু কালোবাজারি শুনেই চমকালি? আমি কিসে নেই বল দেখি প্রসন্ন? দালালিতে আমি, চিটফান্ডে আমি, সিন্ডিকেটেও আমি। তারপর দাঙ্গা, মহামারী। মশাসুর রূপে আমিই আনি ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়া। সব আমার খেলা রে, সব আমার খেলা।

 

প্রসন্ন ঠাকুরমশাইকে ভ্যাবলা হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে মহিষাসুর এবার একটু থামলেন। একটু দম নিয়ে বললেন - শুধু কি এই, আরও তো কত কিছু আছে। যেমন ধর, তোর যে সব ভুলভাল ইচ্ছে সেখানেও তো আমিই বসে আছি প্রসন্ন।

- আমার আবার কি ভুলভাল দেখলেন? আমি তো ধম্মকম্ম নিয়েই থাকি।

- ভুলভাল নেই বলছিস? আগের বারে তো বেশ দশ হাজার দক্ষিণাতে রাজী হয়েছিলি। এবারে হুট করে কুড়ি চাইলি কেন বল?

আমতা আমতা করতে লাগলেন প্রসন্ন ঠাকুর। বললেন, না মানে, আসলে বাজার দর যা বেড়েছে......। তবে মানছি কাজটা বেআক্কেলে হয়ে গেছে।

- বেআক্কেলে কাজ তো আরও করেছিস প্রসন্ন। একটা প্যাংলা আমড়া গাছ নিয়ে ভাইয়ের সাথে তো মামলা করলি নাকি?

প্রসন্ন ঠাকুর মাথা চুলকোতে লাগলেন। তারপর নরম সুরে বললেন, " এ দোষ ঠিক আমার নয়, মানে ভাই এমন মুখ খারাপ করল যে আমার মেজাজ চড়ে গেল"

- মেজাজ তো চড়বেই। তোর ভাই আর তুই যখন মুখোমুখি এলি, তখন আমিই তো সেদিয়ে পড়লুম তোর ভাইয়ের ভেতরে, দু চারটে গালমন্দ করালুম তাকে দিয়ে, ব্যাস, তুই মেজাজ হারালি আর মামলা বেঁধে গেল।

- এও তাহলে আপনারই কাজ? সত্যিই লোকে যে বলে আপনি ঘোর অধার্মিক তার প্রমান আজ পেলাম।

- অধার্মিক? আমায় অধার্মিক বলছিস? এই সব শেখানো বুলি আমার সামনে ঝাড়িস না প্রসন্ন। দু চার পাতা শাস্ত্র পড়ে খুব পণ্ডিতি দেখাচ্ছিস। ধর্ম অধর্ম বোঝা অত সহজ নয় বুঝলি। শোন, অধার্মিক আছে বলে দেশে আজও ধর্মকর্ম সব বেঁচে আছে, নয়ত এতদিনে সব ভ্যানিস হয়ে যেত।

- তাই নাকি, ধম্মকম্ম চলছে অধার্মিকের হাতে? 

- চলছেই তো, আচ্ছা একটা উদাহরণ দিই,রেগে যাস না যেন।

- বলুন।

- এই যে তুই, তুই তো বেশ ধার্মিক বলে নিজেকে ভাবিস। কিন্তু দেখ, চিরকাল তুই শুধু দক্ষিণা কুড়িয়েই গেলি। মায়ের পায়ে নিজে হাতে ক'টাকা দক্ষিণা দিয়েছিস বল দেখি?

প্রসন্ন ঠাকুর মাথা চুলকোতে লাগলেন। মনে পড়ছে না, টাকা আদৌ দিয়েছেন বলে মনে পড়ছে না। মহিষাসুরের চোখ থেকে চোখ নামিয়ে নিলেন প্রসন্ন ঠাকুর।

মহিষাসুর হাসতে হাসতে বললেন, দিসনিরে, এক পয়সাও দিস নি। অথচ তোদের সেক্রেটারি ভুতোকে দেখ। কত দিচ্ছে মাএর পায়ে। ঢেলে দিচ্ছে- বেনারসী থেকে ব্রেসলেট, কি দেয় না মা কে? কোথা থেকে দেয়- তা কি তোর অজানা? সবই তো অধর্মের কামাই। বাজার থেকে তোলা পায়। সিন্ডিকেট চালায়। রাজনীতি করে কামায়, দালালি করে, ভুলো কিসে নেই বলত?   

