সিডনী মঙ্গলবার, ১৩ই এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র ১৪২৭

চক্রব্যুহ : ডঃ গৌতম সরকার


প্রকাশিত:
৩ মার্চ ২০২১ ১৩:৩৯

আপডেট:
৩ মার্চ ২০২১ ১৪:১৮

 

প্রদীপ পালাচ্ছে, পালিয়ে যাচ্ছে। যদিও কোথায় যাবে জানেনা! আচ্ছা, গন্তব্যহীন যাত্রাকেই তো পালানো বলে! চেনা-পরিচিত জগত থেকে দূরে যেখানে নিজের লজ্জা, হতাশা, দীর্ঘশ্বাস লুকোনো যায়। সেরকম কোনো জায়গা কি আছে! আর সেরকম জায়গা যদি থেকেই থাকে, সেখানে পৌঁছানোর পর সব অতীত মুছে যাবে...ঘুমে-জাগরণে প্রিয় মানুষগুলো, ফেলে যাওয়া মানুষগুলোর স্মৃতি মুছে দেওয়া যায়! এমনকি কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে...যেটা খেলে মানুষের অতীত একটা সাদা পাতা হয়ে যাবে। প্রদীপ জানেনা, আর জানবেই বা কি করে ? পড়াশোনা তো প্রাইমারী স্কুলের শেষ ক্লাস পর্যন্ত...তখন থেকেই বাবার পিছু পিছু ঘুরত। বাবা একটা খাপলা জাল নিয়ে খালে বিলে চুনো মাছ ধরে বেড়াত, আর প্রদীপ পায়ে পায়ে ঘুরত। মা রাগ করতো, অন্য ভাইবোনেরা যখন স্কুলে যেত, বাবার সাথে জাল নিয়ে ঘোরাঘুরি করা নিয়ে মা বহুদিন বাবার সাথে অশান্তি করেছে। কিন্তু বাবার নীরব প্রশ্রয়ে পড়াশোনা জলাঞ্জলি দিয়ে জলজঙ্গলকেই তার পৃথিবী করে নিয়েছিল।

ভোরবেলাতেই ঢাকুরিয়া স্টেশন লোকে লোকারন্য। লক্ষীকান্তপুর থেকে একটা গাড়ি এসে থেমেছে। সব্জিওয়ালা, মাছওয়ালা, রান্নার মাসি, ঠিকে কাজের মানুষজন হুড়হুড় করে নামছে। প্রদীপ একটু আড়াল খুঁজে দাঁড়িয়ে রইল। এখানে চেনামুখের অভাব হবেনা, তাদের বাজারের অনেকেই রাত থাকতে গিয়ে সকালের গাড়িতে মাছ-সব্জি নিয়ে ফেরে। প্রদীপ কোনের দিকে একটা দোকান থেকে গিয়ে এককাপ চা নিয়ে উল্টোমুখে দাঁড়িয়ে রইল। আর মনে মনে ভাবতে লাগল কোথায় যাবে। ভিড় কমতে আস্তে আস্তে উল্টোদিকের প্ল্যাটফর্মে গিয়ে উঠল। ঠিক তখনই শিয়ালদা যাওয়ার একটা ট্রেন ঢুকল।

