সিডনী রবিবার, ৯ই আগস্ট ২০২০, ২৫শে শ্রাবণ ১৪২৭

আফরোজা পারভনিরে কল্পনা দত্ত

বিপ্লবী কল্পনা দত্ত: যিনি নিজে গান কটন বানাতেন : ড. আফরোজা পারভীন


প্রকাশিত:
২৭ জুলাই ২০২০ ১৬:৪৭

আপডেট:
২৭ জুলাই ২০২০ ১৬:৫৭

বিপ্লবী কল্পনা দত্ত

 

এদেশের প্রতিটি সংগ্রামে, আন্দোলনে নারীর অবদান অসামান্য। ভারত উপমহাদেশের অগ্নিযুগের বিপ্লবী আন্দোলনের সূচনাপর্ব থেকেই অনেক নারী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। হয়ত নানা প্রতিকূলতায় সবসময় তাঁরা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কিন্তু তাঁদের পরোক্ষ ভূমিকাতেও আন্দোলন বেগবান হয়েছে। 'অনুশীলন', 'যুগান্তর' প্রভৃতি সশস্ত্র বিপ্লবী দলের সাথে এদেশের মা, বোন, খালা, কাকিমা, ভাবি, ঠাকুমারা যুক্ত ছিলেন। তাঁরা গোপনে গোপনে বিপ্লবী দলের কাজ করতেন। অনেক পরিবারের মা-বোন বিপ্লবীদের আশ্রয় দিতেন। অনেকে টাকা-কড়ি, সোনা-গহনা দিয়ে বিপ্লবী দলকে সহযোগিতা করতেন। অগ্নিযুগের প্রথম পর্বে স্বর্ণ কুমারী দেবী, সরলা দেবী, আশালতা সেন, সরোজিনী নাইডু, ননী বালা, দুকড়ি বালা, পরবর্তীকালে ইন্দুমতি দেবী, লীলা রায়, পটিয়া ধলঘাটের সাবিত্রী দেবী প্রমুখ দেশপ্রেমিক নারী বিপ্লবী দলে যুক্ত ছিলেন। তাঁদেরই ধারাবাহিকতায় এসেছে কল্পনা দত্তরা। তাঁরা অংশ নিয়েছে পরোক্ষে নয়, প্রত্যক্ষে, সরাসরি। ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে কল্পনা দত্ত তাই একটি অবিস্মরণীয় নাম।
এই নারীরা অবিস্মরণীয়। কিন্তু রয়ে যায় আমাদের স্মরণের অগোচরে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখে থেকে অংশ নিয়েছেন অকুতোভয় যোদ্ধা এবং চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের অন্যতম সদস্য কল্পনা দত্ত। ২৭ জুলাই তাঁর জন্মদিন, তাঁকে স্মরণ করে আজ এই লেখা।
১৯১৩ সালের ২৭শে জুলাই চট্টগ্রাম জেলার শ্রীপুরের বোয়ালখালি গ্রামে কল্পনা দত্তের জন্ম। পিতা বিনোদবিহারী দত্ত ও মাতা শোভনা বালা দত্ত। কল্পনা দত্তের ঠাকুরদা ডাক্তার রায় বাহাদুর দুর্গাদাস দত্ত চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ব্যক্তি ছিলেন। ইংরেজ প্রশাসন তাকে যথেষ্ট সম্মান দিতেন। ঠাকুরদার কারণে কল্পনাদের বাড়িটা সবসময় পুলিশের নজরের বাইরে ছিল। বাবা বিনোদ বিহারী দত্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সাব রেজিষ্টার হওয়ায় তাঁর শৈশব কাটে চট্টগ্রাম শহরে। মা শোভনা দত্ত ছিলেন গৃহিণী। শহরের প্রাণকেন্দ্র আন্দরকিল্লায় তাঁদের বিশাল বাড়ি ছিল।
শৈশব থেকেই কল্পনা ছিলেন ব্যতিক্রমী স্বভাবের। মানুষের দুঃখে তাঁর প্রাণ কাঁদতো। ভীষণ ভাবপ্রবণ আর স্পর্শকাতর ছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন ভেদাভেদহীন এক সুখি সমাজের। যেখানে সবাই ভালো থাকবে, কারো ক্ষুধা, দুঃখ থাকবে না।
তিনি বই পড়তে ভালোবাসতেন। স্বদেশী বই-এর ব্যাপারে তাঁর খুব আগ্রহ ছিল। খুঁজে খুঁজে পড়তেন বিপ্লবীদের জীবনী। ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকি, কানাইনালের জীবনী পড়ে ফেলেছিলেন শৈশবেই।‘পথের দাবী’ পড়ে তিনি আলোড়িত হয়েছিলেন। এইভাবে বারো বছর বয়স থেকেই স্বদেশ ভাবনা তাঁর মনে জাগ্রত হতে থাকে। তিনি দেশ নিয়ে ভাবতেন সেই ছেলেবেলাতেই। পড়তে পড়তে আর ভাবতে ভাবতে তাঁর মনে হলো, ব্রিটিশ সরকারকে দেশ থেকে তাড়াতে হবে। ওদের সরাতে পারলেই দেশে স্বাধীনতা আসবে, দেশের দুঃখ দূর হবে। ছোটকাকা তাঁকে সব সময় অনুপ্রেরণা দিতেন দেশসেবিকা হবার জন্য। এভাবেই ধীরে ধীরে দুঃসাহসিক কাজে জড়িত হওয়ার আগ্রহ জাগে তাঁর।
পড়াশুনায় মেধাবী ছিলেন কল্পনা। ছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত আর যুক্তিবাদী। সাধারণ বাঙালি মেয়েদের চেয়ে বেশ খানিকটা লম্বা ছিলেন। গড়ন ছিল ছিপছিপে, সুন্দর, ঋজুদেহ, বলিষ্ঠ। গায়ের রঙ ছিল কাঁচা হলুদ সদৃশ। মুখে লেগে থাকতো একটুকরো মিষ্টি হাসি।
কল্পনা চট্টগ্রাম খাস্তগীর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন ১৯২৯ সালে। মেয়েদের মধ্যে চতুর্থ হন তিনি। বীরকন্যা প্রীতিলতাও এই স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। কল্পনা দত্ত প্রীতিলতার এক ক্লাস নীচে পড়তেন। স্কুলে উষাদি তাদের স্বদেশিদের গল্প বলতেন। উষাদি প্রীতিলতা, কল্পনার মতো অনেক মেয়ের স্বদেশপ্রেমের উৎসুমুখ খুলে দিয়েছিলেন।
১৯২৯ সালের মে মাসে মাস্টারদা সূর্যসেন চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক ছিলেন। সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম জেলা রাজনৈতিক সম্মেলন, যুব সম্মেলন, ছাত্র-ছাত্রী সম্মেলন ও নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু। এই সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন কল্পনা দত্ত।

কল্পনা কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বেথুন কলেজে ভর্তি হন আইএ প্রথম বর্ষে বিজ্ঞান নিয়ে। বেথুন কলেজে পড়তেন প্রীতিলতাও। কলেজে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিন পর প্রীতিলতার সাথে পরিচয় ঘটে তাঁর। যাঁকে কল্পনা দত্ত ডা. খাস্তগীর স্কুলের শিক্ষিকা উষাদির আলোচনার আড্ডায় প্রায়ই দেখতেন। দুজনের ঘনিষ্ঠতা হয় আর ভাবনা আদান প্রদান হতে থাকে।
বেথুন কলেজে পড়ার সময় তিনি নানা ধরনের বিপ্লবী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। বিপ্লবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে যোগ দেন বেথুন কলেজ ‘ছাত্রী সংঘে।’ বেথুন কলেজে ছাত্রীদের উদ্যোগে সংঘটিত হরতালসহ অন্যান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে থাকেন নিয়মিত।
নিজেকে মনে প্রাণে একজন বিপ্লবী হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন কল্পনা। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন। স্কলারশিপের টাকায় সাইকেল কিনে ভোরবেলায় কারও ঘুম ভাঙার আগেই বেথুন কলেজের কম্পাউন্ডের মধ্যে সাইকেল চালানো শুরু করেন তিনি। প্রতি রবিবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে গিয়ে নৌকা চালানোর অভ্যাস করতেন। এ সময়ে বিপ্লবী সূর্য সেনের অনুরাগী পুর্ণেন্দু দস্তিদারের মাধ্যমে মাস্টারদার সাথে পরিচিত হন তিনি। মাস্টারদা প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’, চট্টগ্রাম শাখায় যোগদান করেন। এরপর বিজ্ঞানের ছাত্রী কল্পনা নিজের পড়ার ঘরে বসে বোমার জন্য তৈরি করতেন গান-কটন।
