সিডনী শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দানশীলতার- সেকাল ও একাল : ব্যারিষ্টার সাইফুর রহমান


প্রকাশিত:
১৯ নভেম্বর ২০২০ ১৪:৫২

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০০:০৩

ছবিঃ ব্যারিষ্টার সাইফুর রহমান

 

মধ্য জানুয়ারির হাড় কামড়ানো এক শীতের রাতে একটি অনুষ্ঠান শেষ করে গুলশান থেকে বনানী হয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। আমার গাড়িটি বনানী পোস্ট অফিস অতিক্রম করে মহাখালীর প্রধান সড়কে ওঠার মুখে দাঁড়িয়ে গেল। আমার গাড়ির সামনে আরেকটি গাড়ি দাঁড়িয়ে। গাড়িটি সম্ভবত ২০০১ মডেলের চকচকে একটি টয়োটা ক্রাউন। এক মিনিট দুই মিনিট করে কেটে গেল বেশ কিছু সময়। আমার গাড়িচালক হর্ন বাজিয়ে চলছে। সামনের গাড়িটি এগোচ্ছে না দেখে আমি নিজেই দেখতে চাইলাম ঘটনাটি কী? সামনের গাড়িটি এগোচ্ছে না কেন? যা দেখলাম সেটির জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। গাড়ির ভেতর থেকে একটি লোক রাস্তার গরিব-দুঃখীদের মধ্যে কম্বল বিতরণে ব্যস্ত, আর এ জন্যই সামনের গাড়িটি এভাবে দাঁড়িয়ে আছে। মানবতা ও সহমর্মিতার গাঢ় রঙে রাঙা এই মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে বিতরণ করে যাচ্ছেন লাল, সবুজ, নীল, হলুদ নানা রঙের কম্বল। আমি আমার গাড়িচালককে বললাম, সামনের গাড়িটির পেছন পেছন অনুসরণ করতে। আমার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল দানবীরের মুখাবয়বটি একবার দেখতে; কিন্তু প্রচারবিমুখ এ ব্যক্তিটি যেন মনে মনে একেবারে পণ করে ফেলেছেন তিনি কিছুতেই ধরা দেবেন না কারও দৃষ্টিসীমানায়। আমার গাড়িটি তার গাড়ির পাশাপাশি হতেই তিনি সন্তর্পণে এগিয়ে যান আরও একটু সামনে। ফুটপাতে শুয়ে থাকা কোনো এক আশ্রয়হীনের হাতে একটি কম্বল গুঁজে দিয়েই দ্রুত প্রস্থান করছেন সেই স্থানটি। দয়ালু এই মানুষটির মুখমণ্ডল দেখতে না পেয়ে আমি বেশ খানিকটা অতৃপ্তি নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। দয়া দাক্ষিণ্যের এমন প্রসার দেখার সুযোগ যে আমার জীবনে কখনো ঘটেনি এমন বলার কোনো কারণ নেই। কিন্তু সব প্রচারণা উপেক্ষা করে রাতের অন্ধকারে ও নিভৃতে এমন একটি ঘটনা দেখার অভিজ্ঞতা ছিল রোমাঞ্চকর ও আবেগঘন।

দানশীলতার বিষয়টি আলোচিত হলে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেকালের বিশ্ববরেণ্য দাতা হাতেমতাই, হাজী মোহাম্মদ মুহসীন, স্যার সলিমুল্লাহ খান, নবাব হাবিবুল্লাহ প্রমুখের নাম। যাদের দান ও মহত্ত্ব ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে। আর একালের দানশীল ব্যক্তিদের মধ্যে এ মুহূর্তে আমার বিশেষভাবে মনে পড়ছে দুজন ব্যক্তির নাম। প্রথমজন_ বর্তমান আইন জগতের অন্যতম দিকপাল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও দ্বিতীয়জন_ দানবীর রাগিব আলী। এ ছাড়াও শতসহস্র দানবীর নিভৃতে তো রয়েছেন নিশ্চয়ই।