শীত এখনও পুরোপুরি যায়নি, সকালে বেশ ঠান্ডা লাগে। কাল রাতে যখন ব্যাগের মধ্যে কয়েকটা জিনিস ঢোকাচ্ছিল ঠিক তখন মিনতি ঘরে ঢুকে পড়েছিল। প্রদীপ ভেবেছিল, মিনতি খাচ্ছে, খেয়েদেয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করে শোবার ঘরে আসতে দেরি হবে। প্রদীপকে মুখোমুখি প্রশ্নের সামনে পড়তে হয়েছিল। কোনোরকমে সামাল দিতে পেরেছে। তবে মিনতি কিছু একটা সন্দেহ করেছে। কদিন ধরেই ওকে চোখে চোখে রাখছে। বিশেষতঃ যেদিন থেকে মাছের দোকানে বসা বন্ধ করেছে সেদিন থেকে। আর চালানো সম্ভব হলনা। চারদিকে এত ধার, বাজারেও অন্ততঃ পাঁচজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বসে আছে। এদিকে মাছের আড়তদারের কাছে বিশ হাজার টাকা দেনা। সে আর মাছ তো দিচ্ছেইনা, উল্টে তাগাদায় তাগাদায় প্রাণ অতিষ্ঠ করে তুলছে। সবচেয়ে লজ্জার একজন খরিদ্দার, কোনো এক কলেজের প্রফেসর, তার কাছ থেকেও দশহাজার টাকা নিয়ে বসে আছে। নিপাট ভদ্রলোক, কোনোদিন তাগাদা দেয়নি, কিন্তু বাজারে এলে তার মুখের দিকে তাকালেই লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়। অবস্থাটা খারাপ হতে শুরু করেছিল দাদার অসুখটা ধরা পড়ার পর। নিজের দোষে মারণ ব্যাধি ধরিয়ে সংসারটা ছারখার করে দিল। মায়ের পেটের ভাই হলেও স্বভাবে দুজন একদম আলাদা। প্রদীপের যেখানে কোনো নেশা নেই সেখানে তার দাদা এই নেশার কবলে পড়ে নিজের এবং সঙ্গে ভাইয়ের পরিবারকে পথে বসিয়ে কেটে পড়ল। মাঝখান থেকে ভাইকে নিজের স্ত্রী, তিন ছেলেমেয়ের ভরণপোষণ দিয়ে এক সমুদ্র ঋণের গাড্ডায় ফেলে গেল। দাদার মৃত্যুর পরও লড়ে যাচ্ছিল, নিজের পরিবারের সাথে দাদার পরিবারেও দুবেলা দুমুঠোর ব্যবস্থা করতে পারছিল, কিন্তু এই লকডাউনের সময়টা তার গলার ওপর দু পা চেপে দাঁড়িয়ে তার দম নিঃশেস করে দিয়েছে। নিজের মেয়ের বিয়ে হয়েছে। দাদার দু মেয়ের বিয়ে বাকি, ছেলেটা এখনও নাবালক। প্রদীপ আর পেরে উঠছিলনা, মিনতি বুক দিয়ে সামলানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ওরই আর ক্ষমতা কতটুকু! প্রদীপ আর পারছেনা, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দিনের পর দিন ঘরের ভেতর আটক থাকা..পাওনাদারদের তাগাদা, চোখরাঙানি, গালাগালি... মনে হচ্ছিল এবার সে পাগল হয়ে যাবে।

কতদিন....কতদিন পর সে রেলগাড়ি চড়ে এতদূর এল। খুব ছোটবেলায় বাবামায়ের সঙ্গে লালগোলা প্যাসেঞ্জার চড়ে মালদা গিয়েছিল কোনো এক মাসির ছেলের বিয়েতে। তারপর আর কোথায় বেরোনো! বিয়ের পর মিনতিকে নিয়ে একবার দীঘা আর মেয়ে বড় হতে পাড়ার সবাইয়ের সাথে পিকনিক করতে বকখালি। তাও সে বাসে চড়ে, দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রা জীবনে এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার। ট্রেনের বাইরে মাটি রঙ বদলাচ্ছে, হাওয়া বেশ গরম। মাঠ-ঘাট ধূসর, সবুজের ছোয়াঁ অনেক আগে থেকে কমতে শুরু করেছে, ট্রেনের মানুষগুলোর ভাষা বদলে গেছে। মনে হল ট্রেন এখন বিহারের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দিগন্তে আবছা কালো দৈত্যাকার চেহারাগুলো দেখে বুঝতে পারল ওগুলো পাহাড়। বাচ্ছা ছেলেদের মতো চোখে মুখে একরাশ কৌতূহলে গরাদে মুখ চেপে ধরলো। ছবিতে দেখেছে, চাক্ষুষ এই প্রথম। বুকটা চিন চিন করে উঠলো, হঠাৎ করে দূরের পাহাড়ের সাথে কাছের দৃশ্যগুলোও ঝাপসা হয়ে গেল। চোখের সামনে কতগুলো ম্রিয়মান মুখ আলো নিভে যাওয়া চোখ নিয়ে জোনাকি পোকার মত জ্বলতে-নিভতে লাগল। জানালা থেকে মুখ সরিয়ে নিল। দূর্বলতা! বাৎসল্য! প্রেম! নিজেকে চাবকাতে ইচ্ছে হল, এগুলোইতো ঘাড় ধরে এই পঞ্চাশ বছর ওই আট ফুট বাই দশ ফুট চৌহদ্দির মধ্যে আটকে রেখেছিল। ভাববেনা সে...আর কিছু ভাবতে পারছে না বলেই তো পালিয়ে এসেছে। কিন্তু গন্তব্য! সে তো জানেনা কোথায় যাবে...পালাতে হলে ...হারিয়ে যেতে হলে কোথায় পৌঁছতে হয় তা তো প্রাইমারি স্কুলছুট মানুষটার জানার কথা নয়।

