সাউথওয়েস্ট সিডনির ম্যাকার্থার হাইটসে বইপ্রেমী ও কমিউনিটির মানুষের জন্য নতুন এক মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। এ-বি স্ট্রিট লাইব্রেরি ইনক. এর উদ্যোগে ২২তম উন্মুক্ত স্ট্রিট লাইব্রেরির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। Young Innovators Australia এই প্রকল্পের হোস্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে স্ট্রিট লাইব্রেরিটির সার্বিক তত্ত্বাবধান, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
Young Innovators Hub-এর সামনে স্থাপিত নতুন এই স্ট্রিট লাইব্রেরি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বই পড়া, বই বিনিময় এবং কমিউনিটির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পবেলটাউনের সংসদ সদস্য গ্রেগ ওয়ারেন এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র ডার্সি লাউন্ড।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও উপস্থাপনায় ছিলেন Young Innovators Australia-এর একদল উদ্যমী তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। তাদের পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের প্রশংসা অর্জন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এ-বি স্ট্রিট লাইব্রেরি ইনকের সেক্রেটারি ও কাউন্সিলর আশিকুর রহমান (আশ) উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান । তিনি এ-বি স্ট্রিট লাইব্রেরির যাত্রা, কমিউনিটিতে এর ইতিবাচক প্রভাব এবং Young Innovators Australia-এর সঙ্গে এই নতুন অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি গ্রেগ ওয়ারেন এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, উন্মুক্ত স্ট্রিট লাইব্রেরি শুধু বই পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করে না, এটি কমিউনিটির মানুষকে একত্রিত করে এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে আজীবন শেখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথি মেয়র ডার্সি লাউন্ড বলেন, তিনি এ-বি স্ট্রিট লাইব্রেরির একাধিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রতিবারই এই উদ্যোগের সম্প্রসারণ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তিনি বলেন, এমন উদ্যোগ শিশুদের কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি এ-বি স্ট্রিট লাইব্রেরি ও ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের চলমান সহযোগিতারও প্রশংসা করেন।
Young Innovators Australia-এর প্রেসিডেন্ট শেইন আলী বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগ কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, তাদের সংগঠন এই স্ট্রিট লাইব্রেরির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বই সংগ্রহ এবং বিভিন্ন পাঠাভ্যাসভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এ সময় শাফকাত আলী এবং নাদিম হক তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ, কমিউনিটি নেতৃত্ব এবং বইপড়ার সংস্কৃতি বিস্তারে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
এ-বি স্ট্রিট লাইব্রেরির উপদেষ্টা ব্রায়ান লল এবং মো. শফিকুল আলম প্রকল্পের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন কমিউনিটিতে স্ট্রিট লাইব্রেরির ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে আল-ফয়সাল কলেজ, মিন্টো-এর অধ্যক্ষ মিস সোনালি লুথরা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে কলেজের শিক্ষার্থীরা এ-বি স্ট্রিট লাইব্রেরির জন্য বিভিন্ন থিমভিত্তিক স্ট্রিট লাইব্রেরি নির্মাণে অংশগ্রহণ করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এই প্রকল্পের প্রশংসা করেন।
এবারের “Peter Pan” থিমের স্ট্রিট লাইব্রেরিটি ডিজাইন করেন আল-ফয়সাল কলেজের দুই শিক্ষার্থী হুরিয়া ফয়সাল এবং জেবা আল-তাহুরা। তারা তাদের পরিবারসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি তাদের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেন এবং তাদের সৃজনশীল অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় লেখক ও Skandari Foundation-এর প্রতিষ্ঠাতা মিনা স্কান্দারি এবং ড. মির্জা আরিফ আলী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এ-বি স্ট্রিট লাইব্রেরির গুডউইল অ্যাম্বাসেডর গ্লেন কসার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া-এর আলমগীর ইসলাম, বার্দিয়া বাংলা স্কুল-এর অধ্যক্ষ মিলি ইসলাম, Campbelltown Eagles Sports Club-এর পরিচালক মেহেদী খান, সেলিমা আক্তার, ক্যাম্পবেলটাউন পুলিশের মাল্টিকালচারাল লিয়াজোঁ অফিসার রোজেমেরি কারিওকি, এস এম আব্রাহাম লিংকন, মিজানুর রাহমান, হাজী দেলোয়ার, কাকলী আক্তার, জুই সেন পাল এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক বই প্রেমী বাসিন্দা।
সমাপনী বক্তব্যে এ-বি স্ট্রিট লাইব্রেরি ইনকের সভাপতি কামাল পাশা বলেন, ২২টি উন্মুক্ত স্ট্রিট লাইব্রেরির এই যাত্রা কেবল বই পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নয়, বরং একটি পাঠাভ্যাসনির্ভর, সংযুক্ত ও সচেতন কমিউনিটি গড়ে তোলার আন্দোলন। তিনি Young Innovators Australia, আল-ফয়সাল কলেজ, সকল অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক এবং কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে সাউথওয়েস্ট সিডনির আরও এলাকায় এ ধরনের উন্মুক্ত পাঠাগার স্থাপনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: