সিডনী সোমবার, ২১শে জুন ২০২১, ৬ই আষাঢ় ১৪২৮

সার্চিং ফর এ প্রস্টিটিউট গার্ল : উজ্জ্বল সামন্ত


প্রকাশিত:
৯ জুন ২০২১ ১১:৪৪

আপডেট:
২১ জুন ২০২১ ০৪:০৪

 

লকডাউন চলাকালীন এক সপ্তাহের মধ্যে অন্ধকার গলি আরো আঁধার ঘনিয়ে এলো। স্যাঁতস্যাঁতে ছোট্ট ছোট্ট ঘর গুলো মৃদু আলোয় আলোকিত। প্রায় অন্ধকারেই বুকে পাথর চেপে অর্ধাহারে তিন মাস হতে চলল। খরিদ্দার নেই। দোকান সাজিয়ে পসরা তো কোন কালেই ছিল না এই পেশায়। প্রায় ১৮ বা তার কম বয়স থেকে ভাগ্যে বা নিয়তির পরিহাসে কুচক্রে ফেঁসে এই অন্ধকার জীবনে ওরা বেঁচে থাকতে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। 

এরকমই ঊর্বশী একদিন সন্ধ্যায় অপেক্ষায় তার খরিদ্দারের। যেটা প্রতিদিনই অভ্যস্ত। হঠাৎ এক ২৫ ঊর্ধ্ব যুবক তার কাছে উপস্থিত। কোকরা চুল মুখে একগাল দাড়ি ছিপছিপে চেহারা। ওদের অন্ধকার গলির ম্যানেজার, খলিল দুই হাজার টাকা জমা নিয়ে খরিদ্দার নিয়ে এসেছে। খদ্দের লক্ষী তাই ঊর্বশী তাকে বিছানার পাশে বসায়। সে প্রস্তুত হতে থাকে তখন যুবকটি তাকে বাধা দেয়। ঊর্বশী অবাক হয়ে যায় পঞ্চাশোর্ধ পুরুষও তার কাছে নির্দ্বিধায় শরীরের পোশাক বিনা হীনমন্যতায় খোলে। হঠাৎ এই যুবকের কি হল! ভাবতে থাকে যুবকটি তখন বলে আমি কিছু জরুরী কথা বলতে চাই তোমার সাথে। ঊর্বশী আশ্চর্য হয়ে ওর কথাগুলো শুনে। তখন যুবকটি জানতে চায় ঊর্বশীর অতীত জীবন? কিভাবে এই পেশায় এল? এই পেশায় আসা মেয়েদের পরবর্তী জীবন কাহিনী!

ঊর্বশী তখন বলে, আপনি কিছু করবেন না? আপনিতো আগাম টাকা দিয়ে এসেছেন। তাহলে?

যুবকটি (মৃদুল) মৃদু হেসে জানায় ঊর্বশী কাছে সব বলবে কেন সে এখানে এসেছে! আগে ওর কথা জানতে চায়।

 

ঊর্বশী তখন তার জীবন কথা বলতে শুরু করে। অষ্টাদশী ঊর্বশীর প্রেমিক তার সরলতার সুযোগ নিয়ে ভালোবাসার ঘর বাঁধবে স্বপ্ন দেখিয়ে অন্ধকার রাত্রে বাড়ি ছেড়ে দূরে আসে প্রেমিকের হাত ধরে। গ্রাম থেকে এই অচেনা শহরে আশা, ভাড়া বাড়িতে থাকা। কিছুদিন পর হঠাৎই এই পতিতাপল্লীতে তার বিক্রি হয়ে যাওয়া... 

 কখনো কখনো উর্বশী চোখে জল গড়িয়ে পড়ে... সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত্রি । রাত গড়িয়ে ভোরের আলো ফুটে ওঠে। মৃদুল ঠায় বসে থেকে তার জীবনের গল্প শুনতে থাকে। এক কাপ চা করে নিয়ে আসে ঊর্বশী। কৌতূহলের পারদ ক্রমশ চড়ে। ঊর্বশী মৃদুল কে প্রশ্ন করে কেন সে এসেছিল এখানে? কামনা-বাসনা তৃপ্ত করতে, কই না, সারারাত এই যুবকটি তাকে স্পর্শ পর্যন্ত করেনি। তাহলে কেন?

মৃদুল মৃদু হেসে জানায় এখানে তার আশা খুব প্রয়োজন ছিল। সে একজন অক্ষর শিল্পী-সাহিত্যিক। পতিতালয়ের মেয়েদের জীবন নিয়ে কিছু লিখবে, কিন্তু পুরোটা তো কল্পনার উপর লেখা যায় না, বাস্তবতা ও দৃষ্টিভঙ্গি, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে।

কৌতুহলী ঊর্বশী ভাবতে থাকে এরকম মানুষ আছে পৃথিবীতে, অবাক হয়ে মৃদুলের কথাগুলো শুনতে থাকে...

 

উজ্জ্বল সামন্ত
পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top