অনেক বিপ্লবীই তখন দলে মেয়ে নেয়ার বিপক্ষে ছিলেন। তারা মনে করতেন, মেয়েদের দলে নিলে বিপদ বাড়বে। মেয়েরা কোমল স্বভাবের। অল্পেই দুর্বল হয়ে পড়ে। ভেঙে পড়ে তাদের মনোবল। কাজেই বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সংগ্রামে যুক্ত থাকা একজন মেয়ের পক্ষে নিতান্তই দুরুহ। তাছাড়া কেউ কেউ এমনও ভাবতেন যে, পুরুষ নারী একসাথে থাকলে ছেলেদের নৈতিক আদর্শের স্খলন ঘটতে পারে। এই মনোভাবের বিরুদ্ধে কল্পনা দত্ত লিখেছিলেন, “ওঃ ধিং ধহ রৎড়হ ৎঁষব ভড়ৎ ঃযব ৎবাড়ষঁঃরড়হধৎরবং ঃযধঃ ঃযবু ংযড়ঁষফ শববঢ় ধষড়ড়ভ ভৎড়স ঃযব ড়িসবহ.” স্মর্তব্য, সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এই আইরন রুল যাঁরা ভেঙেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রথম নারী শহীদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং কল্পনা দত্ত।
১৯৩০ সালে ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন হয়। লুণ্ঠন পরবর্তী সময়ে বিপ্লবী কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য কল্পনা চলে আসেন চট্টগ্রামে। কলকাতা থেকে ফেরার সময় তিনি গোপনে সাথে করে কিছু বিস্ফোরক নিয়ে আসেন। এছাড়া গোপনে গান কটনও তৈরি করেছিলেন তিনি। সেগুলি চলে যেত জেলের ভেতরে। চট্টগ্রাম জেলে অনন্ত সিংসহ অন্যদের সাথে সঙ্গে যোগাযোগ হতো কল্পনা দত্তের মাধ্যমে। বিপ্লবী নেতৃবৃন্দের বিচার ও সাজা রুখতে এই সময় কল্পনা কোর্ট এবং জেলে ডিনামাইট বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেন। যাতে বিপ্লবী নেতৃবৃন্দ পালাতে সক্ষম হন। কিন্তু ১৯৩১ সালের ডিনামাইট ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। কল্পনাকে সন্দেহ করে সরকার। তাঁর গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। চট্টগ্রাম কলেজে বিএসসি পড়ার অনুমতি দিলেও অন্যত্র যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এই অবস্থার মধ্যেও রাত্রে রাত্রে গ্রামে পালিয়ে চলে যেতেন কল্পনা। দেখা করতেন সূর্য সেন, নির্মল সেনের সঙ্গে। এই সময় প্রায়ই তিনি মাস্টারদার সাথে তাঁর গ্রামে ঘুরে গ্রামের মানুষের সুখ দুঃখের খবর নিতেন। বন্দুক চালানোও শেখেন তিনি এসময়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ওপর। কিন্তু পুরুষের ছদ্মবেশে সহকর্মী নির্মল সেনের সঙ্গে মাস্টারদার কাছে দেখা করতে যাবার সময় পুলিশ কল্পনা দত্তকে গ্রেফতার করে ক্লাব আক্রমণের দিনের আগেই। দুই মাস জেল খাটেন তিনি। এর পর প্রমাণের অভাবে তিনি জামিনে মুক্ত হন। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ১০৯ ধারায় ‘ভবঘুরে’ মামলা দায়ের করে। পুলিশের সন্দেহ দৃষ্টি এড়াতে তাঁকে আত্মগোপনের নির্দেশ দেন মাস্টারদা। এ সময় চট্টগ্রামকে ‘মিলিটারি এরিয়া’ বলে ঘোষণা করা হয়। প্রতি গ্রামেই ছিল মিলিটারি ক্যাম্প।
