সিডনী মঙ্গলবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২৪, ১০ই বৈশাখ ১৪৩১

রুচির দুর্ভিক্ষ এবং এক অভাজনের কথা : মাহবুবুল আলম


প্রকাশিত:
৫ এপ্রিল ২০২৩ ২০:০০

আপডেট:
৫ এপ্রিল ২০২৩ ২০:০১

 ছবিঃ মামুনুর রশীদ এবং হিরো আলম

 

বাংলাদেশের উত্তাপহীন রাজনীতি মাঠে কিছুটা উত্তাপ সৃষ্টি করেছে সম্প্রতি নাট্যজন জনাব মামুনুর রশীদ কতৃক হিরো আলম প্রসংগে তার উক্তি রুচির দুর্ভিক্ষ নিয়ে। এ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য চলছে বাহাস। বাহাসে ব্যবহৃত কিছু বাজে কথাবার্তা উগ্রতা রুচিহীনতার মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাই চুপচাপ বসে না থেকে আমার ইচ্ছে হলো এই বাহাসে আমারও অংশগ্রহণ করা উচিত সে কারণেই লেখার অবতারণা।

দুবাই কাণ্ডে হিরো আলমকে লাইম লাইটের একেবারে সামনে নিয়ে এসেছে। হিরো আলম ঝোপ বুঝে কোপ মেরে ভাল দান মেরেছে। রাজনীতির ফাঁকা মাঠে হিরো আলম সাচ্চা হিরোই বনে গেছেন। অনেক কবি সাহিত্যিক নায়ক নায়িকা নাম পল্টিয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেননি, কিন্তু আশরাফুল আলম নিজের নাম নিজেই পাল্টে 'হিরো আলম' রেখে একেবারে মাত করে দিয়েছেন, নিজকে প্রকৃত হিরোই বানিয়ে আসল হিরোদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

শুধু হিরোদের কথা বলছি কেন, রাজনীতি মাঠেও তিনি যে কম নন তাও দেখিয়ে দিয়েছেন সদ্য সমাপ্ত
জাতীয় সংসদের বগুড়ার দুইটি উপনির্বাচনে অংশগ্রহণেরর মাধ্যমে। আর মিডিয়ার কথা বলতে গেলে সে অনেক কথা। কিছু ছাপা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া আশরাফুল আলমকে হিরো আলম হয়ে উঠায় ইন্দন যোগিয়েছে তা সবাই দেখেছেন। সংস্কৃতি সংকটে ভোগা টিভিও হিরো আলমকে টকশোতে অতিথি করে এনে তাকে সেলিব্রিটি বানানোরও চেষ্টা করেছে। কিছু মিউজিক হাউজ সঙ সাজিয়ে হিরো আলমকে গান করিয়ে বিশাল সংগীত শিল্পীর তকমা লাগিয়ে দিয়ে তাকে মাইকেল জেক্সন বানানোর কম কসরত করেননি। কিন্তু রবীন্দ্র
সংগীতে হাত দিয়ে পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়ে সারাজীবন আর রবীন্দ্র সংগীতে হাত দেবে না বলে
ছাড়া পেয়েছেন।

