সিডনী শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭

উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর বাটীতে শ্যামাপূজা - বরাভয় উৎসব : রঞ্জনা রায়


প্রকাশিত:
২১ নভেম্বর ২০২০ ১৬:০৬

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০২:৫১

ছবিঃ রঞ্জনা রায়

 

আমি উত্তর কলকাতার মেয়ে। আমার জন্মস্থান উত্তর কলকাতার দর্জি পাড়ায় বৃন্দাবন বোস লেনে। আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগের কলকাতা, আমার ছোটবেলার সেই আটপৌরে উত্তর কলকাতার সঙ্গে এখনকার ঝাঁ-চকচকে মল আর বিখ্যাত সব বিরিয়ানির দোকান শোভিত কলকাতার অনেক তফাৎ ছিল।

সেই কলকাতায় শ্যামবাজার থেকে স্কটিশ চার্চ স্কুল পর্যন্ত রাস্তার দু'পাশে ছিল প্রচুর সিনেমা-থিয়েটার হল। রংমহল থিয়েটারের উল্টো দিকেই ছিল আমার বাপের বাড়ির পাড়া আর বিখ্যাত লক্ষী নারায়ণের তেলেভাজার দোকান। এখন রূপবানী, শ্রী উত্তরা এই সব সিনেমা হল আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এখানে এখন জামাকাপড়ের বিখ্যাত মল। উত্তর কলকাতার আরও একটা আকর্ষণ ছিল ট্রাম গাড়ি, যা আস্তে আস্তে উঠে যেতে বসেছে। ৪ নম্বর ট্রাম তো বন্ধই হয়ে গেছে যেটা গ্রেস স্ট্রিট ধরে ডালহৌসির অফিস পাড়ার  দিকে যেত। এখন শুধু ৫ নম্বর ট্রাম দু-একটা চলে। ট্রামের শ্লথগতির মতো উত্তর কলকাতার জনজীবনেও একটা শ্লথতা ছিল আর ছিল একান্নবর্তী পরিবারের মতো পাড়ায় একটা ভালবাসার মায়া বন্ধন। পাড়ার প্রতিটি বাড়ির সবাই সবাইকে চেনে সবার মধ্যেই একটা আত্মীয়তার বন্ধন ছিল, যা আজকালকার ফ্ল্যাট    কালচার শোভিত উত্তর কলকাতায় হারিয়ে যাচ্ছে। পুরনো বাড়িগুলো ভেঙে নতুন নতুন ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে।‌ হারিয়ে যাচ্ছে এই সব অঞ্চলে নিজস্বতা, পুরনো গন্ধ আর আমেজ।

উত্তর কলকাতা রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ ভাবান্দোলনের একটি পীঠস্থান। ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন হিন্দু ধর্মের অস্তিত্ব একটি বিরাট প্রশ্ন চিহ্নির সম্মুখীন, তখন দক্ষিণেশ্বরের রানী রাসমনির কালীবাড়িতে পা রাখলেন হুগলির কামারপুকুর গ্রামের এক দরিদ্র নিরক্ষর ব্রাহ্মণ যুবক গদাধর চট্টোপাধ্যায়। দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন রানী রাসমনির প্রতিষ্ঠিত ভবতারিণী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত। এই আপাত নিরক্ষর ব্রাহ্মণ যুবক গদাধর চট্টোপাধ্যায়ই একদিন হয়ে উঠলেন যুগন্ধর পুরুষ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। পাশ্চাত্য শিক্ষার ফলে বাঙালি সমাজে নবজাগরণের উন্মেষ ঘটেছে। অন্ধ  কুসংস্কারময় হিন্দু ধর্মকে অস্বীকার করার প্রবণতা যুবমানসে তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রতিভাত হচ্ছে, যার ফসল ইয়ংবেঙ্গল সম্প্রদায়। অপর দিকে খ্রিস্টধর্মের উদার প্রভাবে অনেকে ধর্মান্তরিত হচ্ছেন আর একদিকে রামমোহন রায়, মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এরা হিন্দু ধর্মকে রক্ষার জন্য একটি সংস্কারমুক্ত ধর্মমতের প্রবর্তন করতে চাইছেন, যা ব্রাহ্ম ধর্ম রূপে প্রচারিত হচ্ছে। আবার অপর দিকে রাধাকান্ত দেব হিন্দু ধর্মের আচারনিষ্ঠ ব্রাহ্মণ্যবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। এই ধর্মীয় দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় এক ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ দেব হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাখা যেমন, শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব, বেদান্ত--- এই সব ধারায় সাধনা করলেন আবার তাৎপর্যপূর্ণভাবে সুফি ও খ্রিস্টধর্মের অন্তর্লোকেও যাত্রা করলেন।

