সিডনী রবিবার, ৭ই আগস্ট ২০২২, ২৩শে শ্রাবণ ১৪২৯


গালিগালাজ বা অশ্লীল কথা নিয়ে মুমিনের করণীয়


প্রকাশিত:
২৮ নভেম্বর ২০১৯ ১১:১৪

আপডেট:
২৯ নভেম্বর ২০১৯ ২২:৪২

গালিগালাজ বা অশ্লীল কথা নিয়ে মুমিনের করণীয়

প্রভাত ফেরী ডেস্ক: অন্যকে কটু কথা বলা বা গালি দেওয়া কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না। কারন একজন মুমিন রাগ্বানিত হলেও মার্জিত ভাষায়, ভদ্র ও সংযতভাবে কথা বলবে। কোন ধরনের অশ্লীল কথা কোনভাবেই একজন মুমিন বলতে পারে না। কিন্তু কিছু মানুষ রাগান্বিত হলে অন্যকে অশ্লীল ও গালি বাক্যবাণে নাজেহাল করে।  



ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যকে গালি দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। আর তা যদি হয় বিনা অপরাধে, তাহলে তা আরো জঘন্য অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৮)



রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি যা আল্লাহর অবাধ্য আচরণগুলোর মধ্যে একটি।  (বুখারি, হাদিস : ৬০৪৫, ৭০৭৬; তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৩)। তাই আমাদের উচিত মানুষের সঙ্গে মার্জিত ভাষায় কথা বলা, ঝগড়া এড়িয়ে চলা। কেউ খারাপ ব্যবহার করলেও নিজেকে সংযত রাখা। কারণ এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাগিবতণ্ডায় লিপ্ত হলে তা লড়াই ঝগড়ায় গড়ানো স্বাভাবিক। কিন্তু হাদিসে এ ধরনের ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে কঠোর  হুঁশিয়ারি এসেছে।



অনেকে আবার সাধারণ বিষয়েও মা-বাবাকে গালি দিয়ে বসে। কিছু কিছু পেশায় এ ধরনের শব্দ ব্যবহার না করলে নাকি অধস্তনদের কন্ট্রোলে রাখা যায় না।  তারা তাদের অধীনদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথা বলার সময় কিছু অশ্লীল গালি জুড়ে দেয়। অথচ এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে মানুষকে গালি দেওয়া জঘন্য অপরাধ। 



হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের মা-বাবাকে অভিশাপ করা।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আল্লাহর রাসুল! মানুষ নিজের মা-বাবাকে কিভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, ‘যখন সে অন্যের বাবাকে গালাগাল করে, তখন সে নিজের বাবাকেও গালাগাল করে থাকে। আর যে অন্যের মাকে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার মাকেও গালি দেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৩, তিরমিজি, হাদিস : ১৯০২)



আমাদের উচিত কারো সঙ্গে এমন ব্যবহার করে ফেললে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। কারণ কারো সাথে এমন আচরণ হলো সরাসরি আল্লাহর অবাধ্য আচরণ এবং যাকে কটু কথা বলছি তার প্রতি একধরনের জুলুম। কঠিন কেয়ামতের দিন ক্ষুদ্র একটি জুলুমও মানুষকে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। 



এনিয়ে হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার (কোনো মুসলিম) ভাইয়ের সম্মান নষ্ট করেছে অথবা কোনো বিষয়ে জুলুম করেছে, সে যেন আজই (দুনিয়াতে) তার কাছে (ক্ষমা চেয়ে) হালাল করে নেয়—ওই দিন আসার আগে, যেদিন দিনার ও দিরহাম কিছুই থাকবে না। তার যদি কোনো নেক আমল থাকে, তবে তার জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি তার কোনো নেকি না থাকে, তবে তার সঙ্গীর পাপরাশি তার (জালেমের) ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৪৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৯৩৩২)



তাই আমাদের সবার উচিত এ ধরনের অশ্লীল কাজ ত্যাগ করে মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করা। মানুষকে সম্মান করা। সে যে-ই হোক, ছোট হোক কিংবা বড়। সবার সঙ্গেই মার্জিত আচরণ করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top