সেকালের দানশীল ব্যক্তিদের মধ্যে অগ্রগণ্য হিসেবে বিবেচিত ছিলেন হাজী মোহাম্মদ মুহসীন। তিনি জন্মেছিলেন ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। দানবীর মুহসীনের সঙ্গে দাতা হাতেমতাইয়ের নাম সমভাবে উচ্চারিত হলেও আদতে হাতেমতাইয়ের জন্ম আরবে এবং হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের বেশ আগে। দাতা মুহসীন অপেক্ষাকৃত অবস্থাসম্পন্ন পরিবারে জন্মালেও তিনি এতটা সম্পদশালী ছিলেন না। মুহসীনের জ্যেষ্ঠ এক সৎবোনের দেহান্তরের পর তিনি অঢেল সম্পদের অধিকারী হন। তবে মুহসীন কৈশোর ও যৌবন থেকেই পরোপকারী ও দয়ালু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে ১৭৬৯-৭০ এর মন্বন্তর দুর্ভিক্ষ ও মহামন্দায় তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এ প্রসঙ্গে এখানে একটি ঘটনা বেশ প্রণিধানযোগ্য। একদিন রাতে জনৈক তস্কর চৌর্যবৃত্তির উদ্দেশ্যে মুহসীনের ঘরে হানা দিলে সেই চোরটি হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়। ধরা পড়ার পর চোরটি কাতরভাবে জানায় যে, ক্ষুধার যন্ত্রণায় সে চুরি করতে মুহসীনের ঘরে ঢুকেছিল। এ কথা শোনার পর মুহসীন সেই চোরটিকে শাস্তি দেওয়া তো দূরের কথা বরং পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যদ্রব্য তার হাতে তুলে দিয়ে বিদায় করেন। মুহসীন ১৮০৬ সালে তার সব সম্পদ ওয়াক্ফ বা দান করেন। তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা ও ধর্মীয় কাজে, একটি অংশ বয়স্কদের ভাতা ও অন্য অংশটি প্রতিবন্ধীদের জন্য দান করে যান। এ অসীম হৃদয়বান মানুষটির মৃত্যু হয় ১৮১২ সালে। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান ও পৃষ্ঠপোষকতার সুবাদে সেকালের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের নামও চলে আসে অবধারিতভাবেই। দ্বারকানাথ ঠাকুর আঠারশ শতকের শুরুতে বিশেষ করে বাংলা রেনেসাঁ যুগের উন্মেষলগ্নে প্রচুর অর্থকড়ি খরচ করেছিলেন। শিক্ষালয়, গ্রন্থাগারসহ বহু প্রতিষ্ঠান তৈরিতে তার ছিল অসামান্য অবদান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও কম দয়াপরবশ ছিলেন না। তিনি ঠিকমতো খাজনা তুলতে পারতেন না বলে ব্যর্থ জমিদার হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারের আর্থিক প্রাপ্তি হিসেবে পেয়েছিলেন ২০ লাখ টাকা। সেই অর্থের একটি অংশ তিনি তাদের পরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়ন ব্যাংকে দান করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে যেসব কৃষক শ্রমিক ঋণ গ্রহণ করেছিলেন সেগুলো তারা পরিশোধ করেননি। সে জন্য রবীন্দ্রনাথ তার জনৈক বন্ধুকে চিঠিতে লিখেছিলেন_ আমার দেওয়া টাকাগুলো সব মাঠে মারা গেল। সেই সময় থেকে বাংলা ভাষায় 'মাঠে মারা গেল' শব্দটি চালু হয়ে গেল। মানুষের প্রতি দয়ালু হিসেবে সেকালে আরেক বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে দু'চার কথা না লিখলেই নয়। সেকালের এই ব্যক্তিটি ছিলেন জ্ঞানতাপস ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ব্যক্তিজীবনে এতটাই দয়ালু ছিলেন যে, তাকে বিদ্যাসাগর না বলে বরং বলা উচিত ছিল ঈশ্বরচন্দ্র দয়ার সাগর। আমার কথায় যদি কারও এতটুকু সংশয় থাকে তবে তার স্মৃতিস্তম্ভের ওপর লিখিত প্রশস্তির প্রথম দুটি লাইন এখানে তুলে ধরছি_ হৃদয় করুণা সিন্ধু/অনাথ দিনের বন্ধু/পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি যে কী পরিমাণ পরোপকারী ছিলেন সেগুলো লিখতে গেলে একটি প্রমাণ সাইজের গ্রন্থ রচিত হয়ে যাবে। যা হোক এখানে তার দু'একটি দানপরায়ণতার কাহিনী শোনাচ্ছি। একবার তিনি তার বৃত্তির টাকা জমিয়ে প্রতিবেশীদের জন্য টুকটাক কিছু মনোহারি জিনিসপত্র কিনে এনেছেন। শিশু থেকে শুরু করে মাঝ বয়সী কিংবা বৃদ্ধা সবার জন্যই কিছু না কিছু উপহার নিয়ে এসেছেন। সব উপহার সামগ্রী বিলি বণ্টন করার পর কোত্থেকে এক কিশোর এসে জুটল সেখানে। ঈশ্বরচন্দ্রকে বলল_ আমার জন্য কিছু আননি? উপহার সামগ্রীগুলো ইতোমধ্যে সব বিতরণ হয়ে গেছে। হাতের কাছে কিছু না পেয়ে ঈশ্বরচন্দ্র নিজের পরিধেয় ধুতিটি সঙ্গে সঙ্গে শরীর থেকে খুলে সেই কিশোরটির হাতে তুলে দিলেন। ভাগ্যিস ধুতির নিচের অন্তর্বাসটি কাউকে দিতে হয়নি। তা না হলে ঈশ্বরচন্দ্রকে কী বিপদেই না পড়তে হতো! আমাদের অনেকেরই এই ইতিহাসটি হয়তো জানা আছে যে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিদেশে অবস্থানকালীন মাইকেল মধুসূদনের জন্য টাকা পাঠাতেন, যাতে করে অভাবগ্রস্ত মাইকেল তার ব্যারিস্টারি পড়া চালিয়ে যেতে পারেন। শিক্ষা জীবনে ও পরিণত বয়সে মধুসূদন অভাবগ্রস্ত ও কপর্দকশূন্য হলেও ছোটবেলায় তিনি অসামান্য উদার ও দানশীল হিসেবে খ্যাত ছিলেন।