১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী সমুদ্র তীরবর্তী গৈরালা গ্রামে ইংরেজ ফৌজের সঙ্গে সংঘর্ষে মাস্টারদা ও তারকেশ্বর দস্তিদারের সঙ্গী ছিলেন কল্পনা। মাস্টারদা ও ব্রজেন সেন পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। কল্পনা দত্ত, মণীন্দ্র গুপ্ত প্রমুখ বিপ্লবীরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মগোপন করে সেদিন পালাতে সক্ষম হন।
আত্মগোপনে থাকা ছিল কল্পনা দত্তের মতো মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই বেশি দিন আত্মগোপনে থাকতে পারেননি। প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করতে করতে কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, মনোরঞ্জন দত্ত, মনোরঞ্জন দে ও অর্ধেন্দু গুহ সমুদ্রের ধারে গাহিরা নামক গ্রামে আশ্রয় নেন। সেখানে কয়েক দিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৯৩৩ সালের ১৯ মে ভোরে সেই গ্রামে মিলিটারি আক্রমণ করে। বিপ্লবীরা গুলি চালায়। যুদ্ধ করতে করতে বিপ্লবী মনোরঞ্জন দত্ত নিহত হন। আশ্রয়দাতা পূর্ণ তালুকদার নিহত হন। তাঁর ভাই নিশি তালুকদার আহত হন। বিপ্লবীদের গুলি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর সবাই গ্রেপ্তার হন। মিলিটারি সুবেদার কল্পনা দত্তকে চপেটাঘাত করেন। কিন্তু মিলিটারি সৈনিকেরা তৎক্ষণাৎ এর প্রতিবাদ করেন। বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের চোখে লোহার কাটাওয়ালা মিলিটারি বুট দিয়ে এমন লাথি মারে যে তাঁর চোখ দিয়ে রক্তের ধারা পড়তে থাকে। তার ওপর রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় হান্টার দিয়ে মারতে থাকে। কল্পনা দত্তকেও হাতকড়া দিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যায়।
ওই বছর ১৪ আগস্ট একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিপ্লবীদের বিচার শুরু হয়। মামলার নাম ছিল ‘‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন সেকেন্ড সাপ্লিমেন্টারি কেস’’। এর অভিযোগে ছিল রাজদ্রোহ, ষড়যন্ত্র, বিস্ফোরক আইন, অস্ত্র আইন হত্যা প্রভৃতি। মামলার আসামী সূর্য সেন, তারকেশ্বর দস্তিদার এবং কল্পনা দত্ত। মামলার রায়ে সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসির আদেশ হয়। কল্পনা দত্তের যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের আদেশ হয়। মামলার রায়ে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জজ বলেন, ‘‘মেয়ে বলে এবং বয়স কম বলেই কল্পনা দত্তকে প্রাণদন্ডে দন্ডিত করা গেল না।’’ তবে অনেক চেষ্টার পর দ্বীপান্তরের আদেশ স্থগিত হয়। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি হয়। কল্পনা দত্তের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড হয়।
শাস্তি পাওয়ার পর কল্পনাকে হিজলি স্পেশাল জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ‘দেশের মানুষ আমাদের জেলে রেখে নিশ্চিন্তে থাকবে না, আমাদের বের করে নিয়ে যাবেই’ এ বদ্ধমূল ধারণা ছিল কল্পনার। জেলে দুই ডিভিশনের বন্দীদের সঙ্গে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিন মাস সেখানে ছিলেন। বইপত্র পড়ার সুযোগ থাকলেও পড়েননি কিছু। অন্য জেলে স্থানান্তরিত করা হয় পরে। তিন-চার বছর পর সব নারী রাজবন্দীদের একত্রে রাখার