আর অসৎ এতিম রাজনীতিকরা বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিতর্কীত ও আনপ্রেডিকটাবল করার জন্য তাকে জাতীয় সংসদের বগুড়ার দুই শূন্য আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে এদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা যে হিরো আলমের কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে তা বোঝাতে চেয়েছেন তা অসৎ উদ্দেশ্যেই যে করেছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর রইলো ভোটারদের কথা। হিরো আলমকে যারা ভোট দিয়েছেন তারাও যে হিরো আলমের কাতারের অসুস্থ এবং অসৎ রাজনীতির লোকজন তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার পড়ে না।
এ হলো আমার বক্তব্যের সূচনা। এই প্রসঙ্গে আবার ফিরে আসার আগে আসুন কয়েক বিজ্ঞজনের বক্তব্য শোনে আসি।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট, কথাকার ও ছড়াকার অজয় দাশগুপ্ত ২৮ মার্চ ২০২৩ রাইজিংবিডি.কম এ 'মামুনুর রশীদ ও হিরো আলম: আনহেলদি ডিবেট" শিরোনামের লেখায় বলেন,"মামুনুর রশীদ স্বনামধন্য নাট্যব্যক্তিত্ব। দারুণ মানুষ!... তা ছাড়া তরুণ বয়স থেকে তাঁর নাটক আমাদের প্রেরণা যোগাতো। নানা সংগ্রাম আন্দোলন ও সামাজিক দুর্যোগের কালে আরও কয়েকজন মানুষের মতো মামুনুর রশীদ ছিলেন আমাদের ভরসার জায়গা। বিশেষ করে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ এবং নাটকে বিপ্লবের সংকল্পে মুগ্ধ ছিলাম একসময়। এখন তাঁর পড়ন্ত বয়স। যা দেয়ার দিয়ে ফেলেছেন বলা যায়। মামুনুর রশীদের সঙ্গে নানা মিডিয়ায় কলাম লেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এমন একজন মানুষ হঠাৎ হিরো আলমের ব্যাপারে মুখ খুললেন কেন?
তাঁর কথাগুলো নিঃসন্দেহে যৌক্তিক। মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এখন রুচির দুর্ভিক্ষ চলছে। এর মধ্য দিয়েই হিরো আলমের উত্থান হয়েছে।’

সম্প্রতি ফেইসবুক লাইভে এসে তিনি মামুনুর রশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যেহেতু আমার কারণে দেশের মানুষের রুচি নষ্ট হচ্ছে, আপনি ইচ্ছা করলে আমাকে তৈরি করতে পারতেন। তাহলে মানুষের রুচি নষ্ট হতো না। বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষ, শুধু হিরো আলমের কারণে যদি সবার রুচি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে হিরো আলমকে আপনারা মেরে ফেলে দেন।’
আর হিরো আলম তার সমালোচকদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেইসবুক লাইভে বলেন, ‘এফডিসিতে বড় বড় আর্টিস্টরা আমার সমালোচনা করেন। কেন রে ভাই, আমাকে নিয়ে কেন কথা বলেন? আমি কোন দিন কোন পরিচালকের কাছে গিয়েছি? কোন শিল্পীর হাতে পায়ে ধরে বলেছি যে- আমাকে সুযোগ করে দেন?’
লাইভে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা যদি এসব করতে থাকেন, এত লোকের সামনে বলতেছি, একদিন লাইভে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করে পৃথিবী থেকে চলে যাব। আপনাদের, এই দুনিয়া, সমাজকে রুচির দায় থেকে মুক্ত করে যাব। আপনারা আমাকে মেনেই নিতে চান না। এতে আমার কী করণীয় আছে?’

বিশিষ্ট কবি কথাকার ও গবেষক ও অধ্যাপক মজিদ মাহমুদ এবিষয়ে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ওনার স্ট্যাটাসের একটা ক্ষুদ্র অংশ নিচে উদ্ব্ত করছি-

"এই যোগাযোগ মাধ্যমের বর্তমানে অন্যতম সেরা পণ্য হিরু আলম। তিনি এখন সামাজিক যোগাযোগের শীর্ষ সেলিব্রেটি। তিনি সালিমার দ্য ক্লাউন। যারা হাটে হাটে হেঁটে হেঁটে বান্দর-নাচ দেখায়, চারপাশের মানুষ তা দেখে এবং মজা পায়। নিরেট মজা, মানুষ ভাবে দেখতে তাদের মতো, অথচ তারা নয়। তাদের মতো কিছুটা অনুকরণ করতে পারে, এই তাদের সুখ। হিরু আলম দুই দিন পরপরই ইস্যু তৈরি করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগ গরম হয়ে ওঠে, বেশির ভাগ লোক তার পক্ষে। তার কোনো কাজের সমালোচনা করলে সামাজিক যোগাযোগে প্রায় সব ধরনের লোক তেড়ে আসে। তারা এটা নৈতিক দায় মনে করে, কারণ, তিনি দুর্বল ও অতি সাধারণ বলে বিবেচিত। কিন্তু এখন আর তার জন্য এই দুর্বলতার তকমা সত্য নয়। মাত্র কয়দিন আগেই তিনি দুবাইয়ে আরাভ খান নামে এক বিতর্কিত ব্যক্তির সোনার দোকান উদ্বোধন করে আসলেন। তার সঙ্গী ছিলেন দেশের অন্যতম প্রধান ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান। "

সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে আমরা কী দেখতে পাই তার বিশাল ভক্ত ও সমর্থন শ্রেণি হয়েছে তারা হিরো আলমকে যতটা চেনে বা জানেন, মামুনুর রশীদকে ততোটা জানে না। কিছু কিছু ইউটিউবার নিজের চ্যানেলে ভিউয়ার বাড়ানোর জন্য হিরো আলমের ভাঁড়ামির নানান রকমের কন্টেন্ট আপলোডের মাধ্যমে ভাইরাল করে ভিউয়ার বাড়িয়ে লাখ টাকা কামানোর মওকা পেয়েছে।

কেউ সরাসরি হিরো আলমকে কিছু না বলে উটের মতো বালিতে মুখ গুজে আছে। কেউ কিছু না বললেও বাংলা নাটকের স্বনামধন্য নাট্যজন এবং অভিনেতা জনাব মামুনুর রশীদ বলেছেন। তার হিরো আলমকে নিয়ে করা উক্তি "রুচির দুর্ভিক্ষ"পত্রিকা ও যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে বিভিন্ন জনের ওয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কে পক্ষে বলছেন কেউ বলছেন। হিরো আলমের পক্ষে যারা বলছে তাদের অধিকাংশের বক্তব্যই রুচির সংজ্ঞায় পারে না। এমননি মামুনুর রশীদের বক্তব্য সমর্থন কারীদেরকে হিরো আলমের ভক্ত-সমর্থকরা
রেসিস্ট বা বর্ণবাদী বলছেন আবার কেউ চুলের হিন্দি ভার্সন... বলে গালিগালাজ করতেও ছাড়ছে না। যাদের গুরুই পক্ষাঘাতগ্রস্থ এক শিল্পীকে অভিশাপ দিতে পারেন, তাহলে শিষ্যরা কত নিচে নামতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

সম্প্রতি ফেসিয়াল প্যারালাইসিসে আক্রান্ত সংগীত শিল্পী তাসরিফ খান যখন এই রোগে আক্রান্ত তখনই তাসরিফের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে হিরো আলম বলেছেন, ‘এই প্যারালাইসিস হলো অহংকারের পতন।’ এক লাইভে এসে হিরো আলম বলেন, ‘আল্লাহপাক চাইলে মানুষকে পতন করতে পারে, এক মিনিটে। আপনারা সবাই জানেন তারই একটা চাক্ষুষ প্রমাণ তাসরিফ খান। সে কিন্তু খুব ভালো গান গায়, সিঙ্গার। আল্লাহ্পাক তার কণ্ঠ ভালো দিয়েছে। আজকে তার মুখের অবস্থা কী করেছে, দেখেছেন? প্যারালাইসিসে মুখ বাঁকা হয়ে গেছে। এটা হলো অহংকারের পতন।’

লাইভ ভিডিওর শিরোনামে হিরো আলম লিখেছেন, ‘সুন্দর চেহারা মানুষদের ধিক্কার জানাই আল্লাহ চাইলে পতন করতে পারে তার প্রমাণ হলো তাসরিফ খান।’তাসরিফের প্রতি তার এই মনোভাবের কারণ উল্লেখ করে হিরো আলম বলেন, ‘কিছুদিন আগে চাঁদপুরে একটা প্রগ্রামের কথা ছিল আমার। সেখানে আমি ছিলাম, তাসরিফ ছিল, আরো অনেকে ছিল। এই তাসরিফ যখন শুনেছে আমি ওই প্রগ্রামে যাব, সে বলেছে—হিরো আলম ওখানে গেলে আমি প্রগ্রামে যাব না। এই তাসরিফ কিন্তু একদিন এটা বলেছিল। আজকে তার অবস্থা দেখেছেন?’