হিন্দু কলেজে মধুসূদনের এক সহপাঠীর নাম ছিল ভূদেব মুখোপাধ্যায়। ক্লাসে সে মধুর মতোই অসাধারণ ভালো ছাত্র ছিলেন। কিন্তু অভাব, দারিদ্র্যের কারণে কলেজের ছয় মাসের মাইনে বাবদ প্রায় ৮০ টাকা বাকি পড়ে গেল। ভূদেবের মন খারাপ। এই বুঝি তার হিন্দু কলেজের পাঠ সাঙ্গ হয়ে যায়। কিন্তু এই বিপদে পাশে এসে দাঁড়াল মধু। ভূদেবকে বললেন_ "তুই কোনো চিন্তা করিস না ভূদেব, আমি আমার জলপানের টাকা বাঁচিয়ে তোর বকেয়া মাইনে শোধ করবো।" পরে অবশ্য ভূদেব কলেজ থেকে একটি বৃত্তি পেয়ে যাওয়ায় মধুর কাছ থেকে আর সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। কিছু কিছু মানুষের মধ্যে রাস্তাঘাটে ফকির-মিসকিনদের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার একটি প্রবণতা দেখা যায়। আমার বাবা ছিলেন সেই ঘরানার একজন মানুষ। তার সামনে কেউ হাত পাতলেই হলো_ কাউকে ফেরানো চলবে না। আমার স্ত্রীর মধ্যেও এ প্রবণতাটি বেশ প্রকট। ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়ালেই হলো_ অমনি তিনি ভ্যানিটি ব্যাগ হাতড়ে টাকা বের করে ফকিরদের হাতে তুলে দেওয়া চাই। মাঝে-মধ্যে তার ব্যাগে খুচরা টাকা না থাকলে আমাকে উদ্দেশ করে বলবে, দেখ তো তোমার মানিব্যাগে দু'চার টাকা আছে কিনা। এ বিষয়ে আরেকজনের কথা না বললে নয়_ সে হচ্ছে আমার বন্ধুবরেষু ও অভিন্ন হৃদয় ব্যারিস্টার মীর হেলাল। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে সৌদি আরবে ওমরা হজ পালন শেষে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বন্ধু হেলাল তার মা, এক বোন ও তার একটি ফুফুকে হারান। এটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ও বেদনাদায়ক ঘটনা। এর পরপরই তিনি যেন আগের চেয়ে একটু বেশি দানশীল হয়ে উঠলেন। তার পাজেরোর সামনের সিটের পাশে কফি রাখার স্থানটিতে রাখা থাকত একটি খুচরা পয়সার থলে। গাড়িটি যেই গুলশান, বনানী, তেজগাঁও কিংবা সোনাগাঁ সিগন্যালে দাঁড়িয়েছে অমনি গাড়ির কালো টিনটেড গ্লাসটি খুলে সঙ্গে সঙ্গে ভিখারির হাতে সে তুলে দেয় ৫-১০ টাকা। প্রতি সপ্তাহেই দেখতাম পিয়ন আর্দালি দিয়ে টাকা খুচরা করিয়ে এনে থলেটি ভর্তি করে রাখা হতো। মাঝে-মধ্যে দেখতাম ভিখারিদের টাকা দিতে গিয়ে গাড়ির পেছনে যানজট সৃষ্টি হয়ে গেছে। একদিন ঈষৎ বিরক্ত হয়ে হেলালকে বললাম, ভিখারিদের এভাবে খুচরা টাকা না দিয়ে বরং দু'একজনকে কাজে লাগে এমন কিছু একটা কিনে দিলেই তো এর চেয়ে ঢের ভালো হয়। এর কিছুকাল পর শীত মৌসুমে বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ যখন প্রচণ্ড এক শীতে বিপর্যস্ত আমি হেলালকে বললাম চল দু'জনে মিলে কিছু শীতের কাপড় কিনে দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করি। সে বলল, আমি তো বেশ কিছু কম্বল ইতোমধ্যে বিতরণ করে ফেলেছি। আমি বললাম, কই আমাকে তো কিছু জানালে না। হেলাল অম্লান বদনে বলল, 'আমি কি এখন মাইক দিয়ে ঘোষণা দিয়ে দান করব।' আমি লজ্জা পেয়ে গেলাম। সত্যিই তো, দান তো এভাবেই করতে হয়। এবার একালের কয়েকজন দানশীল ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু কথা বলা যাক। এদের মধ্যে যার কথা প্রথম মনে পড়ে তার নাম হলো ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। যদিও তিনি মক্কেলদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা পান। কিন্তু জীবনযাপনে তার কোনো বাহুল্যতা নেই। কারণ তার আয়কৃত অর্থের বেশির ভাগই তিনি দান করে দেন বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে। তিনি কোটি কোটি টাকা দান করেছেন ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায়। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায়ও একজন প্রধান ভাগিদার। তার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় একদিন তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে শিশু হাসপাতালের জন্য কীভাবে অনুদান পেয়েছিলেন সেই গল্পও তিনি আমাকে শুনিয়েছেন। তার মতো এমন মহাপ্রাণ মানুষ সমাজে সত্যি বিরল। আইনজীবীর প্রসঙ্গ যখন এসেই গেল তখন আরেকজন আইনজীবীর কথা বলতেই হয়_ তিনি ছিলেন ব্যারিস্টার চিত্তরঞ্জন দাস। মৃত্যুর আগে তিনি তার একমাত্র বসতবাড়িটিও দান করে যান। সেই জন্য রবীন্দ্রনাথ তার মৃত্যুতে লিখেছিলেন_ এনেছিলে সঙ্গে করে মৃত্যুহীন প্রাণ/মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান। তবে আমি মনে করি, অনেক আইনজীবী আছেন যারা ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মতো বিত্তশালী নন। কিন্তু তারা যদি সমাজে এমন বহু অসহায় ব্যক্তি আছেন যাদের বড় বড় উকিল ব্যারিস্টার নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নেই_ তারা যদি মাসে অন্তত দুটি মামলা বিনা পয়সায় করে দিতে পারেন, নিঃসন্দেহে এতে বড় রকমের দান-দক্ষিণার কাজ হয়।