এরকম নীল আকাশ প্রদীপ আগে কখনও দেখেনি। সবুজ প্রান্তরে হলুদ রঙা সর্ষেখেতে নীল চাঁদোয়ার আকাশটা দেখে তার নিজের বাড়ির কথা মনে পড়ে। যখন মেয়ে হল, মিনতি বলতো- তুমিই আমাদের আকাশ। ঝড়-ঝঞ্ঝা থাকবে, প্লাবন-খরা যতই আসুকনা কেন, আমাদের ভরসা তুমি ছাতা হয়ে আমাদের রক্ষা করবে। তুমি ঠিক থাকলে আমাদের পৃথিবীতে ফুল ফুটবে, পাখি উড়বে, রাত্রি শেষে দিন আসবে। প্রদীপের হাসি পায়, আজ সেই আকাশে অজস্র ছিদ্র। সে আকাশের আর ক্ষমতা নেই নিচের উদগ্রীব মানুষগুলোকে রক্ষা করার। পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তিরতিরে একটা নদী। শীতকালে শীর্ণকায়, বইতে বইতে দূর পাহাড়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়েছে। ঘাস জমিতে বসে আছে প্রদীপ। কোথাও যাওয়ার ঠিকানা ছিলনা, এখানে কেন নেমে পড়ল জানেনা। স্টেশনটা দেখেই পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। বানান করে স্টেশনের নামটাও পড়তে পেরেছিল- বৈরাগী। তারপর হাঁটতে হাঁটতে এই নদীপারে। জলের দিকে চেয়ে ঠায় বসে আছে। একটা স্রোত এসে চোখের ঠিক সামনে এক পাথরখন্ডে ধাক্কা খেয়ে শতধারায় ছিন্ন হয়ে কিছুটা দূরে আবার সবাই মিলে মিশে শান্ত ভঙ্গিতে পাহাড়ের দিকে বয়ে চলেছে। একটু দূরে ঘাসের উপর শুয়ে আছে একটা বাচ্ছা। তার মা নদীতে নেমে ছাঁকনি জাল নিয়ে কুঁচো মাছ ধরছে। এক নজরে দেখেই প্রদীপ বোঝে একাজে মেয়েটি মোটেই দড় নয়। খুব আনাড়ি হাতে মাছ ধরার চেষ্টা করছে ৷ দূরে সর্ষেখেতে মেয়ে-পুরুষ নিড়ানির কাজ করছে। আশপাশে দুয়েকটা বাড়ি, মাটি না পাথরের বোঝা যাচ্ছেনা, তবে খাপড়ার চাল। এবার খিদে পাচ্ছে, ট্রেন থেকে নামার আগে এক ঠোঙা ঝালমুড়ি খেয়েছিল। অনেকক্ষন থেকে বাচ্চাটা কেঁদেই চলেছে। মাঝে মা টা একবার উঠে এসে বাচ্চাটাকে দুধ খাইয়ে গেছে। প্রদীপের মনে হল বাচ্চাটা খিদেয় নয়, ভয়ে কাঁদছে। অতটুকু বাচ্ছা, মায়ের কোলছাড়া হলেই ভয় পাওয়ার কথা...। মেয়েটা যখন ছোট ছিল, একদম মায়ের কোলছাড়া হতে চাইত না। একলা রেখে রান্নাঘরে গেলেই চিলচিৎকার। রান্নাবান্না মাথায় উঠেছিল, সকালে বাজারে বিক্রি সেরে বাড়ি ফিরে প্রদীপ মেয়েকে কোলে নিলে তবে মিনতি রান্নাঘরে ঢুকতে পারতো। প্রবীর খাবারের সন্ধানে উঠল।