তিনি আরও বলেন,‘আবার সুন্দরী কিছু নায়িকা আছে দেখবেন, অনেক হিরোও আছে, তারা হিরো আলম থাকলে অভিনয় করবে না, অনেকেই কিন্তু বলেছে, দেখবেন। অনেক নায়িকাই বলেছে, তার বডি ফিটনেসের সঙ্গে যায় না, চেহারার সঙ্গে যায় না। কিছু লোক বলেছে, হিরো আলম কিসের হিরো। আমি তাদেরকে ধিক্কার জানাই—আমি যদি কোনো ভালো কাজ করে থাকি আল্লাহর কাছে বলি তাদের প্যারালাইসিস দিয়ে দেও আল্লাহ।’ (১১ মার্চ, ২০২৩)
এখন হিরো আলমের ভক্ত-সমর্থকরা বুঝতে পারছেন তার লেভেল! হিরো আলম যা করছে এটাকে ভাঁড়ামিই যা সার্কাসের প্যান্ডেলেই মানায়, সংস্কৃতির উচ্চমার্গীয় লেভেলে নয়।

অপরূপ বাংলা'র সম্পাদক টুটুল রহমান ফোঁড়াটি এখন ক্যানসার' শিরোনামের এক নিবন্ধে লিখেছেন-
সেই নিবন্ধের অংশবিশেষ পাঠকদের জন্য উদ্বৃত করছি "খুব সম্ভবত ২০১৭ সালে ফোঁড়াটি প্রথম উঠতে শুরু করে। আমরা তাকে চুলকে দেই, মিষ্টি ব্যথায় লালন করে মজা নিতে থাকি। কিন্তু হায় ফোঁড়াটি এখন ক্যানসার হয়ে গেছে। সমাজের পুরো শরীরে আস্তে আস্তে ছেয়ে ফেলছে। তবুও আমরা খেয়াল করছি না- উৎসাহ দিচ্ছি! হ্যাঁ, ফোঁড়াটির নাম আশরাফুল আলম। যে নামের আগে ‘হিরো’ বসিয়ে নিজেকে হিরো ভেবে, বানিয়ে নানা রকম ভেলকি, বাঁদর নাচ দেখিয়ে মোটামুটি টাকা-পয়সার মালিক হয়ে গেছে। দু‘চারজন সাঙ্গপাঙ্গ জুটিয়ে, দামি অথচ কিম্ভুতকিমাকার পোশাক পরে ঘুরে বেড়ায়। যে কোনো ইস্যুতে দৌড়ে যায়, লাইভে কথা বলে। এ সব কারণে তার গানের নামে যন্ত্রণা উৎপাদন, অভিনয়ের নামে অশ্লীলতা আর বাঁদরের ভেংচি, অশুদ্ধ উচ্চারণের শব্দদূষণ থেকে মানুষ কিছুটা হলেও মুক্তি পেয়েছে। কবিতার নামে তিনি যা শুরু করেছিলেন তা অব্যাহত থাকলে পৃথিবীর সকল কবি এতো দিনে আত্মহত্যা করতেন!...
...গত সপ্তাহে এক প্রগতিশীল লেখিকা হিরোকে নিয়ে একটা লম্বা স্ট্যাটাস দিলেন এবং বললেন, পৃথিবীর তাবৎ মহান মানব ও সৃষ্টিশীলদের সঙ্গে এই হিরোর মিল আছে। আমি পড়ে বিমূঢ় হয়ে গেছি! এই মহিলা বলে কি? মাক্সিম গোর্কির জীবনের সঙ্গেও নাকি এর মিল আছে। আমি অসহিষ্ণু হয়ে তার বিবৃতিতে মতামত দিলাম, আপা স্ট্রাগলের নামে লাজ-লজ্জাহীনতা, বেহায়াপনাকে স্যালুট জানালেন ঠিক আছে, কিন্তু মাক্সিম গোর্কির সাহিত্যকৃতি আর হিরোর শিল্পকৃতি কি এক জিনিস হলো? তিনি আমাকে রেসিস্ট বলে গাল দিলেন!...