ব্যবস্থা হয়। সেখানে ‘পরিচয়’ নামের মাসিক পত্রিকা পড়ার সুযোগ হয়। কমিউনিস্টদের সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে কিছু কিছু শুনতেন, জায়াড-এর লেখা, কোলের লেখা বার্নার্ড শ-এর স্যোশালিজম, কমিউনিজম সম্বন্ধে কিছু কিছু বইও তাঁদের কাছ থেকে পেলেন। বইগুলোর যুক্তিতর্ক কল্পনার মনকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। সমাজতন্ত্রবাদ ও সাম্যবাদ তাঁকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায়।
তিনি দেখলেন, ‘কমিউনিজমের সঙ্গে বিপ্লবীদের মতের কোনো অমিল নেই। কেউ কেউ যখন বলত টেররিস্টদের কমিউনিস্টরা শত্রু বলে মনে করে, হেসে উড়িয়ে দিতেন কল্পনা। দু দলের আদর্শ যখন স্বাধীনতা তখন পার্থক্য কোথায়?’
রম্যাঁ রঁল্যার ‘আই উইল নট রেস্ট’ বইটি পড়ে রাশিয়ার বিপ্লবের প্রতি শ্রদ্ধা জাগে তাঁর। লিখেছেন, ‘লেনিনকে পূজা করতে আরম্ভ করলাম।’ তার আগে রম্যাঁ রঁল্যার লেখা ‘ সোল এনচান্টেড’ ও ‘জা ক্রিস্তোফ’ বই দুটি পড়ে তাঁর লেখার প্রতি অনুরক্ত হয়েছিলেন তিনি।
১৯৩৭ সালে প্রদেশে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হলো। বিনা বিচারে রাজবন্দীদের ছেড়ে দেওয়া, রাজনৈতিক বন্দীদের আন্দামান থেকে নিয়ে আসা এবং তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য বাইরে জনসাধারণের তুমুল আন্দোলন হলো। বন্দীদের আন্দামান থেকে ফিরিয়ে আনা শুরু হলো ১৯৩৭-এর নভেম্বর মাসে। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং অগ্নিকন্যা কল্পনার মুক্তির আবেদন জানিয়ে গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৯৩৮ সালের প্রথম দিকে কল্পনার বাবা জেলে এলেন মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে। এসে শুনলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ অগ্নিকন্যা কল্পনার মুক্তির আবেদন জানিয়ে গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কল্পনার বাবাকে লেখা একটি চিঠি দেখালেন, ‘ তোমার মেয়ের জন্য যা যা আমার করার সাধ্য, তা করেছি। তার শেষ ফল জানবার সময় এখনো হয়নি, আশা করি চেষ্টা ব্যর্থ হবে না।’রবীন্দ্রনাথের বন্ধু সি এফ এভরুজও কল্পনাকে জেল থেকে বের করার জন্য অপরিসীম পরিশ্রম ও আন্তরিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ কল্পনার বাবাকে অনুরোধ করেছিলেন, ‘কল্পনা যেদিন মুক্তি পাবে, সেদিন যেন তাঁকে টেলিগ্রাম করা হয়।’ গান্ধীজি কল্পনার বাবাকে বলেছিলেন, সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে চেষ্টা করবেন। ১৯৩৯ সালের ১ মে ছাত্র আন্দোলনের চাপে সরকার কল্পনা দত্তকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। জেল গেটে এলেন কল্পনার বাবা ও মাসতুতো ভাই ঝুমকু (সুবোধ রায়), যিনি বছর খানেক আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