প্রসন্ন ঠাকুর হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন মহিষাসুরের দিকে।

মহিষাসুর বললেন, গোটা পৃথিবী ঘুরে দেখ - এই এক ছবি। যোদো মোদোদের দু টাকা পাঁচ টাকায় ধর্ম চলে না ভাই, ধর্ম প্রতিষ্ঠান চলে হুইস্কিওলার টাকায়, কালোবাজারির টাকায়। এক কথায় বললে ধর্মটাকে বাঁচিয়ে রেখেছি আমি আর আমার চেলাচামুন্ডারা।

প্রসন্ন ঠাকুরের মুখের হাঁ টা আরও একটু বড় হল।         

মহিষাসুর বললেন, এর পরেও বলবি আমি মরেছি। আমি কী মরতে পারি রে? তোর মা এর মত আমিও অমর, যুগে যুগে অমর।

প্রসন্ন ঠাকুরের মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। মহিষাসুরের হো হো হাসির সামনে যেন একটু কুঁকড়ে গেলেন।

মহিষাসুর বললেন, কি ভাবছিস প্রসন্ন?

প্রসন্ন বললেন, মানছি নয় আপনিও অমর, কিন্তু লাভ কী হল? কেউ কোনোদিন তো একবার ভক্তিভরে প্রনামও করল না আপনাকে। 

মহিষাসুর দমলেন না। হাসতে হাসতে বললেন, ভয় থেকেও যে একধরনের ভক্তি আসে তা নিশ্চয়ই জানিস। সে ভক্তি আমার জন্যই থাকবে, চিরকাল থাকবে। ঠিক আছে, আজ তাহলে আসি ব্রাদার। এর পর থেকে লোকজনকে অন্ততঃ এটা বলিস যে অসুরটা আসলে জ্যান্ত, মরা নয়। বাই বাই।

প্রসন্ন ঠাকুরের চমক ভাঙল। তিনি দেখলেন চিলেকোঠার ঘরে খাটের ওপর দ'এর ভঙ্গিতে বসে আছেন। মাথার ভেতরটা কেমন যেন গুলিয়ে গেল বলে মনে হচ্ছে। অসুরটা শয়তান হোক, তবে ইন্টেলেকচুয়ালও বটে। কত কি যে বুঝিয়ে গেল - মাথাটা যেন ভোঁ ভোঁ করছে। অধার্মিকের টাকায় ধর্ম চলে - সব্বোনেশের এ কথাটা কিছুতেই যেন মাথা থেকে বেরোচ্ছে না।      

এসে গেল পুজোর দিন। বোধনের পুজো শেষ করে সপ্তমী পুজোয় বসলেন প্রসন্ন ঠাকুর। মনে শুরু থেকেই একটা অস্বস্তি। সব সময় মনে হচ্ছে, অসুরটা যেন নজরে রাখছে তাঁকে। পুজোর শেষে মা এর পায়ে দক্ষিণা দিতে আর ভুল করলেন না তিনি। ট্যাঁক থেকে বের করলেন এক টাকার একটা কয়েন। সিঁদুর মাখিয়ে কয়েনটা রাখতে যাবেন মায়ের চরণে, আর ঠিক সেই সময় আবার ঘটল ঘটনাটা। প্রসন্ন ঠাকুর স্পষ্ট দেখলেন মহিষাসুরটা হাসছে। সেই একই কায়দার মুচকি হাসি। প্রসন্ন ঠাকুর বুঝলেন এ যেন তাঁর ক্ষুদ্র দানের প্রতি ক্যাপিটালিস্ট মহিষাসুরের ব্যঙ্গ!         

রেগেমেগে সব্বোনেশেটার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন প্রসন্ন ঠাকুর। "মা মাগোওওও " বলে দেবীপ্রনাম সেরে মা এর উদ্দেশে তিনি বলে উঠলেন, "সাধ্যমত তোমায় ষোল আনাই দিলাম মা, অধমের অপরাধ নিও না।"

 

তন্ময় চট্টোপাধ্যায়
কলকাতা 

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top