এখন বিকেল....সূর্য হেলে পড়ছে দূর পাহাড়ে। বাচ্চাটা এখন শুয়ে শুয়ে খেলছে। প্রদীপ উঁকি মেরে দেখল আনাড়ি হাতেই মেয়েটি অনেকগুলো মাছ ধরে ফেলেছে। খলুইয়ে খলবলে আওয়াজ এখান থেকেও শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে ঠান্ডা বেশি, এখনই বেশ শীত শীত করছে যদিও শেষ বিকেলের রোদ পুরোপুরি মুছে যায়নি। প্রদীপ জানেনা এরপর কোথায় যাবে। দুপুরে যে দোকানটায় গিয়ে চা আর বাসি পাউরুটি খেয়েছে সেখানে খোঁজ করে দেখেছে এখানে কোনো ধর্মশালা নেই। বাধ্য হয়ে মিথ্যা বলেছে- গরীব মানুষ, কাজের সন্ধানে ঘুরছে। অচেনা জায়গা, রাত্রির অন্ধকারে কোথায় ঘুরে বেড়াবে একটু আশ্রয়ের জন্য! একটা সময় পর ভাবনা করা ছেড়ে দিল। পালিয়ে এলে অত থাকার ভাবনা, খাওয়ার ভাবনা করলে চলেনা। ও তো আর সেই প্রফেসর স্যারের মতো দেশ ঘুরতে আসেনি। শেষ সূর্যের ফ্যাকাশে আলো বাচ্চাটার মুখে পড়েছে। খেলতে খেলতে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে। এই নিশ্চয়তা কোথা থেকে পেল! ও কি বুঝতে পারে কয়েকশো ফুট দূর থেকে সতর্ক দুটো চোখ তাকে পাহারা দিয়ে চলেছে। আবার ভেতরটা আনচান করে উঠল, মেয়েটা নিশ্চয়ই মায়ের ফোন পেয়ে দৌড়তে দৌড়তে এসেছে। আর মিনতি...! সে কি কাঁদতে কাঁদতে বিছানা নিয়েছে। আবার ভাবনা...আবার! তখন থেকে ভাবনাগুলোকে গলা টিপে মেরে ফেলতে চাইছে....কিন্তু! মেয়েটা এবার উঠে এসেছে....ভিজে শাড়ি, সারা শরীরে সব ক্লান্তি ঘাম হয়ে ঝরে পড়ছে। কালো শক্তসমর্থ চেহারা। তবে মুখখানা বড় মিষ্টি, যেন প্রতিমার মুখ বসানো। শরীরে লেপ্টে থাকা শাড়ি জামা ঠিক করতে করতে হাঁ করে প্রদীপের দিকে তাকিয়ে রইল৷ প্রদীপ চোখ সরিয়ে নেয়। ও যেমন সারা দিন ধরে মেয়েটিকে লক্ষ্য করেছে, মেয়েটিও নিশ্চয়ই তাকে খেয়াল করেছে। অবশেষে জড়তা কাটিয়ে মেয়েটি বাচ্চাটার পাশে বসে জিজ্ঞাসা করে,

বাবুজি! আপ শুভে সে আপ ইয়াহ্ বৈঠে হো, আপকা ঘর কাঁহা হ্যায়? হিন্দি ভাষা প্রদীপের আসেনা। থমকে যায়। মেয়েটির বিস্ময় বাড়ে....

আপ তো বিদেশী লাগ রাহে হো,….বংগালি হ্যায় আপ বাবু!

প্রদীপ ঘাড় নাড়ে। কিছুক্ষণ পর জড়তা কাটিয়ে জিজ্ঞাসা করে,

তুমি একটা মেয়েমানুষ...সকাল থেকে মাছ ধরছো... মেয়েটা এখানে একলা একলা মাটিতে শুয়ে আছে...তোমার স্বামী কোথায়!

স্বামীর ইতিহাস শোনে, আর শোনে মেয়েটির যুদ্ধের কথা। কতই আর বয়স ...পঁচিশ-ছাব্বিশ হবে। পরিযায়ী স্বামী লকডাউনের সময় চাকরি খুইয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে ফিরতে রাস্তাতেই মারা পড়েছে। আর এই মেয়েটি চুনো মাছ ধরে নিজের, মেয়ের আর অন্ধ বৃদ্ধ শ্বশুরের খাবারের জোগারে দিনে আট থেকে দশ ঘন্টা নদীর জলে মাছ খুঁজে বেড়ায়। প্রদীপ বাকরুদ্ধ হয়ে তার কথা শোনে। মেয়েটির চোখ জ্বলজ্বল করে...দূর পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে,

-আপনি বেটি কো ম্যায় খুউব পড়াউঙ্গি, উসকি আচ্ছি পরওয়ারিশ করুঙ্গি৷ মেরে বেটি কো কভি ভি মছলি চুনা না পরেগা৷

 

একটা আত্মবিশ্বাস দু ঠোঁটের মাঝে তীব্র রেখায় ফুটে ওঠে। প্রদীপের চোখের সামনে সব আলো নিভে যায়...শুধু অদ্ভুত কমলা এক আলোর ফোকাস পড়ে মেয়েটার মুখে। প্রদীপ অবাক দৃষ্টির সামনে মেয়েটার চওড়া কপালে ধীরে ধীরে তৃতীয় নয়ন ফুটে ওঠে। প্রদীপ উঠে পড়ে। দূরে মাঠ বরাবর একটা ট্রেন হুইশেল বাজিয়ে চলে গেল। কোনোদিকে না তাকিয়ে জোর কদমে হাঁটতে থাকে। তাড়া... তাড়া ..তার যে এখন ভীষণ তাড়া...!

 

ডঃ গৌতম সরকার
কলকাতা, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top