ছাত্র আন্দোলনের চাপে কারাদন্ডের ছয় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ১৯৩৯ সালের ১ মে তিনি কারামুক্তি পান। কারাবাস থেকে মুক্ত হবার সাতদিন পরেই কল্পনা চলে আসেন চট্টগ্রামে। শুরু হয় তাঁর অন্য জীবন। সে সময়ে নিষিদ্ধ থাকা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন তিনি। তবে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। দলের মহিলা ও কৃষক সংগঠনকে চাঙ্গা করেন। সাঁওতাল পাড়ায় গিয়ে কুলিদের পড়াতেন, মালিপাড়া, ধোপাপাড়ায় গিয়ে গোপন সভা করতেন। সাম্যবাদই প্রকৃত দেশপ্রেম এবং সেই দেশপ্রেম মানে জনগণের মনে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার কাজে আত্মনিবেদন করেন তিনি।
১৯৪০ সালে বিএ পরীক্ষা দিয়ে কলকাতায় চলে আসেন কল্পনা। জুলাই মাসে বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হন তিনি। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। কল্পনাকে কলকাতা থেকে বহিষ্কার করে চট্টগ্রামে পাঠানো হলো। ১৯৪১ সালে চট্টগ্রামে জাপানী আক্রমণের আশঙ্কায় জাপান বিরোধী প্রচারকাজে অংশগ্রহণ করেন কল্পনা। ১৯৪৩ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ঘটে দেশে। সারা বাংলায় ৫০ লক্ষ ও চট্টগ্রামে ২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। কল্পনার নেতৃত্বে মহিলা সমিতি নিরন্ন ক্ষুধাতুর মানুষদের সেবায় এগিয়ে আসে। ত্রাণের কাজে তিনি ঘুরে বেড়াতেন চট্টগ্রামের সর্বত্র। গড়লেন দুর্বার গণআন্দোলন। ১৯৪৩ সালে কল্পনা দত্ত কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করেন । এ বছরের শেষে বোম্বাইতে অনুষ্ঠিত কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে। সেখানেই ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির তৎকালীন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পূরণ চাঁদ যোশীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বরপক্ষের হয়ে সই করেন বি টি রণদিভে আর কন্যাপক্ষের হয়ে কমরেড মুজফফর আহমেদ। বিয়ে উপলক্ষে শ্বশুরবাড়ি থেকে লাল রেশমি শাড়ি পাঠানো হয়েছিল। সে শাড়ি পরেননি কল্পনা। সকলে মিলে সেই শাড়ি কেটে কেটে পার্টি ফ্ল্যাগ তৈরি করেছিলেন। বিয়ের পর চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে মানুষের মধ্যে কাজ শুরু করেন কল্পনা।
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার আগে, দেশী-বিদেশী উচ্ছৃঙ্খল সেনাদল চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার কাছাড়পাড়া গ্রামে আকস্মিক আক্রমণ করে। ব্যাপক অত্যাচার চালায় সারা গ্রামে। কল্পনা পার্টির জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সাহায্যে কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, বিভিন্ন বামপন্থী দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী গ্রহণ করেন। সাতদিন হরতাল পালন করা হয়। অবশেষে ব্রিটিশ সরকার ও সেনাবাহিনী পিছু হটে।