লেখাটি শেষ করছি মজার একটি গল্প দিয়ে। বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেট যুক্তরাষ্ট্রের দুজন শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। ধন তালিকায় বিল গেটস প্রথম ও ওয়ারেন বাফেট দ্বিতীয়। তবে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করে বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকারী দানশীল ব্যক্তি হিসেবে নাম লিখিয়েছেন ওয়ারেন বাফেট। বাংলাদেশে মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন বিল গেটস। তার দানের পরিমাণ ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ওয়ারেন বাফেটের চেয়ে এক বিলিয়ন ডলার কম। ওয়ারেন বাফেটের সবচেয়ে প্রিয় খেলা হচ্ছে তাস, তাও আবার কলব্রিজ। বাফেটের তাস খেলার সঙ্গীও বিল গেটস আর সেটাই বোধকরি স্বাভাবিক। কারণ শীর্ষ ধনী খেলবে আরেক শীর্ষ ধনীর সঙ্গে। ওয়ারেন বাফেট সপ্তাহে ১২ ঘণ্টা ব্যয় করেন তাস খেলার পেছনে। তাস খেলতে খেলতে একদিন বিল গেটস ওয়ারেন বাফেটকে জিজ্ঞাসা করলেন, "ওয়ারেন আপনি আমার চেয়ে এক বিলিয়ন ডলার বেশি দান করলেন, এর পেছনে কারণটি কি? প্রতিউত্তরে ওয়ারেন বাফেট বলেন_ দেখ বিল অনেক চেষ্টা করেও আমি এক নম্বর ধনী হতে পারিনি। সেটি তোমার কপালেই জুটেছে। সে জন্য আমি ভাবলাম নিদেনপক্ষে দান-দক্ষিণা করে হলেও যদি অন্তত তোমাকে টপকানো যায়। কিন্তু দান করতে গিয়ে দেখলাম তুমি দান করে ফেলেছ ২৯ বিলিয়ন। প্রথম স্থান পাওয়ার জন্য আমাকে দিতে হলো ৩০ বিলিয়ন। আর এ জন্যই আমাকে এতগুলো টাকা দান করতে হলো। কথাগুলো বলার পর দুজনেই একসঙ্গে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন।

 

সাইফুর রহমান
গল্পকার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



 

 

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top