বিভিন্ন ধারায় সাধনা করে তিনি এই সিদ্ধান্তে এলেন 'যত মত তত পথ', জীবনের উদ্দেশ্য হল ঈশ্বরলাভ। তাই এই ঈশ্বর লাভ করার জন্য সব পথ অর্থাৎ সব ধর্মই সমান। সুতরাং ধর্মীয় বিভাজন নিষ্প্রয়োজন। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব অসুস্থ অবস্থায় তাঁর জীবনের সত্তরটি দিন উত্তর কলকাতার যে বাড়িতে কাটিয়েছিলেন এখন সেই বাড়ির কিছু কথা বলব।

৫৫ নম্বর শ্যামপুকুর স্ট্রিট। বর্তমানে এটি শ্যামপুকুর বাটী নামেই প্রসিদ্ধ। আমি যখনকার কথা বলব, তখনও বাড়িটি বেলুড় মঠের অধীনে আসেনি। এখানে তখন রামকৃষ্ণ মঠ স্থাপিত হয়নি। একদিন বিকেলবেলা, তখন বোধহয় আমার ছয়-সাত বছর বয়স হবে, মায়ের সঙ্গে সেই বাড়িতে প্রথম গিয়েছিলাম। মা, আমি আর সঙ্গে ছিল মায়ের মাসিমা। আমার দিদা। যিনি ওই শ্যামপুকুর অঞ্চলে থাকতেন। চল্লিশ বিয়াল্লিশ বছর আগের ঘটনা হলেও এখনও বেশ স্পষ্ট মনে আছে। বাড়িটি দোতলা। সামনে একটি টানা বারান্দা ছিল। নীচে একদিকে একটি ছোট প্রেস, অন্য দিকে সাবান তৈরির একটি ছোট্ট কারখানা। আর একদিকে একটি ঘড়ির দোকান। ভিতরে ঢুকে বাঁ দিকে একটি ছোট্ট সরু সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় গেলাম। ওপরে দিদার বয়সী একজন ভদ্রমহিলাকে দেখলাম, যিনি দিদার বন্ধু। পরে নাম জেনেছি লক্ষ্মী গোস্বামী। উনি আমাদের ঠাকুরঘরে নিয়ে গেলেন। বললেন, এই ঘরেই ঠাকুর থাকতেন। অত ছোটবেলায় এত বুঝতাম না। তবে মাকে রোজ যে ঠাকুরের ছবির সামনে বসে পুজো করতে দেখতাম, এখানেও সেই ঠাকুরের ছবি। বেশ কিছুক্ষণ সেই বাড়িতে ছিলাম। মা আর দিদা সেই ভদ্রমহিলার সঙ্গে গল্প করছিল আর আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাস্তা দেখছিলাম। পরে জেনেছি এই বারান্দায় ঠাকুর পায়চারি করতেন। ঠাকুরের ভক্ত শিষ্যরা এখানে বসে ধ্যান জপ করতেন। সেই যে যাওয়া আরম্ভ হল তার পর প্রায়ই মায়ের সঙ্গে সেই বাড়িতে যেতাম। আস্তে আস্তে আমি বড় হতে লাগলাম। আর সেই ভদ্রমহিলা হয়ে গেলেন আমার প্রিয় লক্ষ্মী মাসি আর মায়ের লক্ষ্মী দিদি। লক্ষ্মী মাসি ছিলেন অবিবাহিতা। বৈষ্ণব সাধিকার মতো জীবন যাপন করতেন। ওঁর বাবা শ্রী গোস্বামী   এই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। মা-বাবার মৃত্যুর পর লক্ষী মাসি এই বাড়িতে রাধাকৃষ্ণ আর  ঠাকুরমাকে নিয়ে একাই থাকতেন। খুব ভাল রান্না করতেন। নিরামিষ আহার করতেন।