১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ১৩ জন কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করন। চট্টগ্রাম মহিলা আসনে কল্পনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হয়ে। কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহনের স্ত্রী নেলী সেনগুপ্তা। নির্বাচনে কল্পনা জয়লাভ করতে পারেননি। সে সময়ও খেটে খাওয়া গরিব নিম্নবর্গের মানুষের ভোটাধিকার ছিল না। তবে নির্বাচনী সমাবেশে কল্পনার পক্ষে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি ছিলো। তা দেখে কংগ্রেস ভয় পেয়ে যায়। খোদ জহরলাল নেহেরুকে নির্বাচনী প্রচারে আসতে হয়েছিল। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির বিরোধিতা করেছিলেন কিন্তু কল্পনার বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করেননি। উপরন্তু ‘বাহাদুর লাড়কী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এর পরে অবশ্য তিনি কখনও বিধানসভা, লোকসভায় প্রার্থী হননি।
১৯৪৭ সালে দেশভাগ হলো। কল্পনা জন্মভূমি ছেড়ে চলে এলেন ভারতে। এবার কল্পনা দত্তর কর্মক্ষেত্র ভারতবর্ষ। কমিউনিস্ট পার্টির কাজে নিজেকে যুক্ত করেন। সক্রিয়ভাবে যুক্ত হলেন ভারত-সোভিয়েত সাংস্কৃতিক সামতির প্রতিদিনের কাজে।
১৯৪৮ সালে সিপিআই দলের দ্বিতীয় কংগ্রেসে ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়’ বলে উগ্র লাইন গ্রহণ করা হয়। পি সি জোশী পার্টির নেতৃত্ব থেকে অপসারিত এবং শোষণবাদী বলে সাজাপ্রাপ্ত হন। একদিকে পুলিশের হুলিয়া, অপরদিকে পার্টিতে একঘরে। এই দুর্বিষহ অবস্থার শিকার শুধু জোশী নন, এই অবস্থার শিকার কল্পনা জোশীও। কলকাতায় গোপন ভাড়াবাড়িতে বন্ধুদের সাহায্যে কোনো রকমে তাঁরা দিন যাপন করতেন।
১৯৫১ সালে সিপিআই তার ভুলগুলি শুধরে আবার গণসংযোগ ও গণআন্দোলনে নামেন। পি সি জোশী ও কল্পনা দত্ত জোশী তাঁদের সদস্য পদে সসম্মানে বহাল হন। কল্পনা দত্ত জোশী ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন এবং ভারত সোভিয়েত সংস্কৃতি সমিতিকেই তাঁর কর্মক্ষেত্র হিসাবে বেছে নেন।
ইতোমধ্যে তাঁদের দুই ছেলের জন্ম হয়েছে, সুরুজ জোশী এবং চাঁদ জোশী। ছেলেদের বড় করা এবং তাদের শিক্ষার ব্যবস্থার দায়িত্ব রয়েছে কল্পনার। সুরুজ এবং চাঁদ উভয়েই পরবর্তী জীবনে সাংবাদিক হিসেবে খ্যাতিমান হয়েছেন। পি সি জোশী ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর দেখার দায়িত্বও ছিল কল্পনার।
রুশ ভাষার শিক্ষিকা হিসেবে নাম করেছিলেন কল্পনা । তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে যোগ দেন। চীনা ভাষায়ও দক্ষ ছিলেন তিনি। দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব রাশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ-এর সম্পাদক ও শিক্ষিকা হন। সক্রিয় ছিলেন পঞ্চাশের দশকে স্থাপিত ইন্দো- সোভিয়েত কালচারাল সোসাইটি ও ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান উইমেন-এর কার্যকলাপে। পরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও জীবনাচরণে ও বিশ্বাসে আজীবন তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট।
ইংরাজী ও বাংলা ভাষায় সমান দক্ষতা ছিল কল্পনার। চল্লিশের দশকে কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘পিপলস্ ওয়ার’ পত্রিকায় নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হতো তৎকালীন সামাজিক বিষয়ের ওপর তাঁর লেখা। এ লেখাগুলো গবেষকদের কাছে মূল্যবান দলিল হয়ে আছে। ১৯৪৫ সালে ‘চিটাগাং আর্মারি রেইডার্স রেমিনিসেন্স’ প্রকাশিত হয় বোম্বাই থেকে। তাঁর লেখা কলকাতা থেকে প্রকাশিত বই ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার আক্রমণকারীদের স্মৃতিকথা’ এক ঐতিহাসিক দলিল। ১৯৯০ সালে ‘‘চট্টগ্রাম অভ্যুত্থান’’ নামে ভারত সরকারের উদ্যোগে আর একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