ফেসবুক বন্ধু সিরাজুল সিরাজ তার এক স্ট্যাটাসে বলেছেন, "হিরো আলম সত্যিই এক দৃষ্টান্ত। কিন্তু কিসের দৃষ্টান্ত? সে কারো কটাক্ষ গ্রাহ্য না করে নিরলসভাবে, দৃঢ় চিত্তে নিজের কাজটি করেছে। কিন্তু কি কাজ করেছে? সে কি কাজ করে দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছে এটি নিয়েও তো ভাবতে হবে। ভাইরাল হলেই কি সে মহান হয়? ফলোয়ার বাড়লেই কি সে বিথ্যাত হয়? মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার প্রথম শহীদ, তোতার নামটি বগুড়ার ক"জন জানে? তাকে ক"জন ভাইরাল করে? হ্যাংরি জেনারেনের অন্যতম এক কবি বগুড়ার রাজাপুরের শৈলশ্বর ঘোষের নাম দেশের না হোক বগুড়ারই বা ক"জন জানে। এ দেশে হাতে হাতে স্মার্ট ফোন পৌঁছে দেয়া মানে কানার হাতে কুড়াল দেয়া। বেশীরভাগ ভাগ মানুষই যখন বই পড়া ভুলে, স্মার্ট ফোন নিয়ে ব্যাস্ত, তখন তারা হিরো আলম ছাড়া আর কিইবা বিনোদন হিসেবে নিতে পারে? কিইবা ভাইরাল হিসেবে নিতে পারে৷? পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিটির নাম ভাইরাল হয় কিন্তু সবচেয়ে জ্ঞানীর নামটি ভাইরাল হয়না। আমার মনে হয়, শুধু আমাদের দেশ নয় সারা পৃথিবী জ্ঞান ফেলে অঅজ্ঞতার দিকে ছুটছে। বই ফলে টাকার পেছনে ছুটছে। কিংবা টাকা কামানের জন্য বই তথা জ্ঞানকে ব্যাবহার করছে। এ জন্যই হিরো আলমদের উত্থান।"

মামুনুর রশীদের বক্তব্যটি সোশাল মিডিয়ায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। সোমবার নাট্য দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি আবারও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহার করেন, তারা দেখেছেন, আমার একটি উক্তি নিয়ে হাজার হাজার কমেন্ট হচ্ছে। আমি বলেছি, রুচির দুর্ভিক্ষ চলছে- সেই দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে হিরো আলমের উত্থান হয়েছে। এই উত্থান জাতির জন্য আমাদের সংস্কৃতির জন্য ভয়ঙ্কর। এই উত্থানের মূলে আমাদের রাজনীতি আছে, আমাদের মিডিয়ার একটা বড় ভূমিকা আছে।’

উপসংহারে বলি-সমাজের সচেতন মানুষ হিরো আলমের এসব বিকৃতি ভালোভাবে নিচ্ছেন না৷ অনেকে আবার বলছেন- তার ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে৷ আবার কেউ বলছেন তার প্রতি বর্ণবাদী আচরণ করা হচ্ছে। তাহলে তার মানে কী দাঁড়ায় আপনি যখন যা খুশি তাই করবেন, কেউ বাধা দিবে না? আমি মনে করি অবশ্য কাউকে না কাউকে তো বলতে হবে। সচেতন নাগরিকদের পক্ষে নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেছেন, এ নিয়ে এত এত আলোচনা সমালোচনার কী আছে?

 

মাহবুবুল আলম
কবি-কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও গবেষক

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Developed with by
Top