১৮৮৫ সালের দোসরা অক্টোবর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এই বাড়িতে প্রথম পদার্পণ করেন।  এই বাড়িটির মালিক ছিলেন গোকুল ভট্টাচার্য। শ্যামপুকুর, এই স্থানটির নাম হিসেবে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। তবে যেটি সর্বাধিক বিখ্যাত সেটি হল শোভারাম বসাক নামে একজন ধনী ব্যক্তি এই অঞ্চলে বসবাস করতেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শ্যামরায় মন্দির ছিল।‌ এই  কুলদেবতা শ্যামরায়ের নাম অনুসারে এই অঞ্চলের নাম হয়েছিল শ্যামবাজার আর মন্দির সংলগ্ন একটি পুকুর ছিল তাই এই স্থানটির নাম শ্যামপুকুর। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের এখানে অবস্থানকালে বিখ্যাত ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার, নরেন্দ্রনাথ, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, বলরাম বসু, রাম দত্ত, কথামৃতকার শ্রীম, সুরেশ মিত্র প্রভৃতি গৃহী ও ত্যাগী ভক্তদের নিত্য যাতায়াত ছিল। সবাই ঠাকুরের শারীরিক ব্যাধি কী ভাবে কত তাড়াতাড়ি নিরাময় হয় সে ব্যাপারে বিশেষ উদ্বিগ্ন ছিলেন। ঠাকুরের আহারের সুবিধার জন্য মাতা ঠাকুরানীর সারদা দেবী ও সেই বাড়িতে অবস্থান করতেন। কিন্তু সেখানে তিনি যে কষ্টসহকারে কালাতিপাত করতেন তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। তবুও ঠাকুরের জন্য তিনি সব কিছুই হাসিমুখে সহ্য করতেন। ঠাকুরের গৃহী ভক্তরা তাঁর সেবার ব্যয়ভার বহন করতেন। এই বাড়িতে সব থেকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল ঠাকুরের কালীপুজোর দিন কালী রূপে পূজা গ্রহণ।

সারদানন্দ মহারাজ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ লীলা প্রসঙ্গে  বলেছেন যে, ঠাকুর ওই দিন তাঁদের পূজার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণ জোগাড় করে রাখতে বলেছিলেন। তাঁরা পূজার জন্য ধূপ, দীপ, ফুলমালা, মিষ্টি জোগাড় করে রেখেছিলেন কিন্তু কোনও রূপ মাতৃমূর্তি আনা হয়নি। পূজার দিন সাতটা বেজে গেল কিন্তু কীভাবে মাতৃপূজা হবে সে বিষয়ে ঠাকুর কিছু বললেন না। তিনি সন্ধ্যার পর নিজের বিছানায় স্থিরভাবে বসে ছিলেন। শ্রীম কথিত কথামৃতে এই দিনটির বর্ণনা পাই। সে দিন শ্যামপুকুর বাটীতে শরৎ, শশী, রাম দত্ত, গিরিশ ঘোষ, চুনিলাল, মাস্টার মহেন্দ্র গুপ্ত, রাখাল, নিরঞ্জন, ছোট নরেন, বিহারী অনেক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। ঠাকুর  জগন্মাতাকে ধুপ ধুনো নিবেদন করে সব ভক্তদের ধ্যান করতে বলেছিলেন। বিখ্যাত নট ও নাট্যকার  শ্রী গিরিশচন্দ্র ঘোষ যাঁর শ্রীশ্রী ঠাকুরের উপর বিশ্বাস ছিল, শ্রীশ্রী ঠাকুরের কথা মতো 'পাঁচ  সিকে  পাঁচ আনা' এবং যাঁর জীবনের ভালমন্দের সব ভার 'বকলমা'র মাধ্যমে নিয়েছিলেন স্বয়ং যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ। নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষ ছিলেন প্রচণ্ড মদ্যপায়ী এবং বারাঙ্গনার সংসর্গ তাঁর জীবনে ছিল। কারণ সেই যুগের নাটকের অভিনেত্রীরা ওই সমাজ থেকেই আসতেন। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেব পাপকে ঘৃণা করতেন পাপীকে নয়। অনুশোচনার মাধ্যমে মানুষ শুদ্ধ পবিত্র হয়ে ওঠে পাপ তুলোর মতো উড়ে যায়।

লীলাপ্রসঙ্গকার স্বামী সারদানন্দ এই সময়কার বর্ণনা প্রসঙ্গে লিখেছেন, "ঠাকুরের প্রতি অসীম বিশ্বাসবান গিরিশচন্দ্রের প্রাণে  কিন্তু উহাতে অন্যভাবের উদয় হইল।--- তবে কি তাঁহার (শ্রীশ্রী ঠাকুরের) শরীর রূপ জীবন্ত প্রতিমায় জগদম্বার পূজা করিয়া ভক্তগণ ধন্য হইবে বলিয়া এই পূজায়োজন? - নিশ্চয়ই তাহাই। এইরূপ ভাবিয়া তিনি উল্লাসে অধীর হইলেন এবং সম্মুখস্থ পুষ্প চন্দন সহসা গ্রহণপূর্বক 'জয় মা' বলিয়া ঠাকুরের পাদপদ্মে অঞ্জলি প্রদান করিলেন। ঠাকুরের সমস্ত শরীর উহাতে শিহরিয়া উঠিল এবং তিনি গভীর সমাধিমগ্ন হইলেন। তাঁহার মুখমণ্ডল জ্যোতির্ময় এবং দিব্য হাস্যে বিকশিত হইয়া উঠিল এবং হস্তদ্বয় বরাভয় মুদ্রা ধারণপূর্বক তাঁহাতে  জগদম্বার আবেশের পরিচয় প্রদান করিতে লাগিল।" লীলাপ্রসঙ্গ কার শ্রীমৎ সারদানন্দ মহারাজ শ্যামপুকুর বাটীতে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেবের অবস্থানকালের তাৎপর্য যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তার দুই এক লাইন উদ্ধৃত করছি -"শ্যামপুকুরে অবস্থানকালে ঠাকুরের ভিতর দিব্য শক্তি ও দেবভাবের পরিচয় ভক্তগণ পূর্বোক্ত রূপে কেবলমাত্র বিশেষ বিশেষ পর্বকালেই যে পাইয়াছিল তাহা নহে, কিন্তু সহসা যখন তখন তাঁহাতে এইরূপ ভাবের বিকাশ দেখিবার অবসর লাভ করিয়া তাঁহার প্রতি তাহাদের দেবমানব বলিয়া  বিশ্বাস দিনদিন দৃঢ়ীভূত হইয়াছিল।"

শ্যামপুকুর বাটীতেই তখনকার দিনের বিখ্যাত অভিনেত্রী বিনোদিনী দাসী এসে ঠাকুরের কৃপা লাভ করেছিলেন। চৈতন্যলীলা নাটকের বিনোদিনীর অভিনয় শ্রীশ্রী ঠাকুরকে মুগ্ধ করেছিল। অভিনয় অন্তে ভাবাবিষ্ট ঠাকুরের তিনি চরণ বন্দনা করেছিলেন। যুগাবতার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের কাছে মানুষের অন্তর্নিহিত গুণ তাঁর আত্মসাধন শক্তিই প্রাধান্য পেত, তাঁর জীবনচর্যা নয়। এই কারণেই বারাঙ্গনা অভিনেত্রীকে তিনি অকাতরে আশীর্বাদ করেছিলেন। সেই থেকে বিনোদিনী ঠাকুরকে দেবতারূপে পূজা করতেন। শ্রীশ্রী ঠাকুরের অসুখের খবর পেয়ে তাঁকে দর্শন করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। ঠাকুরের পরম ভক্ত শ্যামপুকুর নিবাসী বিখ্যাত অভিনেতা কালিপদ ঘোষের সহায়তায় একদিন সন্ধ্যাবেলায় হ্যাট কোট পরে সাহেব সেজে ঠাকুরের চরণ প্রান্তে উপস্থিত হলেন। রঙ্গপ্রিয় ঠাকুর তাঁর সাহস, দক্ষতা, ভক্তিশ্রদ্ধা এবং ব্যাকুলতা দেখে সন্তুষ্ট হলেন এবং তাঁকে আত্মোপলব্ধির উপায় স্বরূপ ঈশ্বরের শরণাপন্ন থাকার উপদেশ দিলেন। শ্যামপুকুর বাটীর আরও অনেক ঘটনা আমরা শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ লীলা প্রসঙ্গ থেকে জানতে পারি।

শ্যামপুকুর বাটীতে কালীপুজোর দিন এই বরাভয় উৎসবটি লক্ষ্মী মাসি নিজের সাধ্যমত এবং পাড়া-প্রতিবেশী সহায়তায় খুব সুন্দরভাবে পালন করতেন। কথামৃতকার মাস্টারমশাইয়ের নাতির ছেলে স্বর্গীয় গৌতম গুপ্তের সহায়তায় এই বাড়িতে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ স্মরণ সংঘ স্থাপিত হয়। শ্যামপুকুর বাটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল ৫৫এ এবং ৫৫বি। ৫৫এ অংশে লক্ষ্মী মাসি ভাড়া থাকতেন এই অংশে শ্রীশ্রী মা সারদা দেবীর থাকার ঘরটি ছিল না। সেই ঘরটি ৫৫বি অংশে ছিল। ওই অংশে যাঁরা ভাড়া থাকতেন তাঁরা সাধারন মানুষকে সারদা দেবীর ঘরটি দেখার অনুমতি দিতেন না। অবশেষে শ্রী গৌতম গুপ্তের উদ্যোগে বাড়িটির দুইটি অংশ ক্রয় করা হয় এবং বেলুড় মঠ ১৮ই নভেম্বর ২০১০ সালে শ্যামপুকুর বাটী সম্পূর্ণ রূপে গ্রহণ করেন। এখানে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের একটি  শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়।

সারা বিশ্বের সমস্ত রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ‌অনুরাগী ভক্তবৃন্দের কাছে এই বাড়ি আজ এক পরম পবিত্র স্থান রূপে বিবেচিত।

 

রঞ্জনা রায়
কলকাতা, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top