১৯৯১ সালে চট্টগ্রামে যুব আন্দোলনের ইতিহাস লিখতে শুরু করেছিলেন তিনি। শেষ করতে পারেননি। তাঁর স্মৃতিকথার তিন হাজার পৃষ্ঠার পান্ডুলিপি হারিয়ে ফেলেছিলেন সামান্য এক ভুলের কারণে। দিল্লিতে অটোরিকশায় ভুল করে ফেলে গিয়েছিলেন, ফিরে পাননি। সেই মনোবেদনা তাঁর ছিল জীবনের শেষদিন পর্যন্ত।
জীবন সায়াহ্নে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর স্মৃতিভ্রংশ হয়। কলকাতার হাসপাতালে তাঁকে পাঁচ মাস কাটাতে হয়। শোনা যায়, ওই সময় বিপ্লবী নেত্রী কল্পনা দত্তকে কেউ চিনতে পারেনি। এমনকি হাসপাতালের কর্মকর্তা এবং সরকারি আমলাদের বোঝাতেও বেশ কষ্ট হয়েছে যে এই কল্পনা জোশীই বিপ্লবী কল্পনা দত্ত!
১৯৯৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার শেঠ সুখলাল কারনানী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ৮২ বছর বয়সে কল্পনা দত্ত যোশীর জীবনাবসান হয়।


বিখ্যাত সাংবাদিক মানিনী চ্যাটার্জি কল্পনা দত্তর পুত্রবধূ। তাঁর লেখা বই নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘খেলে হাম জি জানসে’। এতে কল্পনা দত্তর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন প্রখ্যাত নায়িকা দীপিকা পাডুকোন।
দেশ স্বাধীন হবার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমন্ত্রণে কল্পনা দত্ত স্বাধীন বাংলাদেশে এসেছিলেন দু’বার ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ছিলেন প্রবলভাবে বাংলাদেশের পক্ষে। বাংলাদেশ সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য কল্পনা দত্তকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষে তাঁর পুত্র চাঁদ জোশির স্ত্রী সম্মাননা গ্রহণ করেছেন।
দেশভাগ হওয়ার পূর্বে ও পরে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষদের জন্য নিরন্তর যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের একজন কল্পনা দত্তা। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের সূর্যসেনা বীর শহীদ সূর্য সেন, পূর্ণেন্দু দস্তিদারের নামের সঙ্গে যে দু’জন নারীর নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে তাদের একজন হলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, আর অন্যজন কল্পনা দত্ত। তিনি ছিলেন মাস্টারদার প্রিয় পাত্রী, রবীন্দ্রনাথের ‘অগ্নিকন্যা’ এবং চট্টগ্রামে সকলের ‘ভুলুদা’ । কিন্তু পরিতাপের কথা এটাই যে, কল্পনা দত্তরা আজ এক বিস্মৃতপ্রায় অধ্যায়। কেউ এখন আর তাঁদের স্মরণ করে না। একবারটির জন্যও ভাবে না, তাঁদের উৎসর্গীকৃত বর্তমানের উপর দাঁড়িয়ে আছি আজ আমরা। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।

ড. আফরোজা পারভীন
কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, কলামলেখক
অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top